টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৯)

মিসওয়াক ও ব্রাশের মধ্যে পার্থক্য
মিসওয়াক এবং ব্রাশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন পার্থক্য নেই। তবে আধুনিক কালে মানুষের মধ্যে এমন ধারণা ঢুকে বসেছে যে মিসওয়াকের চাইতে ব্রাশই হল দাঁত পরিষ্কারে উৎকৃষ্ট। এ ধারণা যে শিক্ষিত সমাজের একটি ভ্রান্তি তা বুঝাতে কয়েকটি পার্থক্য তুলে ধরলাম। মিসওয়াকের পরিচয় থেকে আমরা পূর্বেই জানতে পেরেছি যে, মিসওয়াক হল গাছের নরম ডালের বা শিকড়ের নরম ও মসৃন অংশ। যা নরম হওয়ায় দাঁতের কোন ক্ষতি করতে পারে না। মিসওয়াক বিশেষত নিমের মিসওয়াকে তিক্ত রস থাকায় তার ভিতর জীবাণু প্রবেশ করতে পারে না বলে একই মিসওয়াক পূনর্বার ব্যবহার করা যায়।
ব্রাশ হল রাবার বা প্লাস্টিক জাতীয় একটি পদার্থের এক প্রান্তে নরম জাতীয় ছোট এবং খাড়া চুল বা ওয়ার (Wire) দ্বারা সংযুক্ত। ব্রাশ বিভিন্ন ধরনের রয়েছে যেমন চুলের ব্রাশ, ছবি আঁকানো ব্রাশ, দাঁতের ময়লা জীবাণু পরিষ্কার করার ব্রাশ ইত্যাদি। এর মধ্যে টুথ ব্রাশ বা দাঁত পরিষ্কার করার ব্রাশই আমাদের আলোচ্য বিষয়। জীবাণু বিশেষজ্ঞগণের মতে, কোন ব্রাশ একবার ব্যবহার করার পর দ্বিতীয় বার ব্যবহার না করাই স্বাস্থ্যসম্মত। কারণ কোন ব্রাশ একবার ব্যবহার করার পর ব্রাশের গোড়ার ফাঁকে যে সব জীবাণু জীবিত অবস্থায় লুকিয়ে থাকে তা পূনর্বার ব্যবহারের ফলে মুখের ভিতর দিয়ে দেহের ভিতরে চলে যায়। আবার পুরাতন ও শক্ত ব্রাশ ব্যবহারের ফলে দাঁতের শক্ত আবরণ নষ্ট হয়ে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি হয়। যাতে অনেক সময় খাদ্য দ্রব্য আটকা পড়ে, পরে পচে গিয়ে দাঁতের ক্ষতি করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ব্রাশ ব্যবহার করেও ক্ষতি এড়াতে পারছিনা। যদি এ ক্ষতি এড়াতে চাই তবে প্রতি দিন কমপক্ষে তিনটি ব্রাশ কিনতে হবে যার মূল্য কমপক্ষে ৬০ টাকা। সুতরাং শুধু ব্রাশ কেনার পিছনে প্রতি বছর খরচ হবে কমপক্ষে একুশ হাজার নয়শত টাকা (২১,৯০০)। কি একটা ভয়ংকর কথা! আবার যদি জীবাণু বিশেষজ্ঞগণের কথা উপেক্ষা করে প্রতিদিন একটি করেও ব্রাশ বদল করি তাহলে তাহলে প্রতিবছর খরচ হবে সাত হাজার তিনশত টাকা প্রায়। এছাড়া টুথপেস্টের খরচতো আছেই। আর মিসওয়াক ব্যবহার করে এ আর্থিক ক্ষতি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি। আবার ব্রাশ দিনে দুই বারের বেশি ব্যবহার করা নিষেধ কিন্তু মিসওয়াকে এরুপ কোন বিধিনিষেধ নেই।
আবার অন্য দিকে মিসওয়াক ব্যবহার করে যে সব ভিটামিন (খাদ্যপ্রাণ) এবং অন্য রাসায়নিক উপাদান লাভ করি তা ব্রাশের মাধ্যমে সম্ভব নয়। আর তখন এসব উপাদান পেতে অন্য সব খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বেশি দেখা দেয়। অথচ সাধারণ একটি মিসওয়াকের দ্বারা এমন সব উপাদান অনায়াসেই পেতে পারি। যেমন ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ভিটামিন ইত্যাদি।
অনেক সময় বাজারে কিছু টুথপেস্ট পাওয়া যায় যা দিয়ে ব্রাশ করে খেতে বসলে বিস্বাদ লাগে অর্থাৎ খাদ্যের স্বাদে অনুভূতি লাগে না। অন্যদিকে মিসওয়াক করলে মুখে এক ধরনের মিষ্টি আবহ তৈরি হয়। এছাড়া মিসওয়াকের সাহায্যে আরও যে সব উপকার পাওয়া যায় যা ‘মিসওয়াকের ধর্মীয় গুরুত্ব’ এবং ‘মিসওয়াক ও তার রসায়ন’ অংশে আলোচিত হবে। সুতরাং সব আলোচনা শেষে এ কথা বলতে আমরা বাধ্য হব যে ‘Miswaak is better then Brush for washing teeth’’

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব-০৯)

আরো একটি পর্ব , ভালো লাগলো ।

http://s7.postimage.org/jd5k2og6v/702174_447944615269126_1968962762_n.jpg