Share

টপিক: কল্প গল্প নয় সত্যনিষ্ঠ কাহিনী [পর্বঃ ০১]

আজকের সত্যনিষ্ঠ কাহিনীর নামঃ
দরবারের হীরা
[একটি স্বপ্ন একটি বাস্তবতা]

(আরশাদুল ক্বাদেরী (রহ.)’র লালাঃযার অবলম্বনে)
“উফ্ এ কালো মেঘে ঢাকা অমাবস্যার রাত। চতুর্দিকে ভীতিকর আঁধার আর ভয়ানক নিস্তব্ধতা! পরš‘ এ ভয়াল বিরান ভূমিতে মানুষের এ শব্দ কোত্থেকে আস্ছে ”।
একজন মুসাফির আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আদমের বেটা ! তুমি জনবসতি ছেড়ে এখানে কোথায় এসে গেলে? কেউ একজন উত্তর দিল, নিজে আসিনি, দুর্ভাগ্য টেনে নিয়ে এসেছে। কিš‘ এ ঘন আঁধারে তুমি হোঁচট খাবে, তোমার সন্তানদের হিংস্র জš‘ থাবা মেরে নিয়ে যাবে। তোমার কি প্রাণের নিরাপত্তারও চিন্তা নেই?কাফেলাপতি বললেন, হোঁচটতো খেয়েই বসেছি, আবারও কি হোঁচট খাব? হোঁচট না খেলে আমার কাফেলা এখানে মাথা ঠুকছে কেন? নিরাপত্তার চিন্তারকথা বলোনা, এটি বড়ই বেদনাদায়ক অধ্যায়। মুসাফির বললেন, তুমি কি বলছো? একটু খুলে বল। তোমার কথায় মনে হ”েছ যে,তোমার পরাভূত জীবনের এমন কোন গভীর রহস্য রয়েছে, যা তুমি গোপন করছো। কাফেলাপতি শীতল শ্বাস নিয়ে বললেন,
হ্যাঁ এমন কিছু ধরে নাও! অধিকš‘ তুমি আমার ব্যর্থতার দুঃখময় কাহিনী শুনে কি করবে? এ উপাত্যকার সহস্র বছর চলে গেল, আমরা উ™£ান্ত ঘুরছি। তোমার মত বহু সহমর্মি পথিক এ পথ দিয়ে গিয়েছেন এবং কিছু সময় আমাদের সাথে অপেক্ষা করেছেন। তোমার মত তারাও আমাকে এ বিপদসংকুল বন্দিখানা হতে বের করার চেষ্টা করেছে। পরš‘ আমি যখন মুসিবতের হৃদয়বিদারক কষ্ট তাদের বল্লাম, তখন একথা বলে চলেগেলেন যে, তোমার এ জখমের ঔষধ মানুষের কাছে নেই। অপেক্ষা কর, হয়তো আসমান হতে তোমার জন্য কোন প্রতিষেধক অবতীর্ণ হতে পারে।
এ জন্য বলছি যে, বায়না ধরোনা। আমাদের অবাককরা শোচনীয় কাহিনী শুনে তুমিও ওই কাজ করবে, যা তোমার পূর্বগামীরা করেছে। তুমি একজন মুসাফির, যাও নিজের পথ ধর। তোমার সমবেদনার জন্য বহু বহু কৃতজ্ঞতা। কাফেলার দলপতি ¯ি’র সিদ্ধান্তের ভঙ্গিতে বললেন, “এখনতো তোমার কথাআমাকে আপাদমস্তক আগ্রহ বানিয়ে দিয়েছে। এখন আমি তোমাদের দুঃখগাঁথা শুনা ব্যতীত এখান হতে নড়তে পারবোনা। বিশ্বাস কর, আমি ওই পথিকদের অš‘র্ভূক্ত নয়, যারা তোমার সজল নয়নে শুধু আপনআঁচল রেখে চলে গিয়েছে। আমি নিজেও দুঃখ-বেদনার দোলনায় পালিত হয়েছি। এ কারণে তোমার হৃদয়ের ছটফট রহস্য আমার নিকট গোপন থাকতে পারেনা। এখন তুমি আপন দুঃখগাঁথা শুনাতেই হবে”। মুসাফির স্নেহমাখা কন্ঠে বলে গেলেন বাক্য কয়টি।
মানব স্বভাবে কতইনা মিল থাকে। ঠিক এ চিত্রই ছিল ওই সব পথিকদেরও, যারা তোমার ভাষায় আমার সজল চোখে আপন আঁচল রেখে চলে গিয়েছে। তারাও আমার পরীক্ষার কাহিনী শুনার জন্য এরূপ ব্যাকুল ছিল, ঠিক তুমি যেমন। আগ্রহ প্রকাশের ক্ষেত্রে তুমি ও তারা সম্পূর্ণ এক বরাবরদেখা যা”েছ। পরবর্তী পর্যায়ে তুমি তাদের থেকে ভিন্ন হলে আমি বলতে পারি।
“যা হোক, তুমি আমার কাহিনী শুনতে একগুঁয়ে হয়েছো তো শুন! পরš‘ এ আশায় বলছিনা যে, আমাদের সমস্যার জট খুলে দেবে, বরং শুধু এ জন্যই বলা যে আমাদের কাফেলা হতে ভগ্নান্তর যেন না যাও”। এতটুকু কথোপকথনের পর কাফেলার সরদার এক দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে কাহিনী শুনাতে শুর“ করল।
