টপিক: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রূপ (পর্ব-২৭)

৬)দাঁত ও মস্তিষ্ক বনাম দেহ এবং মিসওয়াক

দাঁতের সাথে যেমন রয়েছে মস্তিষ্কের সম্পর্ক তেমনি মস্তিষ্কের সাথে রয়েছে দেহের। দেহের সাথে মস্তিষ্কের কেমন সম্পর্ক তা একটি সাধারণ উদাহরণ দ্বারা পরিস্কার বুঝা যায়। ধরুন আপনার পায়ে একটি মশা কামড় দিল ফলে জ্বালা অনুভূত হল। এই অনুভূতি প্রথমে মাথায় যায় পরে মস্তিষ্ক হাতকে কমান্ড করে সেখানে হস্তক্ষেপ করতে এবং তা এত দ্রুত যে কল্পনা করাই কঠিন। সুতরাং মিসওয়াকের সাথে দাঁত ও মস্তিষ্ক বনাম দেহের সম্পর্ক জানতে হলে প্রথমে মস্তিষ্ক ও দেহ সম্পর্কে স্বল্প পরিসরে ধারণা থাকা আবশ্যক।
মস্তিষ্ক (Brain) : মস্তিষ্ক বলতে বুঝায় মগজ বা মাথার খুলির নিম্মস্থ নরম পদার্থ, এক কথায় মাথার ঘিলু। মানুষের দেহে যত গুলো অংশ রয়েছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অংশ হল এই ঘিলু বা মস্তিষ্ক। একমাত্র গাছপালা বা তরুলতা ছাড়া দৃশ্যমান সকল জীবের মস্তিষ্ক আছে। (অদৃশ্য বা অদেখা কোন জীবের থাকলে তা আমার জানার বাহিরে।) যেহেতু মস্তিষ্ক দেহের একটি অংশ সুতরাং দেহ ভালো না থাকলে মস্তিষ্ক ভালো থাকে না। মস্তিষ্ক সুস্থ্য না থাকলে আমরা তাদের পাগল বা মস্তিষ্ক বিকৃত বলে পরিচয় দেই। দেহটাকে পরিচালনা করার জন্য গোটা দেহে স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System) আছে। এই স্নায়ুতন্ত্র গোটা দেহে জালের ন্যায় বিস্তার করে থেকে জীবদেহকে পরিচালনা করছে। স্নায়ুতন্ত্র দুই প্রকার। যথা ঃ- (ক) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (Central Nervous System), (খ) স্বতন্ত্র স্নায়ুতন্ত্র (Autonomous Nervous System))। এই দুই প্রকার স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে মস্তিষ্ক কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্গত। মস্তিষ্কের কাজ যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা একটি উদাহরণ দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায়। ধরুন আপনার পায়ে একটি মশা কামড় দিল। কামড়ের যে যন্ত্রণা তা সেকেন্ডের মধ্যেই পৌঁছে গেল এবং সেকেন্ডের মধ্যেই মস্তিষ্ক হাতকে বা অন্য কোন অংগকে অর্ডার করল। সাথে সাথে হাত গিয়ে মশাকে মারল বা তাড়িয়ে দিল। আসলে ঘটনাটি কয়েকটি ঘটনার সমাহার অথচ মস্তিষ্কের সময় লাগল সেকেন্ড মাত্র।
দেহ : মানুষের মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত যা কিছু আছে তার সমষ্টি হল দেহ। আর মানুষের এই দেহ মহান আল¬াহর এক অপার সৃষ্টি। এই দেহ সৃষ্টির রহস্য মহান প্রভূ কুরআনের ভেতর অনেকগুলো আয়াত দিয়ে বুঝিয়েছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দেহের সুস্থ্যতা নিয়ে প্রার্থনা করেছেন। কারণ দেহের কোন অংশের অসুস্থতা মানেই হল অসুস্থতা। এই দেহ নিয়ে ভাষার কারিগর , উপমাকারীগণ তথা কবি, সাহিত্যিকগণ যারপর নাই আকুল-ব্যাকুল-বিমোহিত-হতভম্ব হয়ে বর্ণনা করেছেন স্ববিস্তরে। এ সবই মহান প্রভূর অসীম কৃপা।
কেউ কেউ কোন তরুণীর ঘন কালো ঢেউ খেলানো চুলকে আষাঢ়ের ঘন কালো মেঘেরর সাথে, কেউবা সোনালী রূপালী মাছের সাথে কেউবা চলন্ত সিঁড়ির সাথে, কেউবা ঢেউ এর সাথে তুলনা করেছেন। প্রকৃত পক্ষে মানব দেহের সাথে গোটা বিশ্বের সকল জিনিসের সাথে আছে সামঞ্জস্যতা। মানুষের চুল ও লোমগুলোকে বনজ সম্পদ, বড় কোপালীদের খেলার মাঠ, চোখকে আকাশের তারকা, গ্রহ, মুখ গহবর, নাসিকা গহবর কিংবা কর্ণ গহবরকে আগ্নেয়গীরির গহবর বা পাহাড়ের গহবর, দন্তগুলোকে ফুটন্ত সাদা ফুল, জ্বলন্ত তারকারাজি, মনটাকে বিশাল-বিস্তৃত-মুক্ত আকাশ, এমনই করে জল-স্থল, নদী- নালা, পাহাড়- পর্বত সবগুলোকেই দেহের বিভিন্ন অংশের সাথে তুলনীয়। শুধু কি দেহের বাহিরের অংশ ? না তা নয়। দেহের আভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোও এক সুনিপুণ দক্ষ কারিগরের তৈরি এক আজব সৃষ্টি। মানবদেহের ভিতরে আগ্নু আছে বলে খাবার হজম হয়, বাতাস আছে বলে হৃৎপিন্ড সচল, পানি আছে বলে অণু-পরমাণু জীবিত আছে। আর এই দেহকে সচল রাখতে , শ্বাস-প্রশ্বাস চালাতে হয় নাক দিয়ে, মুখ দিয়ে পানাহার করতে হয়। আর পানাহার কৃত খাদ্য যদি জমা হয়ে পচে গিয়ে দেহের কার্যক্রমকে ব্যহত করে তাহলে তা অসুস্থতা। আর দেহের এই সচলতা বজায় রাখতে মিসওয়াকের গুরুত্ব অপরিসীম। মিসওয়াক বা ব্রাশ ব্যবহার না করলে দাঁতের ভেতর খাদ্য দ্রব্য পচে পূঁজ সৃষ্টি হয়। দুর্গন্ধ পূঁজযুক্ত দাঁত মাথার বিভিন্ন রোগের প্রধান কারণ। জানা যায় এক মহিলার মাথার ভেতর পর্দায় পূঁজ জমে গেছে। এর অর্থ হল পাইওরিয়া রোগে আক্রান্ত ঐ মহিলার দাঁতের পূঁজ থেকে তা মস্তিষ্কে আক্রমণ করে। ফলে মানুষিক রোগের উপসর্গে জড়িয়ে পড়েন। পরে দাঁতের চিকিৎসা করা হলে রোগিনী সুস্থ হয়ে যান। দাঁতের সাথে মস্তিষ্কের যে কিরুপ সম্পর্ক তা হযরত আলী (রাঃ) এর বাণী থেকে বুঝা যায়। তিনি বলেছেন ‘ মিসওয়াক দ্বারা মানুষের মস্তিষ্ক (Brain) শক্তিশালী হয়’।
আবার মস্তিষ্কের সাথে দেহের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। এ সম্পর্কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ‘ দেহের সহিত মস্তিষ্কের যেরুপ সম্পর্ক, ঈমানের সহিত সহিঞ্চুতার তদ্রুপ সম্পর্ক’। (সহীয় বুখারী)।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

জবাব: ধারাবাহিক : মিসওয়াকের মহাবিস্ময়কর রূপ (পর্ব-২৭)

এই পর্বটিও ভালো লাগলো ।

http://s7.postimage.org/jd5k2og6v/702174_447944615269126_1968962762_n.jpg