টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রূপ (পর্ব-২৪)

৩. মাড়ির ক্ষয় বা দাঁতের মাড়ি রোগ ও মিসওয়াক


দাঁতের মাড়িতে বিভিন্ন কারণে ক্ষয় হয়। যেমন :
১) জীবাণু প্রলেপ ঃ ( যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে)।
২) দন্ত পাথুরী (Calculas): জীবাণু প্রলেপের মধ্যে মুখের লালা থেকে আসা ক্যালসিয়াম জাতীয় অজৈব পদার্থ জমা হয়ে ক্রমে দাঁতের গায়ে কালো, খয়েরী বা হলদে বর্ণের এক প্রকার কঠিন বস্তু সৃষ্টি করে। এটিকে দাঁতের পাথর বা Calculas বলে। ইহার ফলে মাড়িতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। ইহা দাঁত ও মাড়ির সংযোগ স্থলে জমে তাদের সংযোগ বিনষ্ট করে এবং ঐ স্থানে কোটরের সৃষ্টি করে যাকে পেরিওডন্টাল পকেট (Periodontal pocket) বলে।
৩) অসমান দাঁত বা অমসৃন দাঁত, খাদ্য দ্রব্য আটকে থাকা , আঘাত প্রাপ্তির ফলে, আবার দেহগত রোগ (যেমন ঃ- রক্তশূন্যতা, হেমোফিলিয়া, পারপিউরা, রক্ত ক্যান্সার), খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিনের অভাব, গ্রন্থি রসের অভাব ও অনিয়ম এবং কিছু কিছু রোগের ঔষধ সেবনে (যেমন মৃগী রোগের ঔষধ) মাড়ির রোগ হতে পারে।
মাড়ির রোগ যেভাবে হয় ঃ দাঁতের অপরিচ্ছন্নতাই মাড়ি রোগের ৯০% সৃষ্টির কারণ। এতে প্রদাহ হয়, মাড়ি ফুলে যায়, কথা বলা, খাওয়া-দাওয়া, ব্রাশ বা মিসওয়াক করার সময় রক্ত পড়ে। প্রথমে মাড়িতে ব্যথা থাকে না। একে মাড়ি প্রদাহ বা ‘জিনজিভাইটিস’ (Gingivitis) বলে। দাঁত ও মাড়ির মধ্যেবর্তী স্থানে কোটরের সৃষ্টি হয়, ঐ কোটরের খাদ্য বস্তু, জীবাণু ও পাথর জমে এবং মাড়ির প্রদাহ শুরু হয়। জীবাণুর সৃষ্ট বিজারক (Enzyme) এবং বিষাক্ত পদার্থ (Toxin) ক্রমান্বয়ে দাঁত ও মাড়ির উপঝিল্লি বাধন (Epithelial attachment) নষ্ট করতে থাকে। এভাবে দাঁতের গভীরে প্রবেশ করতে থাকে। এর গভীরতা যতই বেশি হতে থাকে তাতে ততোই খাদ্য বস্তু, জীবাণু, পূঁজ ইত্যাদি গর্তের মধ্যে জমে যায়। ঐ অবস্থায় পচা খাদ্য কণা, পূঁজ, রক্ত ইত্যাদি মিশে গিয়ে মুখের স্বাভাবিক স্বাদ ও রুচী নষ্ট করে, মুখে দুর্গন্ধ হয়। এ কারণে একটানা ব্যথা হতে পারে। এই অবস্থাকে পাইওরিয়া (Pyorrhea) বলে। মৃগী রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধ সেবনে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় মাড়ি রোগের সৃষ্টি হতে পারে।
রুগী যদি দাঁত নিজ থেকে পরিষ্কার না করে বা পরিষ্কার না রাখে তাহলে পৃথিবীর কোন ডাক্তারের পক্ষে এ রোগের চিকিৎসায় সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। দাঁতে মিসওয়াক বা ব্রাশ করা, ফ্লেসিং করা, খিলাল করা, কুলি করা, মাড়ি মর্দন করার মাধ্যমে দাঁত পরিষ্কার করা যায়। আমাদের বিশ্ব বিজ্ঞানী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন মানব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যা অর্জন না করেও এ সম্পর্কে কত সুন্দরই না বাক্য উপহার দিয়েছেন। যিনি কারো কাছে শিখতে যান নি, অক্ষর চিনতেন না, কোন বই পুস্তক থেকে জ্ঞান লাভ করেননি, তিনি কিভাবে এত সুন্দর কথা বলতে পারলেন ? এতেই তাঁর অতুলনীয়তা। কুলি করলে, মিসওয়াক করলে, খিলাল করলে দাঁত সুস্থ থাকে, এগুলো নিয়মিত করতে হবে তা তিনি জেনেছেন ঐশি ক্ষমতা বলেই। তিনি খিলাল করা প্রসঙ্গে বলেছেন-‘হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামথেকে বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি সুরমা লাগায় সে যেন তিনবার লাগায়, যে এরুপ করল সে ভালো করল, আর যে করল না সে মন্দ করল না। .. .. .. .. .. যে ব্যক্তি খানা খেল এবং খিলাল দ্বারা দাঁত থেকে কিছু বের করল, সে যেন তা বাহিরে ফেলে দেয় এবং যা জিহ্বা দ্বারা মথিত করে তা যেন গিলে ফেলে। যে এরুপ করল সে ভালো করল, আর যে এরুপ করল না সে মন্দ করল না। .. .. ..। (মিশকাত, ইবনে মাজাহ, দারেমী, আবু দাউদ)।
কুলি করা প্রসঙ্গে হাদিস ঃ
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুধ পান করার পর পানি চাইলেন এবং তা দ্বারা কুলি করলেন এবং বললেন, ‘এতে চর্বি বা তৈলাক্ততা আছে’। ( বোখারী শরীফ- হাদিস নং ১৫৬, নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ডিসেম্বর ২০০০, ১ম খন্ড,১৩২ পৃষ্ঠা, ১৮৭ নং হাদিস)।
হযরত সোয়ায়েদ ইবনে নোমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ‘তিনি খায়বারের বছর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে বের হলেন। লোকেরা খায়বারের নিকটবর্তী ছাহবা নামক স্থানে পৌছলে তিনি আছরের নামাজ পড়লেন। তারপর তিনি লোকদেরকে খাবার আনতে বললেন, তবে ছাতু ছাড়া কিছু পাওয়া গেল না। তিনি তা ভেজাতে বললেন। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা খেলেন এবং আমরাও খেলাম। তারপর তিনি মাগরিবের নামাজের জন্য উঠলেন এবং কুলি করলেন কিন্তু ওযু করলেন না। (বোখারী শরীফ হাদিস নং ১৫৫, নাসাঈ, ই. ফা. বা.)।
‘ ইবনে আবু দাউদ (রহঃ), উবাইদা ইবনে হুসাইন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি দেখলাম, উসমান (রাঃ) কে ঝোলে ভিজানো রুটি দেয়া হলে তিনি তা খেলেন, অতপর কুলি করলেন, অতপর হাত ধুইলেন, অতপর উঠে গিয়ে লোকদের নামায পড়ালেন কিন্তু ওযু করেননি।  ( তাহাবী মুঃ মূসা বঙ্গানুবাদ জুলাই -২০০১,১ম খন্ড ১৭১ পৃষ্ঠা ২৮১ নং হাদিস)।
সুতরাং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিজ্ঞান না পড়ে, গবেষণা না করেও যে বিশ্ব বিজ্ঞানী তা বর্ণনা করার প্রয়োজন পড়ে না। সংবেদনশীলতা বা দাঁত শিরশির করা রোগ হওয়ার পূর্বে মিসওয়াক করলে সিওয়াকে যে রেজিন নামক পদার্থ থাকে তার কারণে মাড়ির ক্ষয় কমে। তবে যদি মাড়ির ক্ষয় হয়েই যায় তবে সোডিয়াম ফ্লোরাইড (NaF), জিংক ক্লোরাইড (ZnCl2) সিলভার নাইট্রেট (AgNO3), ইত্যাদির বিভিন্ন মাত্রায় দ্রবণ ব্যবহার করা হয়।

মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া : মাড়ি দিয়ে বিভিন্ন কারণে রক্ত পড়তে পারে যেমন রক্তশুন্যতা, হেমোফেলিয়া, রক্তক্যান্সার আবার ভিটামিন ‘সি’ এর অভাবে রক্ত পড়তে পারে।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

Share

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রূপ (পর্ব-২৪)

subhanallah