টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রূপ (পর্ব-১৯)

মিসওয়াক বনাম দাঁতের কৃত্রিমতা ও সৌন্দয্য বর্ধন
মানুষের মুখের যে হাঁসি বের হয় তার সৌন্দয্যের পুরো দাবিদার সুশ্রী দাঁত। যার দাঁত সুন্দর নয় তার হাঁসিতে দ্যুতি ছড়ায় না। তবে যারা নিতান্তই ক্রিমিনাল বা ভেতরে ভেতরে ক্রিমিনাল তাদের যতো ঝকঝকে দাঁতের হাঁসিই হোকনা কেন তাতে একটা ক্রিমিনালিটি ভাব থাকেই। আবার এমন অনেক ক্রিমিনাল আছে যাদের হাঁসিতে মুক্ত ছড়ায়। এদের চেনা বড় কঠিন। যা হোক এখানে এটি আলোচ্য বিষয় নয়। সুন্দর হাঁসি এবং দাঁতের সৌন্দয্য বর্ধন চিকিৎসা সম্পর্কে।
দাঁতের রঙ খারাপ হয়ে গেলে, দাঁতে কোন খুঁত থাকলে, দাঁত ভেঙ্গে গেলে (ইত্যাদি) দাঁতের চিকিৎসা স্বরুপ দাঁতের উপর কৃত্রিম আবরণ লাগানো যেতে পারে। এর মধ্যে ক্রাউন (Crown) পরার পরামর্শ অধিকাংশ ডাক্তারগণ দিয়ে থাকেন। এটি সাধারণত দাঁতে খুঁত তথা কোন বিকৃতি মূলক সমস্যা থাকলে ব্যবহার করা হয়।
তবে এমন অনেকে রয়েছেন কৃত্রিম সৌন্দয্য সৃষ্টির জন্য দাঁতের পার্শ্ব কেটে সরু করেন, দু-দাঁতের মাঝে ফাঁকা সৃষ্টি করেন। এতে তারা মনে করেন তাদের দাঁতের সৌন্দয্য অনেকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। (এ ক্ষেত্রে মেয়েরা অগ্রেগণ্য)। কিন্তু আসলেই কি তাই? যারা চোখের সুন্দর ভ্রƒ তুলে ফেলেন, কপালের উপরিভাগের চুল তুলে ফেলেন, শরীরে উল্কি করেন তাদের কি সত্যিই ভালো দেখা যায়? আমার কাছে ভালো দেখায় না। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কৃত্রিম ভাবে দাঁত ঘষে দাঁত সরু ও দু-দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করতে নিষেধ করেছেন।
‘হযরত আল কামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) লা’নত করলেন এমন সব রমনীর উপর, যারা অপরের অঙ্গে উল্কি করে, (কপাল চওড়া করার জন্য) যারা কপালের উপরিভাগের চুলগুলো তুলে ফেলে এবং যারা সৌন্দয্যের জন্য দাঁত সরু ও ফাঁক বড় করে কৃত্রিম উপায়ে আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তন করে দেয়। তখন উম্মে ইয়াকুব জিজ্ঞেস করলেন, এটা কেন? আব্দুল্লাহ বললেন, আমি কেন তার উপর লা’নত করব না, যার উপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা’নত করেছেন এবং আল্লাহর কিতাবেও (তাই আছে)। তিনি (উম্মে ইয়াকুব) বললেন, আমি সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ করেছি কিন্তু তাতে তো এটা পেলাম না। আব্দুল্লাহ বললেন, যদি তুমি কুরআন পড়তে, তবে আল্লাহর কসম তুমি তাতে এটা অবশ্যই পেতে, ‘রাসুল তোমাদেরকে যা দেন, তা মজবুত ভাবে ধর আর যা থেকে বারণ করেন তা হতে বিরত থাক’। (বোখারী শরীফ- হাদিস নং ৩৪৩১, অনরুপ প্রায় ৩৪২৫)।
অনেকে মনে করেন মোটা দাঁতে খারাপ দেখায়, তাদের ধারণাও সত্য নয়। মূলত দাঁতের বিকৃতি বা রোগগ্রস্থ দাঁত ছাড়া কোন দাঁতই খারাপ দেখায় না। দাঁতের কৃত্রিম সৌন্দয্যের কোন প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু নিয়মিত মিসওয়াক করা। তা হলেই মিসওয়াকে অবস্থিত বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান দাঁতের দ্যুতি ছড়াতে সাহায্যে করবে। অনেকেই মোটা দাঁত বা বিকৃত দাঁত পার্শ্ব বা বিকৃত অংশ কেটে দাঁতের সৌন্দয্য বৃদ্ধি করতে চান কিন্তু তারা এটা ভুল করেন। কারণ এতে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়, অনেক ক্ষেত্রে দাঁতের পাল্পের ক্ষতি হতে পারে, দন্তমূলে খাদ্য জমে পঁচে তা দাঁতের ক্ষতি করতে পারে।

ডাক্তারগণের সাথে পরামর্শ করেও দাঁতকে সাদা করা যেতে পারে। তবে ধূসর রঙ্গের দাঁতকে সাদা করা যায় না। হলুদাভ রংয়ের দাঁত সাদা করা যায়, বাদামী রংয়ের হলে মোটামুটি সাদা করা যায়। কি পদ্ধতিতে আপনার দাঁত সাদা করে উজ্জ্বল আকর্ষনীয় হাঁসিটি হাঁসতে চান তা একজন দন্ত বিশেষজ্ঞ দ্বারা জানতে পারবেন।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

Share

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রূপ (পর্ব-১৯)

দুর্দান্ত টপিক ।চালিয়ে যান ...

ফোরামে আছি ।