(১৭৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

যদি সবার সহযোগীতা পাই তাহলে আবার নিয়মিত হবার ইচ্ছা আছে ।

(৫ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ইসলাম প্রচারক)

ভালো লাগলো দেখে ।

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

আলোর পথিক wrote:

মাঝে ফোরামে কিছু লেখা পেলে তো ভালই লাগে ।নিয়মিত লিখে যান ভাই ।

ভাই লেখালেখি তো করতেই চাই কিন্তু , যেসব অপবাদের স্বিকার হচ্ছি সে জন্য আর ইচ্ছা হয় না । আলোরি নিশানে তো আপনারা নতুন জাবেদকে বলে দেখবেন আমি কতদিন থেকে আছি ।

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

“তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার কারণে আল্লাহ তাদের নিজেদেরকেই ভুলিয়ে দিয়েছেন তারাই ফাসেক ” – [সূরা আল হাশর - ১৯]



☻ আয়াতটির ব্যাখা  ☻

অর্থাৎ আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার অনিবার্য ফল হলো নিজেকে ভুলে যাওয়া, সে কার বান্দা সে কথা যখন কেউ ভুলে যায়, তখন অনিবার্যরূপে সে দুনিয়ায় তার একটা ভুল অবস্থান ঠিক করে নেয়। এই মৌলিক ভ্রান্তির কারণে তার গোটা জীবনই ভ্রান্তিতে পর্যবসতি হয়। অনুরূপভাবে সে যখন একথা ভুলে যায় যে সে এক আল্লাহ‌ ছাড়া আর কারো বান্দা নয় তখন আর সে শুধু সেই এদের বন্দেগী করে না।

এমতাবস্থায় সে প্রকৃতই যার বান্দা তাকে বাদ দিয়ে যাদের সে বান্দা নয় এমন অনেকের বন্দেগী করতে থাকে। এটা আর একটি মারাত্মক ও সর্বাত্মক ভুল যা তার গোটা জীবনকেই ভুলে পরিণত করে। পৃথিবীতে মানুষের প্রকৃত মর্যাদা ও অবস্থান হলো সে বান্দা বা দাস, স্বাধীন বা মুক্ত নয়। সে কেবল এক আল্লাহর বান্দা, তার ছাড়া আর কারো বান্দা সে নয়। একথাটি যে ব্যক্তি জানে না প্রকৃতপক্ষে সে নিজেই নিজেকে জানে না। আর যে ব্যক্তি একথাটি জেনেও এক মুহূর্তের জন্যও তা ভুলে যায় সেই মুহূর্তে সে এমন কোন কাজ করে বসতে পারে যা কোন আল্লাহদ্রোহী বা মুশরিক অর্থাৎ আত্মবিস্মৃত মানুষই করতে পারে।



সঠিক পথের ওপর মানুষের টিকে থাকা পুরোপুরি নির্ভর করে আল্লাহকে স্মরণ করার ওপর। আল্লাহ‌ তা’আলা সম্পর্কে গাফেল হওয়া মাত্রই সে নিজের সম্পর্কেও গাফেল হয়ে যায় আর এই গাফলতিই তাকে ফাসেক বানিয়ে দেয়।

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

বিষয় : মৃত্যুর জন্য করণীয়
খতীব : আব্দুল আযীয ইবন আব্দিল্লাহ

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য যিনি ইহকালীন জীবনকে মানুষের জন্য কর্মক্ষেত্রে হিসেবে নির্ধারণ করত তার জন্য যুগে যুগে নবী-রাসূলদের মাধ্যমে শরিয়াত প্রণয়ন করেন ও পরকালে মানুষের কর্ম অনুযায়ী বিনিময়ের ব্যবস্খা করেন। সালাম ও দরুদ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য যিনি সারা জীবন অক্লান্ত পরিশন্সম করত আল্লাহর বিধান মানব সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন।
সম্মানিত উপস্স্থিতি!
মহান আল্লাকে যথাযথভাবে ভয় করুন। আল্লাহ মহাসত্য কথা ঘোষণা দিয়ে বলেন : “আর তুমি বলে দাও, তোমরা আমল করে যাও, তার পরবর্তীতে আল্লাহ দেখবেন তোমাদের কাজ এবং দেখবেন রাসূল ও মুসলমানগণ। তাছাড়া তোমরা শীঘন্সই প্রত্যাবর্তীত হবে তাঁর সান্নিধ্যে যিনি গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়ে অবগত। তা তিনি জানিয়ে দেবেন তোমাদেরকে যা করতে হবে।” (সূরা আত-তাওবাহ্, ১০৫)

প্রিয় মুসলিম ভাই!
আমাদের উপরোক্ত এ আয়াতের মর্মার্থ অনুধাবন করা উচিত। তিনি আমাদের তাতে সঠিকভাবে আমল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। আমাদের অযথা সৃষ্টি করা হয়নি, আমাদের সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য তাঁর ইবাদাত করা, যাতে আমরা তাঁর বিধানাবলী বাস্তবায়ন করি। ইসলামী শরিয়াতের জ্ঞান ও বিধানাবলীর আলোকে আমাদের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সকল কর্ম সম্পাদন করতে হবে যাতে আমরা যথার্থই মুমিন হিসেবে পরিগণিত হতে পারি। এটিই হলো মহান আল্লাহর বাণীর উদ্দেশ্য যা তিনি উপরের আয়াতে উল্লেখ করেছেন। তিনি বান্দার সকল কর্ম সম্পর্কেই অবগত। কিন্তু বান্দাহ তাঁর বিরুদ্ধাচরণ না করা পর্যন্ত তিনি কাকেও শাস্তি প্রদান করেন না। এটিই হলো উপরোক্ত আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ।
সম্মানিত মুসলিম ভাই!
আল্লাহ আমাদের তাঁর প্রদর্শিত পথে কাজ করতে নির্দেশ প্রদান করেন। বস্তুত আমাদের সৃষ্টি উদ্দের্শহীনভাবে করা হয়নি; বরং আমাদের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য তাঁর ইবাদত তথা আমাদের সার্বিক জীবনে প্রকাশ্য ও গোপনে সর্বান্তকরণে তাঁর বিধানের বাস্তবায়ন করা, যাতে আমরা যথার্থ মুমিন হতে পারি।
আমাদের সবাইকে সে মহান রবের দিকে ফিরে যেতে হবে ঁিযনি প্রকাশ্য ও গোপন সবকিছিু অবগত। তিঁনি ইরশাদ করেন : “বলে দিন, তোমরা যদি মনের কথা গোপন করে রাখ অথবা প্রকাশ করে দাও, আল্লাহ সে সবই জানতে পারেন। আর আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে, সে সবই জানেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।” (সূরা আল-ইমরান, ২৯)
মুসলিম ভাই!
আমাদের আমল কখনো যথার্থ হবে না যতক্ষণ না আমরা আমাদের কর্মসম্পাদনে শারীরিক, মানসিক, প্রকাশ্য ও গোপন তথা সার্বিক কাজকর্ম একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারণ না করি ও ইসলাম নির্দেশিক পন্থায় বিশুদ্ধ আক্কিদায় তা সম্পাদন না করি। এভাবেই মুমিনদের পরিপূর্ণ জীবন একমাত্র আল্লাহরই জন্য নির্ধারণ হয়ে থাকে।
মুমিনের জীবনে একটি বিষয় সর্বদাই লক্ষ্য রাখতে হয় যে তার কোন কাজই যেন রিয়া তথা লোকদেখানোপনাপূর্ণ না হয়। এতে তার সকল কর্মই বিফলে যাবে। এ জন্য এ উমôতের সৎলোকদের সর্বদা সাবধানতার সাথে জীবনযাপন করতে হয়। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন :
“নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তার ভয়ে সন্ত্রস্ত, যারা তাদের পালনকর্তার কথায় বিশবাস করে, যারা তাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরীক করে না এবং যা দান করবার, তা ভীত হৃদয়ে এ কারণে দান করে যে, তারা তাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করবে।” (সূরা আল-মুমিনুন, ৫৭-৬০)
এ সমস্ত সৎলোকগণ তাদের নেক আমল সম্পর্কে প্রদর্শনেচ্ছার ভয়ে ভীত থাকেন, যাতে তা বাতিল না হয়ে যায়। এভাবে জীবন যাপন করতে করতে মহান আল্লাহর সাথে তাদের সম্পর্ক দৃঢ় হতে থাকে। মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত আয়াত তাদের রবের সাথে মুনাজাতের চিত্র তাদের অবস্খান সম্পর্কে ইঙ্গিত বহন করে। ইরশাদ হচ্ছে :
“হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্য লংঘনে প্রবৃত্ত করো না এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা।” (সূরা আলে ইমরান, ৮)
এসব মুমিনরা মহান আল্লাহ তার নবীর প্রতি সাবধানতার বাণীটি থেকেও উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। তাতে আল্লাহ ইরশাদ করেন :
“আমি আপনাকে দৃঢ়পদ না রাখলে আপনি তাদের প্রতি কিছুটা ঝুঁকেই পড়তেন। তখন আমি অবশ্যই আপনাকে ইহজীবনে ও পরজীবনে দ্বিগুণ শাস্তির আস্বাদন করাতাম।” (সূরা আল-ইসরা, ৭৪-৭৫)
ইহকালীন জীবনে প্রকৃত মুমিনের স্ববাব হল, সে নিরবিচ্ছিন্নভাবে আমল করতে থাকে, শেষ পরিণতি পর্যন্ত তাতে অটল থাকতে চেষ্টা করে এভং জীবনের পরিণতি সম্পর্কে পূর্ব থেকে অবগত না হওয়ায় সর্বদা ঈমান ও আমলের সংরক্ষণের জন্য সচেষ্ট থাকে। তারা অন্যলোকদের ঈমানের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাওয়া, জীবন পরিচালনায় অন্যান্য মতাদর্শ গ্রহণ করা, এককালে ঈমানের আলোতে অবগাহন করে পরবর্তীতে সে অমূল্য সম্পদ থেকে বিচ্যুত হওয়ার দূর্ভাগ্য পরিণতি বরণ তথা অনৈসলামী ধ্যান-ধারণায় অভ্যস্খ হওয়ার করুণ পরিণতি অবলোকন করত নিজেদের শয়তানের কুমন্ত্রণার বিরুদ্ধে সোচ্চার রাখতে সচেষ্ট থাকেন। মহান আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারগণকে তাঁকে ভয় করতে নির্দেশ প্রদান করত ইরশাদ করেন :
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করতে থাক যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তেমনিভাবে এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” (সূরা আল-ইমরান, ১০২)
মহান আল্লাহর এ আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের ইসলামের বিধানকে আঁকড়ে ধরে আমৃত্যু তার উপর অটল থাকতে হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামকে যা বলেছিলেন তা জানা আবশ্যক। ইরশাদ হচ্ছে :
“এরই ওছিয়ত করেছে ইবরাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, যে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্যে এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলমান না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না। (সূরা আল-বাকারাহ, ১৩২)
ইসলামের বিধান স্বজ্ঞানে প্রকাশ্যে-গোপনে পালন করুন ও সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকার জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করুন। আল্লাহরই হাতে রয়েছে মানুষের মন পরিবর্তন করার ক্ষমতা তিঁনি যাকে ইচ্ছা পরিবর্তন করে দেন। মানবতার মহান নেতা সব নবীদের সেরা নবী মুহামôদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা দোয়ায় বলতেন :
“হে মন পরিবর্তনকারী আল্লাহ! আমার মনকে আপনার দ্বীনের উপর অটল রাখুন।” এ দোয়ার পরিপ্রেক্ষিতে একথা হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূল (সা·) কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি দ্বীনের উপর অটল থাকার ব্যাপারে ভয় পাচ্ছেন? উত্তরে রাসূল (সা·) ইরশাদ করেন : “মানুষের হৃদয় আল্লাহর আয়ত্বাধীন, তিঁনি যাকে ইচ্ছা পরিবর্তন করেন।”
সম্মানিত মুসলিম জনতা!
মানুষের উপর মহান আল্লাহর তাওফীকের নিদর্শনের অন্যতম হল তার অবশিষ্ট জীবন সৎভাবে পরিচালনা করা ও এ অবস্খায় মৃত্যু হওয়া। এ প্রসঙ্গে হযরত আনাস (রা·) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূল (সা·) ইরশাদ করেন : “আল্লাহ যদি কোন বান্দার কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তাহলে তাকে কাজে লাগান।” প্রশ্ন করা হল, কিভাবে তা সম্ভবপর হে আল্লাহর রাসূল? উত্তরে তিঁনি ইরশাদ করেন : “এর ব্যাখ্যা হল: মৃত্যুর পূর্বে তাকে সৎকাজ করার তাওফিক প্রদান করেন।” অত:পর সে বিশুদ্ধভাবে তাওবাহ করার সুযোগ লাভে ধন্য হয়, আল্লাহ তার গুণাহরাশি নেককাজে পরিগণিত করেন। সে বান্দাহদের উপর জুলুম করা থেকে মুক্ত থাকে, তার কথা ও কর্মের ভুল-ভ্রান্তি থেকে আল্লাহর নিকট ক্ষমতা প্রার্থনা করে, এমনকি সে যখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয় তখনও সে হেদায়াতের উপর অটল থাকে। মৃত্যুশর্যায় থাকাবস্খায় সে জান্নাতের সুসংবাদ পেতে থাকে। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হচ্ছে :
“নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ, অত:পর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফিরিশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশন্সুতি জান্নাতের সুসংবাদ শোন। ইহকালে ও পরকালে আরমা তোমাদের বন্ধু। যেখানে তোমাদের জন্যে আছে যা তোমাদের মন চায় এভং সেখানে তোমাদের জন্যে আছে যা তোমরা দাবি কর। এটা ক্ষমাশীল করুণাময়ের পক্ষ থেকে সাদর আপ্যায়ন।” (সূরা ফুচ্ছিলাত, ৩০-৩২)
এভাবে আল্লাহর বিশুদ্ধ বান্দারা যারা একনিষ্ঠভাবে তাদের আমল সম্পাদন করেন, লোকদেখানোপনা থেকে মুক্ত থাকেন, খ্যাতির মনোবাঞ্ছা পোষণ করেন না, তারাই যথার্থ বান্দা হওয়ার যোগ্য। এদের পরকালীন জীবন সম্পর্কে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন :
“এ পরকাল আমি তাদের জন্য নির্ধারণ করি, যারা দুনিয়ার বুকে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে ও অনর্থ সৃষ্টি করতে চায় না। মুত্তাকিদের জন্য শুভ পরিণাম।” (আল কাসাস, ৮৩)
সম্মানিত উপস্স্থিতি!
আমাদের উচিত সর্বদা ভালো পরিণতির জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা, আর অতীত জীবনের চেয়ে ভবিষ্যতের দিনগুলো যেন ভালভাবে অতিবাহিত করতে পারে সেজন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। সে যেন সর্বদা এ বলে প্রার্থনা করে যে, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের শেষ জীবনের দিনগুলো ভালভাবে পরিচালনা করার তাওফিক দিন, ঐ সময়ের আমলগুলো উত্তম করে দিন আর আপনার সাথে মিলিত হবার দিনগুলো ভাল করে দিন।

খাঁটি মুমিনগণ মৃত্যুপূর্ববর্তী দিনগুলোতে তাওবাহ করার সুযোগ পাওয়ার, কুপ্রবৃত্তি থেকে মুক্ত থাকার ব্যাপারে ভীত থাকেন, কেননা এতে তার জীবন উদ্দেশ্যহীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তারা মহান আল্লাহর বাণীর নিম্নোক্ত বাণীর মর্মার্থ বুঝতে পারেন। ইরশাদ হচ্ছে :
“তোমাদের উপর যেসব বিপদাপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গুণাহ ক্ষমা করে দেন।” (সূরা আশ-শু'রা, ৩০) আরও ইরশাদ হচ্ছে :
“আল্লাহ জুলুম করেন না মানুষের উপর, বরং মানুষ নিজেই নিজের উপর জুলুম করে।” (সূরা ইউনুস, ৪৪)

সবাই ভাল মৃত্যুর জন্য মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন, নিজেদের পরিপূর্ণ ইসলামে অন্তর্ভুক্ত থাকা অবস্খায় আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
সম্মানিত উপস্স্থিতি!
কাáিক্ষত মৃত্যুর জন্য আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে, তন্মধ্যে প্রকাশ্যে ও গোপনে সর্বদা আল্লাহকে ভয় করতে থাকা অন্যতম। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর নবী (সা·) ইরশাদ করেন :
“তোমরা যেখানে থাক আল্লাহকে ভয় করে চল।” মহান আল্লাহর বাণী এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য। ইরশাদ হচ্ছে :
“মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ তা'য়ালাকে ভয় হর। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত আগামী কালের জন্যে সে কি করে তা চিন্তা করা, আল্লাহর তায়ালাকে ভয় করতে থাক। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে খবর রাখেন। (সূরা আল-হাশর, ১৮)
তাকওয়ার প্রকৃতি সমপএর্ক মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন :
“মনে রেখো, যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের না কোন ভয়-ভীতি আছে, না তারা চিন্তানিবত হবে। যারা ঈমান এনেছে এবং ভয় করতে রয়েছে তাদের জন্যে সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে।” (সূরা ইউনুস, ৬২-৬৪) আরও ইরশাদ হচ্ছে :
“আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিüকৃতির পথ করে দেবেন।” (সূরা আত-তালাক, ২)

কাáিক্ষত মৃত্যুর জন্য আরও করণীয় হচ্ছে মুমিনের কাজ-কর্ম পূর্ণ ইখলাস তথা বিশুদ্ধঅন্তকরণে একমাত্র আল্লাহর জন্য তা নির্ধারণ করা। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে :
“যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরীক না করে।” (সূরা আল-কাহফ, ১১০)

তেমনিভাবে মুমিনরা সর্বদা হিদায়াত ও সিরাতুল মুস্তাকিম তথা ইসলামের বিধানের উপর অটল থাকবে, এ জন্য তারা মহান আল্লাহর নিকট ‘সিরাতুল মুস্তাকিমে' অটল থাকার জন্য দোয়া করবে। মহান আল্লাহ তা বান্দাদের শিখিয়ে দিয়েছেন এভাবে :
“আমাদেরকে সরল পথ দেখাও।” (সূরা আল-ফাতিহা, ৬) আল্লাহ তদীয় নবী ও মুমিনদের আরো নির্দেশ দিচ্ছেন :
“অতএব তুমি এবং তোমার সাথে যারা তাওবা করেছে সবাই সোজা পথে চলে যাও- যেমন তোমায় হুকুম দেয়া হয়েছে।” (সূরা হুদ, ১১২)

