টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-৩৯)

২০. দাঁতের দাগ (Tooth Stains) ও মিসওয়াক
যে কারণে দাঁতে দাগ হয় :- দাঁতে বিভিন্ন কারণে দাগ হয়।
ক) অস্থায়ী দাগ :-
১) পানের দাগ : পান, সুপারী, খয়ের, কিছু সুগন্ধিযুক্ত জর্দা ইত্যাদি দাঁতের গায়ে গাঢ় বাদামী রংয়ের দাগের সৃষ্টি করে।
২) তামাকের দাগ : যারা তামাক খান পান অথবা বিড়ি সিগারেট তথা ধুমপানের মাধ্যমে তাঁদের দাঁতে বাদামী বা কালো রংয়ের দাগ পড়ে। ব্রাশ করার কালে সাধারণত যে সব স্থানে ব্রাশ পৌঁছাতে পারে না যেমন দুই দাঁতের সন্নিকটস্থ গোড়ার অংশে বা দাঁতের ভিতরের দিকের অংশে এই দাগ বেশি হয়।
৩) ধাতব দাগ : যে সব ঔষধের উপাদানে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রন বা লোহা আছে সে সব ধরনের ঔষধ সেবন করলে দাঁতে কালো দাগ পড়ে। আবার পান করার জন্য ব্যবহৃত নলকুপের পানিতে আয়রন থাকলে সেই পানি পানে দাঁতে কালো দাগ হতে পারে। আবার আমরা যখন দাঁতে ফিলিং করাই তখন যদি ফিলিং করার বস্তুর মধ্যে কপারের (Copper) মিশ্রণ থাকে তবে দাঁতে অস্থায়ী দাগ হতে পারে। এছাড়া দাঁতের উপর জমে থাকা সাদা, খয়েরী বা কালো রঙ্গের পাথরও দাঁতের উপর দাগের মতো দেখা যায়।

খ) স্থায়ী দাগের কারণ :-
১) টেট্রাসাইক্লিনের দাগ (Tetracycline Strain) ঃ- টেট্রাসাইক্লিন নামক জীবাণু প্রতিরোধক ঔষধ খেলে দাঁতের ভেতর বাদামী বা হলদে রঙ্গের দাগ হয়।
২) ফ্লুরোসিস (Fluorosis) :- দাঁত তৈরি কালে অধিক ফ্লুরাইডযুক্ত পানি গ্রহণ করলে দাঁতে হলদে বা বাদামী রঙ্গের দাগ হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফ্লোরাইড (Flouride) এর জন্য দাঁতের এনামেলে ছোট ছোট ক্ষতের (Pit) সৃষ্টি হয়। একে মটেল্ড এনামেল (Mottled Enamel) বলে।
৩) বংশগত ত্র“টি বা রোগ ভোগের কারণে দন্তবস্তুর অবধন (Hypoplasia) বা দন্তবস্তুতে অপরিমিত ক্যালসিয়াম (Ca) সঞ্চয়ন (Hypocalcification) হলে দাঁতের গায়ে সাদা, হলদে বা বাদামী রংয়ের দাগ হয়। অপরিমিত ক্যালসিয়াম সঞ্চয়নের অভাবে দাঁতের গঠন খুব দূর্বল হয় এবং সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

দাঁতের দাগ প্রতিকারের উপায় : অস্থায়ী দাগ সাধারণত মিসওয়াক, ব্রাশ, স্কেলিং, পলিশিং ইত্যাদি পদ্ধতিতে দূর করা যায় কিন্তু স্থায়ী দাগ দূর করা খুবই কঠিন। স্থায়ী দাগের বেলায় দাগের স্থান কেটে তুলে ফেলা এবং ফিলিং পর্দা দ্বারা পূরণ করা বা আধুনিক পদ্ধতিতে দাগের স্থ্ান না কেটে কৃত্রিম মুকুট লাগিয়ে এই সমস্যার একটা সমাধান করা যায়।

দাঁতের দাগ প্রতিরোধের উপায় : ধুমপান ত্যাগ করা, পানের সাথে খয়ের, চুন না খাওয়া, বেশি দিন ধরে আয়রনযুক্ত পানি পান না করা, শিশুদের বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সি শিশুদের টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় ঔষধ না দেয়া এবং নিয়মিত মিসওয়াক করা।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-৩৯)

ভাল লাগল ।

রাখে আল্লাহ, মারে কে ?
সামাজিক দায়িত্বে অংশ নিতে যোগ দিন এখানে L-Star Foundation