দেখ! বহুদিনের কথা। না আমি ভুল বলেছি, বরং সে সময়ের কথা যখন ভূপৃষ্ঠে মানুষের পাও পড়েনি। ওই সময় জগৎস্রষ্টা আসমানে বহু বড় এক দরবার বসালেন।
কিনারাহীন এক বিস্তৃতি ছিল। যাতে এক দিকে বক্ষটান পাহাড়ের সারি দাঁড়ানো ছিল। অন্য দিকে জমিনের গোলাকার বৃত্ত পড়ে ছিল। ঠিক শাহী পদপ্রান্তে মানবাত্মার ভিড় ছিল। যখন সমস্ত সৃষ্টি এসে উপ¯ি’ত হল, এককঅদ্বিতীয় প্রভু আপন মর্যাদা-মাহাত্ম্যের চাঁদরাভ্যন্তর হতে একটি হীরা বের করলেন। ওটার সৌন্দর্যের চমকের কথা কি বলবো যে, চোখ তুলে দেখার সাধ্য কারো ছিলনা। বেশ দৃষ্টিতে তীব্র এক কিরণ পড়ল আর সকলের চোখ আঁধার হয়ে গেল।
আল্লাহ তা’আলা সকল উপ¯ি’তিকে সম্বোধন করে বললেন,
দেখ! এটি আমার কূদরত-খনিরঅতি মূল্যবান আমানত; যে ওটার সংরক্ষণ-দায়িত্ব পালন করতে পারবে, এগিয়ে আস। এ হীরা আমি তাকে সোপর্দ করবো। পরš‘ এ শর্তযোগে যে, এক দীর্ঘ মেয়াদ পর ফের একটি সাধারণ দরবার বসাব; ওই দিন এ আমানত সম্পূর্ণ এ অব¯’ায় ফেরৎ দিতে হবে। এ-ও শুনে নাও যে, আদায়ে বিন্দু মাত্র ত্র“টি হলে তবে আমার বিচারাদালতে কষ্ট ও অঙ্গিকার রক্ষার শানদার বিনিময় যেমন রয়েছে, অনুরূপ অবাধ্যতার দৃষ্টান্তমূলক দন্ডও ।
মহান আল্লাহর ঘোষণা শুনে চতুর্দিকে কানাঘুষা হতে লাগল। সাধারণ ভাবে ধারণা ছিল যে, অসমানের চওড়া-সমান বক্ষ এ আমানতভার অবশ্য তুলে নেবে। পরš‘ আশ্চর্যান্বিতের কোন সীমা ছিলনা যে, যখন আসমানের নিকট এ আমানত পেশকরা হল, তখন ভয়ে তাতে কম্পন এসে গেল। হীরার জন্য পাথরের বক্ষ প্রসিদ্ধ ছিল। আসমানের অস্বীকৃতির পর শাহী সম্বোধন পাহাড়ের প্রতি হল।
বলতো এ আমানত কি তোমাদের বক্ষ বিদীর্ণ করে রেখে দেব?
এ কথা শুনে পাহাড়ের অহংকারী ললাটে ঘর্ম এসে গেল। সংকোচিত হয়ে আবেদন জানাল, “আমাদের চূড়াকে উ”ছতার মুকুট দানকারী মালিক ! তোমার আমানতের মহিমাভার আমরা ওটাতে পারবো না। আমাদের বক্ষ ফেটে যাবে, কোমর টুটে যাবে।”
এবার জমিনের পালা এল। সুলতানী ফরমান এ রূপ উ”ছারিত হল,
“হে স্বভাবজাত সংরক্ষক! তোমার দামানে পুষ্পশাখা হতে কোন বীজ যদি ছিটকে পড়ে, তবে তুমি তা বিনষ্ঠহতে দাও না। তোমারই সততা-সাধুতায় উদ্ভিদের সভা আবাদ রয়েছে। আমার খনির এ হীরা তুমিই আপন অন্তরে রাখবে কি?”
এ কথা শুনে জমিন তার ধূলিধূসর চেহরা শাহী অট্টালিকার দরজা রেখে দিল এবং কাঁপতে-কাঁপতে বল্ল, “হে মহাপ্রভাবশীল বাদশাহ! আপনি ভালই জানেন যে, আপনার ছোট্ট-বড় সৃষ্টির পদে দলিত-মথিত আমি এক অক্ষম-নিকৃষ্ট সৃষ্টি মাত্র। বলুন, আমারমাঝে এত হিম্মত কোথায় যে, আপনার মহান আমানত বহনকরতে পারি।”
ওই ভরপুর দরবারে সকলের চেহরা বিবর্ণ। সবার দৃষ্টি আপন নিরাপত্তা-সু¯’তার প্রতি নিবন্ধিত ছিল। কিš‘ ইনসান দাঁড়িয়ে চিন্তা করছিল যে, এক সরল বান্দার এ যুক্তিতর্কের সাথে কি সম্পর্ক যে, আমানতের প্রাপ্য আদায়ের যোগ্যতানিজের মাঝে আছে কি নেই? তারতো শুধু এটিই দেখা চায় যে, মালিকের সš‘ষ্টি কিসে?

ফোরামে আছি ।

Share

জবাব: কল্প গল্প নয় সত্যনিষ্ঠ কাহিনী [পর্বঃ ০১]

আল্লাহর ইচ্ছা এ আমানত কারো সোপর্দ করতে চায়, তবে তা গ্রহণে এদিক-সেদিক কেন করা হবে? যিনি আমানত দিচ্ছেন, তিনি যোগ্যতাও দান করবেন। ধরে নেওয়া হোক যে, যদি বন্ধুর কারণে আমরা ধ্বংসও হয়ে যায়, তাতে কি ক্ষতি ! এ চিন্তা করে মানুষ আগ বাড়িল এবং পরিণতি না ভেবেই হীরা তুলে নিল। সৃষ্টির ওই সমাবেশের প্রত্যেকেই আশ্চর্য হয়ে মানুষের মুখ দেখতে রইল। তাদের নগ্ন দুঃসাহসে বড়-বড়দের হিয়া কেঁপে ওঠল। স্বয়ং স্রষ্টা মানুষের সাহস শঙ্কাহীন দেখে বললেন, “জালেম এবং পরিণতির খবরহীন মানুষই”।
অতঃপর দুনিয়ায় মানুষেরআসা-যাওয়া শুরু হল। ক্রমান্বয়ে তার বংশ সারা পৃথিবীতে বিস্তৃত হল। প্রতিযুগে বিশেষ কিছু মানব রাজাধিরাজের পক্ষ থেকে ধরাপৃষ্ঠে আসতে রইলেন। যারা ধারাবাহিক এ হীরার সংরক্ষণ করেছেন। সমস্ত মানব সন্তানকে পুরো জীবন হেদায়ত করতে রইলেন যে, খবরদার! ওই হীরা যেন বিনষ্ঠ না হয়, নইলে অনুষ্ঠিতব্য দরবারে মানবের বড় লজ্জা-অপমান হবে।
দয়াবান মুসাফির! আজ হাজার হাজার বছর বয়ে গেলযে, এ মর“ভূমির দেশে শাম দেশের এক বৃদ্ধ আবিষ্কর্তা আপন দুগ্ধপোষ্য শিশু ও স্ত্রী নিয়ে এলেন এবং পানি-তৃণ বিহীন পাহাড়েরউপত্যকায় রেখে চলে গেলেন। বিদায়-বেলায় তার এ মুনাজাত বড়ই কর“ন ছিল।
পরওয়ারদিগার! তোমার সম্মানিত ঘরের নিকট, পানিও উদ্ভিদ বিহীন এক মর“প্রান্তরে আমি আপন বংশ আবাদ করেছি, এখন আপনিই তাদের রক্ষক।
দুনিয়া হতে বিদায়-বেলায় সম্মানিত পিতা ওই আসমানি হীরা নিজের ওই প্রিয়পুত্রকে সোপর্দ করে দিলেন। আমাদের যে কাফেলা তুমি দেখতে পা”ছ, তাঁরই বংশধারা। যখন আমাদের উর্ধ্বতন পূর্বপুর“ষ এ নশ্বর পৃথিবী হতে বিদায় নি”িছলেন, তিনি বংশের বড়বুড়োদের নিজের কাছে ডাকলেন। সবাই যখন আশ-পাশে একত্রিত হলেন, তখন তিনি জামার বুকের দিকউম্মুক্ত করে ওই হীরা বেরকরলেন এবং শ্বাস নিয়ে গোত্রপতিদের বললেন,
