টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-৪০)

২১. মুখের ঘা ও ক্যান্সার (Oral Ulcer and Cancer) এবং মিসওয়াক

কোন কারণে ঠোঁট বা জিহ্বা সহ মুখের কোন অংশের উপঝিলি¬ (Epithelium) ক্ষয়ে গেলে বা বিদীর্ণ হলে উহাকে মুখের ক্ষত বা ঘা বলা যেতে পারে। পরবর্তিতে এ সামান্য ঘা ক্যান্সারে রুপ নিতে পারে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, ক্যান্সার ভীতির কারণে অনেকেই এ বিষয় এড়িয়ে চলেন এবং যার ফলে একবার ক্যান্সার হয়ে গেলে ডাক্তারের করার তেমন কিছু থাকে না। জনাব ডেভিড ওয়ার্নার তাঁর লেখা বই ‘ যেখানে ডাক্তার নেই’ এ লিখেছেন - যারা পানের সাথে তামাক চিবায় তাদের এ রোগ বা ক্যান্সার বেশি দেখা যায়।

সংক্রমণজনিত ঘা ঃ-
(ক) জীবাণু (Bacteria) ও ছত্রাক (Micotic) জনিত সংক্রমণ ঃ
#) আলসারেটিভ জিনজিভাইটিস (Ulcerative Gingivitis) ঃ এই রোগ প্রধানত মাড়িতে সার্বিক ক্ষত ও প্রদাহের সৃষ্টি করে। অপরিষ্কার মুখে ‘বেরোলিয়া ভিনসেন্টাই’ ও ‘ফিউজির্ফম ব্যাসিলাই’ নামক দুই ধরণের জীবাণু এই রোগের সৃষ্টি করে। এ রোগে ঘা সহ মুখে ব্যথা ও দূর্গন্ধ হয় এবং জ্বর থাকে।

#) থ্রাশ (Thrush) ঃ ‘ক্যানডিডা অ্যালবিকান্স’ নামক এক ধরণের ছত্রাক মুখে ঘা এর সৃষ্টি করে। ঐ ছত্রাক মুখের বিভিন্ন অংশে জমে থেকে সাদা বর্ণের আবরণের সৃষ্টি করে এবং আবরণ উঠে গেলে ঐ স্থানে ঘা দেখা যায়। মুখ পরিষ্কার না থাকলে বা মুখে পুরাতন অপরিষ্কার ‘ডেনচার’ থাকলে এই রোগের সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘদিন যাবত জীবাণু প্রতিরোধক ঔষধ (Antibiotics) গ্রহণের ফলেও মুখে ছত্রাক জমে উঠতে পারে। শিশু ও বয়স্ক লোকদের এই রোগ বেশি হয়।
(খ) রাসায়নিক দ্রব্য বা ঔষধজনিত ঘা ঃ হঠাৎ করে অ্যাসিড, ক্ষার বা কোন বিষাক্ত পদার্থ মুখে লাগলে ঘা এর সৃষ্টি হতে পারে। পানের সাথে ব্যবহৃত চুন, সাদা মুখে মারাত্মক ঘা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া দীর্ঘদিন জীবাণু প্রতিরোধক ঔষধ খেলে, মুখে ‘গুল’ ব্যবহার করলে, ব্যথা নিরাময়কারী ঔষধ যেমন ‘ডিসপ্রিন’, ‘এ্যাসপ্রিন’ ইত্যাদি জাতীয় ঔষধ মুখের ভিতর রাখলেও মারাত্মক ঘা এর সৃষ্টি হতে পারে।
(গ) সিফিলিস (যৌন রোগ), যক্ষা, ভিটামিনের অভাবে ঘা, দূর্বলতা বা রক্তরোগ জনিত ঘা, ‘এ্যাপথাস’ ঘা (Apthus Ulcer) ‘লাইকেন প¬্যানাস’ (Lichen Planus) ইত্যাদি ধরণের ঘা মুখে হতে পারে।

(ঘ) খাদ্যাভাস বা নেশা জাতীয় খাদ্য গ্রহণের ফলে ঃ

পান ঃ যারা তামাক ও পান সুপারি চিবান এবং যাদের জর্দা ও খৈনি খাওয়ার অভ্যাস আছে তাদের মুখ গহ্বরের ক্যান্সার বেশি হয়। যে সব দেশে ( বিশেষত ভারত, শ্রীলংকায়) বেশি পরিমাণ পান খায় সে সব দেশে মুখ গহ্ববরের ক্যান্সার বেশি। এর পিছনে কারণ হিসাবে বিজ্ঞানীরা পানের সুপারীর কুচি চিবানো কে দায়ী করেছেন।

মদ, বিড়ি-সিগারেট ঃ সিগারেট ও পাইপ খেলেও ক্যান্সার হয় বিশেষ ভাবে ঠোঁটের ক্যান্সার। সিগারেট ও পাইপ থেকে যে উচ্চ তাপমাত্রায় তাপ নির্গত হয় তা মুখের কোষকলাকে দারুণভাবে উত্তেজিত করে এবং তামাক থেকে নির্গত উচ্চ তাপের সাথে ঠোঁটের ক্যান্সারের সম্পর্ক আছে। যারা অ্যালকোহল সেবন করে তাদেরও ক্যান্সার বেশি হয়।
তামাক ঃ যত ধরনের ক্যান্সার দেখা যায় তার মধ্যে শতকরা প্রায় ত্রিশ ভাগ ক্যান্সারের কারণ তামাক। ফুসফুসে যে ক্যান্সার হয় তার জন্য ৯০% দায়ী তামাক। মুখের ভেতরের বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের জন্য তামাক দায়ী। এ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রয়োজন বিড়ি-সিগারেট, হুক্কা, দোক্তা, কিমা, খৈনি, গুল ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা। তামাকে নিকোটিন থাকে প্রায় ০.৬ থেকে ৯.০ শতাংশ পর্যন্ত। এটি তরল বিষাক্ত উপক্ষার বা অ্যালকালয়েড। ইহার ফলে বা প্রয়োগে বা ব্যবহারে কেন্দ্রিয় স্নায়ুতন্ত্রে (Center nervous system) প্রথমে সাময়িক উত্তেজনা জাগায়। পরে তা কমে দমিত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিষাদগ্রস্থতার (Depression) জন্ম দেয় এবং সর্বশেষে পক্ষাঘাতের (Paralysis) সৃষ্টি করে। ১.০ গ্রাম নিকোটিন কোন সুস্থ ব্যক্তির রক্ত প্রবাহে অনুপ্রবেশ করালে ১.০ মিনিটের মধ্যে লোকটির মৃত্যু ঘটবে।
এ সকল রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অবশ্যই ডাক্তারের স্বরণাপন্ন হতে হবে এবং মিসওয়াক, কুলি বা খিলাল কর্তৃক মুখ পরিষ্কার রাখতে হবে। ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’ কম খাওয়া, পানের সাথে চুন ও গুল না খাওয়া এসব রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে।

মুখের অন্যান্য অসুখ
এছাড়া মুখের আরও যেসব অসুখ হতে পারে তা নিম্মে তুলে ধরা হল ঃ-
ক) স্টম্যাটাইটিস ঃ মুখ পরিষ্কার না রাখলে, একটানা অনেকদিন এন্টিবায়োটিক খেলে, অনেকদিন অসুখে ভুগলে (বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের বেলায়) ভিটামিন ‘সি’ ও বি-কমপে¬ক্স ও আয়রনের অভাবে দাঁতের এ ধরনের অসুখ হয়।
খ) এনগুলার স্টম্যাটাইটিস ঃ ঠোঁটের কোণে ঘা হয়, মুখ দেখতে খারাপ লাগে, কথা বলতে কষ্ট হয়, নিজের কাছে অস্বস্থি লাগে।
গ) গ¬সাইটিস ঃ মুখের ভিতর, জিহ্বা লাল হয়, গরম কিংবা ঝাল খাবার খেতে কষ্ট হয়।
উপরের তিনটি দাঁতের অসুখ দূর করার জন্য নিম্মের পথগুলো খোলা আছে ঃ-
কুসুম কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ দিয়ে বারবার কুলি করতে হবে, ভালো পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজতে হবে বা মিসওয়াকের সাথে স্বাস্থ্যসম্মত পেস্ট নিয়ে খুব সাবধানতার সাথে দাঁত পরিষ্কার করতে হবে, দাঁত ও জিহ্বা সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে, ভিটামিন বা ভিটামিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
ঘ) আলসারেটিভ স্টম্যাটাইটিস ঃ এটি মূলত ছোঁয়াচে রোগ। দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখলে এ রোগ সহজে আক্রমণ করতে পারে না।
ঙ) এপথাস্টম্যাটাইটিস (Apthoustomatitis) ঃ জিভে, গালে, ঠোটে, তালুতে ছোট ভেসিকল হয় যা পরে ফেটে গিয়ে আলসার তৈরি হয়। তবে এর সঠিক কারণ আজও উদঘাটিত হয়েছে বলে জানা যায় নি। প্রতিকারের জন্য নিয়মিত মুখ কুলি করতে হবে।
চ) লিউকোপ¬্যাকিয়া (Leucoplakia) ঃ ঠোঁট, জিহ্বা এবং মুখের আস্তরণে সাদা রঙ্গের কোষপুঞ্জ জমা হয়। প্রথমে ব্যথা না হলেও পরে ব্যথা হয়।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

Share

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-৪০)

শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ ।

ফোরামে আছি ।

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-৪০)

অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে । চমত্কার শেয়ার । এটি আরো চাই !

রাখে আল্লাহ, মারে কে ?
সামাজিক দায়িত্বে অংশ নিতে যোগ দিন এখানে L-Star Foundation