টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৪)

যে সব গাছের মিসওয়াক করা হয়
পিলু গাছ বা আরাক : পিলু গাছ পাঞ্জাব দেশের বিভিন্ন স্থানে লবণাক্ত ও বিরান ভুমিতে পাওয়া যায়। পিলু গাছের আঁশ গুলো খুব নরম এবং মসৃন। এ গাছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম (Calcium) ও ফসফরাস (Phosphorus) নামক রাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায়। যা শরীর বিজ্ঞানে তথা আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজন। (বিস্তারিত মিসওয়াক ও রাসায়নিক উপাদান অংশে দ্রষ্টব্য)। পিলু গাছের মিসওয়াক তাজা ও নরম অবস্থায় চিবালে তার মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসে তিক্ত ও তেজস্ক্রিয় এক ধরনের পদার্থ। এই পদার্থ মুখের ভিতরের জীবাণুকে ধ্বংশ করে ফেলে বা নিষ্ক্রিয় করে ফেলে বা প্রতিহত করে। এ গাছের আরও যেসব রাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায় তা হলো-
 ট্রাইমিথাইল অ্যামিন (Trimethyl Amine),
 সালভাডোরাইন (Salvadorine) নামক অ্যালকালয়েড (Alkaloid),
 ক্লোরাইড (Chloride),
 ফ্লোরাইড (Floride),
 সিলিকা (Sillica),
 গন্ধক (Sulphur),
 খাদ্যপ্রাণ সি (Vitamin `C’),
 ট্যানিন্স (Tanins) এবং স্যাপোনিন্স (Saponins),
 ফ্লেভোনয়েডস (Flavonoides) এবং স্টেরল্স (Sterols),
 রঞ্জক পদার্থ (যেমন Natural Pigments)।
(এগুলোর বর্ণনা ‘মিসওয়াক ও রাসায়নিক উপাদান’ অংশে বর্ণিত)।

নিম গাছ : নিম গাছের মিসওয়াক ব্যবহারের উপকারিতা জানে না এমন মানুষ বাংলাদেশে পাওয়া দুষ্কর। নিম গাছের ডাল এ দেশের মানুষের উৎকৃষ্ট মিসওয়াক। নিম জাতীয় গাছকে বুতম বলা হয়। এ কথা সবারই জানা থাকার কথা যে, যে বাড়িতে একটা নিমের গাছ আছে সে বাড়ি কমপক্ষে দশ-বিশটি মতান্তরে ৭০টি রোগজীবাণুর আক্রমণ থেকে মুক্ত। আবার নিম গাছের ছায়াও স্বাস্থ্যকর। খোস পাঁচড়া, চুলকানী, অ্যালার্জিজনিত রোগ, বহুমূত্র, রক্তের বিকৃতি, কাশি, কৃমি, কুষ্ঠ, পিত্ত, ব্রণ, যকৃতের রোগ সহ বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে এ গাছ ব্যবহৃত হয়। নিম গাছের মিসওয়াক ব্যবহার করলে অতি সহজেই এ থেকে কিছু উপকারীতা পাওয়া যায়। তাছাড়া নিমের গাছে থাকে তিক্ত রস যা মুখ দিয়ে চিবালে মুখের ভিতরের জীবাণুকে ধ্বংশ করে।

যায়তুন গাছ বা আনাম : যায়তুন গাছের ডাল বা শিকড় শহরের বিভিন্ন মার্কেটে বা বাজারে মিসওয়াকের আকৃতিতে পাওয়া যায়। অন্যভাবেও পাওয়া যায়। যাতায়াত ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতির ফলে ভীনদেশের কোন কিছু পেতে তেমন বেগ পেতে হয় না। শুধু মাত্র সেই বস্তুটি সম্পর্কে সুধারণা থাকলে তা অনায়াসে হাতের কাছে আসে অর্থাৎ ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট। যায়তুন গাছের মিসওয়াক দ্বারা অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। এর মধ্যে অন্যতম দুটি সুবিধা হল-
ক) বিভিন্ন কারণে মুখের ভেতর ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি হলে তা দূর করে;
খ) মুখের ভেতর কোন কিছু গলে পচে গিয়ে মুখে দূর্গন্ধ সৃষ্টি করলে এ গাছের মিসওয়াক ব্যবহারে মুখের দূর্গন্ধ দূর হয়ে এক ধরনের সুমিষ্ট আবহ তৈরি হয়।
এ সম্পর্কে একটি হাদিস উল্লেখ করা যেতে পারে। হযরত মুয়াজ (রাঃ), রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাম হতে বর্ণনা করেন, যায়তুন গাছের মিসওয়াক কতইনা উত্তম! এটা হচ্ছে পবিত্র বৃক্ষের অংশ যা মুখকে দূর্গন্ধমুক্ত ও মুখের ক্ষত দূর করে। এটা হচ্ছে আমার মিসওয়াক ও আমার পূর্ববর্তী নবীদের মিসওয়াক। (কানযুল উম্মাল তাবারানীর বরাতে, সূত্র : হাদিসে নূর ও আধুনিক বিজ্ঞান, পৃষ্ঠা নং ৪০)। যায়তুন বা অন্যান্য বৃক্ষের মিসওয়াক হতে দ্রুত ফল পেতে হলে প্রতিদিন মিসওয়াকের নতুন আঁশ বের করে মিসওয়াক করতে হবে।

কানীর গাছ : কানীর গাছ অত্যন্ত তিতা স্বাদযুক্ত। কানীর গাছ দুই প্রকার। লাল ফুল ও সাদা ফুল যুক্ত। যে সব রুগীদের ‘পাইওরিয়া’ রোগে আক্রমণ করেছে তাদের এ গাছের মিসওয়াক দিয়ে মিসওয়াক করলে এ রোগ থেকে নিস্কৃতি পাওয়া যায়। ইহার স্বাদ তীব্র তিতা বলে মুখের ভিতরের জীবাণুকে ধ্বংশ করতে এ গাছের মিসওয়াক অতি ফলপ্রদ ভূমিকা পালন করে।

বাবলা : বাবলা গাছ আমাদের অতি পরিচিত। তবে মিসওয়াক হিসাবে অতটা নয়। বাবলা গাছের ডাল দাঁতের ফাঁকের জমাট বাধা ময়লা সহজেই তুলে আনতে পারে।

অর্জুন : অর্জুন গাছ বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই পাওয়া যায়। মিসওয়াকের মাধ্যমে এই গাছের যে সব উপকার পাওয়া যায় তা হল যক্ষা বা ক্ষয়কাশ, প্রস্রাব বন্ধে, রক্ত আমাশয়ে, রক্তপিত্তে, লো-ব্লাডপ্রেসারে ইত্যাদি। তাছাড়া হৃদরোগের টনিক তৈরিতে এ গাছ ব্যবহার করা হয়। সুতরাং এ গাছের মিসওয়াক ব্যবহারে হৃদরোগের উপকার পাওয়া যাবে। তবে যাদের হাই ব্লাডপ্রেসার, হজমে গোলমাল আছে তাদের জন্য এ গাছের রস সরাসরি গ্রহণ করা যাবেনা। তবে মিসওয়াক করলে অসুবিধা নেই।

আকন্দ গাছ : আকন্দ গাছ তবে যাকে বানরের লাঠি বলি সে গাছ নয়। এ গাছ দাঁতের ব্যথা, সর্দিকাশি, চর্মরোগ, জন্ডিস প্রভৃতি রোগে কাজ দেয়। ফলে এ গাছের মিসওয়াক ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়।

ডালিম গাছ : ডালিম শক্তিশালী সংকোচক এবং কৃমিনাশক। এ ছাড়া এ গাছের মিসওয়াক ব্যবহারে নিম্মোক্ত রোগসমূহে উপকার পাওয়া যেতে পারে যথা-অজীর্ণ, আমাশয়, নারীদের প্রায়ই গর্ভস্রাব হলে, হৃদরোগ, অনিদ্রা ইত্যাদি।

আম গাছ : আম গাছের মিসওয়াক ব্যবহার করলে বমি বমি ভাব দূর হতে পারে। ইহা প্লিহা রোগে ভূমিকা রাখতে পারে। আম গাছের মিসওয়াক ব্যবহারকে মাকরূহ বলা হয়ে থাকে।

বেল গাছ : বেল গাছ এর মিসওয়াক ব্যবহার করলে যাদের বমি বমি ভাব হয় তাদের উপকার হবে। তা ছাড়া কফ ও বায়ু রোগে উপকার দেয়। এটি বাতের রুগীদের উপকার করবে।

লেবু গাছ : যে সব রোগে উপকার দেবে- গোঁড়া লেবুর গাছ থেকে- কফ, বমি বমি ভাব, মুখে রসের অভাব, বাতাবী লেবুর গাছ থেকে- উচ্চ রক্তচাপ, হৃৎপিন্ড রোগ, বদ হজম ইত্যাদি।

আটেশ্বরী বা শুঠি : এ গাছ ছোট আকৃতির হয়। সাধারণত রাস্তার ধারে হয়। এ গাছের মিসওয়াক ব্যবহারে দাঁতের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। দাঁতের উপর চকচকে এক ধরণের প্রলেপ পড়ে যা দাঁতকে সুন্দর দেখায়।
আম গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি বা বাঁশ, ফুলের গাছ, ক্ষতিকর বা কষ্টদায়ক কোন গাছ বা বস্তু দ্বারা মিসওয়াক করা মাকরূহ। বিষাক্ত কোন কিছু দ্বারা মিসওয়াক করা হারাম। মিসওয়াক থেকে দ্রুত এবং বেশি উপকার পেতে চাইলে কবরস্থান বা গোরস্থানে অবস্থিত প্রয়োজনীয় গাছ থেকে মিসওয়াক করতে হবে। কেননা সেখান গাছে মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আবুল বাশার আল কলি (2012-January-29 01:56(am))

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

Share

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৪)

দারুন হয়েছে !জটিল হচ্ছে ।

ফোরামে আছি ।

Share

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৪)

প্রত্যেকটা পর্বই অনেক তথ্যবহুল এবং সাজানো গোছানো ।চালিয়ে যান ।

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৪)

মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল