টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব ১৩)

একজনের মিসওয়াক অন্যের ব্যবহার


আমরা যদি বলি একজনের মিসওয়াক আরেকজন ব্যবহার করতে পারবে তাহলে একটু অবাকই হতে হয়। তবে এর সীমাবদ্ধতা আছে। এ বিষয় কারো কারো মনে ঘৃণা বা অস্বস্থি লাগাতে পারে বা কেউ বিব্রত বোধ করতে পারেন। কারণ এক সাথে একই প্লেটে ৪/৫ জন ভাত খেতে গেলেই মনে এক ধরণের ইতঃস্থত বোধ কাজ করে। ধীরে ধীরে ইহা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। ইহা সুন্নত এবং বিজ্ঞান সম্মত। প্রকৃতই যারা সুন্নতের অনুসারী তারা কখনই অস্বস্থি অনুভব করেন না। এক্ষেত্রে অনেকেই অজ্ঞতাবশত বলে থাকেন এতে অন্যের মুখের জীবাণু ঢুকতে পারে। কিন্তু এটাতো সত্য নয়। বরং বহু জীবাণু একত্রে একে অপরকে ধ্বংশ করে এবং শেষে এক ধরনের জীবাণু ধ্বংশকারী উপাদান তৈরি হয়। এখন কেউ প্রশ্ন করতে পারেন এক সাথে খাওয়া আর একই মিসওয়াক বহু জনের ব্যবহার কি একই কথা? না, তা অবশ্যই নয়। বরং পরেরটা আরও কঠিন। এটাও সত্য নয় বরং আরও সহজ। এতে প্রেম, ভালবাসা বৃদ্ধি পায়। হাদিসে বর্ণিত আছে- হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিসওয়াক করে তা ধোয়ার জন্য আমাকে দিতেন। আমি প্রথমে তা দ্বারা মিসওয়াক করে নিতাম, এরপর ধুয়ে তাকে দিতাম। (আবু দাউদ, মিশকাত)।
এখানে দুটি বিষয় লক্ষণীয়, এক. রাসুল সাসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মিসওয়াক হযরত আয়িশা (রাঃ) কে ধুতে দিলে আয়িশা (রাঃ) প্রথমে মিসওয়াক করতেন। দুই. তিনি মিসওয়াক করা হলে তা ধুয়ে তা রাসুল সাসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিতেন। প্রথমটি হতে হযরত আয়িশা (রাঃ) কর্তৃক রাসুল সাসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি তীব্র ভালবাসার গন্ধ পাই এবং একজনের মিসওয়াক আরেক জন ব্যবহার করতে পারবে তা বুঝতে পারি। যদি এমনটি না হত তাহলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা করতে অবশ্যই নিষেধ করতেন। তাছাড়া তারা যে বিজ্ঞান মনস্ক ছিলেন তা স্পষ্টই বুঝা যায়। মিসওয়াক ধুয়ে না রাখলে তাতে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু আটকে থাকতে পারে এবং পরে শরীরে প্রবেশ করতে পারে তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। আমরা ইতিহাস থেকে জানতে পারি নবী পত্নি হযরত আয়িশা (রাঃ) ছিলেন প্রখর স্বরণ শক্তি এবং জ্ঞানের অধিকারিনী। মিসওয়াক যেহেতু ডাল বা শিকড়ের নরম অংশ এবং তা ধুয়ে ফেললে কোন জীবাণু থাকতে পারেনা। সেহেতু একজনের মিসওয়াক আরেক জন ব্যবহার করতে পারবে। হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একবার আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর একটি মিসওয়াক নিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে প্রবেশ করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে দেখলেন, (আয়িশা (রাঃ) বলেন) আমি তাকে বললাম, আব্দুর রহমান! মিসওয়াকটি আমাকে দাও। সে তা আমাকে দিল। আমি তা ভেঙ্গে ফেললাম এবং চিবিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দিলাম। তিনি তা দ্বারা আমার বুকে হেলান দিয়ে মিসওয়াক করলেন। (বোখারী শরীফ)।
উপরোক্ত হাদিসে একটি বিষয় স্পষ্ট হল যে, হযরত আয়িশা (রাঃ), আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাঃ) এর নিকট হতে মিসওয়াক নিয়ে ভেঙ্গে তা চিবিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামমকে দিলেন। সুতরাং এখানে আরও বাড়িয়ে বলা যায় হযরত আয়িশা (রাঃ) মিসওয়াক নিয়ে ভেঙ্গে এক অংশ আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকরকে দিলেন বাঁকি অংশ নিজে নিলেন। বাঁকি অংশ চিবিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিলেন। যেহেতু চিবানো হয়েছে সেহেতু তা ব্যবহার করা যেত না যদি অন্যের মিসওয়াক ব্যবহার করা না যেত। তবে এখানে শুধু স্বামী স্ত্রীর বিষয় জড়িত। স্বামী স্ত্রী ছাড়া অন্যে কারো চর্বিত মিসওয়াক ব্যবহার করা যাবে কিনা তা আরও গবেষণার বিষয়। তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকরের মিসওয়াক কেন ভাঙ্গলেন তা না জানা পর্যন্ত এর সমাধান দেয়া কষ্টসাধ্য। তবে মিসওয়াক করা অংশ বা আঁশ অংশ কেটে নিলে অবশ্যই মিসওয়াক করা যাবে। আবার স্বামী স্ত্রী পরস্পরের মিসওয়াক ব্যবহার করতে পারবে তা হাদিসের আলোচনা থেকে স্পষ্ট বুঝা গেল। এছাড়া বলা যায়, অনুমতি থাকলে অন্যের ব্যবহৃত মিসওয়াক ব্যবহার করা জায়িয। (শরহে বিকায়া)।
অপরদিকে একজনের ব্রাশ অন্যজনের ব্যবহার একবারেই অনুচিত। প্রথমত : জীবাণু বিজ্ঞানীগণের মতে একটি ব্রাশ একবারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না। দ্বিতীয় : একজন ব্রাশ করার ফলে ব্রাশের ভেতর যে জীবাণু প্রবেশ করে তা অন্যের শরীরে প্রবেশ করে জটীল ব্যাধি তৈরি করতে পারে। (বিস্তারিত বর্ণনা মিসওয়াক ও ব্রাশের মধ্যে পার্থক্য অংশে আছে)।
কে দিতেন। প্রথমটি হতে হযরত আয়িশা (রাঃ) কর্তৃক রাসুল সাসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি তীব্র ভালবাসার গন্ধ পাই এবং একজনের মিসওয়াক আরেক জন ব্যবহার করতে পারবে তা বুঝতে পারি। যদি এমনটি না হত তাহলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা করতে অবশ্যই নিষেধ করতেন। তাছাড়া তারা যে বিজ্ঞান মনস্ক ছিলেন তা স্পষ্টই বুঝা যায়। মিসওয়াক ধুয়ে না রাখলে তাতে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু আটকে থাকতে পারে এবং পরে শরীরে প্রবেশ করতে পারে তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। আমরা ইতিহাস থেকে জানতে পারি নবী পত্নি হযরত আয়িশা (রাঃ) ছিলেন প্রখর স্বরণ শক্তি এবং জ্ঞানের অধিকারিনী। মিসওয়াক যেহেতু ডাল বা শিকড়ের নরম অংশ এবং তা ধুয়ে ফেললে কোন জীবাণু থাকতে পারেনা। সেহেতু একজনের মিসওয়াক আরেক জন ব্যবহার করতে পারবে। হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একবার আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর একটি মিসওয়াক নিয়ে দঁাত মাজতে মাজতে প্রবেশ করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে দেখলেন, (আয়িশা (রাঃ) বলেন) আমি তাকে বললাম, আব্দুর রহমান! মিসওয়াকটি আমাকে দাও। সে তা আমাকে দিল। আমি তা ভেঙ্গে ফেললাম এবং চিবিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দিলাম। তিনি তা দ্বারা আমার বুকে হেলান দিয়ে মিসওয়াক করলেন। (বোখারী শরীফ)।
উপরোক্ত হাদিসে একটি বিষয় স্পষ্ট হল যে, হযরত আয়িশা (রাঃ), আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাঃ) এর নিকট হতে মিসওয়াক নিয়ে ভেঙ্গে তা চিবিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামমকে দিলেন। সুতরাং এখানে আরও বাড়িয়ে বলা যায় হযরত আয়িশা (রাঃ) মিসওয়াক নিয়ে ভেঙ্গে এক অংশ আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকরকে দিলেন বাঁকি অংশ নিজে নিলেন। বাঁকি অংশ চিবিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিলেন। যেহেতু চিবানো হয়েছে সেহেতু তা ব্যবহার করা যেত না যদি অন্যের মিসওয়াক ব্যবহার করা না যেত। তবে এখানে শুধু স্বামী স্ত্রীর বিষয় জড়িত। স্বামী স্ত্রী ছাড়া অন্যে কারো চর্বিত মিসওয়াক ব্যবহার করা যাবে কিনা তা আরও গবেষণার বিষয়। তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকরের মিসওয়াক কেন ভাঙ্গলেন তা না জানা পর্যন্ত এর সমাধান দেয়া কষ্টসাধ্য। তবে মিসওয়াক করা অংশ বা আঁশ অংশ কেটে নিলে অবশ্যই মিসওয়াক করা যাবে। আবার স্বামী স্ত্রী পরস্পরের মিসওয়াক ব্যবহার করতে পারবে তা হাদিসের আলোচনা থেকে স্পষ্ট বুঝা গেল। এছাড়া বলা যায়, অনুমতি থাকলে অন্যের ব্যবহৃত মিসওয়াক ব্যবহার করা জায়িয। (শরহে বিকায়া)।
অপরদিকে একজনের ব্রাশ অন্যজনের ব্যবহার একবারেই অনুচিত। প্রথমত : জীবাণু বিজ্ঞানীগণের মতে একটি ব্রাশ একবারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না। দ্বিতীয় : একজন ব্রাশ করার ফলে ব্রাশের ভেতর যে জীবাণু প্রবেশ করে তা অন্যের শরীরে প্রবেশ করে জটীল ব্যাধি তৈরি করতে পারে। (বিস্তারিত বর্ণনা মিসওয়াক ও ব্রাশের মধ্যে পার্থক্য অংশে আছে)।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব ১৩)

ওই পর্বটিও ভালো লাগলো ।

http://s7.postimage.org/jd5k2og6v/702174_447944615269126_1968962762_n.jpg

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব ১৩)

মোঃ মাহমুদুর রহমান সুজয় wrote:

ওই পর্বটিও ভালো লাগলো ।

ধৈর্য ধরে আমার লেখা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল