টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৫)

দন্তবস্তু বা দাঁত পরিচিতি
দাঁত আমাদের জীবনে কতটুকু প্রয়োজন তা বোধ হয় কারো বুঝতে বাকি নেই বিশেষত যারা বৃদ্ধ বয়সে দাঁত খুঁইয়েছেন, যাদের দাঁতে পোকা লেগে সব সময় যন্ত্রণা দেয়. যে সব তরুণ দাঁতে ময়লা জমায় হাঁসতে পারেন না বা যেসব তরুণীর দাঁত বেঢপ আকৃতির বা দাগযুক্ত হওয়ায় সুন্দর হাঁসি দিতে পারেন না যা ছেলেদের আকৃষ্ট করার প্রধান হাতিয়ার ইত্যাদি। মিসওয়াক বা ব্রাশ নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ঝকঝকে হাঁসি ও অনাবিল সুখ পাওয়া যেতে পারে। দাঁত যেহেতু অতি মূল্যবান তাই দাঁত সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা থাকা আবশ্যক। যেহেতু দাঁত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এখানে উদ্দেশ্য নয় তাই সংক্ষেপে কয়েকটি কথা, যা না বললেই নয়।

দাঁতের সাধারণ গঠন
একটি দাঁতে প্রধানত তিনটি অংশ থাকে। যথা :- ক) মুকুট (Crown), খ) শিকড় (Root), ও গ) গলা (Neck)।
দাঁতের মুকুট অংশ স্বাভাবিক ভাবে মুখের মধ্যে দেখা যায়। এই অংশ দাঁতের প্রধান ও কার্যকরী অংশ। দাঁতের শিকড় মাড়ি ও চোয়ালের ভেতরে অবস্থান করে। কোন কোন দাঁতের একটি, দুটি বা তিনটি মূল থাকতে পারে। মুকুট এবং মূল বা শিকড়ের মধ্যেবর্তী যে চাপা ছোট স্থান রয়েছে সে অংশ হল গলা। এটি শুধু মাত্র মুকুট এবং শিকড়ের সীমানা নির্ধারণ করে।
দন্তবস্তু : দাঁতের চারটি বস্তু আছে। এদেরকে খালি চোখেই দেখা যায়। তবে দেখতে হলে দাঁতকে লম্ব ভাবে কাটতে হবে। দন্তবস্তু সমুহ হল-
i. ডেন্টিন (Dentine),
ii. এনামেল (Enamel),
iii. সিমেন্টাম (Cementum),
iv দন্তশ্বাস (Pulp)।
ডেন্টিন হল দাঁতের গঠনের কঠিন বস্তু। মুকুট অংশের ডেন্টিন অন্য একটি অপেক্ষাকৃত কঠিন বস্তু দ্বারা আবৃত থাকে তাকে এনামেল বলে। এনামেল দাঁতকে মজবুত করে ও শারীরিক ও রাসায়নিক আঘাত থেকে দাঁতকে রক্ষা করে। তবে কোনভাবে যদি এনামেল একবার নষ্ট হয়ে যায় তাহলে নতুন করে আর এনামেল তৈরি হয় না। শিকড়ের অংশের ডেন্টিনের উপরে ‘সিমেন্টাম’ নামক অন্য একটি শক্ত বস্তুর আবরণ থাকে। দাঁতের মধ্যেভাগে অর্থাৎ ডেন্টিনের ভিতরের অংশ ফাঁপা যার মধ্যে রক্তনালী স্নায়ুতন্ত্র সহ অন্যান্য নরম কোষকলা (Cell tissue) অবস্থান করে। এই নরম অংশকে দন্তশ্বাস বা Pulp বলে। যদি কোন দাঁতের পাল্প নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেই দাঁতকে আমরা ‘মরা’ (Dead) দাঁত বলি।
এনামেল ডেন্টিনের চেয়ে শক্ত। ডেন্টিন সিমেন্টামের চেয়ে শক্ত এবং সিমেন্টাম প্রায় হাড়ের মতো শক্ত। এই তিনটি কঠিন বস্তুতে কতকগুলো অজৈব পদার্থ (প্রধাণত ক্যালসিয়াম, ফসফরাস) এবং কিছু জৈব পদার্থ থাকে।

দুধ-দাঁত (Decidous teeth) : মানুষের মুখে দুবার দাঁত উঠে। শিশুকালে এবং দুধ-দাঁত পড়ে যাবার পরে। এগুলোকে অস্থায়ী দাঁতও বলা হয়। এই সব দাঁত সাধারণত একটি শিশুর ছয় মাস বয়স হতে আড়াই বছর পর্যন্ত উঠে। ১০ - ১২ বছর বয়সের মধ্যে সব দুধ-দাঁত পড়ে গিয়ে নতুন করে স্থায়ী দাঁত উঠে। অনেক বাবা মা শিশুর দুধ-দাঁত অস্থায়ী বলে অবহেলা করেন এবং শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে উঠাকে বাধাগ্রস্থ করেন। দুধ-দাঁত শিশুর চোয়ালের গঠন স্বাভাবিক রাখে, স্থায়ী দাঁতকে স্বাভাবিক ভাবে বা স্বাভাবিক পথে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে। এর অভাবে চোয়াল বিকৃতি, নতুন দাঁতের গঠন স্বাভাবিক এবং চর্বন অসুবিধা সৃষ্ট শিশুর অপুষ্টি রোধ করতে দুধ-দাঁতের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

আক্কেল দাঁত (Wisdom teeth) : আক্কেল দাঁত প্রধাণত ১৭-২১ বছর বয়সে উঠে এবং এটি শেষ দাঁত। আক্কেল দাঁত উঠার সময় পর্যাপ্ত যায়গা না পেলে বেড়ে উঠতে বাধা পায় ফলে কিছুদূর উঠার পর আটকে যায়। মাড়ি ফুঁড়ে আংশিক উঠা দাঁত এবং তার পাশের মাড়ি আলগা ভাবে দাঁতের গায়ে লেগে থাকে এবং এর ফলে দাঁত ও মাড়ির মধ্যেবর্তী স্থানে পকেট বা কোটরের সৃষ্টি হয়। ঐ কোটরে খাদ্যবস্তু ও জীবাণু জমে থাকলে ঐ স্থানের নরম মুকুট বেষ্টিকায় (Pericornal tissue) প্রদাহ বা যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থাকে মুকুট বেষ্টিকা প্রদাহ বা Pericoronitis বলা হয়। এ সময় দ্রুত ডাক্তারের স্বরণাপন্ন হওয়া উচিৎ। কেননা এ সময় ঐ স্থানে মাড়ি ফুলে গিয়ে ঐ দাঁতকে আরও ঢেকে দেয়। ফলে তীব্র ব্যথা হয়, হা করতে কষ্ট হয়, শ্বাস কষ্ট হতে পারে।


স্থায়ী দাঁত (Permanent teeth) : স্থায়ী দাঁত সাধারণত ১১-১২ বছরের মধ্যে উঠে। এর সংখ্যা উপর নিচ মিলে ৩২ টি। এদের মধ্যে কিছু দাঁত কাত হয়ে বা অস্বাভাবিক ভাবে উঠে বলে অনেক সময় খুব কষ্ট হয়। অনেকে ৬ থেকে ৭ বছর বয়সে উঠা প্রথম পেষণ দাঁতকে অস্থায়ী দাঁত বা দুধ-দাঁত বলে ভুল করে অযতেœর চোখে দেখেন যা কোন ভাবেই সঠিক নয়।

অবিন্যস্ত দাঁত (Irregular arrangement of teeth) : অবিন্যস্ত দাঁত সমকরন বা Orthodontic চিকিৎসার মাধ্যমে ঠিক করা যায়। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে দন্ত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তবে দাঁত যেন অবিন্যস্ত না হয় এ জন্য নিম্মোক্ত পদক্ষেপ গুলো অনুসরণ করতে হবে।
১) সময় মতো দুধ-দাঁত না পড়লে সাবধানতার সাথে তুলে ফেলতে হবে।
২) দুধ-দাঁত যাতে দন্তক্ষয় রোগে আক্রান্ত না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদের নিয়মিত ভাবে মিসওয়াক করালে দাঁতের অবিন্যস্ততা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
৩) স্থায়ী দাঁতে ক্যারিজ বা অন্য রোগ থাকলে প্রতিরোধ করা। দাঁতের স্থানে কোথায়ও শুন্যতা থাকলে কৃত্রিম দাঁত লাগিয়ে সে স্থান পূরণ করা যেতে পারে।
৪) মাড়ি রোগ থাকলে তার চিকিৎসা করা।
অর্থাৎ নিয়মিত ভাবে মিসওয়াকের দ্বারা দাঁতের এ অবিন্যস্ততা সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়।

দাঁতের রঙ (Colour of teeth)
সুস্থ ও ঝকঝকে দাঁত সবারই কাম্য। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে দাঁতের রঙ্গের এক ধরণের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে দাঁতে পে¬ক তৈরির পরিমাণ বেড়ে যায়। দাঁতের এনামেলের নিচে অস্থি সদৃশ টিস্যুর পরিবর্তনের ফলে দাঁত কিছুটা গাঢ় দেখা যায়। দাঁত ঝকঝেকে সাদা ছাড়াও ক্রিম জাতীয় বা হলুদাভ হতে পারে। মানুষের গায়ের রঙ পরিষ্কার হলে দাঁত ক্রিম বা হলুদাভ রঙ্গের হয় আর শ্যাম বা কালো হলে মানুষের দাঁতের রঙ সাদা হয়। তবে জন্মগত ত্র“টির কারণে বা দন্তশ্বাস নষ্ট হলে দাঁতের রঙ অন্য রকম হতে পারে।

দাঁতের দাগ
এ অংশটি পড়তে ‘মিসওয়াক এর বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা’ অংশে বিস্তারিত আছে।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

Share

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৫)

শেয়ারের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।

ফোরামে আছি ।

Share

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৫)

পরের পর্ব দ্রুত চাই ....

দেশান্তরী..