(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো হৃদয় গলে সিরিজ [আলোচনা ও মতামত])

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা-১
সৌজন্যে : হৃদয় গলে সিরিজ

প্রশ্নাবলী
১. ‘আল্লাহু আকবার‘ রয়েছে কোন্ কোন‌্ দেশের জাতীয় পতাকায়?
২. নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন্ নরাধমকে নিজ হাতে হত্যা করেছিলেন?
৩. ‘বাংলাদেশ’ কোন্ লিঙ্গ এবং কেনো?
৪. ‘সাগরকন্যা‘ কোন্‌ জেলার উপাধি?
৫. ‌‌‌‌‌‘বাদশাহ ফয়সাল ফাউন্ডেশন‘ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং আরব দেশে নোবেল পুরস্কার খ্যাত “বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার” প্রথম কত সালে প্রদান করা হয়?
৬. ‘তোমার পরনের পাঞ্জাবীটা খুব সুন্দর!‘--- এর ইংরেজি কী হবে?
৭. কোনো বস্তুকে হাত দ্বারা স্পর্শ করলে গরম বা ঠাণ্ডা অনুভূত হয় কেন?
৮. কোন্ শব্দটি অশুদ্ধ?
ক. অনুগত
খ. বাধ্যগত
গ. সান্ত্বনা
ঘ. ব্যথা।
৯. পাঁচটি ৩ দ্বারা কিভাবে ১৭ হয়?
১০. “হৃদয় গলে সিরিজ” সম্পর্কে কিছু লিখুন।

নিয়মাবলী
১. এই প্রতিযোগিতায় হৃদয় গলে সিরিজের পেইজ-এডমিনগণ ব্যতীত অন্য যে কেউ অংশ গ্রহণ করতে পারবে।

২. ১০টি প্রশ্ন থেকে যে কোনো ৭টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। [১০নং প্রশ্নের উত্তর আবশ্যক]

৩. আগামী ৩০.১০.২০১৪ইং রাত ১২টার মধ্যে হৃদয় গলে সিরিজের পেইজ অর্থাৎ www.facebook.com/ridoygoleseries এই লিংকের ইনবক্সে উত্তর পাঠাতে হবে।

৪. বিজয়ী ১০জনকে সর্বমোট ২০০০টাকার বই পুরস্কার দেওয়া হবে। প্রথম ৩জনকে যথাক্রমে ৬০০, ৪০০ ও ৩০০ টাকার এবং বাকি ৭জনের প্রত্যেককে ১০০ টাকার [হৃদয় গলে সিরিজের] বই প্রদান করা হবে।

৫. ডাক কিংবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পুরস্কার পাঠানো হবে। এর আগে বিজয়ীদের ইনবক্সে বিজয়-সংবাদসহ অভিনন্দনবার্তা পাঠানো হবে। সেইসঙ্গে তাদের সাথে যোগাযোগ করে পূর্ণ ঠিকানা জেনে নেওয়া হবে। [উল্লেখ্য যে, পূর্ণ নাম-ঠিকানা, ইমেইল এড্রেস ইত্যাদি জানাতে যাদের কোনো আপত্তি নেই তারা উত্তরের নিচে তা দিয়ে দিলে ভালো হয়। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রা করা হবে]

৬. উত্তর যাচাই-বাছাই করে আগামী ০৩-১১-২০১৪ইং রোজ সোমবার রাত ৯টায় বিজয়ী এবং সঠিক উত্তরদাতা সকলের নাম [অর্থাৎ ফেসবুক আইডি] হৃদয় গলে সিরিজের পাতায় প্রকাশ করা হবে।

৭. অনুর্ধ্ব ১৫০ শব্দে হৃদয় গলে সিরিজ সম্পর্কে লিখতে হবে। আর এর মাধ্যমেই বিজয়ীদের স্থান নির্ধারণ করা হবে।

৮. উত্তর যেকোনো ভাষায় গ্রহণযোগ্য হবে। যাদের মোবাইলে বাংলা অপশন নেই তারা বাংলিশে লিখবেন অথবা নিচের লিংকটির সহযোগিতা নিয়ে বাংলায় লিখবেন-
www.amarlekha.tk

৯. ১০নং প্রশ্নের উত্তরে যা লেখা হবে তা গঠনমূলক ও সুন্দর হলে সিরিজের পরবর্তী বইগুলোর মতামত বিভাগে ছাপিয়ে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। উল্লেখ্য যে, ১০নং প্রশ্নের উত্তরের জন্য নিচের লিংক দুটি থেকে সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে-
http://alor-nishan.com/viewtopic.php?id=1059
http://redoygoleseris.blogspot.com/

***বিশেষ দ্রষ্টব্য : কুইজ সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যায়------
www.facebook.com/subhe193

ব্যবস্থাপনায় : হৃদয় গলে সিরিজ : আন্তর্জাতিক পাঠক ফোরাম

দয়া করে পোস্টটি যে যেখানে পারুন, শেয়ার করুন।

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো যে গল্পে হৃদয় গলে)

