Share

টপিক: হেকায়াতে ছাহাবা -প্রথম অধ্যায়-(পর্ব-০১)

বিসমিল্লাহহীর রাহমানির রাহিম
জাবেদ ভাইয়ের অনুরোধে আমার সংগ্রহে থাকা হযরত মাওলানা জাকারিয়া (রহঃ)এর লেখা 'হেকায়াতে ছাহাবা' বা ছাহাবাদের কাহিনী বই খানা পর্ব আকারে প্রকাশের পদক্ষেপ নিলাম ।আশা লেখাগুলো পড়ে সকলে দু জাহানের অসীম ফায়দা হাসিল করবেন ।
ইসলামের খাতিরে কঠোর পরিশ্রম ও নির্যাতন ভোগ
হুজুরে পাক (সাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)ইসলাম প্রচারের নিমিত্ত যে সমস্ত দুঃখ-কষ্ট ও নির্যাতন ভোগ করিয়াছেন ঐ সব করা তো দূরের কথা উহা করার মত কল্পনা  কল্পনা করাও আমাদের পক্ষে অসম্ভব ।ঐতিহাসিক গ্রন্থাবলী ঐ সমস্ত ঘটনায় পরিপূনঃ রহিয়াছে ।কিন্তু ঐ গুলির উপর আমল করা তো ভিন্ন আমরা উহা অবগত হইবার জন্য কষ্ট স্বীকার করতেও কুন্ঠিত ।এ অধ্যায়ে দৃষ্টান্ত স্বরূপ কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ্য করা যাইতেছে ,তন্মধ্যে বরকতের জন্য হুজুরে আকরাম (সাঃ) এর জীবনের একটি ঘটনা বর্ননা করিতেছি ।
তায়েফের মর্মান্তিক ঘটনা
(১)নবুয়ত প্রাপ্তির পর দীর্ঘ নয় বত্সর যাব নবীয়ে কারীম (সাঃ) পবিত্র ভুমি মক্কা নগরীতে দ্বীন প্রচার করিতে থাকেন এবং জাতির হেদায়াতে জন্য সর্বাত্নক চেষ্টা করিতে থাকেন ।এই সময় স্বল্প সংখ্যক লোক যাঁহারা ইসলাম গ্রহণ করিয়া হুজুরে পাক (সাঃ)এর প্রতি সাহায্য ও সহযোগীতা করিয়াছিলেন তাহারা ব্যতীত অধিকাংশ কাফেরই হুজুর (সাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের প্রতি অকথ্য অত্যাচার করিতেছিল ।তাহারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করিত এবং নির্যাতনমূলক যাহা ইচ্ছা তাহাই করিত ।অমুছলিম হওয়া সত্বেও যাহারা হুজুরে পাক (সাঃ) এর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন ,হুজুরে পাক (সাঃ) এর চাচা আবু তালেব তাহাদের মধ্যে অন্যতম ।
যখন তাহার ইন্তেকাল হইয়া গেল তখন কাফেরগন প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণে বাধা দিতে লাগিল ও মুসলমানদের প্রতি অমানুষিক নির্যাতন করিতে আরম্ভ করিল ।

এমতাবস্থায় নবীয়ে কারীম (সাঃ) এই উদ্দেশ্যে তায়েফ গমন করিলেন যে ,হয়ত সেখানকার বিখ্যাত ছাক্বীফ গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করিবে যদ্দারা মুসলমানগণ কাফেরদের অত্যাচার হইতে নাজাত পাইবে এবং ইসলাম প্রচারের ভিত্তিও মজবুত হইয়া যাইবে ।
তায়েফে পৌছিয়া হুজুরে পাক (সাঃ) তিন জন প্রভাবশালী লোকের সহিত সাক্ষাৎ করিলেন এবং তাহাদিগকে দ্বীনের দাওয়াত দিলেন ও আল্লাহ্ র নবী (সাঃ)এর সাহায্য করিতে আহ্বান করিলেন ।কিন্তী তাহারা দ্বীন ইসলাম কবুল করা তো দূরের কথা আরব জাতির বৈশিষ্ট মেহমানদারী ও আতিথেয়তার প্রতিও ভ্রুক্ষেপ না করিয়া অত্যন্ত অভদ্র ও রুক্ষ ব্যবহার করিল ।
তন্মধ্যে এক ব্যাক্ত বলিলঃ ওহ-হো ।তোমাকে নাকি আল্লাহ নবী করিল ।আল্লাহ্ কি তোমাকে ব্যাতিত আর কাওকে এই কাজ দিতে পান নি ?
পরক্ষনেই অন্য এক ব্যাক্তি বললেন , যেহেতু তোমার দাবী অনুসারে তুমি সত্যই নবী হও তবে তোমার কথা অস্বীকার করিলে বড় বিপদ আছে ।আর যদি তুমি মিথ্যা নবী হও তবে এহেধ মিথ্যাবাদীর সহিত আমি কথা বলিতে চাইনা ।

অতঃপর হুজুর (সাঃ) সাহস করিয়া অন্যান্য লোকদের সহিত কথা বলার ইচ্ছা করিলেন ।কিন্তু কেহই তাঁহার সহিত আলাপ করিতে সম্মত হলনা বরং ভত্সর্না করিয়া বলিতে লাগিল এক্ষুনি তুমি এই শহর ছাড়িয়া চলিয়া যাও ।নয়তো তোমার কপালে অনেক খারাপী আছে ।
হুজুরে পাক (সাঃ) যখন সম্পূর্নরূপে নিরাশ হইয়া ফিরিয়া যাইতেছিলেন তখন তাহারা (উক্ত শহরবাসীরা)শহরের দুষ্ট ছেলেদিগকে তাহার পেছনে লেলাইয়া দিল ।
দুষ্ট ছেলেদের ক্রমাগত প্রস্তর আঘাতে মহানবী ,জগের জ্যোতি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)এর শরীর মোবারক রক্তে রঞ্জিত হইয়া গেল ।

এইরূপ অপমান ,অপদস্থ এবং আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হইয়া হুজুর (সাঃ) শহরের বাইরে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হইয়া বসিয়া দুই হাত উপরে তুলিয়া প্রার্থনা করিতে লাগিলেনঃ
হে পরওয়ারদেগার !আমি অসুস্থ ,নিপিরিত ,জর্জরিত হইয়া কেবল মাত্র এক তোমারই দরবারে হাত তুলিয়াছি ।হে মহান প্রভু !তোমার পতাকা যদি দিয়াছ প্রভু ,হেন আমি ,দূর্বল আমি সেই পতাকা বহিবার শক্তি আমায় দাও ।

হে মাওলা !যদি তুমি আমার সন্তুষ্ট থাক তবে আমি কাহারও পরোয়া করিনা ।
এলাহী ! তোমার অসন্তষ্টিতে সন্তুষ্টি দ্বারা পরিবর্তন করাই আমার একমাত্র সাধনা ও কামনা ।তুমিই একমাত্র শক্তিশালী ।
চলবে ......

দেশান্তরী..

জবাব: হেকায়াতে ছাহাবা -প্রথম অধ্যায়-(পর্ব-০১)

দারুন ।আশা করি খুব দ্রুততার সাথে সমস্ত বইটা ধারাবাহিক ভাবে আলোর নিশানে লিপিবদ্ধ করবেন ।(+)রইল আপনার জন্য ।

জবাব: হেকায়াতে ছাহাবা -প্রথম অধ্যায়-(পর্ব-০১)

আশিকুল ইসলাম wrote:

দারুন ।আশা করি খুব দ্রুততার সাথে সমস্ত বইটা ধারাবাহিক ভাবে আলোর নিশানে লিপিবদ্ধ করবেন ।(+)রইল আপনার জন্য ।

পরিপূর্ন সহমত ।

ফোরামে আছি ।

Share

জবাব: হেকায়াতে ছাহাবা -প্রথম অধ্যায়-(পর্ব-০১)

আলহামদুলিল্লাহ, সম্পূর্ন বইটা আলোর নিশানে যুগ করতে আল্লাহ আপনার সহায় হোন.