টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রূপ (পর্ব-২২)

মিসওয়াকের বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা
মিসওয়াক বলতে সাধারণত গাছের নরম ডাল বা গাছের নরম অংশকে বা গাছের শিকড়কে বুঝায় যা দ্বারা আমরা মুখের ভেতরের দাঁতের ময়লা বা জীবাণু বা অপ্রয়োজনীয় উপাদান বের করে থাকি। দাঁতের কাজ শুধু খাদ্য দ্রব্য চর্বণে সহায়তা করাই নয়। দাঁতের সাথে মানুষের কথা, সৌন্দর্য, মস্তিষ্ক, নামাজ, সামাজিক জীবন, হৃৎপিন্ড, খাদ্য বিস্বাদ বা অরুচী লাগা, দূর্গন্ধতা, গলা, গালের ঘা, শ্রবণ শক্তি, দৃষ্টি শক্তি, পাকস্থলী (ইত্যাদি), সর্বপরি ক্যান্সারের মত জীবন নাশকারী রোগেরও রয়েছে ঘনিষ্ট সম্পর্ক। ইহা পিত্ত সরায়, মাড়ি শক্ত করে, কফ দূর করে, মুখ সুগন্ধ করে, এবং পাকস্থলী সুস্থ রাখে (কা-মেল ইবনে আদি ও বায়হাকীর শোআবুল ঈমান)। নহর গ্রন্থে আছে যে, দাঁতের উপকার ত্রিশেরও অধিক (শামী ১ম খন্ড, ১০৭ পৃষ্ঠা, সূত্র ঃ আইনি তুহ্ফা সলাতে মুস্তফা)। এসব বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা ধারাবাহিক ভাবে বিবৃত করা হল।


১) দাঁত সামাজিক জীবন ও মিসওয়াক
মানুষ যত বড় হতে থাকে দাঁতের প্রয়োজনীয়তা তত বাড়তে থাকে। মানুষের শরীর যত সুন্দর হোক না কেন দাঁত যদি উঁচু নিচু বা অ্যাবড়া-থ্যাবড়া বা ময়লাযুক্ত হয় তবে তাকে সমাজে হেয় করা হয় বা তার সামাজিক মূল্যয়ন কমে যায়। ঝঁকঝকে দাঁত নিয়ে পুত্র কন্যা তার পিতা মাতার কাছে, প্রেমিকা তার প্রেমিকের কাছে, স্ত্রী তার স্বামীর কাছে, বন্ধু তার অন্য বন্ধুর কাছে যায় তখন হৃদয় মন ছুঁয়ে যায়। তবে হাঁসির মধ্যে আবার পার্থক্য আছে। অট্ট হাঁসি যেমন এক দিকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নিষিদ্ধ তেমনি বৈজ্ঞানীক ভাবে ত্যাগযোগ্য। অধিক হাঁসি থেকে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন । হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে হাঁসতেন তবে হাঁসার সময় মুখে হাত রাখতেন। ( শামায়েলে তিরমিযী পৃষ্ঠা নং ৯৬)। একবার হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- “ বেশি হাঁসলে অন্তর মরে যায় এবং দারিদ্রের সৃষ্টি করে”। অধিক হাঁসি ঠাট্টা এবং উচ্চ স্বরে হাঁসি চিন্তা ও বিষন্নতা আনয়ন করে। এতে সময়ের অপচয়ের কারণে বেকারত্ব ও দারিদ্র সৃষ্টি হয়। এমন ও দেখা গেছে উচ্চ স্বরে হাই তোলার মত হাঁসতে গিয়ে মাড়ির দিকে অর্থাৎ চোঁয়ালের হাড়ের জোড়া ডিসপে¬স হয়ে গেছে। অনেক চিকিৎসা করেও এটি সারানো কঠিন। এক রুগী সব সময় হাঁসত, এক সময় হাঁসতে হাঁসতে মৃত্যু বরণ করেছে। ( বিষয়টি মিসওয়াকের সাথে পুরো সামঞ্জস্যশীল না হওয়ায় বিস্তারিত তুলে ধরা হল না। সময় পেলে অন্যত্র তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ লেখক)।
সুন্দর চকচকে এনামেল যুক্ত দাঁতের অভাবে অনেক সময়েই মুখের সৌন্দয্য বিনষ্ট হয়। সামাজিক জীব হিসাবে আমরা বাস, ট্রাক, ট্রেন, বিমান প্রভৃতি যানবাহনে চড়ে অন্যত্র গমন করি কিংবা মসজিদে জামায়াতের সাথে নামায আদায় করি। সে সময় যদি কাশি কিংবা হাই উঠার মাধ্যমে মুখের দূর্গন্ধযুক্ত বাতাস ছড়ায় তাহলে কতইনা বিব্রতকর পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয়। তাছাড়া দাঁতের ক্যালসিয়ামের অভাবজনীত কারণে দাঁত হলুদ বর্ণের হয়ে যায় এবং মুখ থেকে লালা নির্গত হয়, খাদ্য কণার উপর ক্রিয়ার ফলে হলুদ বর্ণের পদার্থের সৃষ্টি হয়। একে ইংরেজীতে টার্টার (Tartar) বলে।
সুতরাং রুচীশীলতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে মিসওয়াক কিংবা ব্রাশ করা অতীব জরুরী।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল