টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রূপ (পর্ব-২০)

দাঁতের যত্ন : কয়েকটি ভ্রান্তি
দাঁত আমাদের অমূল্য সম্পদ। এই কথাটি যখন মানুষ বুঝতে শেখেন তখন থেকে দাঁতের যত্নের জন্য উঠে পরে লাগেন কিন্তু অধিকাংশ সময়েই বয়স আর থাকে না। অনেক সময় দাঁতের যত্নে কিছু মারাত্বক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যা কারোই কাম্য নয়।
অনেকেই মোটা দাঁত বা বিকৃত দাঁত পার্শ্ব বা বিকৃত অংশ কেটে দাঁতের সৌন্দয্য বৃদ্ধি করতে চান কিন্তু তারা এটা ভুল করেন। কারণ এতে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়, অনেক ক্ষেত্রে দাঁতের পাল্পের ক্ষতি হতে পারে, দন্তমূলে খাদ্য জমে পচে তা দাঁতের ক্ষতি করতে পারে।
অনেক বাবা মা (প্রধানত গ্রামের) ছোট শিশুর দাঁত পড়ে গেলে ইদুরের গর্তে সেই দাঁত দিয়ে দেন এবং ভাবেন আমার সন্তানের দাঁত ইদুরের দাঁতের মতো ছোট হবে এবং দীর্ঘস্থায়ী ও সবল হবে। এ ভেবে দাঁতের আর কোন যত্ন নেননা। এর ফলে সন্তানের একটা কু-ধারণা জন্মে অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতা বাড়ে এবং ধীরে ধীরে দাঁত ক্ষয়ে এক যন্ত্রণাময় জীবনে পদার্পন করে। বাবা-মা’র এই ধারণা বদলাতে হবে। এ সময় বাচ্চাদের বলতে বলেন, ‘হে ইদুর আমার দাঁত তুই নে আর তোর দাঁত আমায় দে’। অনেক বাচ্চা চোখ বন্ধ করে এটি বলতে গিয়ে ইদুরের কামড়ও খেয়েছে। এ ছাড়া সে গর্তে সাপ কিংবা অন্য বিষাক্ত প্রাণীও তো থাকতে পারে যা বাচ্চার জীবনহানী ঘটাতে পারে।
দাঁতের সাথে চোখ, ব্রেন, কান প্রভৃতির সাথে সম্পর্ক আছে সত্য, তবে দাঁত ফেলে দিলে চোখের ক্ষতি হবে, ব্রেন কমে যাবে এ ধারণা মোটেই ঠিক নয়। অনেকেই মনে করেন দাঁতে ক্ষয় রোগ বা দাঁতে পোকা লেগে ক্ষতি হয়েছে হোক, দাঁত ফেলে দিয়ে চোখ আর মস্তিষ্কের ক্ষতি করব না। এ ধরনের চিন্তা ভুল বরং নষ্ট দাঁত ফেলে দিয়ে পার্শ্ববর্তী ভালো দাঁত সমূহকে রক্ষা করা উচিৎ। নইলে ইনফেকশনযুক্ত দাঁতের কারণে অন্যান্য দাঁত সমূহ ক্ষতির স্বীকার হবে।
অনেক সময় শিশুরা দাঁত দিয়ে কটমট (কড়মড়) শব্দ করে। এতে অনেকে মনে করেন শিশুর পেটে ক্রিমি হয়েছে। এটি ভ্রান্ত ধারণা। অনেক সময় সর্দি লাগলেও দাঁত কড়মড় করতে পারে। তবে দাঁতের কোন সমস্যায় এটি হল কিনা তা দাঁতের ডাক্তার দেখিয়ে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
মুখের সুগন্ধ বৃদ্ধিতে অনেকেই মেডিকেটেড মাউথ ওয়াশ একই দিনে বারবার ব্যবহার করেন যা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। আবার অনেকে দাঁতে অতিরিক্ত ফ্লুরাইড ব্যবহার করেন যা কখনই উচিৎ নয়।
অনেকে মনে করেন, অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ‘সি’ গ্রহণ করলে অসুবিধা নেই বরং দাঁতের বেশি বেশি উপকার হবে। এ ধারণা অসত্য। কারণ অতিরিক্ত কিছুই ভালো নয়। প্রতি কেজি ওজনপ্রতি প্রতিদিন একটা শিশুর জন্য ৫ মিলিগ্রাম এবং বয়স্ক লোকের জন্য ৩০ মিলিগ্রাম প্রয়োজন।
অনেকে ভাবেন দাঁত স্কেলিং করলে দাঁতের ক্ষতি হয়। এটা সত্য নয়। তবে মানুষের ধারণাকে একেবারে ভুলও বলা যায় না। কারণ যত্রতত্র দাঁতের অদক্ষ ডাক্তার দ্বারা স্কেলিং করালে দাঁতের ক্ষতি হয়। দন্ত বিশেষজ্ঞ দ্বারা স্কেলিং করালে দাঁতের কোন ক্ষতি হয় না।
অনেক সময় দাঁতে দাগ পড়লে বা ক্যারিজ হলে অনেকে বালি, ছাই, মাটি প্রভৃতি দ্বারা ঘষে ঘষে দাগ তোলার চেষ্টা করেন। যা সঠিক নয়। এতে দাঁত সাদা দেখালেও দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়। দাঁত শিরশির করে। তাই এ সব দিয়ে দাঁত মাজা ঠিক নয়। তবে দুইয়ের অধিকবার ব্রাশ করলেও অনুরুপ ক্ষতি হতে পারে। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্লাস পয়েন্টে বা ক্ষতিহীন অবস্থায় আছে মিসওয়াক। যা বারবার করার ফলেও কোন ক্ষতি হয় না। মিসওয়াক করার সর্বোচ্চ ক্ষতি হল মুখের অগ্রভাগ ছিলে যাওয়া। তবে মানুষতো আর চব্বিশ ঘন্টাই মিসওয়াক করবে না যে এরুপ ঘটবে?
আরও কিছু সমস্যা আছে যার মধ্যে শিশুদের দাঁতের ব্যাপারে অবহেলা অন্যতম। আমাদের সকলের উচিৎ ভুল ধারণাগুলো পরিত্যাগ করা এবং এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল