টপিক: ধারাবহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রূপ (পর্ব-২৩)

২) দন্তরোগ ক্যারিজ ও মিসওয়াক
দন্তরোগ বা পোকার ইংরেজী নাম Dental Caries. এটি পোকা লাগা, দন্তক্ষয়, দাঁতের গর্ত ইত্যাদি নামে পরিচিত। শর্করা বা চিনি জাতীয় বিশুদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করে দাঁতে মিসওয়াক ব্যবহার না করলে , দাঁতে লেগে থাকা ঐসব খাদ্য বস্তুর মধ্যে বিভিন্ন জীবাণু বংশ বৃদ্ধি করে। ঐসব জীবাণুর মধ্যে অম্ল বা অ্যাসিড প্রস্তুতকারী জীবাণুগুলী তাদের সৃষ্ট অ্যাসিডের সাহায্যে দাঁতের এনামেল ও ডেন্টিনের ক্ষয় সাধন করে। (নিয়মিত মিসওয়াক না করলে দাঁতে জমে থাকা কার্বহাইড্রেট ব্যাকটেরিয়ার সাথে মিশে অ্যাসিড তৈরি করে।) এইভাবে জীবাণু জনিত কারণে দাঁতের গায়ে সৃষ্ট ক্ষত বা গর্তকে Caries বা দন্তক্ষয় বলে।
অনেকের মতে, ‘প্লেক’ নামক এক ধরণের আঠালো পদার্থ দাঁতের উপর যখন জমা হয় তখন রোগজীবাণু এর উপর আটকা পড়ে। সাধারণ মানুষের মাঝে এটি পোকা লাগা নামে পরিচিত। আর এই পোকা ছাড়ানোর মন্ত্রপাঠের ধোঁয়া তুলে অনেকেই টাকা রোজগারের নামে ধান্দায় নামে বিভিন্ন গ্যারাকলের মাধ্যমে। এ ধান্দার একটি বড় ধরনের সম্প্রদায় আছে। এরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। বিভিন্ন ধরনের অ্যাসিড সামান্য পরিমান নিয়ে বা এমন কোন গাছের অংশ যা নরম ত্বকে শিরশির অনুভূত করে তা নিয়ে দাঁতে তুলা সহ ঘর্ষণ দেয় আর বলে পোকা সব বের হয়ে আসছে। পূর্ব সংগৃহীত কিছু পোকা বা লাউ ( কদু) কুচি কুচি করে কেটে বিশেষ কায়দায় এ গুলোকে দাঁতের পোকা বলে চালিয়ে দেয়। তবে দাঁতের পেশী বা মাংস পিন্ড পচে যাওয়ার ফলে হয়ত পোকা জন্মাতেই পারে যা অসম্ভব নয়। এটি মূলত জীবাণু জনিত রোগ। যে ধরনের জীবাণু এ রোগের সৃষ্টি করে তার মধ্যে ‘এস্ট্রেপটোক্কাস’ (Srepto-coccus) ও ল্যাকটো-ব্যাসিলাস (Lacto-Bacillus) নামক জীবাণুই প্রধান।
দাঁতে যে ক্যারিজ হয়েছে তা বুঝার উপায় ঃ
দাঁতের যে সব লাজুক স্থানে খাদ্য জমা হয় সেখান থেকে এর উৎপত্তি। প্রথমে আক্রান্ত ক্ষতটি থেকে এনামেলের উপর একটা কালো দাগ পড়ে সেখানে গর্ত হয়। পরে ঐ গর্তে খাদ্য কণিকা জমা হয়ে পচে ডেন্টিনে আক্রমণ করে। এভাবে বড় বড় গর্ত সৃষ্টির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ঠান্ডা বা গরম খাদ্য গ্রহণ করলে দাঁত শিরশির করে। ক্রমান্ময়ে এসব গর্ত গভীর হয়ে দন্ত-শ্বাস বা পাল্পে (Pulp) প্রসারিত হয় এবং ব্যথা হয় একে পালপাইটিস (Pulpities) বলে। এটি হলে এন্টিবায়োটিক বা ঔষধে কাজ হয় না। এ সময়ে দাঁতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। অনেক সময় এই ব্যথা কান, চোয়াল, চোখ, মাথা পর্যন্ত জুড়ে থাকে। এ অবস্থায় রোগী গরম পানি মুখে নিলে বেশি ব্যথা অনুভূত হয় আর ঠান্ডা পানিতে ব্যথার কিছুটা উপশম হয়। আরো কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে পরিশেষে দাঁতের ভেতর পূঁজের সৃষ্টি হয়। যা সাইনাসে আক্রমণ করে। ঢোক গিলতে কষ্ট হয়। পাল্প নষ্ট হয়ে গেলে অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ করে দাঁতের ব্যথা কমে যায় এবং রুগী মনে করে দাঁতের অসুখ ভালো হয়ে গেছে । কিন্তু এটি যে আরো জটীল রোগের উৎপত্তিস্থল তা বুঝতে পারে না।
দাঁতে ক্যারিজ হওয়ার কারণসমূহ ঃ
ক) খাদ্যের ভেতর ক্যালসিয়াম বা ফসফেটের পরিমান কম হলে ক্যারিজ বেশি জন্মায়। (মিসওয়াক দ্বারা কিভাবে এসব উপাদান পাওয়া যায় তা পরে আলোচনা করা হবে ইনশা আল্লাহ)।
খ) মিষ্টি খেলে দাঁতে পোকা লাগে এ ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। তবে আঠাল মিষ্টি জাতীয় খাদ্য যেমন চকলেট, চুইনগাম ইত্যাদি খেয়ে দাঁত ভালো ভাবে পরিস্কার না করলে ক্যারিজ হয়।
গ) খাদ্যের ভেতর চর্বি জাতীয় খাদ্যপ্রাণ না থাকলে এবং ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবজনীত কারণে ও ক্যারিজ হতে পারে।
ঘ) অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নিয়মিত মিসওয়াক বা ব্রাশ করার পরও দাঁতের ক্ষয়রোগ হচ্ছে বা রোধ করা যাচ্ছেনা। এটি হয় মূলত বংশগত কারণে।
ক্যারিজ হওয়া থেকে মুক্তির পথ ঃ
ক) প্রতিদিন ৫/৬ বার দাঁত পরিস্কার করলে সাধারণত হয়না। ( রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বহু পূর্বেই কত সুন্দর করে বলে গেছেন " তাঁর উম্মতের জন্য কষ্টকর না হলে প্রত্যেক নামাযের পূর্বেই মিসওয়াক করার হুকম দিতেন এবং তা আবশ্যকীয় হিসাবে দৈনিক ৫ বার।)
খ) প্রত্যেক বার খাদ্য গ্রহণের পূর্বে, সকালে এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে দাঁতে মিসওয়াক বা ব্রাশ করতে হবে।
গ) মিষ্টি জাতীয় খাদ্য (চকলেট, বিস্কুট, কেক, আইসক্রিম, চুইনগাম, গ্লুকোজ, চা প্রভৃতি) খাওয়া / পানের পর মুখ ভালো করে পরিষ্কার করা।
ক্যারিজ যদি একবার হয়েই যায় তাহলে ডাক্তারের কোন বিকল্প নেই। তবে ঘনঘন মিসওয়াক করে স্বাভাবিক রাখা যায়। অভিজ্ঞ ডাক্তারগণ দাঁতের ক্ষয়রোধ প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সোডিয়াম ফ্লোরাইড ব্যবহার করতে বলেন। যেমন- খাবার পানিতে পরিমান মত ফ্লোরাইড যুক্ত করা, দাঁতের গায়ে ফ্লোরাইডের লবণ বা জেল লাগিয়ে দেয়া, ফ্লোরাইডের দ্রবণ দিয়ে কুলি করা, ফ্লোরাইড যুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা ইত্যাদি।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

Share

জবাব: ধারাবহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রূপ (পর্ব-২৩)

বরাবরের মত এবারের পর্বটিও এক কথায় জটিল হয়েছে ।চালিয়ে যান এই প্রচেষ্টা ।

ফোরামে আছি ।