হযরত আলী ইবনে হাসান রহ. বলেন, আমাদের এলাকায় একটি ছেলে ছিল। সে রাজমিস্ত্রির কাজ করত। একদিন তার পেটব্যথা শুরু হলো। প্রচণ্ড ব্যথা। যন্ত্রণায় ছটফট করছিল সে। মাঝে মধ্যে মুখ বিকৃত করে ফেলছিল। সেইসাথে চিৎকার করে কাঁদছিল ও।
ছেলেটির করুণ অবস্থা দেখে সকলের মনেই দয়ার উদ্রেক হলো। 
বেশকিছু সময় পর পেটব্যথা কিছুটা কমল। সে একটু শান্ত হলো। সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। কিন্তু এ অবস্থা বেশিণ স্থায়ী হলো না। আবার শুরু হলো অসহনীয় ব্যথা। মনে হচ্ছিল, কেউ বুঝি তার পেটের ভেতর শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করছে।
খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিল ছেলেটি। পরিবারের লোকেরা বিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে বারবার চিকিৎসা করাল। কবিরাজী চিকিৎসাও চলল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না।
এক পর্যায়ে সবাই ছেলেটির জীবনের আশা ছেড়ে দিল। ছেলেটিও শয্যায় শায়িত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুণতে লাগল।
একদিন এলাকায় একজন নতুন ডাক্তার এলেন। তিনি ছেলেটির বাড়ির পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পরিবারের লোকেরা ডাক্তারের পরিচয় পেয়ে ছেলেটির অবস্থা তার কাছে বর্ণনা করল। তিনি ছেলেটির বাড়িতে গেলেন। ছেলেটিকে দেখলেন। সেইসাথে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সবকিছু সবিস্তার জানতে চাইলেন।
ছেলেটির কথা বলতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল। তারপরও সে ধীরে ধীরে বলে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে সে বলল, আমি একটি বাগানে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছু গবাদি পশু বাঁধা ছিল। বাগানের চারপাশে ডালিম গাছ ছিল। গাছের নিচে কিছু ডালিম পড়ে ছিল। আমি সেখান থেকে কয়েকটি ডালিম কুঁড়িয়ে খেয়েছিলাম।
ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন, ডালিমগুলো তুমি কীভাবে খেয়েছিলে?
ছেলেটি বলল, দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খোসা ছাড়াচ্ছিলাম। খোসা ছাড়ানোর পর টুকরোগুলো ভেঙ্গে মুখে পুরে দিয়েছিলাম।
ডাক্তার বললেন, খোসা ছাড়ানোর পূর্বে তুমি কি এগুলো পরিস্কার পানি দিয়ে ধৌত করোনি?
ছেলেটি বলল, না, ধৌত করিনি।
ডাক্তার মাথা ঝুঁকালেন। মনে হলো, তিনি যেন রোগের কারণ ধরতে পেরেছেন।
খানিক পর তিনি বললেন, তোমার চিকিৎসা আজ নয়, কাল করব, ইনশাআল্লাহ।
ডাক্তার নিজ বাসায় চলে গেলেন। পরদিন সকালে কিছু গোশত ভুনা করলেন। তারপর পাত্রভর্তি ভুনাগোশত নিয়ে ছেলেটির বাড়িতে হাজির হলেন।
ছেলেটি তখন শোয়া অবস্থায় ছিল। তিনি ছেলেটিকে বললেন, বাবা! এগুলো খেয়ে নাও।
ছেলেটি বলল, এগুলো কিসের গোশত?
ডাক্তার বললেন, আগে খেয়ে নাও, তারপর বলছি।
ছেলেটি তৃপ্তি সহকারে ভুনা গোশত খেল।
খাওয়া শেষে ডাক্তার বললেন, খুব মজা হয়েছে, তাই না! বলো তো এগুলো কিসের গোশত?
ছেলেটি বলল, ঠিক ধরতে পারছি না, আপনিই বলুন।
ডাক্তার বললেন, এগুলো ছিল কুকুরের গোশত!
একথা শোনামাত্র ঘৃণায় ছেলেটির চোখ-মুখ কুঁচকে উঠল। বমি করল সে। যা খেয়েছিল তার সবই বেরিয়ে পড়ল।
ছেলেটি বমি করবেÑ ডাক্তার বোধ হয় এ অপোয়ই ছিলেন!
বমি করার সাথে সাথে তিনি বমির দিকে মনোযোগী হলেন। সতর্কদৃষ্টি ফেলে বমি পরখ করতে লাগলেন।
ডাক্তারের মুখে হাসি ফুটে উঠল। তিনি দেখলেন, বমির ভেতর খেজুরের বিচির মতো কিছু পোকা নড়াচড়া করছে।
এবার তিনি ছেলেটির দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, বাবা! তোমার আর কোনো চিন্তা নেই। তুমি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছ। তোমার পেটের ভেতর থেকে তিকর জীবাণু বেরিয়ে গেছে।
এরপর ছেলেটিকে তিনি একটি ওষুধ খেতে দিলেন। ওষুধটি খাওয়ার সাথে সাথে তার বমি বন্ধ হয়ে গেল।
বিদায়ের পূর্বে তিনি পোকাগুলোর দিকে ইশারা করে বললেন, এগুলোর নাম চিচড়া, যা সাধারণত গরুর শরীরে থাকে। তুমি যেখান থেকে ডালিম কুঁড়িয়ে খেয়েছিলে, সেখানে কিছু পোকা ছিল। কিছু পোকা ডালিমের সাথে লেগে ছিল। কিন্তু খোসা ছাড়িয়ে খাওয়ার সময় তুমি তা ল্য করনি। ফলে এসব পোকা তোমার পেটে চালান হয়ে গিয়েছিল।
পোকাগুলো তোমার নাড়ী কামড়াতো। আর তাতেই তুমি ব্যথায় অসহ্য হয়ে পড়তে। পোকাগুলোর প্রিয় খাদ্য কুকুরের গোশত। আমি যখন তোমাকে কুকুরের গোশত এনে দিলাম, আর তুমি তা গলধঃকরণ করলে; পোকাগুলো তখন সেগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। আর ঠিক তখনই কুকুরের গোশত খেয়েছ শুনে তুমি বমি করলে। ফলে বমির সাথে সবগুলো পোকাও বেরিয়ে পড়ল। অতএব তুমি এখন পূর্ণ সুস্থ।
প্রিয় পাঠক-পাঠিকা! দেখলেন তো, ফল ধুয়ে না খাওয়ার মারাত্মক পরিণতি। তাই আসুন, আজ থেকে আমরা প্রতিজ্ঞা করি, কোনো ফলই না ধুয়ে খাব না।
আরেকটি কথা। বর্তমানে প্রায় সব ফলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা ফরমালিন মিশিয়ে থাকেন, যা মানবশরীরের জন্য অত্যন্ত তিকর ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ফল শুধু ধৌত করলেই চলবে না, ফরমালিনও মুক্ত করতে হবে।
যে কোনো ফল ফরমালিন মুক্ত করার জন্য হালকা গরম লবণ মিশ্রিত পানিতে ১০মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। তাতে ১০০% ফরমালিন মুক্ত হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ।  [কিতাবুল আযকিয়া : ইমাম জাওযী রহ. # প্রতিভার গল্প, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ৯৮]

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো উপন্যাস)

সময়ের অভাবে পুরোটা পড়তে পারিনি। সময় করে পড়তে হবে। আপনার লেখা তো বরাবরই ভালো। ধন্যবাদ।

(৭ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো উপন্যাস)

চালিয়ে যান। সাথে আছি।

(৫ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

চিটিটা পাঠ করে সত্যিই কবরের কথা নতুন করে স্মরণ হলো। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

েশয়ার করার জন্য অসংথ্য ধন্যবাদ।

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো গল্প)

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

ভাল লাগল

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো নামাজ)

মূল্যবান এই হাদীসটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য মোবারকবাদ।


জাবেদ ভুঁইয়া wrote:

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, চারটি গুণ এতই মূল্যবান যে, তা যদি তোমার মধ্যে থাকে তাহলে দুনিয়ার আর কী তোমার নেই সে চিন্তারই দরকার নেই। এই চার গুণ হচ্ছে-
১. আমানত রক্ষা করা।
২. সত্য কথা বলা।
৩. উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া।
৪. রিজিক হালাল হওয়া।
{মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৬৩৬৫}

১০

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

ইসলাম ও মানবতাবিরোধী নির্যাতনমূলক একটি জঘন্য সামাজিক কুপ্রথার নাম যৌতুক। আমাদের সমাজে এটি একটি মারাত্মক আর্থ সামাজিক ব্যাধিরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। যা থেকে মেয়ে পরে বাঁচা প্রায় অসম্ভব। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, যৌতুকের কারণে অসংখ্য নারীর বিয়ে হচ্ছে না। কিংবা বিয়ে হলেও যৌতুক আদায়ের জন্য নিরীহ মেয়ের উপর নেমে আসছে অসহনীয় নির্যাতন ও নিপীড়ন এবং মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর অসহায় লক্ষ লক্ষ মেয়েদের। শুধু তাই নয়, যৌতুককে কেন্দ্র করে প্রায়ই সমাজে আত্মহত্যা ও খুনের মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। তাই ইসলাম ও মানবতা-বিরোধী এসমস্ত কুপ্রথা উচ্ছেদের জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রত্যেক মুসলমানের উপর অত্যন্ত জরুরি।
আমাদের দেশে দেখা যায়, বর-কনে পছন্দের পর উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে। বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। কোথায় বিয়ে হবে, কনেকে কবে তুলে দেওয়া হবে, ওলিমা কবে হবে, এসব সাব্যস্ত হয়। এর সঙ্গে সমাজের একটি বড় অংশে আলোচনা হয় ‘দেনা-পাওনা' নিয়ে।
এই দেনা-পাওনাটা কী? মেয়েপ বর ও বরের পরিবারকে কী কী দেবে তা সাব্যস্ত করাই দেনা-পাওনা। বহু পরিবারে বিয়ের ক্ষেত্রে এটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিয়ের আলোচনার সমস্ত মনোযোগ ও বুদ্ধিমত্তা এখানে প্রয়োগ করতে দেখা যায়। বাস্তবে এ দেনা-পাওনার কিছু অংশ নগদ ও কিছু অংশ বকেয়া রাখা হয়। সেটা পরে মেয়েপরে কাছ থেকে উসূল করে নেওয়া হয়। কিংবা উসূল করতে গিয়ে নব পরিণিতা মেয়েটির জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়। এরই নাম যৌতুক।
বিয়ে উপলে মেয়েপরে উপর চাপিয়ে দেওয়া যৌতুকের এই অভিশাপ কেবল আমাদের দেশে সীমাবদ্ধ নয়; এর বিস্তৃতি পুরো উপমহাদেশ জুড়ে। কিন্তু যৌতুক প্রচলনের নজীর পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে পাওয়া যায় না। মেয়েপক্ষের উপর চাপিয়ে দিয়ে অবধারিত পাওনা মনে করে যৌতুক দেওয়া-নেওয়ার নজীর বিশ্বের অন্য কোথাও নেই।
উপমহাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর বৈবাহিক রীতিতে যৌতুকের গুরুত্ব অত্যধিক। ওই ধর্মে উত্তরাধিকারের সম্পদে মেয়েদের অংশীদারিত্বের স্বীকৃতি নেই। এ জন্য যৌতুক তাদের বিবাহপর্বের একটি শক্তিশালী অনুষঙ্গ ও উপল হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে এসেছে ও আসছে। এ অঞ্চলে প্রতিবেশী বড় সম্প্রদায়টির সংস্কৃতি ও জীবনাচারের প্রভাব মুসলমানদের জীবনে যেমন অন্য বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, তেমনি ধরা পড়ে এই যৌতুকের ক্ষেত্রেও। অথচ মুসলিম জীবনে এই বিষয়টির চিত্র হওয়ার কথা সম্পূর্ণ বিপরীত। ইসলামের বিধান সেটাই। বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলে দেবে, মেয়ে নেবে। যেমন মোহর। মেয়ে কিংবা মেয়েরপক্ষ এক্ষেত্রে কিছুই দেওয়ার কথা নয়।
যৌতুকের সাথে নির্লজ্জ ও নির্মম লোভের একটা সম্পর্ক রয়েছে। দেখা যায়, অন্য ধর্ম ও সম্প্রদায়ের বহুবিধ প্রভাব সম্পর্কে আলেম-সমাজের পক্ষ থেকে সতর্ক করার পর অনেকে সেগুলো ত্যাগ করেছেন। কিন্তু যৌতুকের মায়া ত্যাগ করতে পারছেন না অনেকেই। যে মেয়েটিকে পছন্দ করে নিজেদের ঘরে ‘আপন' করে নিয়ে আসা হচ্ছে তার পরিবারের কাছ থেকেই যৌতুক হিসেবে অর্থ ও আসবাবপত্র চেয়ে নেওয়া সাধারণ চোখে কঠিন একটি লজ্জার বিষয়। যারা এটি করেন তারা লজ্জা ও বিবেককে মাথার বাইরে রেখেই করেন!
আমাদের সমাজে যৌতুক গ্রহণের আরেকটি কারণ হচ্ছে, আল্লাহর প্রতি ভয়হীনতা এবং শরীয়তের বিধি-বিধানের প্রতি অবজ্ঞা ও উদাসীনতা। যদি অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে এবং নারীর মর্যাদা ও তার আর্থিক অধিকার সুরক্ষায় ইসলাম যে বিধি-বিধান দিয়েছে তার প্রতি সাধারণ পর্যায়ের সম্মানবোধ থাকলেও কোনো বরের পরিবারের পক্ষে যৌতুক গ্রহণের কোনো উদ্যোগ থাকার কথা ছিল না। অথচ বর্তমানে আমাদের সমাজে যৌতুক ব্যাধিটি মহামারি আকার ধারণ করেছে।
কনে বা মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে বরপক্ষকে যা যা দেওয়া হয় সেগুলোকে আমরা যৌতুক বলে জানি। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো। যৌতুকের এই সম্পদ কনের পরিবারের পক্ষ থেকে আসছে বরের পরিবারে, কনের কাছে নয়। বরের পরিবারের পক্ষ থেকে শর্ত করে, ধার্য করে ও চাপ দিয়ে কনের কাছে আসলেও যে সেটা যৌতুক হতো না, তেমন নয়। কিন্তু ভুল পথে হলেও তখন বলা যেত, এতে হয়তো কনে উপকৃত হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, যৌতুকের সম্পদের উপল ওই কনে হলেও তা আসছে বরের কাছে অথবা বরের গোটা পরিবারের কাছে। এখানে কনের ভূমিকা কেবল একটি সেতুর। এক পরিবারের অশ্র“-মেশানো সম্পদ আরেক পরিবারে উল্লাসের উপকরণ হয়ে আসছে কনের কারণে। নগদ অর্থ, মোটর সাইকেল, প্রাইভেট কার, ফ্রিজ, সোফাসেট, খাট-পালঙ্ক- এক কথায় যৌতুক হিসেবে আসা সবকিছুরই মালিক তখন ছেলের গোটা পরিবার। প্রচলিত যৌতুক প্রথার অনুশীলনটা এরকমই। এ এক অদ্ভুত নিয়ম! প্রশান্তিদায়িনী মায়াবতী নববধূকে এখানে নিষ্ঠুর প্রক্রিয়ায় সম্পদ আহরণে সেতু অথবা পাইপ লাইনের ভূমিকা রাখতে হয়!!!
প্রচলিত এই যৌতুক নয়, ইসলামের ইতিহাসে অন্য রকম এক ‘জাহীযে'র নমুনা পাওয়া যায়। সেখানে কোনো ‘দেনা-পাওনা' থাকে না। শর্ত, ধার্য ও উসূল থাকে না। উসূলের জন্য নির্লজ্জ প্রত্যাশা ও নির্মম গঞ্জনা থাকে না। তার স্বরূপ হচ্ছে, স্বেচ্ছায় স্বপ্রণোদিত হয়ে আপন কন্যার জন্য এবং কন্যাকেই কনের পিতা বা পরিবারের প থেকে কিছু উপহার দেওয়া। এই দেওয়াটাও নিয়ম করে নয়, বরপরে প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নয়। দেওয়া হলে দেওয়া হলো, না দেওয়া হলে নাই, এমনভাবে দেওয়া। যেমন কোনো সন্তান কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত হয়ে দূরের কোনো দেশে সফরে যাচ্ছে। সে সফরের প্রয়োজনীয় ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ সব আয়োজন ও খরচের ব্যবস্থা ওই প্রতিষ্ঠানই করে রেখেছে। সফরে তার প্রয়োজনীয় কোনো জোগান ও আয়োজনই বাকি নেই। তারপরও মনের টানে পিতা তার সন্তানকে বাড়তি সুবিধার জন্য কিছু ডলার হাতে তুলে দিতে পারেন। উপযোগী এক সেট পোশাক বানিয়ে দিতে পারেন। শীতে না জানি সন্তানের কষ্ট হয়, এমন উদ্বেগ থেকে একটি শাল কিনে দিতে পারেন। সন্তানের সফর-আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান এসব প্রয়োজনের দিকে যথেষ্টই নজর রাখবে। তারপরও পিতার মন বলে কথা। দূরের সফরে সন্তানের স্বাচ্ছন্দ্যে কোনো ব্যাঘাত না ঘটুক, এমন একটি প্রত্যাশা ও সান্ত্বনা তিনি খুঁজতেই পারেন। তার এই চাওয়া ও এই উপহার নির্দোষ। ইসলামের ইতিহাসে যে জাহীয-এর নজীর পাওয়া যায়, তার স্বরূপটা এ রকমই। প্রচলিত যৌতুকের সঙ্গে তার কোনোই সম্পর্ক নেই।
