টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৮)

মিসওয়াক না থাকলে

নামাযের ওজুর পূর্বে মিসওয়াক করা সুন্নত। অন্য সময়ে মুস্তাহাব। মিসওয়াক যদি না থাকে তবে ব্রাশ, হাতের আঙ্গুল, শুকনা কাপড় ইত্যাদি দ্বারা মিসওয়াক করা জায়িয এবং এতে মিসওয়াকের ফযিলত লাভ করা যাবে বা সুন্নত আদায় হবে। তবে শক্ত ডাল ব্যবহারে সুন্নত আদায় হবে না। যে সব টুথ ব্রাশ শূকরের লোম বা অন্য কোন নাপাক বা হারাম বস্তু দ্বারা তৈরি করা হয় ঐ সব ব্রাশ নাযায়িজ বা হারাম। অনুরুপ যে সব মাজন বা টুথপেস্ট এর মধ্যে কোন নাপাক বা হারাম দ্রব্য থাকে তবে ঐ মাজন বা টুথপেস্ট ব্যবহার করা জায়িয নয় (জাদীদ ফিকহী মাসাইল, ১ম খন্ড)। মহিলাদের ক্ষেত্রে আঠা জাতীয় বস্তু চিবানো মিসওয়াকের স্থলাভিসিক্ত হবে (শামী ও আলমগীরী)।
মিসওয়াকের উদ্দেশ্য হল দাঁত পরিষ্কার করা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময় মিসওয়াক দ্বারা দাঁত ও মুখ পরিষ্কার রাখতেন। এখানে ইবাদত হল মুখের দূর্গন্ধ দূর করা এবং মুখ ও দাঁত পরিষ্কার করা। মিসওয়াক এই ইবাদত পালনের মাধ্যম মাত্র। যদি মিসওয়াক ব্যবহারেও মুখে দূর্গন্ধ ও দাঁতে ময়লা থেকে যায় তাহলে ইবাদত পূর্ণতা পাবে না। আর যদি মিসওয়াক ছাড়া অন্য কোন মাধ্যমে এই উদ্দেশ্য পালিত হয় তাহলে ইবাদতের সাওয়াব কম হবে না বলেই বুঝা যায়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে টুথ ব্রাশ বা টুথ পেস্ট ছিল না, কাজেই তিনি তা ব্যবহার করেননি। একে কোন অবস্থাতেই ইচ্ছাকৃত বর্জন বলা যায় না। আমরা বলতে পারি যে, ব্রাশ ও পেস্ট দ্বারা মুখ ও দাঁত পরিষ্কার হলে এবং মুখের দূর্গন্ধ দূর হলে তা ব্যবহারে পূর্ণ সাওয়াবই পাওয়া যাবে এবং এগুলি ব্যবহারে খেলাফে – সুন্নাত হবে না। তা সত্ত্বেও অনেক ধার্মিক মুসলমান দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করার উপকরণ হিসাবে মিসওয়াকই ব্যবহার করতে চান। সুন্নাতের মুহাব্বতই তাঁদেরকে এই উপকরণের পরিবর্তন থেকে বিরত রাখে। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উপকরণেও সুন্নাতের অনুনরণের আগ্রহ প্রশংসনীয়, যদিও ব্রাশ ও পেস্ট ব্যবহারকে কোন অবস্থাতেই খেলাফে-সুন্নাত বলা যায় না।
তৃতীয়ত, যে ব্যক্তি ব্রাশ বা পেস্ট ব্যবহার করেন, তিনি সাধারণত মনে করেন না যে, মিসওয়াকের বদলে ব্রাশ ও পেস্ট ব্যবহার বেশি সাওয়াবের কাজ, অথবা পেস্ট ব্রাশ ত্যাগ করে মিসওয়াক ব্যবহার করলে তাঁর সাওয়াব ও বরকত কম হবে। তিনি সাধারণত হাতের কাছে পান বলে অথবা মুখের দূর্গন্ধ ভালো ভাবে দূর করার প্রয়োজনে তা ব্যবহার করেন। (এহ্ইয়াউস সুনান, সুন্নাতের পুনরুজ্জীবন ও বিদআতের বিসর্জন)।
এখানে উক্ত বইয়ের লেখকের সাথে আমার তেমন মতভেদ নেই। যেটুকু মতভেদ আছে তা মিসওয়াক ও ব্রাশের ব্যবহারিক প্রয়োগের সুফলতা ও অপকারের কথায়। (যা মিসওয়াক ও ব্রাশের মধ্যে পার্থক্য অংশে উল্লেখ করা হয়েছে - লেখক)। আর একটি কথা আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে এশটির কাজ অন্যটি দ্বারা করলে ফল বা রেজাল্ট পাওয়া যেতে পারে কিন্তু সুফল বা তৃপ্তি পাওয়া যায় না। হাদিসে আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওযুর শুরুতে সব সময় মিসওয়াক করতেন। মিসওয়াক না থাকলে হাতের আঙ্গুল ব্যবহার করতেন। (আল হিদায়া, ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)।
সুতরাং বুঝা যাচ্ছে মিসওয়াক না থাকলে হাতের আঙ্গুল ব্যবহার করতে হবে অর্থাৎ মিসওয়াকের যায়গায় আঙ্গুলই ঘষতে হবে (কিতাবুস সেওয়াক লেআবী নোআইম, কানষ, ৯ম খন্ড, ১৮৮ পৃ। অথবা টুথ ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে। টুথ ব্রাশের সাথে টুথ পেস্টও নিতে হবে। তবে যদি টুথ পেস্ট না পাওয়া যায় তবে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।
সমান (একই) পরিমাণ লবণ আর খাবার সোডা মিশিয়ে গুড়ো মাজন তৈরি করতে হবে। আর যদি খাবার সোডা পাওয়া না যায় তাহলে শুধু লবণ হলেই চলবে। আর যদি টুথ ব্রাশই না থাকে তাহলে আর কি হাতের আঙ্গুল তো আছেই।
অনেক সময় শুধু মাত্র মিসওয়াক বা ব্রাশ দিয়ে দুই দাঁতের মধ্যেবর্তী অংশ পরিষ্কার করা যায় না। এক্ষেত্রে ডেন্টাল ফ্লসিং ব্যবহার করা যেতে পারে। ডেন্টাল ফ্লসিং হল সুতা দিয়ে দাঁতের ফাঁকের ময়লা পরিষ্কার করা। হাতের আঙ্গুলে সুতা জড়িয়ে দাঁতের ফাঁকে ঘষে ঘষে ময়লা পরিষ্কার করতে হয়।

মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৭)

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আবুল বাশার আল কলি (2012-February-01 01:00(am))

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৮)

টপিকগুলো খুব ভালো লাগতেছে ।

http://s7.postimage.org/jd5k2og6v/702174_447944615269126_1968962762_n.jpg