একদা জনৈক সাহাবী নবী করিম (সা·) কে অতি উত্তম কাজ যা তিনি আর কাউকে জিজ্ঞেস করবেন না বলে জানালে নবী (সা·) তাকে বললেন : “তুমি বল, আমি আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম ও তাতে দৃঢ় ও অটল থাকলাম।”
হে মুসলিম ভাইগণ!
সঠিকভাবে মৃত্যু ও তার পরবর্তী বিভিন্ন অবস্খা সম্পর্কে অবগত হউন ও তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করত নিজেদের ঠিকানা জান্নাত প্রাপ্তির জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা ব্যয় করুন ও জাহান্নাম থেকে বাঁচার শপথ নিন।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সজাগ থাকুন, তা হল মহান আল্লাহ যে আপনার প্রকাশ্য-গোপন সর্ববিষয়ে অবহিত তা ভালভাবে উপলব্ধি করত জীবন গঠতে থাকুন। তিনি ইরশাদ করেন :
“যে কোন অবস্খাতেই তুমি থাক এবং কোরআনের যে কোন অংশ থেকেই পাঠ কর কিংবা যে কোন কাজই তোমরা কর অথচ আমি তোমাদের নিকটে উপস্খিত থাকি যখন তোমরা তাতে আত্মনিয়োগ কর।” (সূরা ইউনুস, ৬১)
সর্বদা বেশি বেশি যিকর তথা আল্লাহর সôরণ ও তাঁর রহমত প্রত্যাশি থাকুন। তিনি তাঁর রহমত প্রত্যাশিদের বঞ্চিত করেন না। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে :
“অতএব যে দান করে এবং আল্লাহভীরু হয় এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে আমি তাকে সুখের বিষয়ের জন্যে সহজ পথ দান করব।” (সূরা আল-লাইল, ৫-৭)
মানুষ গোপনে যে সকল অন্যায় কাজ করে থাকে আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত। তাই সে সকল গর্হিত কাজ ত্যাগ করতে হবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে :
“তারা মানুষের কাছে লজ্জিত হয় এবং আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয় না। তিনি তাদের সাথে রয়েছেন, যখন তারা রাত্রে এমন বিষয়ে পরামর্শ করে, যাতে আল্লাহ সমôত নন। তারা যা কিছু করে, সবই আল্লাহর আয়ত্তাধীন।” (সূরা আন-নিসা, ১০৮)
কাংখিত মৃত্যুর জন্য আর যে বিষয়টি বেশি প্রয়োজন তা হল বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত, ইখলাস ও ইয়াক্কীনের সাথে ইসলামের ফরজ কার্যাবলী ভালবাবে সম্পাদন করা। মহান আল্লাহ বিশুদ্ধ আমলকারীদের আমল কখনো বিনষ্ট করেন না।

কাáিক্ষত ও ভাল মৃত্যুর কিছু নিদর্শন রয়েছে, তন্মধ্যে মৃত্যু পূববর্তী সময়গুলোতে ইসলামের পরিপূর্ণ আনুগত্যকারী থেকে ইখলাসের বাণীগুলো পাঠের তাওফিক পাওয়া। কেননা যে এ সুযোগ পেল সে বড় মর্যাদার অধিকারী হল। হাদীস শরীফে এসেছে :
“ যে ব্যক্তি দুনিয়া ত্যাগকালে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বাণী পাঠ করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
অপর হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি বিশুদ্ধ অন্তকরণে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠ করে মহান আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন।”
মৃত্যু ঘনিয়ে এলে ফিরিশতা আযরাঈল যখন তার জান কবয করতে আসে তখন আল্লাহ তায়ালা কামিল মুমিনদের কালিমা শাহাদাত পড়ার তাওফিক প্রদান করেন। সে কঠিন মুহূর্তে যাদের কালিমা পাঠের তাওফিক হয় তাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন। এটি এমন এক বাক্য যা তাকে চিরস্খায়ী জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম। মৃত্যুপথযাত্রীরা ঐ সময়ে বেশ দুর্বল অবস্খায় থাকে, ঐ সময় শয়তান তাকে বিভ্রান্ত করার সার্বিক প্রচেষ্টা চালায়। ঐ করুণ মুহূর্তে তাকে ঈমানহারা করার চক্রান্ত চারিয়ে থাকে। ইসলামের পথে জীবন পরিচালনাকারীদের জন্য সেসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া অধিক সহজতর। আল্লাহ তাদের হিফাযত করে থাকেন। আল্লাহ ইরশাদ করেন :
“আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না।” (সূরা আল-ওয়াক্কিয়াহ, ৮৫)
আল্লাহ প্রকৃত মুমিনদের সত্যের উপর অটল রাখেন। যেহেতু তারা আজীবন আল্লাহর পথে চলতে অভ্যস্ত হয়ে শুধুমাত্র তাঁরই পথে জীবব পরিচালনা করতেন। তাই তিনি তাদের করুণ মুহূর্তে তাওহীদের বাণী সôরণ করতে সাহায্য করে থাকেন ও আল্লাহর বিশেষ নিয়ামতে ধন্য হয়ে থাকেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে :
“আল্লাহ তা'য়ালা মুমিনদেরকে মজবুত বাক্য দ্বারা মজবুত করেন। পার্থিব জীবনে এবং পরকালে। এবং আল্লাহ জালিমদেরকে পথভ্রষ্ট করেন। আল্লাহ যা ইচ্ছা, তা করেন।” (সূরা ইব্রাহীম, ২৭)
সম্মানিত উপস্স্থিতি!
কাংখিত মৃত্যুর আরো একটি নিদর্শন হচ্ছে মৃত্যুর সময় তার কপাল ঘর্মাক্ত হয়। আর কিছু নিদর্শন রয়েছে যা শহীদি মৃত্যুর মর্যাদায় স্খান পায়, তন্মধ্যে রয়েছে প্লেগে, পানিতে ডুবে, কঠিন পেটের পীড়ায় মৃত্যু বরণ করা। এগুলো মুসলিমের ভাল মৃত্যুর নিদর্শন বলে বিবেচিত হয়।
ভালভাবে মৃত্যুবরণ করার জন্য মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করুন এবং অসৎ কৃতকর্মের দরুন ঐ সময়ে ঈমানহারা হবার ব্যাপারে সাবধান থাকুন। অনৈসলামী আকীদা মনে পোষণ, রিয়া বা লোকদেখানোপনা ও ঘুনাহের কারণে জীবনের শেষ মুহূর্তে মুমিনের ঈমানহারা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আল্লাহ আমাদের এ ধরণের বিপদ থেকে মুক্ত রাখুন।
এ কথাগুলো বলে আমি আমার নিজের, আপনাদের ও সমগ্র মুসলিম মিল্লাহর গুনাহ মাফের জন্য মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আপনারাও তার নিকট তাওবাহ করুন। তিনিই একমাত্র ক্ষমাকারী ও দয়াবান।
তারিখ : ৩০-০৩-১৪২৭ হিজরী
ভাষান্তরে : ড· ওয়ালি উল্লাহ, সহযোগী অধ্যাপক, দারুল ইহসান বিশববিদ্যালয়।

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

আলোর পথিক wrote:

শেয়ারের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।

অঃটঃ সুজয় ভাই ফোরামে ফিরে এসেছেন দেখে অনেক ভাল লাগল ।

আপনাদের কাছে এসে আমারও ভালো লাগছে ।

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিমের শান্তি কামনা করা হয়েছে। রোববার বেলা ১২টা ৫৬ মিনিটে মুনাজাত শুরু হয়। শেষ হয় ১টা ২২ মিনিটে। ২৪ মিনিট স্থায়ী এই মোনাজাতে দুহাত ঊর্ধ্বমুখী করে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেওয়া কয়েক লাখ মুসল্লি বারবার বলছিলেন, আমিন আমিন। মোনাজাতের সময় এই ধ্বনিতে পুরো টঙ্গী এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

আর মোনাজাত পরিচালনাকারী ভারতের মাওলানা জোবায়েরুল হাসান দোয়া করলেন বিশ্ব মুসলিমের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্যও দোয়া করা হলো। আর এই আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়েই শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব শুরু হবে আগামী ১৮ জানুয়ারি। শেষ হবে ২০ জানুয়ারি।

বিশ্বের ১০৭টি দেশের প্রায় ৪২ হাজার বিদেশি মেহমানসহ প্রায় কয়েক লাখ মানুষ এতে অংশ নেন। কয়েকটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি মোনাজাত সম্প্রচারের ফলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ পরোক্ষভাবে মোনাজাতে শরিক হতে পেরেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি মিশনের কর্মকতার্, বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদের সদস্য বর্গসহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ মোনাজাতে শরিক হন।

হেদায়াতি বয়ান
সকাল ৯টা থেকে মোনাজাতের আগে চলে হেদায়াতি বয়ান। হেদায়াতি বয়ান করেন ভারতের মাওলানা সা’দ। বয়ানে তিনি বলেন, আল্লাহর গজবের বড় স্থান হচ্ছে জাহান্নাম। তিনি আল্লাহর রাস্তায় (তাবলীগে) দাওয়াতি কাজে পায়ে হেটে মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ পায়ে হেটে বেশি মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া সম্ভব হবে। এতে পায়ে যে ধূলাবালি লাগবে তা জাহান্নামের আগুনকে ঠাণ্ডা করে দেয়।

তিনি তাবলিগের দাওয়াতি কাজে গিয়ে মানুষের কাছে ইহজগতের জন্য ছওয়াল করতে বারণ করে বলেন, যে জামাত ছওয়াল করে আল্লাহর সাহায্যের দরজা তাদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ছওয়াল করলে দিলে শয়তান স্থান পায়। দাওয়াতি কাজে সবচেয়ে বড় কাজ হলো নিজের নিয়তকে সহি করা এবং অন্যের কাছে ছওয়াল না করা।

বয়ানের তাৎক্ষণিক অনুবাদ :

বিশ্ব ইজতেমায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তাবলিগ মারকাজের ১৫-২০জন শুরা সদস্য ও বুজর্গ বয়ান পেশ করবেন। মূল বয়ান উর্দূতে হলেও বাংলা, ইংরেজি, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ হচ্ছে। বিদেশি মেহমানদের জন্য মূল বয়ান মঞ্চের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বপাশে হোগলা পাটিতে বসেন। বিভিন্ন ভাষাভাষি মুসল্লিরা আলাদা আলাদা বসেন এবং তাদের মধ্যে একজন মুরুব্বি মূল বয়ানকে তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শোনান।

১১ মুসল্লির জানাজা
শীত ও অন্যান্য রোগে ইজতেমা ময়দানে গত তিন দিনে ১১জন মুসল্লি মারা গেছেন। এদের মধ্যে একজন ভারতীয় মুসল্লি রয়েছেন,তার নাম, রফিক উদ্দিন(৭০)। এছাড়া- কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার পষা গ্রামের আব্দুল হামিদ (৭৫) ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার ঘরদুয়ারা গ্রামের আব্দুল মোতালেব (৬০)। মোঃ ফজলুল হক মোল্লা(৬৫) নামে আরেক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তার পিতা নাম সাব্বির আলী গ্রাম কয়রা থানা আলফাডাঙ্গা জেলা চূয়াডাঙ্গা। শনিবার সকাল ৬টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইজতেমা ময়দানে সামসুল হক(৬০) নামে আরও এক মুসল্লির মৃত্যু হয়। তিনি নরসিংদীর রায়পুরা থানার রামবড়চর এলাকার বাসিন্দা।

রোববার সকালে টঙ্গী হাসপাতালে সুরত আলী খান (৭৫) এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। এছাড়া, চান মিয়া(৬০),জামাল উদ্দিন শেখ(৬৫)খলিলুর রহমান(৮০) আলাউদ্দিন শেখ(৪৬)আবুল খায়েরের(৪৬)মারা যাওয়ার বিষয়টি ইজতেমা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে এবারের ইজতেমায় এ পর্যন্ত ১১জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রীর অংশ গ্রহণ
অন্যদের মধ্যে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসল্লিদের যাতায়তের সুবিধার্থে যানজট এড়াতে গণভবনে বসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া এটলাস হোন্ডা কারখানা ভবনে বিশেষ মঞ্চে মুনাজাতে অংশ নিতে উপস্থিত হন ১১টা ২৫ মিনিটে।

আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে রোববার ভোর থেকেই টঙ্গীর ইজতেমা অভিমুখে শুরু হয় মানুষের ঢল। টঙ্গীর পথে শনিবার মধ্যরাত থেকেই ঢাকা-ময়মনসিং মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মোনাজাতে অংশ নিতে চার দিক থেকে লাখ লাখ মুসল্লি পায়ে হেঁটেই ইজতেমাস্থলে পৌঁছেন।

সকাল ১০টার আগেই ইজতেমা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে মুসুল্লিরা মাঠের আশে-পাশের রাস্তা, অলি-গলিতে অবস্থান নেন। ইজতেমা স্থলে পোঁছুতে না পেরে কয়েক লাখ মানুষ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মোনাজাতের জন্য পুরনো খবরের কাগজ, পাটি, সিমেন্টের বস্তা ও পলিথিন বিছিয়ে বসে পড়েন।

এছাড়াও পাশ্ববর্তী বাসা-বাড়ি-কলকারখানা-অফিস-দোকানের ছাদে, যানবাহনের ছাদে ও তুরাগ নদীতে নৌকায় মুসুল্লিরা অবস্থান নেন। যে দিকেই চোখ যায় সেদিকেই দেখা যায় শুধু টুপি-পাঞ্জাবি পড়া মানুষ । সবাই অপেক্ষায় আছেন কখন শুরু হবে সেই কাক্সিক্ষত আখেরি মোনাজাত। ইজতেমা স্থলের চারপাশের ৩-৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোথাও তিল ধারণের জায়গা ছিল না। আখেরি মোনাজাতের জন্য রোববার আশে-পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানাসহ বিভিন্ন অফিস-আদালতে ছিল ছুটি। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা না করলেও কর্মকর্তাদের মোনাজাতে অংশ নিতে বাধা ছিল না। নানা বয়সী ও পেশার মানুষ এমনকি মহিলারাও ভিড় ঠেলে মোনাজাতে অংশ নিতে রোববার সকালেই টঙ্গী এলাকায় পৌঁছেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিভিন্ন ভাবে প্রায় ১২ হাজারের মত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। ইজতেমাস্থলে নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে বেশ সুউচ্চ ক’টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বসানো হয়। র্যাব সদস্যরা ওইসব টাওয়ার থেকে ইজতেমাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন। আকাশে হেলিকপ্টারে ও তুরাগ নদীতে স্পিড বোটের টহলের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া মুসুল্লিবেশে গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে ও খিত্তার মুসল্লীদের মাঝে অবস্থান করছেন।

এছাড়া মাঠের প্রবেশ পথে ও আশে-পাশের এলাকায় ছিল পুলিশ, র্যাব ও সাদা পোশাকধারী পুলিশসহ গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা কড়া নজরদারি। প্রতিটি গেট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ও ভিডিও ক্যামেরা বসানো হয়। মাঠের উত্তরপাশে স্থাপিত র্যাবের কন্ট্রোলরুম থেকে এসব ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়। র্যাব ছাড়াও পুলিশ ও জেলা প্রশাসন এবং টঙ্গী পৌরসভার উদ্যোগে ইজতেমা এলাকায় পৃথক কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়। মাঠে প্রবেশকালেও মুসল্লিদের (সন্দেহভাজনদের) মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত:

১৪ টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৪ ঘণ্টা ইজতেমা ময়দানে কাজ করছে। বিশ্ব ইজতেমায় বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫৩টি মামলা করে ২লাখ ২৫ হাজার টাকার মত জরিমানা আদায় করেন।

স্বাস্থ্য সেবা
ইজতেমা ময়দানে ৪৪টি ফ্রি মেডিক্যাল টিম স্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নির্মিত ৮টি পল্টুন ব্রিজ প্রতিবারের ন্যায় নির্মিত হয়েছে। অতিরিক্ত ৪টি ট্রান্সফরমার,৩টি ফিডার ও ৫টি শক্তিশালী জেনারেটর ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের সুবিধার জন্য স্থাপন করা হয়। ঢাকা ওয়াসার পাশাপাশি ১২টি গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানি সরবরাহের জন্য ১৩ কিঃ মিঃ পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। ইজতেমা ময়দানে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ৪ হাজার ১৩৮ জন কে জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগের ইজতেমা বিভাগের সম্বনয়ক সাকিল হোসেন।

এদিকে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোট ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়ে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) ইসমাইল হোসেন।

৪২হাজার বিদেশি মুসল্লি
ইজতেমায় মিসর, ওমান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব-আমিরাত, কাতার, অস্ট্রেলিয়া, ব্রনাই, কানাডা, কম্বোডিয়া, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, ইরান, জাপান, মাদাগাস্কার, মালি, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া, পানামা, সেনাগাল, দঃ আফ্রিকা, তাঞ্জেনিয়া, ত্রিনিদাদ, রাশিয়া, আমেরিকা, জিম্বাবুই, বেলজিয়াম, ক্যামারুন, চীন, কমোরেস, ফিজি, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, ইটালি, কেনিয়া, মালয়শিয়া, মায়ানমার, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, সুইডেন, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, জাম্বিয়া, কোরিয়া, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিন, কুয়েত, মরক্কো, কাতার, সোমালিয়া, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, ইয়েমেন, পাকিস্তান, বাহরাইন, ইরিত্রিয়া, জর্দান, মৌরিতানিয়া, ভারত, সুদান, দুবাইসহ বিশ্বের ১০৭টি রাষ্ট্রের ৪২ হাজার মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন ভাষা-ভাষী ও মহাদেশ অনুসারে ইজতেমা ময়দানে বিদেশি মেহমানদের জন্য মোট ৩টি ট্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়।

মুসল্লিদের অবস্থান
প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ইজতেমা মাঠে অবস্থান করেন। ১ম পর্বে ৩২ জেলার মুসল্লিরা জেলাওয়ারী মাঠের ৪০টি খিত্তায় অবস্থান করেন। জেলা গুলো হলো, ১ ও ২ নম্বর খিত্তায় গাজীপুর জেলা, ৩ থেকে ১২ নম্বর খিত্তায় ঢাকা জেলা, ১৩ নম্বর খিত্তায় সিরাজগঞ্জ জেলা, ১৪ নম্বর খিত্তায়- নরসিংদী জেলা, ১৫ নম্বর খিত্তায় ফরিদপুর, ১৬ নম্বর খিত্তায় রাজবাড়ি, ১৭ নম্বর খিত্তায়- শরিয়তপুর, ১৮ নম্বর খিত্তায় কিশোরগঞ্জ, ১৯ নম্বর খিত্তায় রংপুর, ২০ নম্বর খিত্তায় নাটোর, ২১ নম্বর খিত্তায়- শেরপুর, ২২ নম্বর খিত্তায় রাজশাহী, ২৩ নম্বর খিত্তায় গাইবান্ধা, ২৪ নম্বর খিত্তায় জয়পুরহাট, ২৫ নম্বর খিত্তায় লালমনিরহাট, ২৬ নম্বর খিত্তায় হবিগঞ্জ, ২৭ নম্বর খিত্তায় দিনাজপুর, ২৮ নম্বর খিত্তায় সিলেট, ২৯ নম্বর খিত্তায় চাঁদপুর, ৩০ নম্বর খিত্তায় ফেনী, ৩১ নম্বর খিত্তায় চট্টগ্রাম, ৩২ নম্বর খিত্তায়- বান্দরবন, খাড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি, ৩৩ নম্বর খিত্তায় বাগেরহাট, ৩৪ নম্বর খিত্তায় কুষ্টিয়া, ৩৫ নম্বর খিত্তায় নড়াইল, ৩৬ নম্বর খিত্তায় চুয়াডাঙ্গা, ৩৭ নম্বর খিত্তায় যশোর, ৩৮ নম্বর খিত্তায় ভোলা, ৩৯ নম্বর খিত্তায়- বরগুনা এবং ৪০ নম্বর খিত্তায়-ঝালকাঠি জেলার মুসুল্লিরা অবস্থান নেবেন।

অন্যান্য সেবা
ইজতেমাস্থলে সাবক্ষণিক পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ওয়াপদা, ওয়াসা ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বেশ ক’টি জেনারেটর স্থাপন করে। ইজতেমা চলাকালে মুসল্লিদের অজু, গোসল, রান্না-বান্না টয়লেটের কাজের জন্য বেশ ক’টি পাম্পের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পানি সরবরাহের পাশাপাশি ট্যাঙ্কার ও ট্রলির মাধ্যমে এবং তুরাগ নদীর পশ্চিম পাড়ে স্থাপিত পানি বিশুদ্ধকরণ প¬্যান্ট ট্যাঙ্কারের মাধমে প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও প্যান্ডেল (সামিয়ানা) এবং এর আশে-পাশে স্থাপিত হয়েছে ১২টি গভীর নলকূপ।

হেলিকপ্টার টহল
শুক্রবার থেকে শুরু হয় র্যাবের হেলিকপ্টার টহল। কিছু সময় পর পর ১টি হেলিকপ্টারকে পুরো ইজতেমাস্থল ও এর আশে-পাশের এলাকায় চক্কর দিতে দেখা গেছে।এটি রোববার পর্যন্ত দেখা গেছে। র্যাবের উপ-পরিচালক লেঃ কঃ রাশেদুল আলম জানান, তুরাগ নদীতে নৌ-টহল। আর আকাশ পথে হেলিকপ্টার টহল দেওয়া হচ্ছে।

ইজতেমাকে কেন্দ্র করে ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা ইজতেমা মাঠের আশে-পাশে অস্থায়ী হোটেল, কাঁচা বাজার, নানা ধরনের কাপড় ও রকমারি পণ্য সামগ্রীর বাজার বসিয়েছে। এছাড়াও টঙ্গীর আশে-পাশের মার্কেটের বিভিন্ন স্থায়ী হোটেল ও দোকানে চলছে জমজমাট ব্যবসা। এসব হোটেল ও বাজারে খাদ্য মান ও দ্রব্য মূল্য যাচাইয়ে বেশ ক’টি ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করছে।

হোগলা পাটির বাজার- বছরের অন্য সময় হোগলার চাটাইয়ের তেমন কদর না থাকলেও ইজতেমা উপলক্ষে এর দাম বেড়ে যায়। ইজতেমার বাজার ধরতে ব্যবসায়ীরা ১-২মাস আগে থেকে হোগলা পাতা সংগ্রহ চাটাই বুননের কাজ শুরু করেন। ইজতেমায় বিক্রির জন্য নোয়াখালীর নাছির ডুগী এলাকা থেকে ৫শ’ হোগলার চাটাই নিয়ে এসেছেন আ. মতিন নামের এক ব্যবসায়ী। ছোট থেকে বড় সাইজের চাটাই তিনি ৩০ থেকে ৮০টাকা বিক্রি করছেন। অন্য সময় তা অর্ধেক দামেও বিক্রি হয় না।

অস্থায়ী বাজার- মন্নু কারখানার দক্ষিণে ও আশরাফ স্কুলের পশ্চিম পাশে খোলা জায়গায় বসেছে নানা পণ্যের অস্থায়ী বাজার। এখানে কম্বল, স্যান্ডেল, পাজমা-পাঞ্জাবি, হাড়ি-পাতিল, চুলা, কাঁচা বাজারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ সব বাজারে বেশি দরে পণ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তারপরও প্রয়োজনের তাগিদেই দেশি-বিদেশি মুসল্লি তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে এসব বাজারে ভিড় করছেন। আফ্রিকা থেকে আসা তিন মুসল্লি ওমর, ইসা ও মিসের আলী শুক্রবার ওই বাজারে গেলেন স্যান্ডেল কিনতে। কিন্তু দোকানী তাদের কাছ থেকে ৮০-১০০টাকার প্লাস্টিকের স্যান্ডেলের দাম রেখেছেন ১৪০ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যবসায়ী জানান, তাদের জায়গা ভাড়া নিতে হয়েছে চড়া মূল্যে। ১০বর্গহাত আকারের একটি দোকানের ভিট ১০দিনের জন্য ৩০হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছেন।

মোবাইল মোনাজাত
ইজতেমা স্থলে যেতে পরিবহন সংকট ও ভিড় এড়াতে গাজীপুরের কয়েকটি স্থানে এলাকাবাসী মোবাইল ফোনে মোনাজাতে অংশ নেয় বলে জানা গেছে। ইজতেমার মূল মাঠ থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে গাজীপুর সদরের চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাহ ময়দানে কয়েক হাজার মুসল্লি জমায়েত হন। পরে তারা মোবাইল ফোন ও পুলিশের ওয়াকিটকির মাধ্যমে ইজতেমা স্থলে যোগাযোগ রক্ষা করে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে শরিক হয়েছেন। একই ভাবে জেলার ভোগড়া, বাসন সড়ক ও শিমুলতলী এলাকায় মোবাইল মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো নোটিশ বোর্ড)

রেডিও আলোর নিশান বন্ধ কেন ?

(৬ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

নারে ভাই ,আমি ঝামেলার লোক না । আপনার সাথে ফোনে কথা হবে ।

১০

(৬ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

ভাইরে দোকানটা আমার না বুঝছেন ? আর আপনি যা চাইছেন দোকানের লোক সেটা আমাকে দিবে কেন ? এখানে যদি 5 লক্ষ টাকার কথা হতো তাহলে না হয় এসব জোগাড় করতাম ।

১১

(৬ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

কি ধরনের প্রমান চান ? আর টপিকটি কাটবেন না আশা করি ।

১২

(৫ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো নোটিশ বোর্ড)

কাছের কিছূ মানুষকে বর্ষসেরা দেখে ভালো লাগলো ।

১৩

(৬ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

আমি সুজয় একসময় আমি ফোরামের একটি গুরুত্বপূর্ন দ্বায়িত্বে ছিলাম । এবং সেই দ্বায়িত্ব আমি কেমন পালন করেছি তা ফোরামের সবাই জানে । একসময় আমি একটি কাজ হাতে নিয়েছিলাম । এবং সেই কাজের জন্য একটি ফান্ড করার চিন্তা করেছিলাম । কিন্তু আমার কিছু ব্যাক্তিগত কারণে আমি তা করতে পারিনি । সেই সাথে আমাকে একজন কিছূ টাকাও দিয়ে ছিলেন । আমি কাজও শুরু করি এরপর । কিন্তু হঠাত করেই একদিন দেখি ফেসবুকে আমার বিরুদ্বে টাকা আত্বসাতের একটি পোষ্ট । আমার মাথায় আর কিছু ঢুকল না এই পোষ্টটি দেখে । তখন আমি তৎক্ষনাত যে পোষ্ট করেছে তার সাথে যোগাযোগ করি । সে আমাকে নানা ভাবে ব্রেইম করার চেষ্টা করে । যাই হোক পরে আমি তাকে সেই টাকা বিকাশ ও করি । কিন্তু বিকাশ এর এজেন্টের সাথে উনার কি হয়েছে তা আমি জানি না । আর সেটা আমার না জানারই কথা । যাই হোক আমি ফোরামে প্রথমে থেকেই আছি । সামনেও থাকার ইচ্ছা আছে । কারণ আমি আলোর নিশানকে কতটা গুরুত্ব দেই তা আমিই জানি । সবাই ভালো থাকবেন । আর আমার বিরুদ্বে সকল আনিত অভিযোগ ফোরাম তুলে নেবে সেটাই আশা করছি ।

১৪

(১৭ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো নোটিশ বোর্ড)

শামসুদ্দীন wrote:

আসসালামুআলাইকুম!ভাইজান যার প্রভাসে আছে তার ম্যাগাজিনটি পড়ার কোন ব্যবস্তা রাখবেন কি?

  । ভাই ম্যাগাজিনটি অনলাইনেও প্রকাশ করা হবে ।

১৫

(১৭ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো নোটিশ বোর্ড)

সবাই কেমন আছেন ? আমাদের ম্যাগাজিনের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে । অলরেডি লেখা সিলেক্ট করা হয়ে গেছে । এখন কথা হলো আমাদের বাজেট সীমিত থাকার কারণে কম্পোজ নিজেদেরই করতে হবে । যারা সোটনি এম.জে ফ্রন্টে লেখা কম্পোজ করে আমাকে মেইল করবেন তাদের লেখা গুরুত্ব পাবে একটু বেশী । তা না হলে এই ফ্রন্টেই ম্যাগাজিন করা হবে । আর ম্যাগাজিনে সাইজ এবারের মত একটু ছোট করা হচ্ছে । তাছাড়া আপনাদের সবার কাছে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা চাচ্ছি । যারা সহযোগিতা করতে চান তারা আমাকে ফোন দিতে পারেন ০১৮২৯২৯৬৮৭৮ আশা করছি এমাসের শেষেই আপনারা ম্যাগাজিন হাতে পাবেন ।

১৬

(১৭ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো নোটিশ বোর্ড)

আবুল বাশার আল কলি wrote:

আমি সামাজিক কিছু ইস্যু নিয়ে খুব ব্যস্ত দেখি কিছু উল্লেখ করতে পারি কি-না!

  আপানার ফোন বন্ধকেন ভাই ?

ইয়াছিন বাংলাদেশি wrote:

ভাই সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ফোন দিয়েছিলাম । কিন্তু নাম্বারতো বন্ধ !


ভাই সন্ধায় একবার ফোন দিয়েন আমার ফোনটা ব্যাক্তিগত একটা কারণে আপাতত বন্ধ ।

১৭

(১৭ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো নোটিশ বোর্ড)

আমি দেখতেছি , কিন্তু জাবেদ ভাইরে করা নজর দরকার । আর ইয়াছিন ভাই আমাকে একটা ফোন দিবেন আপনার নাম্বারটা হারাইয়া ফেলছি । আপনার সাথে জরুরি কথা আছে । ০১৮২৯২৯৬৮৭৮

১৮

(১৭ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো নোটিশ বোর্ড)

ইয়াছিন বাংলাদেশি wrote:

ভাই আমি সাথে আছি এগিয়ে যান । আর নিয়্যত ভাল হলে আল্লাহও নিশ্চয় আমাদের সাথে থাকবেন । তবে যদি কখনো স্যেলের ব্যাপারে চিন্তা করেন , তাহলে জানাবেন । আমি এক্ষেত্রে যথেষ্ঠ সহায়তা করতে পারব বলে আশা রাখি । জানেনইতো আমি মার্কেটিং ডিপার্টম্যান্টে পড়ছি ! কিন্তু চেষ্টা করবেন যেন , প্রথম সংখ্যাটি এট্রাক্টিভ ধরণের কিছু একটা হয় । তাহলে এটা গুড উইল তৈরিতে এবং জনপ্রিয়তা বাড়াতে ব্যপক কাজে দিবে ।

  আপনার পরামর্শ আমাদের সবসময়ই কাজে দিবে । এছাড়া আপনার কোন লেখাগুলো ছাপাব তার একটা লিষ্ট দেন । তবে লক্ষ্য রাখবেন লিষ্ট যেন অবশ্যই ছোট হয় । তারাতরি পাঠিয়ে দিন । আমি শীনবার থেকে কাজ শুরু করবো ।

১৯

(১৭ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো নোটিশ বোর্ড)

ইয়াছিন বাংলাদেশি wrote:

চরম খবরতো ! ভাই এটা কি প্রতি মাসে বের হবে ? আর মূল্য কত হবে ? আসলে আমি চেষ্টা করলে কিছু কপি স্যেল করতে পারব । তাছাড়া কি কি ধরণের লেখা ছাপানো হবে ? জানালে কৃতজ্ঞ হতাম ।

  ভাই এটা তিনমাস পরপর বের হবে । আপাতত এটা বিক্রির চিন্তা মাথায় নেই , প্রথম কপিটি সবার জন্য ফ্রি দেওয়া হবে । আর যে লেখাগুলো ছাপানো হবে তা এই ফোরাম থেকেই নেওয়া হবে এছাড়া ইসলামিক যে কোন লেখা মেইল করলে তা প্রকাশযোগ্য হতে কা ছাপানো হবে  । কিন্তু আপনাদের সবার সহযোগিতা এখান্ত কাম্য ।

২০

(১৭ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো নোটিশ বোর্ড)

আলোর নিশান ২০১২ ম্যাগাজিন এই মাসের শেষ সপ্তাহে বের হচ্ছে । আপনারা যারা লেখাজমা দিতে চান তারা লেখা পাঠিয়ে দিন sozay007@gmail.com আর যাদের লেখা এই ফোরামে টপিক হিসেবে আগেই পোষ্ট করেছেন তারা এই টপিকেই লিংক পোষ্ট করুন । আপনাদের সবার কাছে ম্যাগাজিনের কপি কুরিয়ার করা হবে ।

২১

(১৭৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

ফোরামের সকল আজাইরা পাবলিককে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা ।

২২

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

সবাই কেমন আছেন ? আশাকরি সবাই অনেক অনেক ভালো আছেন । আজ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর । মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে খুশির একটি দিন । আর এই খুশির দিনে সবাইকে আলোর নিশানের সকল এডমিন ও মডারেটরদের পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক । তবে আশা থাকবে শরীয়ার মধ্যে থেকে আনন্দ করুন ।

২৩

(৪ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো পরিচিত হোন)

আপনাকে স্বাগতম । আশাকরি নিয়মিত হবেন আমাদের সাথে ।

২৪

(৫ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো পরিচিত হোন)

স্বাগতম রুবেল ভাই । সবাইকে বলে রাখি , রুবেল ভাই আমার কাছের একজন মানুষ ।

২৫

(৯ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

হুম ভালো হয় ।