“দেখ! মৃত্যু আমার শিয়রে দাঁড়িয়ে আছে। অচিরেই সে তোমরা ও আমার মাঝে বি”েছদের একটি প্রাচীর-আড়াল খাঁড়া করবে। এমতাব¯’ায় যখন আমার দৃষ্টিশক্তি লোপ পা”েছ, আমি চিরদিনের জন্যতোমার থেকে পৃথক হ”িছ, মানব বংশের বাপ-দাদার পরম্পরায় আসমানী যে হীরা হস্তান্তর হয়ে আমার নিকট পৌঁছেছে, তা আমি তোমাদের সোপর্দ করতে চাই। আমার জীবনের এ শেষ বাক্য তোমরা হৃদয়ের পলকে লিখে নাও; সবকিছু ভুলেও এটা ভুলোনা।
দেখ! এ পৃথিবী এখন নিজের শেষ সময় পার করছে। অচিরেই তা ওই বিন্দুতে পৌঁছতে যা”েছ, যেখান থেকেতার সূচনা হয়েছে। আমিও ওখানে যা”িছ। কিš‘ আমার পূর্বে মানুষের লক্ষ কাফেলা ওখানে পৌঁছেছে।
তোমরা ছোট-বড় সবাই স্বাক্ষী থাক যে, তোমরা পর্যন্ত এ আমানত পৌঁছিয়ে আমি আপন দায়মুক্ত হয়ে গেলাম। এখন মানব জাতির সম্মান তোমাদের হাতে। জীবনের বিপদজনক ঘাট তোমাদের পার হতে হবে। পদে পদে ডাকাতেরভিড় ওত পেতে আছে। আল্লাহতোমাদের সফর সফল ও নিরাপদকর“ন। এতটুকু বলে আমাদের গোত্রের বৃদ্ধ পিতা চিরদিনের জন্য আপন চোখ বন্ধ করলেন এবং আমাদের ইয়াতিম বানিয়ে গেলেন”।
এখানে পৌঁছে কাফেলা-প্রধানের চোখে জল এসে গেলএবং শব্দ কর“ন হয়ে গেল। অল্প বিরতির পর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ফের বল্ল,
আমার সহানুভূতিশীল মুসাফির! এ ঘটনার পর কয়েক শত বছর পর্যন্ত ওই হীরা আমাদের কাফেলায় হাত হতে হাতে পরিবর্তন হ”িছল এবং আনন্দে জীবনের গতি বয়ে যা”িছল। পরš‘ একদা আমরা এ উপাত্যকা অতিক্রম করছিলাম যে, হঠাৎএক পাথরের সাথে ধাক্কা লাগল আর আমার হাত ফসকে ওইহীরা পড়ে গেল। আঁধার রাতছিল, আমরা বহু ভাবে তালাশকরেছি, খুঁজে পায়নি।
ওই সময় হতে আজ পর্যন্ত আমরা ওই হীরার সন্ধানে এখানে আটকে আছি। আঁধার রাতে ধাক্কা খেতে খেতে আমাদের কাফেলা ঘায়েল হয়ে গিয়েছে। কতবার আমরা ঘুমিয়ে জেগেছি, জেগে ঘুমিয়েছি, কিš‘ জানিনা কত দীর্ঘ রজনী যে,অদ্যাবধি ভোর হয়নি।
আহ! এখন আমরা কোন মুখ নিয়ে আসমানি দরবারে হাজির হবো। যারা আমাদের পূর্বে গিয়েছে তারা আমাদের অপেক্ষায় চেয়ে আছেন। কিš‘ তারা কি জানে যে, মাঝ পথে আমাদের জীবন-সম্বল হারিয়ে গিয়েছে?
