টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রূপ (পর্ব-২৫)

৪. খাদ্য বিস্বাদ বা অরুচী এবং মিসওয়াক

জিহ্বা কোন খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ আস্বাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। শুধু খাদ্য দ্রব্যের বেলায় নয় জিহ্বা কর্তৃক উচ্চারিত শব্দ বা শব্দমালা সমাজে শৃংখলা বিশৃংখলা উভয় সৃষ্টি করে। জিহ্বার ঘূর্ণনে মুখ হতে সত্য মিথ্যা বের হয়। আল কুরআনে সুরা নজমের তিন নং আয়াতে আল্লাহ বলেন ‘সত্য কথা আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয়’। বোখারী শরীফে রয়েছে ‘আমরা যেখানেই থাকিনা কেন, সত্যের উপর দাড়াব। খোদার ব্যাপারে - নিন্দুকের ভয় করে নয়’। এখানে নিন্দুকের ভয় বলতে নিন্দুকের মুখের ভিতরের জিহ্বা কর্তৃক কথার ভয়কে বুঝানো যায়। ইহা ছাড়া হাদিস মতে জানি, ‘মিথ্যাবাদিতা পাপ কাজের দিকে চালিত করে’। এই জিহ্বার কারণে সমাজে মানুষ ঘৃণিত, লাঞ্ছিত অথবা সম্মানিত হয়। দীর্ঘদিন বা কয়েকদিন মানুষ মিসওয়াক না করলে বা ব্রাশ না করলে যে সব খাদ্যে তৈলাক্ত সে সব খাদ্যের তেল জিহ্বার উপর আস্তরণ ফেলে। ফলে খাদ্যের যে স্বাদযুক্ত ক্রিয়া তা জিহ্বার মূলে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে খাদ্যের স্বাদ বুঝা যায় না। উপরন্তু দাঁতের ফাঁকে জমাকৃত খাদ্য কণা পচে গিয়ে তা খাদ্য গ্রহণের সময় গন্ধ ছড়ায় বলে খাদ্য গন্ধযুক্ত মনে হয় এবং রুচীতে বিঘ্ন ঘটায়। এজন্য সর্বদা নিয়মিত মিসওয়াক করতে হবে। এ সম্পর্কে হযরত মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক একটি হাদিস বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি একদা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে দেখলাম, তিনি ( রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হস্তস্থিত মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজছেন। তিনি (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুখে মিসওয়াক রেখে এরুপে ওয়াক ওয়াক করছিলেন, মনে হয়েছিল যেন বমি করে ফেলবেন। ( বোখারী শরীফ)।
উপরের হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় তিনি মুখের রুচী বা স্বাদ কিংবা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মিসওয়াক নিয়ে এতটাই কর্মব্যস্ত ছিলেন মনে হচ্ছিল তিনি বমি করে বসবেন। অনেক গ্রন্থের লেখক ( যারা সুন্নতের গুরুত্ব নিয়ে লিখেছেন) তাদের মিসওয়াক অনুচ্ছেদে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন, ঘটনাটি সংক্ষেপে নিম্মরুপ :- এক ব্যক্তির মুখের রুচী না থাকায় বহু চিকিৎসা করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে কবিরাজের স্বরণাপন্ন হন। একে কবিরাজ মুখে জোঁক লাগাতে বললে জোঁক লাগানোতে পরে জিহ্বায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়। উপরন্ত মুখের স্বাদ বা রুচী কোনটাই বৃদ্ধি পেল না। অবশেষে তাকে পিলু গাছের তাজা ডাল দ্বারা নিয়মিত মিসওয়াক করার পরামর্শ দিলে মিসওয়াক ব্যবহারে এই অসহ্য রোগ থেকে মুক্তি পেলেন। এছাড়া মিসওয়াক করলে যে রুচী বৃদ্ধি পায় তা নিমের মিসওয়াক ব্যবহার করেও বুঝা যায়। ( এই বিষয়ে অন্য যায়গায় আরও আছে)।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল