টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রূপ (পর্ব-২১)

মিসওয়াকের ধর্মীয় গুরুত্ব
আমরা অনেক সময় মানুষকে উপহার দেই। উপহার বিভিন্ন কারণে দেই। কেউ কোন অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিলে, কেউ কোন খুশির খবর দিলে, অতি আপন বন্ধুর বিদায় কালে তার সম্মানার্থে ইত্যাদি। তবে উপহার পাওয়ার শর্ত একটিই তা হল কোন না কোন ভাবে পরিচিত হওয়া বা পরিচয়ের নিমিত্তে। উপহার পেলে প্রাপক খুশি হন। উপহারকে মানুষ আগলে রাখে যক্ষের ধনের মত যদি তা পছন্দ হয়, যদি না দারিদ্র বুকে আঘাত হানে। এমনিতেই আমরা দেখতে পাই উপহার যত ক্ষুদ্র হোক তা কেউ হাতছাড়া করতে চায়না। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে বা জ্ঞান সম্পর্কিত দিক থেকে উপহারের মাত্রা ভিন্ন। উপহার আমরা বিভিন্ন ভাবে দেই। স্বরণ করায়ে অথবা সাধারণভাবে। রমজান মাসে আমরা সচরাচর অন্যের সাথে দেখা হলে মিসওয়াক দেই (উপহার স্বরুপ), অন্য সময়ও দেই।
‘হযরত আয়িশা (রাঃ) বলেন, একবার নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিসওয়াক করছিলেন, তখন সেখানে দুই ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। যাদের এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তি হতে বড় (বয়সে বা সম্মানে)। তখন তাহার প্রতি মিসওয়াকের ফযিলত সম্পর্কে ওহী করা হল- মিসওয়াক উহাদের বড়কে দিন’। (আবু দাউদ, মিশকাত)।
মিরাজে গিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযকে উপহার স্বরুপ পেলেন। ( এ আবার কেমন উপহার !) নামায কিভাবে উপহার হল তা ভাবার অবকাশ রাখে। নামায তো আমাদের জন্য এমন কোন আকর্ষণীয় উপহার হবার কথা নয়। তবে কেন তা উপহার হল? নিশ্চয়ই এতে বড় ধরণের কোন রহস্য লুকিয়ে আছে? যা হোক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ঊর্ধাকাশে নামায উপহার দিলেন আর পৃথিবীর বুকে হযরত জিব্রাইল (আঃ) কর্তৃক নির্দেশ পেলেন মিসওয়াকের। (যা দানের বা উপহারের মতোই)।
‘হযরত আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, এমনটি কখনও হয়নি যে, জিব্রাইল আমার নিকট এসেছেন আর আমাকে মিসওয়াকের নির্দেশ দেননি। এতে আমার আশংকা হচ্ছিল যে (মিসওয়াকের কারণে) আমার মুখের অগ্রভাগ ছিলে না ফেলি’। (বায়হাকি, আহমদ, মিশকাত)।
‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, একদিন তিনি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে রাত যাপন করলে (তিনি দেখেন) আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের শেষ ভাগে ঘুম থেকে উঠে বাহিরে গিয়ে আসমানের দিকে তাকিয়ে সুরা আল ইমরানের এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন; (অর্থ) আসমান জমীনের সৃষ্টি কৌশলে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে জ্ঞানীদের জন্য রয়েছে বহু নিদর্শন। অতঃপর আপনি অনুগ্রহ করে আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন’। পর্যন্ত পড়লেন। এরপর ঘরে এসে মিসওয়াক করে, এরপর নামায পড়েন। নামায শেষে শুয়ে পড়েন। পুনরায় কিছুক্ষন পরে উঠে আসমানের দিকে তাকিয়ে এ আয়াত পাঠ করেন। এরপর ফিরে এসে মিসওয়াক করে, ওযু করে, ফযরের নামায আদায় করেন’। (মুসলিম শরীফ)।
