টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব ১৭)

মাউথ ওয়াশের ক্ষতিকর রুপ ও মিসওয়াক
(Damaging / Distructive character of Mouth Wash and Miswaak)
শহরের লোকেরা মাউথ ওয়াশের সাথে ব্যপক পরিচিত হলেও গ্রামের মানুষ হয়তো নাম শুনেছে কিন্তু চোখে দেখেছে বলে মনে হয় না। তবে ফেস ওয়াশের সাথে পরিচিতিটা বেশি কিন্তু ব্যবহারকারী কম। মাউথ ওয়াশের ব্যবহারকারী খুঁজে পাওয়া ভার। এর অন্যতম কারণ গ্রামে ব্রাশের চেয়ে মিসওয়াকের প্রচলন বেশি। তবে দিনদিন মিডিয়ার কারণেই হোক আর অন্য কারণে ব্রাশের ব্যবহার বাড়ছে। যারা মাউথ ওয়াশের সাথে পরিচিত নন তাদের জন্য সামান্য পরিচয় তুলে ধরা হল।
মাউথ ওয়াশ হলো তরল জাতীয় পদার্থ। ইহা মুখের ভিতরের ব্যথা নিরাময়ে, মুখের জীবাণু ধ্বংশ করতে, মুখের দূর্গন্ধ দূর করা ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। অবশ্য দাঁতের চিকিৎসা করার পর কিছুদিন কুলকুচা বা কুলি করার জন্য দেয়া হয়। মুখের ভিতরের জীবাণুমুক্ত করতে মাউত ওয়াশের মধ্যে অ্যালকোহল (মদ), ক্লোরডেক্সিডিন (Chlorodexydin), সোডিয়াম বাই কার্বনেট (Sodium bicarbonate), সোডিয়াম ক্লোরাইড (Sodium Chloride), ফেনল (Phenol), প্রোভিডন আয়োডিন (Providon Iodine), মিল্ক অব ম্যাগনেশিয়া (Milk of Megnetia), স্যাকারিন (Saccharin), ডালসিন (Dulcin) প্রভৃতি বিভিন্ন মাত্রায় থাকে। এর মধ্যে অ্যালকোহলের মাত্রা বেশি হলে মুখের ভিতরে ক্ষত সহ ক্যান্সার হতে পারে। ফ্লুরাইড (Fluride) যুক্ত মাউথ ওয়াশ বেশি দিন ব্যবহার করলে দাঁতের এনামেলকে গাঠনিকভাবে (Structurally) ভঙ্গুর করে, দাঁতের গায়ে ছোপ ছোপ দাগ হয়। শরীরে ফোঁড়া উঠলে বা ঘা হয়ে শুকিয়ে গেলে যেমন দেখায়। আবার আয়োডিন (Iodine) যুক্ত মাউথ ওয়াশ বিরতিহীন ভাবে ব্যবহার করতে থাকলে দাঁতের গায়ে বাদামী বা কালো রঙ্গের দাগের সৃষ্টি হতে পারে।
মাউথ ওয়াশ দ্বারা মুখের সুগন্ধি বৃদ্ধি করা যায় সত্য তবে এর জন্য দীর্ঘ চার পাঁচ বছর একাধারে ব্যবহার করলে মুখের ভিতরের অপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংশের পাশাপাশি উপকারী ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংশ হয়। ফলে গলা, জিহ্বা, ঠোঁট, চোঁয়াল প্রভৃতি স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। এ থেকে আপনাদের মনে এ ধারনা যেন না জন্মে যে, মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করলেই বুঝি এসব সমস্যা সৃষ্টি হবে। ডাক্তারগণ যতদিন মাউথ ওয়াশ যে নিয়মে ব্যবহার করতে বলবেন সে নিয়মে ব্যবহার করলে কোন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই। আর মাউথ ওয়াশ কেনার আগে এর গায়ে লেভেল লাগানো দেখে কিনতে হবে এবং এতে যাতে ২৫% এর বেশি অ্যালকোহল না থাকে সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। অবশ্য আমাদের দেশে অজ্ঞানতাবশত দীর্ঘদিন ধরে মুখে সুগন্ধ সৃষ্টির লক্ষ্যে মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করে থাকে। মুখের দূর্গন্ধ দূর করাই যেন এর উদ্দেশ্য, এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছ। এবার আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণীর দিকে দৃষ্টিপাত করি।
হযরত মুয়াজ (রাঃ), রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, যায়তুন গাছের মিসওয়াক কতইনা উত্তম! এটা হচ্ছে পবিত্র বৃক্ষের অংশ যা মুখকে দূর্গন্ধমুক্ত ও মুখের ক্ষত দূর করে। এটা হচ্ছে আমার মিসওয়াক ও আমার পূর্ববর্তী নবীদের মিসওয়াক।
আয়িশা (রাঃ) কর্র্তৃক বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ ও আল্লাহর সন্তোষ লাভের উপায়। (রিয়াদুস সালেহীন, নাসাঈ, ইবনে খুযাইমা, মিশকাত, শাফেয়ী, আহমদ, দারেমী, হাদিস শরীফ ২য় খন্ড)।
হাদিসদ্বয় থেকে দেখতে পাই, নিয়মিত মিসওয়াক করলে সেই সব উপকার পাওয়া (বাড়তি পাওয়া) যায় যা মাউথ ওয়াশ কর্র্তৃক আমরা পেতে চাই। শুধু মাত্র দাঁতের চিকিৎসায় ডাক্তারগণের পরামর্শ ছাড়া মাউথ ওয়াশের কোন প্রয়োজন নেই। শুধু প্রয়োজন গাছের নরম ডাল বা শিকড় যা দিয়ে মিসওয়াক করা যায়।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব ১৭)

অনেক ভাল হয়েছে ।সূচিপত্রে এই পর্বের লিংকও যোগ করে দিলাম ।

ফোরামে আছি ।