টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৬)

দাঁতের কয়েকটি জরুরী অবস্থা
দাঁতে অনেক সময় বিভিন্ন সাময়িক কিন্তু অস্বাভাবিক অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন-
১) মুখ ও দাঁতের ব্যথা : হঠাৎ করে মুখে এবং দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে। সে সময় ডাক্তার বা ঔষধ নাও পাওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।
ক. কালোজিরার ফুটানো পানি দিয়ে কুলি ও গড়গড়া মুখের ও স্বরযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
খ. যে কোন কারণে দাঁতে যন্ত্রণা হলে টগরের শেকড় অল্প চাপ দিয়ে চিবাতে হবে। চিবানোর ফলে যে লালা আসে তা খাওয়া যাবে না। প্রয়োজনে থুথু ফেলে দিতে হবে।
গ. লবণ-তেলের ব্যবহার।
সর্বপরি ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
২) মুখের দাঁতের রক্ত ক্ষরণ : হঠাৎ করে রক্ত পড়া শুরু হলে ঠান্ডা পানি কিছুক্ষণ মুখের ভেতর রাখতে হবে। এভাবে কয়েকবার করলে আপাতত রক্ত পড়া বন্ধ হতে পারে। এতেও যদি রক্ত পড়া বন্ধ না হয় তবে ডাক্তারের স্বরণাপন্ন হতে হবে।
৩) আঘাতজনিত জরুরী অবস্থা : কোন কারণে দাঁতে আঘাত লাগলে দাঁত ভেঙ্গে যেতে পারে, উঠে আসতে পারে, চোয়ালের ভেতর গর্ত হয়ে ঢুকে যেতে পারে। ভেঙ্গে গেলে ডাক্তারের স্বরণাপন্ন হতে হবে। চোয়ালের ভেতরে ঢুকে গেলে সাবধানে চোয়াল থেকে বের করতে হবে। দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
৪) তীব্র সংক্রমণজনিত জরুরী অবস্থা : যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে যান। নয়তো ১ নং এর অনুরুপ।

দাঁতের খাদ্য ও মিসওয়াক
(Food for teeth and Miswaak)
আমরা খাওয়ার জন্য না বাঁচলেও অন্তত বাঁচার জন্য তো খাই। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য, সুস্থ থাকার জন্য যেমন খাদ্য প্রয়োজন তেমনি দাঁতের সুস্থ্যতার জন্যও খাদ্য প্রয়োজন। আমরা দাঁতের জন্য প্রয়োজনীয় সে সব খাদ্য মিসওয়াক ও টুথপেস্টের মাধ্যমে পেতে পারি। তবে টুথপেস্টের বা মাজনের মাধ্যমে দাঁতের উপকারী সকল উপাদান পাওয়া এজন্য সম্ভব নয় যে এতে পেস্টের খরচ বেশি হবে এবং মানুষ ক্রয় করতে পারবে না বা চাইবে না। তবে প্রাকৃতিক ভাবে বিভিন্ন ধরনের মিসওয়াক ব্যবহার করে সে সব খাদ্যতো অবশ্যই উপরন্তু মিসওয়াকে এমন অনেক উপাদান পাওয়া যায় যা শরীরের অন্যান্য অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। (মিসওয়াক, দাঁত ও রাসায়নিক উপাদান অংশে বর্ণিত)। আমরা যে সব খাদ্য দাঁত দিয়ে চিবিয়ে পাকস্থলীতে প্রেরণ করি তার সব গুলোই দাঁতের জন্য উপকারী নয়। শর্করা জাতীয় খাদ্য দাঁতের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যেমন চুইনগাম, লজেন্স, আইসক্রিম এবং মিষ্টি আঠালো জাতীয় খাদ্য। তবে এগুলো সব পরিস্থিতিতে ক্ষতিকর নয়। এগুলো মানব দেহের জন্য উপকারীও বটে। শুধু এগুলোর ব্যবহারের উপর নির্ভর করবে তা দাঁতের কতটুকু ক্ষতি করবে? বৈজ্ঞানীক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে আহারের মধ্যেবর্তী সময়ে ঘনঘন এসব খাদ্য খেলে খুব তাড়াতাড়ি দাঁতের রোগ হয়। দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘ডি’, আয়রন, খনিজ দ্রব্য ইত্যাদি। এগুলো পেতে হলে দুধ, মাছ, গোস্ত, ডিম, পেয়ারা, আপেল, আমলকি, কামরাঙ্গা, লিচু, শাকসবজি, সাজনা, লাউ, আলু, পেঁপে, কচু, ঢেড়শ, গাজর, শিমের বিচি ইত্যাদি খেতে হবে। এর মধ্যে ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় খাদ্য দাঁতের জন্য বেশি প্রয়োজন। অথচ আমরা খাদ্য দ্রব্যের সাহায্যে অনায়াসেই তা পেতে পারি। তবে খুব সতর্কতার সাথে একটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে ভিটামিন ‘সি’ তাপে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য খাদ্য দ্রব্যে হতে ভিটামিন ‘সি’ পেতে হলে কম সিদ্ধ করে খেতে হবে। এসব দাঁতের খাদ্য পেতে শুধু ঐসব খাদ্য গ্রহণ করতে হবে এমন নয় দাঁতের জন্য যতটুকু খাদ্য দরকার তা নিয়মিত মিসওয়াকের মাধ্যমে পাওয়া যেতে পারে।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

Share

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৬)

চালিয়ে যান ।আপনার সাথেই আছি ।

ফোরামে আছি ।

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৬)

ভালো লাগলো । চালিয়ে যান ।

http://s7.postimage.org/jd5k2og6v/702174_447944615269126_1968962762_n.jpg