হায় অসহনীয় আফসোস! আসন্ন অনুষ্ঠিতব্য আসমানি দরবারে মানবজাতিরসকল সদস্য আমাদের কি বলবে? আদম সন্তানে আমরা কতই অভাগা!
কাফেলার দলপতি নিজের কাহিনী আদ্যোপ্রান্ত শুনালে মুসাফির মাথা তুললেন এবং হৃদয়গ্রাহী ভঙ্গিতে বললেন ,
“কাফেলাপতি! এতে সন্দেহ নেই যে, তোমার জীবনগল্প দুঃখ-কষ্টের এক শিক্ষাপ্রদ সমষ্টি। তোমাদের কাফেলা এখন যে উপত্যকায় রয়েছে, সে সম্পর্ক এক নিগূঢ় রহস্য আমার বক্ষেও সংরক্ষিত আছে। প্রসঙ্গক্রমে কথা বেরিয়ে এসে পড়েছেতো শুন।
অনেকদিন আগের কথা। আমার গোত্রের এক পর্যটক এ উপত্যকা অতিক্রম করছিলেন। হঠাৎ এক সূচালো পাথর তার “আ’বার” দামানে জড়িয়ে গেল। সে ঝুঁকে আপন দামান মুক্ত করছিল যে, তার হাতে মসৃণ চতুস্কোণা একটি পাথর পড়ল। সে পাথরটি তুলে নিল। আলোতে এসে দেখতে পেল, ওটি লোহিত পদ্মরাগমণির ফলক। তাতে সবুজ অক্ষরে লিখিত আছে,
“এটি কুফর ও গোমরাহির অন্ধ ঊপত্যকা। এখানে  আঁধারের রাজধানী। এ উপত্যকায় সূর্যের প্রবেশ-অনুমতি নেই। এখানে কেউ আজ পর্যন্ত সকালের চেহরা দেখেনি।  এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তোমার জন্য এটি দুঃখ-দুর্দশার বড় বেদনাদয়ক দুর্ঘটনা। পরš‘ আমি নিশ্চিত যে, আশারপ্রদীপ নিভে যায়নি। তোমরাতো স্বীয় অভিষ্টেরধন তালাশে ব্যাপৃত আছ। বেশ! ঘাবড়িয়োনা। জগতপতির দরবার বড় অসহায় পালক দরবার; মুসিবতের এ আঁধার ঘরে তোমাদের জন্য ওখান হতে কোন আলো অবশ্য অবতীর্ণ হবে এবং তোমাদের হারানো হীরা পেয়ে যাবে।” মুসাফির প্রবোধের সুরে কথা কয়টি বলে গেলেন।
“পরš‘ আমরাতো দুর্ভাগ্যের প্রান্তে পৌঁছেছি। ওই সৌভাগ্য আমাদের কী করে হবে যে, মহারাজের দয়া আর্শের চূড়া হতে আমাদের সাহায্যে আসবে! যদিও তার দয়ার সাগর অসীম, কিš‘ আমরাতো এক বিন্দুর জন্য ছটফট করছি; যদি তার তরঙ্গের বাষ্পীয় শিশিরওজুটত!” এতটুকু বলতে বলতে কাফেলাপতির শব্দ কন্ঠে আটকা পড়ল এবং ব্যাকুল একচিৎকার মুখে ফুটল “হায় আমার হীরা”। অতঃপর হাঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে কান্না করতে লাগল।
মুসাফির এ বেদনাবিধুর অব¯’া সহ্য করতে পারলেন না।

ফোরামে আছি ।

Share

জবাব: কল্প গল্প নয় সত্যনিষ্ঠ কাহিনী [পর্বঃ ০১]

“জগতপতির দেহধারী দয়া তোমারই সামনে দাঁড়িয়ে আছে আর তুমি আপন দুর্ভাগ্যের মাতম করছো?”এ বলে তিনি তড়িৎ আপন চেহরার পর্দা তুললেন।
      পর্দা উল্টাতেই চতুর্দিক আলোতে উদ্ভাসিতহয়ে গেল এবং আঁধার উপত্যকার অণু-ক্ষণা চমকেওঠল । অতঃপর তিনি বালিচরেআপন সার্বভৌম দৃষ্টির এক তীব্র কিরণ বি”ছুরণ করলেন আর আঙ্গুল তুলে ইঙ্গিত করলেন, ‘ওই দেখ তোমার হীরা চমকা”েছ’। কাফেলাপতি দৌঁড়ে তা তুলে নিলেন ।
এ অত্যাশ্চর্য ঘটনায় কাফেলার সবাই হতচেতন। যে যেখানে ছিল সেখানেই হতবিহ্বলতার দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। হারানো মানিক ফিরে পাওয়ার আনন্দ প্রকাশ করতেও ভুলে গেল।
কাফেলাপতি এ দিকে হীরা তুলে নিলেন, ওই দিকে মুসাফির আপন মুখ ঢেকে নিলেন। অতঃপর এ বলে বিদায় হতে চাইলেন যে, “আ”ছা আমি যা”িছ, আবার ওখানেই দেখাহবে যেখানে এ আমানত ফেরৎ করতে হবে, আমিজগৎপতির শেষ নূর সর্বশেষ!”
“মুসাফির এতটুকু বলে পা বাড়াতে চাইলেই কাফেলাপতি এগিয়ে এসে তার “আ’বার” দামান আঁকড়েধরল।
আমার সাহায্যকারী! এখন তুমি কোথায় যেতে পার। দেখ আমাদের চোখে তারকারাজি চমকা”েছ। এখন তা আপনার কদমে উৎসর্গ হতেহবে। আপনি আমাদের কাফেলায় এক অপরিচিত মুসাফিরের মত এসেছেন কিš‘আমাদের হৃদয়রাজ্য জয় করে নিলেন। আপনি আপন রাজধানী ছেড়ে কোথায় যা”েছন? এখনতো এটিও জানা হলনা যে, আপনি কে? কোত্থেকে এসেছেন?” কাফেলাপতি বড় বিনম্র সুরে কথা কয়টি বললেন।
“দামান হেঁচকা দেওয়া আমার রীতি নয়। পরš‘ তুমিএটি জানতে চেয়োনা যে, আমি কে? তোমার আরাধ্য ধন তুমি পেয়েছ, বেশ সানন্দেআপন পথ ধর। আমি তোমাদের জন্য যা করেছি, তজ্জন্য মোটেও আমি বিনিময ও কৃতজ্ঞতা প্রত্যাশী নই”।পরিপূর্ণ অমুখাপেক্ষীতার ভঙ্গিতে মুসাফির উত্তর দিলেন।
“অধিকš‘ কোন ব্যাক্তির পরিচিতি জানাতো মানুষের জন্মগত অধিকার। আপনার মতো আশ্চার্যান্বিতের মূর্তি দেখে জানার প্রচেষ্টা না করাতো রীতিমত আপন স্বভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করা। না আপনিদামান হেঁচকা দেবেন, না আমি দামান ছাড়বো; এর চেয়ে বড় আনন্দের মুহূর্ত আর কি হতে পারে? অতীত হওয়া কষ্টের কলের মতো এটিও আপনি দীর্ঘ করে দিন; দন্ড হয়ে যাক”। কাফেলাপতি বড় মিনতি করে বাক্য কয়টি উ”চারণ করে গেলেন।
“দেখ তুমি কাফেলার নেতা, অপ্রাসঙ্গিক কথার পিছে পড়া দায়িত্ববান লোকের কাজ নয়। আমি কে? এ প্রশ্ন মানব-প্রকৃতির দাবী বটে, পরš‘ সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া মানব স্বভাবের আবশ্যকতারআওতায় পড়েনা। দেখ আমার দামানের সাথে লক্ষ-কোটি দুর্দশাগ্রস্ত মানবের আশা-আকাঙ্খা জড়িত। তুমিআমাকে যেতে দাও। কতই সজল আঁখি আমার অপেক্ষায় চেয়ে আছে, তোমার অহেতুক কথার জন্য আমার মোটেও সময় নেই”। মুসাফির গম্ভীর সুরে উত্তর দিলেন।
“আ”ছা আপনি নাইবা বললেন আপনি কে? পরš‘ আমার মনের ধাঁধাতো দূর করবেন যে, আপনি পর্দাবৃত ছিলেনতো চতুর্দিকে আঁধারে ঘেরা ছিল, আপনি পর্দা তুল্লেনতো আপনার চেহরার জ্যোতে চতুর্দিক আলোকিত হয়ে গেল; এবার আপনিই বলুন আমি আপনাকে কি মনে করব? মানুষ না ফেরেশতা? অধিকš‘ ফেরেশতার এ রূপ দেহ হয়না আবার মানবের চেহরা সূর্য হতে পারেনা। এখন এছাড়া আর কি বলতে পারি যে, আপনি আশ্চর্যজনকএক নূতন সৃষ্টি”।
