টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৭)

মিসওয়াক বা ব্রাশ করার নিয়ম
মিসওয়াক ব্যবহার করা সুন্নত। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে মুস্তাহাব। মিসওয়াক এক বিঘত পরিমাণ লম্বা হতে হবে এবং আঙ্গুলের মতো মোটা হওয়া বাঞ্ছনীয়। মিসওয়াক করার মাসনুন তরীকা হল মুখের ডান দিক থেকে শুরু করা এবং দাঁতের প্রস্থের দিক দিয়ে মিসওয়াক করা। তবে মিসওয়াক দৈর্ঘ্যরে দিক থেকে করা যাবে না। (মালাকিল ফালাহ পৃষ্ঠা ৫৩, সূত্র দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম)।
মিসওয়াক প্রথম অবস্থায় এক বিঘতের চেয়ে ছোট হওয়া মুস্তাহাবের বিপরীত। তবে ব্যবহার করতে করতে ছোট হয়ে গেলে কোন ক্ষতি নেই। (শামী)।
মিসওয়াক যেন খুব শক্ত বা নরম না হয় বরং মাঝামাঝি হওয়া উত্তম। আলাইয়া কিতাবে আছে, ডান হাতে মিসওয়াক করা, গিঁটবিহীন সমান কোমল কনিষ্ট আঙ্গুলির পরিমাণ মোটা ও এক বিঘত পরিমাণ দীর্ঘ মিসওয়াক গ্রহণ করা মুস্তাহাব। (সূত্র ঃ পবিত্রতা সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়েল)।
হানাফী ফকিহগণের মতে, দাঁতনটা (মিসওয়াকটা) যেন কড়ে আঙ্গুলের মতো মোটা হয় এবং লম্বা এক বিঘত হয় (শামী ১ম খন্ড পৃ:১০৬)। তার চেয়ে বাড়তি না হয়। কারণ তাতে শয়তান সওয়ার হয় (মারা-কিল ফালাহ ৩৭ পৃ । রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওযুর পানি দিয়ে (ভিজিয়ে) দাঁতন করতেন (মোসনাদে আবু ইয়ালা, কান্য, ৭ম খন্ড, ২৫ পৃ । তারপর তিনি আড়াআড়ি দাঁত ঘষতেন, খাড়াখাড়ি নয়, কিন্তু জিহ্বা খাড়াখাড়ি ঘষতেন (আবু নোআইম, আহমাদ, তালখীস ২৩ পৃ । তারপর তিনি সেটাকে ধুয়ে লেখকের কলম রাখার মতো কানের উপরে রাখতেন (তাবারানী, তলখীস পৃ: ২৫, সূত্র ঃ আইন তুহ্ফা সলাতে মুস্তফা)।
ফিকহে মুহাম্মদীর মতে, মিসওয়াক কলমের ন্যায় মোটা হওয়া উচিত এবং নামাযের সময় তা কলমের মতো কানে গুজে রাখা যায় (ফিকহ্ মুহাম্মদী, ১ম ও ২য় খন্ড)।
মিসওয়াক করার মুস্তাহাব নীতি হল ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল ও বৃদ্ধ আঙ্গুল মিসওয়াকের নিচে এবং মধ্যমা ও তর্জনী আঙ্গুল মিসওয়াকের উপরে নিয়ে মিসওয়াক ভালো ভাবে ধরতে হবে। এভাবে মিসওয়াক করা হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। (সূত্র দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম, ফতোয়ায়ে আলমগীরি)।
দাঁতের পাশের দিকে মিসওয়াক করা মুস্তাহাব। লম্বালম্বি ভাবে নয় (মুসতাবা)। জিহ্বায় লম্বালম্বি ভাবে মিসওয়াক করা উত্তম। (শামী)।
অন্তত তিনবার করে ডানে বামে উপরে নিচে দাঁতে উত্তম রুপে মিসওয়াক করতে হবে। প্রত্যেকবার মিসওয়াক ধৌত করে নিতে হবে। দাঁতনের সময় মুষ্ঠিবদ্ধ ভাবে মিসওয়াক ধরতে হবে। [তবে অন্যত্র এমনটি করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ হিসাবে বলা হয় এতে অর্শ রোগের আশংকা আছে (হাশিয়া তাহতাভী আলা মারাকিল ফালাহ, ৩৮ পৃ । প্রথমে ডান পার্শ্বের উপরের দাঁত তারপর বাম পার্শ্বের উপরের দাঁত এবার ডান পার্শ্বের নিচের দাঁত এরপর বাম পার্শে¦র নিচের দাঁত মাজন করতে হবে। মিসওয়াক করার সময় ধুয়ে নিতে হবে এবং শেষেও ধুয়ে রাখতে হবে। মিসওয়াক মাটিতে ফেলে রাখা যাবে না বরং দাঁড় করে রাখতে হবে। যে দিকে মিসওয়াক করা হয় সে দিক উপরের দিকে রাখতে হবে। (শামী)।
মসজিদের ভিতরে মিসওয়াক করা যাবে। মিসওয়াক করলে যদি বমি হওয়ার আশংকা থাকে তবে সে মিসওয়াক না করলেও চলবে। যার দাঁত পড়ে গেছে, সে দাঁতের মাড়ি ও জিহ্বায় মিসওয়াক করবে। মিসওয়াক থাকা অবস্থায় আঙ্গুল দ্বারা দাঁত মাজন করলে সুন্নত আদায় হবে না। সুতরাং অন্য কিছু ব্যবহার করলেও একই কথা। ব্যবহৃত মিসওয়াক অযোগ্য হয়ে পড়লে তা মাটিতে পুঁতে রাখা ভালো। যেহেতু মিসওয়াক করা সুন্নত তাই মিসওয়াক যেন অপবিত্র স্থানে না পড়ে।
এবার আধুনিক ডেন্টাল গবেষকদের নিয়ম একটু পর্যালোচনা করতে পারি। এক্ষেত্রে মিসওয়াককে লম্বভাবে এবং ব্রাশকে মাড়ি বরাবর দাঁতের গোড়ায় কোনাকুনি ভাবে (৪৫ ডিগ্রি মাপে) রাখতে হবে যেন ব্রিসল দাঁত ও মাড়ি দুই-ই স্পর্শ করে। এরপর উপরের এবং নিচের দাঁতকে আলাদাভাবে ভাগ করে নিয়ে যখন উপরের দাঁত ব্যবহার করা হবে তখন উপরের দাঁতের মাড়ি থেকে নিচের দাঁতের দিকে অর্থাৎ উপরের দাঁতের অগ্রভাগ ব্রাশ বা মিসওয়াক করতে হবে। আবার নিচের দাঁতের বেলায় দাঁতের মাড়ির দিক থেকে দাঁতের অগ্রভাগ পর্যন্ত মিসওয়াক করতে হবে।
সামনের দাঁতের ক্ষেত্রে ব্রাশ বা মিসওয়াক উভয়কেই লম্বভাবে (৯০ ডিগ্রি কোণে) উপরের নিয়মে ব্যবহার করতে হবে। দাঁতের যে অংশ দিয়ে খাদ্য দ্রব্য চিবানো হয় সেই অংশ ভালো ভাবে মিসওয়াক করতে হবে।
সুতরাং আমরা দেখতে পাই, আধুনিক কালের চিকিৎসা (ডেন্টাল) বিজ্ঞান আজ থেকে সেই চৌদ্দশত বছর পূর্বের ধারণার প্রতিফলন মাত্র। একজন ব্যক্তি কত দূরদর্শী হলে এটা কল্পনা করা সম্ভব। এমনও হতে পারে কারো দাঁত নাও থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে হাতের আঙ্গুল দিয়ে মাড়িতে ঘুষতে হবে। একদা আয়িশা (রাঃ) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন, যার দাঁত নাই সেও দাঁতন করবে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাহলে কিভাবে করবে? তিনি বললেন, তার আঙ্গুল নিজ মুখে ভরে দিবে অর্থাৎ আঙ্গুল দিয়ে মাড়িতে ঘষবে। (তাবারানী, আওসাত)। হাদিসটি যঈফ। উসমান (রাঃ) যখন ওযু করতেন তখন আঙ্গুল দিয়ে দাঁতন করতেন। হিলয়্যাতে আছে, হাকীম তিরমিযী বলেন, মিসওয়াকের প্রথম থুথুটা গিলে ফেল। কারণ উহা কুষ্ঠ ও শ্বেত রোগের উপকার করে এবং মৃত্যু ছাড়া অন্য রোগেও ফায়দা দেয়। কিন্তু তার পরের থুথু আর গিলবে না কারণ উহা অসওয়াহ বা কুমন্ত্রণার কারণ হয় (সূত্র ঃ আইনি তুহ্ফা ও সলাতে মুস্তফা)

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

Share

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৭)

যাজাক আল্লাহ খায়ের। অনেক ভাল একটি পোষ্ট। তবে প্রতিটা পোষ্টর শেষে আগের পোষ্টের লিংক দিয়ে দিলে ভাল হত।

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৭)

ধন্যবাদ ভাইজান। আমি অনেক ব্লগে তাই করি। কিন্তু এখানে টপিকের শেষে লেখা থাকে এরকম আরও কিছু লেখা এজন্য লিংক দেয়া হয়নি। এরপর দেয়া হবে ইনশা আল্লাহ।
মডুনোট: লালকালি ব্যাবহার থেকে বিরত থাকুন , শুধু মডুরাই লাল কালি ব্যবহার করবে ।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল