টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব ১৮)

মিসওয়াক না করা ব্যতীত আরও যে সব কারণে দাঁতের ক্ষতি হয়
 বাঁশি বাজালে ঃ বাঁশি বাজালে দাঁতের গোড়ার দিকে ক্ষয়ে যায়। বাজানো অবস্থায় জিহ্বা দ্বারা বারবার ঘর্ষণের ফলে মাড়িতে আঘাত লাগে। অনেক সময় মাড়ি ফুলে যায়, ব্যথার সৃষ্টি হয়। মাড়িতে আঘাত লাগলে মাড়ির মাংস নরম হয় বলে সহজে এতে জীবাণু প্রবেশ করে। বাঁশি বাজালে যে দাঁতের ক্ষতি হয় তা এক বংশীবাদক নিজেই স্বীকার করেছেন।

 বিড়ি সিগারেট টানলে ঃ যারা বিড়ি সিগারেট টানে তাদের দাঁত কালচে হয়ে যায়। সিগারেটের জীবননাশী ধোঁয়া দাঁতের ফাঁকে কালো স্তর সৃষ্টি করে। যা দেখতে বেশ বিশ্রী দেখায়। শুধু তাই নয় এগুলো দূর্গন্ধযুক্ত এবং ঠোঁটেরও ক্ষতি করে। এ বিষয়ে একটি বিস্ময়কর হলেও সত্য কথা না বলে পারলাম না। কোন বোতলে যদি ‘বিষ’ লেখা লেভেল লাগানো থাকে তাহলে একমাত্র অবুঝ (মত্ত পাগল) এবং আত্মহত্যার সিদ্ধান্তকারী ছাড়া কোন সচেতন মানুষ স্পর্শই করবে না, খাওয়াতো দূরে থাক। অথচ বিশ্বের একমাত্র বস্তু বিড়ি সিগারেট যা তথাকথিত শিক্ষিত, সচেতন মানুষ সচেতন হয়েই টানে। যদিও এর লেভেলে লেখা থাকে- ‘ধুমপান স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর, ধুমপানে মৃত্যু ঘটায়, ধুমপানে স্ট্রোক হয়’ ইত্যাদি। আবার অনেক তাবলীগ পন্থিদের দেখা যায় তাড়া বিড়ি (সিগারেট নয়) টানে। জিজ্ঞাসা করলে বলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো বিড়ি সিগারেট খেতে নিষেধ করেননি। (ইনশা আল্লাহ ‘খাদ্য’ শিরোনামে আল্লাহ যদি কোন দিন লেখার সুযোগ দান করেন তাহলে কুরআন, হাদিস আর বিজ্ঞানের আলোকে প্রমাণ করে দেব বিড়ি সিগারেট টানা, তামাক পাতা দিয়ে পান খাওয়া হারাম, হারাম, হারাম। এগুলো খেয়ে বা পান করে নামাযে দাড়ালে নামায হবে না।)।

 পান খেলে ঃ কোন অনুষ্ঠানে খাওয়ার পর বা ভালো স্বাদের খাবার পর পান না চিবুলে অনেকেরই রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। বিশেষত বিয়ের বাড়িতে কনে দেখে পান খেতে না দিলে টাকা দেয়া হয় না। আবার যাদের পান খাওয়ার তীব্র অভ্যাস (নেশা) আছে তাদেরতো এক বেলা ভাত না দিয়ে পান দিলেও খুশি। খাবারের চেয়ে পানের গুরুত্ব তাদের কাছে অনেক বেশি। পানের বেশ কিছু উপকারিতাও আছে। (যা অন্যত্র উল্লেখ করা আছে)। আমি এখানে শুধু তাদের কথা উল্লেখ করছি যারা পান চিবানোর পর কুলি করেন না, দাঁত ব্রাশ বা মিসওয়াক করেন না। বরং পান চিবুতে চিবুতে ঘুমিয়ে পড়েন। পানের রস দাঁতে এমন বিশ্রী দাগের সৃষ্টি করে যা সমাজে অশোভনীয়। খয়ের খেয়ে দাঁত, জিহ্বা, ঠোঁট লাল না হলে যেন পানের মজাই থাকে না। তবে খয়েরের কিছু উপকারিতা আছে। খয়ের ঠান্ডাকারক ও হজম বৃদ্ধিকারক। এটি গলা, মুখ ও মাড়ির ঘা জনীত অসুবিধায় এবং কাশি ও ডায়রিয়ায় (Astringent হিসাবে) ব্যবহৃত হয়। ঘা, ফোঁড়া এবং বিভিন্ন চর্মরোগে খয়ের বাহ্যিক ভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া চুনতো সরাসরি জিহ্বায় লাগলে বুঝাই যায় তা কতটুকু ক্ষতিকর। যা হোক পান খেয়ে এক শ্রেণীর মানুষ তাদের দাঁতকে নষ্ট করে। দাঁতের ফাঁকে তা জমে ক্ষত সৃষ্টি করে। এর ফল কত ভয়ংকর তা বুঝা যাবে। আমার দাদির মুখে বা মুখের ভেতর ক্যান্সার ছিল। আমরা তখন ছোট। দাদির পান খাওয়া রাঙ্গা ঠোঁটের বা মুখের দিকে তাকালে কত সুন্দর দেখাতো! জানিনা সেই ক্যান্সার দাঁতের অযতেœর কারণেই হয়েছিল কিনা। আজ তিনি নেই। থাকলে হয়তো আসল রহস্য বের করার চেষ্টা বাঁকি রাখতাম না। (আল¬াহ তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন, আমিন)।

 দাঁত দিয়ে কিছু কাটলে বা ধরলে ঃ আমরা দাঁত দিয়ে বিদ্যুতের তার কাটি। কাঠে লোহা বা পেরেক বসানোর সময় দাঁত দিয়ে শক্ত করে ধরে রাখি, মেয়েরা কাঁথা সেলাই করার সময় সূচ দাঁত দিয়ে ধরে রাখেন, ছাত্ররা কলমের নিপ দাঁত দিয়ে টেনে বের করেন যা অদূরদর্শীতা থেকে হয়। এভাবে দাঁত নষ্ট হতে পারে।

 শক্ত হাড় ভাঙ্গলে ঃ অনেক সময় আমরা ক্যালসিয়ামের খোঁজে গরু, মহিষ, ছাগলের শক্ত হাড়কে খাবার সময় দাঁত দিয়ে ভাঙ্গার চেষ্টা করি। যা কোন মতেই গ্রহণ যোগ্য নয়। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র নরম হাড়কে ভেঙ্গে ক্যালসিয়াম পেতে চেষ্টা করা উচিৎ। যেহেতু হাড়ের গোস্ত বা হাড়ের কচি অংশ অত্যন্ত সুস্বাদু তাই তা কামড়ানো স্বাভাবিক। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। নইলে দাঁতের অগ্রভাগ ভেঙ্গে দাঁতের মারাত্বক ক্ষতি সাধন করতে পারে বা দাঁত পুরো ভেঙ্গে যেতে পারে বা দাঁতের গোড়া নড়ে গিয়ে পরবর্তীতে উঠে যেতে পারে। দাঁতের অভাব শুধু তারাই বুঝেন যারা দাঁত হারিয়েছেন।
এছাড়া দীর্ঘদিন এন্টিবায়োটিক (Antibiotic) খেলে, হিস্টামিন বিরোধী ঔষধ, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ জনীত ঔষধ খেলে, মাথা কিংবা ঘাড়ে রেডিয়েশন থেরাপী দিলে দাঁতের ক্ষয় সৃষ্টি হতে পারে বা দাঁতের ক্ষতি হতে পারে।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রুপ (পর্ব ১৮)

চমত্কার শেয়ার ।চালিয়ে যান ।

ফোরামে আছি ।