আমার হৃদয় বিজেতা! আমি বড় আব্দার নিয়ে বলছি, রাগ করবেন না। কাফেলাপতি অতি সংকোচে কথা কয়টি বললেন।
“তোমাকে কতইনা বল্লাম যে,আমি কে? এর পেছনে পড়োনা।কিš‘ তুমি আপন একগুঁয়েমিছাড়ছোনা।
আমি কে? এটা এমন এক প্রশ্ন, যার উত্তর তোমার বোধ-বুদ্ধির বহু উর্ধ্বে। (আমার প্রভু ছাড়া আমাকে আর কেউ জানেনা যে, আমি কে? )
এখনও যদি তোমার সান্ত্বনা না আসে তবে শুনযে, আমার প্রকৃত রূপের ওপর অসংখ্য পর্দা রয়েছে,যাতে তোমাদের দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট থাকে এবং তোমরা আমার চেহরার বরকত লুটে নিতে পার। ওটি মানবাকৃতির পর্দা, যা পরে আমি তোমাদের সমাবেশে পদার্পনকরেছি; যাতে তোমরা আমার সাথে পরিচিত হয়ে আমার দামান কাছে আসতে পার এবং আমি তোমাদের খোদা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারি। মানব দৃষ্টি আমার হাকীকতের সৌন্দর্য দেখারশক্তি রাখেনা। তাদের বোধ-বুদ্ধির দৌঁড় কেবল আমার বহ্যিক আকৃতি পর্যন্ত এবং এ দৃষ্টিভঙ্গিতেই দুনিয়াবাসী আমাকে মানব বলে। বুঝতে পেরেছোতো।
অতঃপর তুমি নয়ন ভরে দেখ।জিজ্ঞাসা করোনা যে, আমি কে? আমার রূপের রাজ্যে চোখের জন্য দেখার অনুমতি আছে কিš‘ মুখের জন্য প্রশ্নের অবকাশ নেই। তুমি আপন সীমা অতিক্রমের চেষ্টা করোনা”। মুসাফির দার্শনিক ভঙ্গিতে বুঝিয়ে বললেন।
“অধিকš‘ আপনিতো এ বুনিয়াদি প্রদীপেও মানবীয় গুণের উর্ধ্বে দেখা যা”েছ। এ সব কিছু আমার দৃষ্টির অলৌকিকতা নয়, আপনারই দৃশ্যমান দ্যূতির কারিশমা। আপনার বাহ্যিক আকৃতি, যেটাকে আপনি আমার দৃষ্টি পুঁজি নির্ধারণ করেছেন, তা আপনার হাকিকতের সৌন্দর্যের ইঙ্গিতবাহী। এখন আমি বলতে পারবো না যে, এটি আমার দৃষ্টিভ্রম না বাস্তবেই আপনি এরূপ”। কাফেলাপতি জড়সড় ভঙ্গিতে বলে গেলেন।
দৃষ্টিভ্রম নয়, এক বাস্তব হাকিকত! পরš‘ বহু দুর্বোধ্য!! মেঘের আড়ালে চন্দ্রিমা রাত!!! অতঃপর তুমিই চিন্তা কর, যদি এ সম্ভাবনা ভিত্তিহীন হয় তবে আসমানের প্রভুর মাহত্ম্যের কাচারি হতে এ ঘোষণার প্রয়োজন কেন হল।
দৃষ্টি আপন পরিদর্শনে স্বাধীন থেকেও আমাকে মানুষই বুঝে। তুমিই বল, এটি কোন আশঙ্কার দ্বার র“দ্ধ করা হ”েছ।
আমি আশা করছি যে, আমার কথোপকথনের মূল উদ্দেশ্য তুমি বুঝতে পেরেছ, এবার এধারাবাহিক শেষ করে দেবে। আ”ছা এখন আমাকে যেতে দাও”। মুসাফির গাম্ভীর্যের সাথে বলে গেলেন।
“আবেগ-আকর্ষণের এ অনি”ছাকৃত ত্র“টি ক্ষমা করে দেবেন। আমি অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে আপনাকে কষ্ট দিয়েছি। অধিকš‘ এতটুকু কষ্ট যদি আরো সইতে আপত্তি না থাকে তবে যাওয়ার বেলায় একটু আপনার নাম বলে দিন। ন্যুনতম আপনার নাম স্মরণে আপন অš‘রকে প্রশান্তি দিতে থাকব”। কাফেলাপতি অতি আদবের সাথে বলছেন।
“বড়ই আশ্চর্য! জমিন-আসমানের এপিঠ ওপিঠ থেকে শুর“ করে জন্নাত ও আর্শের দরজায় অস্তিত্ব দপ্তরের প্রতি পাতায় আমার নামের মোহর-অংকিত; আর তেমাকে নাম বলার প্রয়োজনীয়তা বাকি রয়েগেল? যদি তুমি জিজ্ঞাসার পরিবর্তে পড়ার চেষ্টা করতে।

ফোরামে আছি ।

Share

জবাব: কল্প গল্প নয় সত্যনিষ্ঠ কাহিনী [পর্বঃ ০১]

আচ্ছা ধরে নাও, এমন এক সত্ত্বা যিনি আপন প্রকৃতিতে সর্বপ্রকার কদর্যতামুক্ত নিষ্পাপ সৃষ্টি হয়েছেন, যার স্বভাব-প্রকৃতি এতই পুতপবিত্র ও উ”চ যে, মর্যাদা-মাধুর্য যার দামানে ¯’ান পেয়ে সম্মানিত হয়েছে এবং যিনি আপন সৌন্দর্য ও পূর্ণতায় জমিন থেকে আর্শের চূড়া পর্যন্ত সকল সৃষ্টির প্রশংসাকীর্তনের প্রত্যাবর্তন¯’ল; এবার তুমিই বল এমন সত্ত্বাকে তুমি কি নামে ডাকবে?” মুসাফির মৃদুহাস্যে জিজ্ঞাসা করলেন।
কাফেলাপতি বল্ল,
তাঁর নাম মুহাম্মদ ছাড়া আর কি হতে পারে! (হতচকিত হয়ে) তবে কি আপনিই মুহাম্মদ? আপনিই শেষ নবী হন? আয় সৌভাগ্য! আপনি ফেরেশতার সমাবেশে দীপ্ত ওই ফারাণের জ্যোতি, যার সুসংবাদ ঈসা মসীহ দিয়েছেন! মত্ততায় ডুবেকাফেলাপতি এটি বলতেই ছিল,অমনি গাছপালা, পাহাড়-পর্বত ঝুঁকে গেল এবং জল-¯’লের সবখান হতে এ আওয়াজ আসতে লাগল।
আস্সালাতু ওয়াস্ সালামুআলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ
আস্সালাতু ওয়াস্ সালামুআলাইকা ইয়া নবীয়্যাল্লাহ
কাফেলার সবাই হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে প্রেম ও ভক্তির এ সভায় শামিল হয়ে গেল। কথা এখান পর্যন্ত পৌঁছলেই ফজরের আযানের শব্দ কানে এল আর আমার নিদ্রা টুটে গেল।

ফোরামে আছি ।