উপরের হাদিস একটি তাৎপর্যপূর্ণ এবং রহস্যপূর্ণ হাদিস। হাদিসের ভিতরে সুরা আল ইমরানের ২০তম রুকু অর্থাৎ ১৯০ নং আয়াতের উল্লেখ আছে। যা আরও অর্থপূর্ণ। এই আয়াতের ব্যাপারে বলার পূর্বে উক্ত সুরার ১৯১নং আয়াত ও উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করছি।
“যারা আল্লাহকে স্বরণ করে দাড়িয়ে, বসে, এবং শুয়ে এবং চিন্তা করে আসমান ও জমীনের সৃজনের ব্যাপারে, এবং বলে ঃ হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি এসব নিরর্থক সৃষ্টি করনি। আমরা তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করি। তুমি আমাদের দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর।”
প্রশ্ন হল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়াতটি পড়ে কেন মিসওয়াক করলেন? যারা কুরআন পাঠ করেন তারা সিজদার স্থলে পড়ার পর সিজদা করেন কেন? নিশ্চয়ই এতে রহস্য আছে? আসমান ও জমীন সৃষ্টি, দিন রাতের আবর্তনে বহু নিদর্শন আছে যা কেবল জ্ঞানীরা উপলব্ধি করতে পারেন। উক্ত আয়াতের সাথে মিসওয়াকের কি সম্পর্ক আছে? আছে। আল্লাহ এই পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার মধ্যে গাছ বা বৃক্ষ অন্যতম। গাছের মধ্যে কি আছে যা জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন বহন করে। বহু নিদর্শন আছে যা উদ্ভিদ বিজ্ঞানীগণ খুঁজে পান। আমরা সাধারণ দৃষ্টিতে খুঁজে পেয়েছি ‘মিসওয়াক’ যা বহু গুণে গুণাম্বিত। এখন দেখার চেষ্টা করি, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেন আয়াতটি পড়ে মিসওয়াক করলেন? এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে মিসওয়াক গাছ থেকে আসে যা আবার প্রকারান্তরে আগুন সৃষ্টি করতে পারে। তাহলে কি পরকালে গাছ হতে আগুন সৃষ্টি হবে? যা থেকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রক্ষা পেতে চেয়েছেন। আবার ঠিক পরবর্তী আয়াতের মর্মার্থ হল পৃথিবীতে সৃষ্ট কোন জিনিসই অনর্থক সৃষ্টি হয়নি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিসওয়াক করলেন গাছ থেকে প্রাপ্ত অংশ থেকে। যার ভেতরের অনেক গুণাবলী জ্ঞানীগণ খুঁজে পেয়েছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিসওয়াক করে নামায পড়লেন। কেন? সোজা বা সহজ অর্থ হতে পারে তিনি আল্লাহর নেয়ামতের প্রশংসা করলেন, তার অসীম দয়ার কারণে মাথা নত করলেন। আমরা যদি মিসওয়াক করে নামায পড়ি তাহলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ করা হল সেই সাথে মহান আল¬াহর প্রতি কৃতজ্ঞতাও স্বীকার করা হল। এ ছাড়া আবু দাউদ শরীফের ৪৮ নং হাদিস থেকে বুঝতে পারি, ওজু থাক বা না থাক প্রত্যেক নামাযের পূর্বে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর ওজু করার নির্দেশ ছিল। তাঁর উপর এটি কষ্টদায়ক হলে ওজু থাকা অবস্থায় শুধু মিসওয়াক করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। (তিনি ঘুমানোর কারণেও ওজু করতে পারেন)।
আলোচ্য অংশে দ্বিতীয় যে হাদিসটি উল্লেখ করা হয়েছে তার ভাবার্থ হলো ঃ জিব্রাইল (আঃ) যতবার অহী নিয়ে বা অন্য কাজে এসেছেন ততোবারই মিসওয়াকের নির্দেশ দিয়েছেন। কেন? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিস মতে , মিসওয়াক পবিত্রতা অর্জন ও আল¬াহর সন্তোষ অর্জনের উপকরণ। তাহলে কি আমরা ভাবতে পারি, আল্লাহর সন্তোষ অর্জন যাতে হয় এজন্য মিসওয়াক করার কথা বলতেন? এমনটি ভাবাও উচিৎ নয় কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর আল্লাহ সর্বদা সন্তোষ্ট ছিলেন। তাহলে? সন্তান তার পিতাকে ভালবাসে। তবু সন্তানের প্রতি আরও চাওয়া থাকে কেন? মূলত এসব বিষয়ের তীব্রতা হল একাত্ম হওয়ার মাধ্যম। পরস্পরের বন্ধন সুদৃঢ় করার মাধ্যম। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর এমন নির্দেশ হলো যেন তার মুখের অগ্রভাগ ছিলে যাবে। কতো কঠোর অভিব্যক্তি! নিশ্চয়ই এর গূঢ় রহস্য বিদ্যমান? অবশ্যই। আমরা ধীরে ধীরে সে পথেই এগুচ্ছি।
আপনার দাঁতের সমস্যা বা দাঁতের ফাঁকে খাদ্য কণা জমে, পচে গন্ধ সৃষ্টি করেছে। এমত অবস্থায় মসজিদে গিয়ে মুসলি¬দের সাথে নামায আদায় করছেন। হঠাৎ হাই বা ঢেকুর উঠে বাতাসে দূর্গন্ধ ছড়ালো এবং নামাযীদের নামাযের একাগ্রতা নষ্ট হয়ে গেল। এতে নামায বা নামাযের একাগ্রতা নষ্ট করার দায়ে কঠিন গুনাহগার হয়ে গেলেন। অনেক সময় বিড়ি সিগারেটের গন্ধেও নামাযের একাগ্রতা নষ্ট হয়। এজন্য হালাল খাদ্য হয়েও কাঁচা রসুন পিঁয়াজ খেয়ে নামাযে দাড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। (বোখারী শরীফ)।
নামাযের বা অন্য কাজের পূর্বে আল¬াহর প্রশংসা করা হয়। সুতরাং উত্তমরুপে দাঁত পরিষ্কার করে নেয়াই উত্তম।
মিসওয়াক করার ফলে মুখের ভেতর এক ধরনের মিষ্টি আবহ তৈরি হয়। ফলে বিভিন্ন ইবাদতে পরম তৃপ্তি অনুভূত হয়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘মিসওয়াক করলে যেমন মুখ পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও দূর্গন্ধমুক্ত হয় তেমনি ইবাদতে আল¬াহর সন্তুষ্টি লাভ হয়’।
নামাযের মাধ্যমে মহান প্রভূর সামনে দন্ডায়মান হতে হয় সুতরাং সে অবস্থায় কোন ভাবেই দূর্গন্ধযুক্ত মুখ নিয়ে দাড়ানো উচিৎ নয়। আমরা একটা সাধারণ মানুষের সামনে যেখানে দূর্গন্ধযুক্ত মুখ নিয়ে দাড়াতে সাহস পাইনা সেখানে সমগ্র বিশ্বের অধিপতির সামনে দাড়াতে কিভাবে পারি?
বই পড়ার পূর্বে যেমন মনকে সকল চিন্তা থেকে মুক্ত করে নিলে দ্রুত বোধগোম্য হয় তেমনি নামাযের পূর্বে মিসওয়াক সহ ওযু করে নিলে নামাযে মনোনিবেশ বাড়ে। (কোন বই পড়ার পূর্বে মিসওয়াক সহ ওজু করে পড়তে বসুন। নিজেই এর সত্যতা যাচাই করুন। আর মুসলমান ছাড়া অন্য ধর্মের কেউ যদি ওজু না করে এর সুফলতা পেতে চান তাহলে এভাবে করুন ঃ প্রথমে মিসওয়াক করুন, এরপর কুলি করুন, সমস্ত মুখমন্ডল ধুয়ে ফেলুন, হাতে সামান্য পানি নিয়ে মাথা ও ঘার মাসেহ (হালকা ধুয়ে) করুন, হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে ফেলুন, পা হাটুর একটু নিচ পর্যন্ত ধৌত করুন, সম্ভব হলে মাথায় একটু তেল ব্যবহার করুন, পড়তে বসুন)।
নামাযের পূর্বে মিসওয়াক করে নিলে তা মিসওয়াক বিহীন নামাযের তুলনায় সত্তরগুণ বেশি সওয়াব (নেকী) পাওয়া যায়। (মিশকাত, বায়হাকী, আহমাদ)।
মসজিদের ইমাম সাহেবের মুখে দাঁতে যদি হলুদ বর্ণের বা কালো বর্ণের দাগ থাকে কিংবা মুখে দূর্গন্ধ থাকে তাহলে শ্রোতা বা মুসল্লীদের বক্তব্য শ্রবণ করতে অসুবিধা হয়, মনোযোগ থাকে না বা বিরক্তি আসে। সুতরাং অন্যের অসুবিধা সৃষ্টির দায়ে দায়ী হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা পেতে মিসওয়াক করা জরুরী।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিসের অনুসরণ করা হয়। হতে পারে এই একটি মাত্র মিসওয়াকের কারণে জান্নাতের দড়জা খুলে যেতে পারে।
বিভিন্ন ইবাদতে মনোযোগ আসে। ইবাদতে বিভিন্ন বাধা (দাঁতের পোকা বা পচনজনীত ব্যথা) থাকে না । বিশেষত নামাযে দাড়ানোর সময় নিজেকে মার্জিত ভাবে উপস্থাপন করতে হবে। এ সম্পর্কে আল¬াহ বলেছেন, ‘হে আদম বংশধরগণ প্রত্যেক নামাযের সময়ে তোমরা সুসজ্জিত হও এবং ভোজন ও পানাহার কর। এবং অপব্যয় কর না। নিশ্চয়ই তিনি অপব্যয়কারীদিগকে ভালবাসেন না। (সুরা লুকমান আয়াত নং ০৭)।
আমাদের উপর যা ফরয করা হয়েছে তার গুরুত্ব আমরা অধিক ভাবি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শঙ্কিত ছিলেন মিসওয়াক বুঝি তার উপর ফরয হয়ে যাবে। (মিশকাত)। স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে ব্যাপারে এত শঙ্কা করছিলেন তার গুরুত্ব নিঃসন্দেহে অনেক বেশি। তাই আমাদেরকেও তাঁর মতোই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলে পরকালে তাঁর শাফায়াতের আশা করা যাবে।
রোজাদারের জন্য এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘রোজাকারীর উত্তম গুণাবলী হলো মিসওয়াক করা। (ইবনে মাজাহ)।
মিসওয়াক করা যদি কষ্টকর না হত তাহলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য প্রত্যেক নামাযের পূর্বে মিসওয়াক করা ফরয করে দিতেন। (বোখারী, মুসলিম, রিয়াদুস সালেহীন, হাদিস শরীফ)। এমনও বর্ণিত আছে যে, প্রয়োজনে ইশার নামায পিছাইয়া পড়ার হুকুম দিতেন। (মিশকাত- ৩৪৭)। সুতরাং সহজেই বুঝা যাচ্ছে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মিসওয়াকের স্থান কোথায়।
তাহাজ্জুদ নামাযের পূর্বেও মিসওয়াক করতে হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনটি করতেন। (বোখারী, মুসলিম, মিশকাত)।
মিসওয়াক না পেলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের হাতের আঙ্গুল ব্যবহার করতেন। তথা আঙ্গুল দ্বারা মিসওয়াকের কর্ম সম্পাদন করতেন। (আল হিদায়া)।
মিসওয়াক না করার কারণে মুখে যে দূর্গন্ধ হয় তাতে ফিরিস্তাগণ কষ্ট পান। মিসওয়াক করলে দারিদ্রতা দূর হয়, স্বচ্ছলতা আসে, উপার্জন বাড়ে, শরীর শক্তিশালী হয়, অন্তর পবিত্র হয়, সৌন্দর্য বাড়ে, ফিরিস্তা তার সাথে মুসাফাহা করে, নামায আদায় করে বের হলে আরশ বহনকারী ফেরেস্তা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, শয়তান অসুন্তষ্ট হয়, বিজলীর ন্যায় পুলসিরাত পার হওয়া যাবে, আমলনামা ডান হাতে পাওয়া যাবে, ইবাদতে শক্তি পাবে, মৃত্যুর সময় কালেমা নসীব হবে, তার জন্য জান্নাতের দড়জা খুলে দেয়া হবে, জাহান্নামের দড়জা বন্ধ করে দেয়া হবে, পুত পবিত্র হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে। (সূত্র ঃ দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম)।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের উচিত মিসওয়াক করা। কারণ ইহা মুখ পবিত্রকারী, রব্বের (আল্লাহর) সন্তুষ্টি বিধানকারী, ফিরিশতাদের আনন্দ দানকারী, নেকী বাড়ায় এবং সুন্নতের মধ্যে গণ্য। দায়লামীর বর্ণনায় বাড়তি আছে যে, ইহা শয়তানের রাগ আনয়নকারী (কানযুল ওম্মালা ৯ম খন্ড, ১৯৩ পৃষ্ঠা)। (আইনি তুহ্ফা সলাতে মুস্তফা)।
তদুপরি, আল¬াহ রাব্বুল আলামিন গাছ দান করেছেন খাস ভাবে আমাদের জন্য। যা থেকে মিসওয়াক করা যায়। ফলে আল্লাহর সৃষ্ট জিনিস ব্যবহারের সময় স্রষ্টার অঢেল দান সম্পর্কে মনে কৃতজ্ঞতা জম্মে।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল