টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব ১২)

মিসওয়াক কতক্ষণ করতে হবে
আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে মিসওয়াক যখন এতই গুরুত্বপূর্ণ তাহেেল তা কতক্ষণ করতে হবে? হাদিস দ্বারা জানতে পারি মিসওয়াক হল ‘ফিতরাতের অংশ’। ফিতরাত বলতে বুঝায় স্বাভাবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন প্রণালী। জীবনের ভারসাম্য বলতে জীবনের প্রতিটি কাজ পূর্ণভাবে সম্পাদনকেই বুঝায়। যেমন আমাদের জন্য ব্যায়াম একটি অত্যাবশকীয় বিষয় কিন্তু আমরা ব্যায়াম কতক্ষণ করি? সারা দিন? না। দিবসের একটি নির্দিষ্ট সময় মাত্র। বাঁচতে হলে খাদ্য প্রয়োজন। খাদ্য গ্রহণ না করলে কোন প্রাণীই বাঁচতে পারে না। আবার খাওয়ার পরও মানুষ মারা যায়। এক কথায় বলা যায়, কোন জীব বাঁচার জন্য খাদ্য গ্রহণ করে কিন্তু খাওয়ার জন্য বাঁচে না। এজন্য কি শুধু আমরা সারা দিনই খাই? আমরা উপার্জনের জন্য চাকুরি করি, কৃষিকাজ করি ইত্যাদি। তাই বলে দিন রাতের মধ্যে চব্বিশ ঘন্টাই কাজ করি? না। প্রতিটি কাজের একটা নিয়ম, সময়ের সীমাবদ্ধতা আছে। ফলে জীবনের জন্য যত কাজ বা দরকারী বিষয় আছে সে সবের জন্য নির্দিষ্ট সময় আছে। সকল কাজ সুনির্দিষ্ট নিয়মে সুচারুভাবে করি বলে একে ভারসাম্যপূর্ণ জীবন বলে। মিসওয়াক কতক্ষণ করতে হবে সে সম্পর্কে দুটি হাদিস ও ব্যাখ্যা উলে¬খ করা প্রয়োজন মনে করছি।
হযরত আবু মুসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে দেখলাম, তিনি তাঁর হস্তস্থিত মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজছেন। তিনি মুখে মিসওয়াক রেখে এরুপে ওয়াক ওয়াক করছিলেন, মনে হয়েছিল যেন বমি করবেন। (বোখারী)।
হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমি তোমাদেরকে বেশি বেশি মিসওয়াক করার তাগিদ দিচ্ছি। / মিসওয়াক সম্পর্কে বেশি বললাম (এর গুরুত্বের কারণে)। (রিয়াদুস সালেহীন, বোখারী, মিশকাত)।
প্রথম হাদিসের শেষ লাইনের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখতে পাই সেখানে উেল্লখ আছে, ‘তিনি মুখে মিসওয়াক রেখে এরুপে ওয়াক ওয়াক করছিলেন যেন বমি করে ফেলবেন’। এখন আমরা চিন্তা করতে পারি বমি কি শুধু বেশিক্ষণ ধরে মিসওয়াক করলেই আসে নাকি অন্য কোন ভাবে আসতে পারে? দুটো কথাই সত্য। তাহলে কি ভাবব সারাদিন ধরে মিসওয়াক করতে হবে? না । এজন্যই মিসওয়াককে ফিতরাতের অংশ বলা হয়েছে। অন্যান্য ফিতরাতের অংশ যেমন হাতের নখ কাটা, আঙ্গুলের জোড় ধুয়ে ফেলা, বোগলের লোম কাটা ইত্যাদি কি মানুষ সারা দিন ধরেই করে? এগুলো আমরা ঠিক ততক্ষণই করি যতক্ষণ না এ কাজটির সমাপ্তি ঘটে। সব সময় এই সব কাজ নিয়ে পড়ে থাকলে চলে না। জীবনের ভারসাম্যতা ও স্বাভাবিকতা আনতে হলে সকল কাজই সম্পাদন করতে হবে। অর্থাৎ অধিক সময় ধরে মিসওয়াক করতে হবে এমন নয়। তাহলে কথা আসে তিনি (নবী) ‘ওয়াক ওয়াক’ করছিলেন কেন? কেন তিনি বমি করে ফেলবেন এমন মনে হয়েছিল? এর আরেকটি কারণ এমন হতে পারে যে, আমরা খেয়াল করলেই দেখতে পাব যদি জিহ্বাতে মিসওয়াক করি এবং মিসওয়াক যদি জিহ্বার গোড়া পর্যন্ত প্রবেশ করাই কিংবা হা করে দাঁতের শেষ ভাগ পর্যন্ত পৌঁছাতে চাই তাহলে বমি বমি ভাব হয়। অনেক সময় গলায় মনে হয় কি যেন আটকে আছে তখন ওয়াক ওয়াক শব্দ আমরা হরহামেশাই করি।
আবার দ্বিতীয় হাদিসের মূল কথা, আমাদের ‘বেশি বেশি’ মিসওয়াক করতে হবে। এখানে বেশি বেশি বলতে কি দীর্ঘ সময় বুঝানো হয়েছে? আমরা বেশি বেশি দ্বারা অনেক সময়ই বারবার বা নিয়মিত এবং পরিমিত বুঝিয়ে থাকি। যেমন (ক) বেশি বেশি পানি পান করলে শরীরে লাবণ্যতা আসবে; (খ) বেশি বেশি সাঁতার কাটলে শরীরের গঠন সুন্দর হবে; (গ) বেশি বেশি কাজ করলে জীবনে উন্নতি লাভ বরবে; (ঘ) বেশি বেশি হাঁটলে শরীরের জড়তা কমবে ইত্যাদি।
আবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মিরাজ এবং নামায প্রাপ্তি সম্পর্কে জানতে পাই প্রথমত আল্লাহ আমাদের জন্য ৫০ ওয়াক্ত নামায দিয়েছিলেন। সর্বশেষে ৫ ওয়াক্ত। এটিও আমাদের জন্য বেশি হবে বলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলা হলে তিনি (নবী) লজ্জিত হবেন ভেবে ৫ ওয়াক্ত নামায নিয়েই ফিরে আসেন। এই ঘটনার বেশি বলতে বারবার বুঝানো হয়েছে। এ রকম হাজারো ঘটনা আছে যেখানে বেশি বেশি বলতে বারংবার বুঝায়। কেউ অন্য কাজ ফেলে সারাদিন সাঁতার কাটে না, কেউ এমন পরিমান পানি পান করে না যে মুখ দিয়ে তা বের হয়ে আসবে, কেউ চব্বিশ ঘন্টাই কাজ করে না, কেউবা সব সময় হাঁটার উপর থাকে না। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে বেশি বেশি বলতে বারবার বুঝালেই যুক্তি সংগত হয়। আবার বারবার বলতে এমনও বুঝায় না যে, এখনই মিসওয়াক করলাম, পাঁচ মিনিট পর আবার মিসওয়াক করলাম। সুতরাং বেশি বেশি বলতে জীবনের ভারসাম্যতাকেই বুঝানো হয়েছে।
আরেকটি হাদিস লক্ষ্য করি, হযরত আবু মুসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে গেলাম তখন তিনি মিসওয়াকের কিনারা দাঁতে লাগিয়ে রেখেছিলেন। (বোখারী, রিয়াদুস সালেহীন (৩য় খন্ড), মুসলিম)।
এই হাদিসের অর্থ এই নয় যে, একজন ব্যক্তিকে সবসময় মিসওয়াক করতে হবে। একজনকে একটা কাজ করতে দেখলেই বলা যায় না তিনি তাই নিয়ে পড়ে থাকেন। আমাকে এই সময় কেউ দেখে যদি মনে করেন আমি সব সময় লিখি তাহলে কেমন হাস্যকর একবার নিজেই ভাবুন! আবার আমরা জানি, বেশিক্ষণ মিসওয়াক বা ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেল, ডেন্টিন, সিমেন্টাম দন্তশ্বাস এর ক্ষতি হতে পারে যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর। পরিশেষে বলা যায়, যতক্ষণ মিসওয়াক করলে দাঁতের ক্ষতি হবে না স্বাভাবিক জীবন বাধাগ্রস্থ হবে না ততক্ষণ মিসওয়াক করতে হবে। এ ছাড়া আমরা অনেক সময়ই কোন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য একই কথা বেশি বেশি বার বলে থাকি। যেন তা কোন অবস্থাতেই উক্ত ব্যক্তি ভুলে না যায়।
একটি সতর্কবাণী ঃ রমজান মাস শুরু হলে অনেকে ইফতারের ১ ঘন্টা বা আধা ঘন্টা আগেই মিসওয়াক করা শুরু করেন। অনেকে রাস্তায় হাটতে হাটতে মিসওয়াক করতে থাকেন এতে যেমন দাঁতের ক্ষতি হয় তেমনি রোজারও ক্ষতি হয়। কেননা তাতে মুখের রস থুথুর সাথে ফেলতে ফেলতে গলা শুকিয়ে যায়। হঠাৎ করে কেউ থুথু গিলে ফেলতে পারে।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব ১২)

পরে ভাল লাগল ।

Share

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব ১২)

অনেক ভাল লাগল ।পরের পর্ব আরও দ্রুত চাই ।

দেশান্তরী..

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব ১২)

ভালো লাগলো  ।

http://s7.postimage.org/jd5k2og6v/702174_447944615269126_1968962762_n.jpg

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব ১২)

হাবিবুর রহমান wrote:

পরে ভাল লাগল ।

সরি ভাই বুঝলাম না। পরে ভাল লাগল, না পড়ে ভাল লাগল বুঝাতে চাইছেন।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

Share

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব ১২)

খুবই ভাল লাগল ।