জাহীয সম্পর্কে আরো দু'একটি কথা বলা জরুরি মনে করি। জাহীয-এর সাধারণভাবে বাংলা তরজমা করা হয় যৌতুক। হযরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আদরের কন্যা হযরত ফাতিমা রাযি.-এর বিয়ের সময় যে জাহীয দিয়েছিলেন হাদীস ও সীরাতের কিতাবগুলোতে এর বর্ণনা রয়েছে। এ থেকে সরল চিন্তার অনেকে বলে ফেলেন, নবীজীও তো যৌতুক দিয়েছেন। কিন্তু তারা জানে না যে, নবীজির দেওয়া জাহিয আর বর্তমানের যৌতুক মোটেও এক জিনিস নয়। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরো পরিস্কার হবে বলে আশা রাখি।
দীনী বহু কাজের পেছনে সাধারণ ও বিত্তবান মুখলিস মুসলমানের দেওয়া স্বেচ্ছাচাঁদার ভূমিকা সব সময় বড় ভূমিকা রেখে এসেছে। ইসলামী খেলাফত ও সালতানাত শেষ হওয়ার পর দীনী প্রতিষ্ঠানগুলো মুসলমানদের চাঁদার ভিত্তিতেই চলে এসেছে ও আসছে। এসব চাঁদার ভূমিকা দীনী প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এখনও এ জাতীয় চাঁদার ধারাবাহিকতা বিদ্যমান। কিন্তু এদেশে গত দেড় যুগ যাবত ‘চাঁদা' শব্দের ব্যাপক যে ব্যবহার আমরা দেখি সেটা কোন্ অর্থে? মিডিয়া, সরকারী আইন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টিতে ‘চাঁদা' হচ্ছে মাস্তান ও সন্ত্রাসী শ্রেণীর জোরপূর্বক আদায়কৃত অর্থ। একজনকে ছিনতাইকারী বললে তার সম্পর্কে যে ধারণা তৈরি হয়, চাঁদাবাজ বললে তার চেয়ে ভালো কোনো ধারণা তৈরি হয় না। বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সন্ত্রাসীরা জোরপূবর্ক যে অর্থ আদায় করে থাকে এখন ব্যাপকভাবে তাকেই চাঁদা বলে। এটা বিশেষ সময়ে বিশেষ কারণে শব্দ ও শব্দের অর্থের স্থানান্তর। এতে কি ভালো ও দীনী কাজে গ্রহণকৃত চাঁদাও দোষণীয় হয়ে গেল? নিশ্চয় নয়। কারণ দীনী কাজের চাঁদার ধারা স্বতঃস্ফূর্ত ও বিনয়পূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে জোর খাটানোর প্রশ্নও নেই, জোরও নেই। সেজন্য চাঁদা শব্দটি যখন দীনী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয় তখন স্বতঃস্ফূর্ততার স্বরূপটি সবার সামনে স্পষ্ট থাকে। আর সন্ত্রাসীরা যখন ‘চাঁদা' তুলতে যায় তখন লোকজন আঁতকে উঠে।
জাহীযের ক্ষেত্রে ইসলামের ইতিহাসের ঘটনাগুলো স্বতঃস্ফূর্ত উপহারের ঘটনা। আর এই উপমহাদেশীয় প্রচলন এবং এ যুগের যৌতুকের ঘটনা হচ্ছে শর্ত করে, ধার্য করে উসূল করার নির্মমতার নমুনা। শুধু শব্দের মিলের কারণে দু'টো বিষয়কে এক রকম মনে করা মারাত্মক ভ্রান্তিকর। দু' ক্ষেত্রের শব্দ এক রকম হলেও স্বরূপ ও তাৎপর্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।
মোটকথা, জাহীয হচ্ছে, কন্যাকে দেওয়া পিতার উপহার। স্বামী বা শ্বশুরালয়ের কেউ এর মালিক নয়, এর মালিক কন্যা নিজে। পিতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কন্যাকে তা দিয়ে থাকেন। এতে স্বামী ও শ্বশুরালয়ের দাবি ও চাপাচাপি তো দূরের কথা, কন্যার পক্ষ থেকেও কোনো দাবি থাকে না। এটা নামধামের জন্য দেওয়া হয় না। যৎসামান্য উপহার পিতা নিজের সামর্থ্য অনুসারে কন্যাকে দিয়ে থাকেন।
বিয়ের সময় এই উপহার দেওয়া নিছক মোবাহ (জায়েয), যদি না কোনো সামাজিক চাপ কিংবা প্রথাগত বাধ্য-বাধকতা থাকে। অন্যথায় তা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম হয়ে যায়। হাদীস শরীফে আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্বের ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছেন, সাবধান! কারো জন্য তার ভাইয়ের কিছুমাত্র সম্পদও বৈধ নয়, যদি তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি না থাকে। [মুসনাদে আহমদ] অর্থাৎ কেউ কিছু দিলেই তা ভোগ করা হালাল হয় না, যে পর্যন্ত না খুশি মনে দেয়। পুত্র-কন্যাও এ বিধানের বাইরে নয়। সুতরাং পিতা যদি বাধ্য হয়ে নিজের কন্যাকেও কোনো কিছু দেয় তবে তা গ্রহণ করা তার জন্যও বৈধ নয়। তাহলে স্বামী বা শ্বশুরালয় থেকে যদি কন্যার উপহার দাবি করা হয় কিংবা কোনো তালিকা দেওয়া হয় তাহলে তা কীভাবে বৈধ হবে?
কেউ কেউ আবার বিয়ের সময় কন্যাকে কিছু উপহার দেওয়াকে মাসনূন মনে করেন। এক্ষেত্রে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নিজ কন্যা ফাতিমা রাযি.-এর বিয়ের সময় কিছু জিনিস দেওয়াকে দলীল হিসেবে পেশ করেন। কিন্তু উসূলে ফিকাহের বিধান মতে শুধু এটুকুর দ্বারা কোনো আমল মাসনূন প্রমাণিত হয় না, শুধু মোবাহ বা বৈধ প্রমাণিত হয়। কেননা ঐ কাজ মাসনূন হলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে উৎসাহিত করতেন এবং তাঁর অন্য মেয়েদের বিয়েতেও এ ধরনের উপহার দিতেন। তেমনি উম্মুল মুমিনীনদেরকেও তাদের পিত্রালয় থেকে উপহার দেওয়া হত। কিন্তু কোনো রেওয়ায়েতে এমন কোনো কিছুই পাওয়া যায় না। শুধু উম্মে হাবীবা রাযি. সম্পর্কে পাওয়া যায়, তাঁর জন্য হাবশার বাদশা নাজ্জাশী নিজের পক্ষ থেকে কিছু উপহার পাঠিয়েছিলেন।
ফাতেমা রাযি.-এর ঘটনার আরেকটি দিকও রয়েছে, যা বিবেচনা করা দরকার। তা এই যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন হযরত আলী রাযি.-এরও অভিভাবক। সুতরাং সম্ভাবনা আছে যে, ঐ জিনিসগুলো তিনি পাঠিয়েছিলেন আলী রাযি.-এর পক্ষ থেকে। কারণ বিয়ের সময় তাঁর ঘরে ঐ ধরনের কোনো আসবাবপত্র ছিল না।
মোটকথা, কন্যার বিয়ে বা রোখসতির সময় পিতা নিজ সাধ্য অনুসারে তাকে যে গহনাগাটি বা সামানপত্র শুধু আল্লাহর রেযামন্দির জন্য উপহার দেয় একে মোবাহ বা মুস্তাহাব যাই বলুন না কেন, প্রচলিত যৌতুকের সাথে এর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।
যৌতুকের লেনদেন এত জঘন্য অপরাধ যে, তা শুধু হারাম বা কবীরা গুনাহ নয়, এমন অনেকগুলো হারাম ও কবীরা গুনাহর সমষ্টি, যার কোনো একটিই যৌতুকের জঘন্যতা ও অবৈধতার জন্য যথেষ্ট ছিল। যেমন-
১. মুশরিক-সমাজের রেওয়াজ : যৌতুকের সবচেয়ে নগণ্য দিক হলো, তা একটি হিন্দুয়ানি রসম বা পৌত্তলিক সমাজের প্রথা। আর কোনো মুসলিম কোনো অবস্থাতেই কাফের ও মুশরিকদের রীতি-নীতি অনুসরণ করতে পারে না।
২. জুলুম ও নির্যাতন : যৌতুক শুধু জুলুম নয়, অনেক বড় জুলুম। আর তা শুধু ব্যক্তির উপর নয়, গোটা পরিবার ও বংশের উপর জুলুম। যৌতুকের কারণে কনে ও তার অভিভাবকদের যে মানসিক পীড়ন ও যন্ত্রণার শিকার হতে হয় তা তো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অথচ কাউকে সামান্যতম কষ্ট দেওয়াও হারাম ও কবীরা গুনাহ।
৩. অন্যের সম্পদ হরণ : কুরআন মজীদে একাধিক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা অন্যায়ভাবে একে অন্যের সম্পদ গ্রাস করো না। [সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৮ # সূরা নিসা, আয়াত : ২৯]
বিদায় হজ্বের ঐতিহাসিক ভাষণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, “নিঃসন্দেহে তোমাদের জান, মাল, ইজ্জত-আব্র“ তোমাদের পরস্পরের জন্য এমনভাবে সংরক্ষিত, যেমন হজ্বের দিবসটি হজ্বের মাস ও (হজ্বের শহর) মক্কায় সংরক্ষিত।” সুতরাং কারো জান-মাল, ইজ্জত-আব্র“তে হস্তক্ষেপ করা  হজ্বের সম্মানিত মাসে, হজ্বের সম্মানিত দিবসে হারাম শরীফের উপর হামলার মতো অপরাধ। [সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৭৩৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৬৭৯]
৪. ডাকাতি ও লুটতরাজ : কে না জানে, অন্যের সম্পদ লুট করা কবীরা গুনাহ! বড় কোনো সম্পদ নয়, যদি জোর করে কেউ কারো একটি ছড়িও নিয়ে যায় সেটাও লুণ্ঠন, যা সম্পূর্ণ হারাম। লুণ্ঠিত বস্তু অনতিবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়া ফরয। হাদীস শরীফে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেউ যেন তার ভাইয়ের জিনিস উঠিয়ে না নেয়; না ইচ্ছা করে, না ঠাট্টাচ্ছলে। একটি ছড়িও যদি কেউ তুলে নেয় তা যেন অবশ্যই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৫০০৩ # জামে তিরমিযী, হাদীস : ২১৬০]
যৌতুক নেওয়া কারো সামান্য জিনিস তুলে নেওয়ার মতো বিষয় নয়; বরং তা সরাসরি লুণ্ঠন ও ডাকাতি। পার্থক্য শুধু এই যে, এখানে ছুরি-চাকুর বদলে বাক্যবান ও চাপের অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়, যা মজলুমের মন-মানসে অনেক বড় ও গভীর ত সৃষ্টি করে। তো ডাকাতি ও লুটতরাজের যে গুনাহ যৌতুক নেওয়ার গুনাহও তার চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়।
৫. ঘুষ : আত্মসাৎ ও অবৈধ উপার্জনের যতগুলো পন্থা আছে তন্মধ্যে নিকৃষ্টতম ও জঘন্যতম একটি পন্থা হলো ‘ঘুষ' বা ‘উৎকোচ'। অনেকে মনে করেন, অফিস-আদালতে নিজের বা অন্যের কোনো বৈধ পাওনা উসূল করার জন্য বা সঠিক রায় পাওয়ার জন্য কর্মচারী-কর্মকর্তাদের চাপ, অশোভন আচরণের শিকার হয়ে যে অর্থ দেওয়া হয় কিংবা অবৈধ সুবিধা হাসিলের জন্য যা খরচ করা হয় তা হচ্ছে ঘুষ। অবশ্যই তা ঘুষ। তবে ঘুষ শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে এর অর্থ আরো ব্যাপক। কারো কোনো হক বা পাওনা, যা কোনো বিনিময় ছাড়াই তার পাওয়া উচিত, তা যদি বিনিময় ছাড়া না দেওয়া হয় তাহলে ঐ বিনিময়টাই হলো ঘুষ, যা হতে পারে অর্থ, সেবা বা অন্য কোনো সম্পদ। এটা দেওয়া হারাম, নেওয়া হারাম এবং এই লেনদেনে মধ্যস্থতা করাও হারাম। এটা এত বড় অপরাধ যে, এর সাথে যুক্ত সবার উপর আল্লাহর লা'নত ও অভিশাপ। হাদীস শরীফে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ের উপর আল্লাহর অভিশাপ। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২৩১৩]
বিয়ের পয়গাম দিতে পারা নারী-পুরুষের বৈধ অধিকার। পয়গাম কবুল হলে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারাও নারী-পুরুষের বৈধ অধিকার। বিয়ের পর স্বামী তার স্ত্রীকে পাওয়া এবং স্ত্রী তার স্বামীকে পাওয়া তাদের প্রত্যেকের ফরয হক ও অপরিহার্য অধিকার। এরপর যতদিন বিবাহ-বন্ধন অটুট থাকে, একে অন্যের নিকট থেকে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করাও স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য অধিকার। তো এই অধিকারগুলোর কোনো একটি পাওয়ার জন্য বা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য কোনোরূপ অর্থব্যয়ের বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ অবান্তর। সুতরাং এক্ষেত্রে কোনো অর্থ-সম্পদ দাবি করা হলে কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপের মাধ্যমে কোনো কিছু গ্রহণ করা হলে তা হবে সরাসরি ঘুষ, যার লেনদেন সম্পূর্ণ হারাম এবং লেনদেনকারী ও মধ্যস্থতাকারী সবাই আল্লাহর লা'নত ও অভিশাপের উপযুক্ত।
৬. এক অপরাধে অসংখ্য অপরাধ : শরীয়তের একটি স্বতঃসিদ্ধ নীতি এই যে, কোনো কাজের দ্বারা যদি হারামের দরজা খোলে তাহলে সেটাও হারাম হয়ে যায়। তাহলে যে কাজ নিজেও হারাম এবং আরো অনেক হারামের জনক তা কত জঘন্য ও ভয়াবহ হতে পারে? যৌতুকের দাবি পূরণের জন্য অনেক অভিভাবক সুদ-ঘুষের কারবার ও বিভিন্ন হারাম উপার্জনে লিপ্ত হয়। এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে। আর স্ত্রীর উপর নির্যাতন-নিপীড়ন এমনকি হত্যা ও আত্মহত্যাও সাধারণ বিষয়। এমনিভবে যৌতুককে কেন্দ্র করে দুই পরিবারে ঝগড়া-বিবাদ, মামলা-মোকাদ্দমা এমনকি খুন-Ñজখম পর্যন্ত হতে থাকে। দৈনিক পত্রিকার পাঠকগণ এসব ঘটনার খবর প্রায় প্রতিদিনই পেয়ে থাকেন।
যৌতুকের সবচেয়ে ন্যূনতম তিটি হলো, এর কারণে দাম্পত্য সম্পর্কের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়। পরিবারে অশান্তির আগুন জ্বলতে থাকে। ঝগড়া-বিবাদ গালিগালাজ এমনকি মারধর পর্যন্ত হয়। যার প্রত্যেকটিই এক একটি কবীরা গুনাহ এবং পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে টেনে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
আরো বেদনার বিষয় এই যে, ছেলের মা-বোনেরাও নববধূর কাছে যৌতুক দাবি করতে পিছপা হয় না। নারী হয়েও তারা নারীর যন্ত্রণা বোঝে না, তার প্রতি সহমর্মী হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তো জা-ননদ-শাশুড়িই হয়ে ওঠে নববধূর সবচেয়ে বড় দুশমন!
যারা যৌতুক দাবি করে বা গ্রহণ করে তাদের উচিত রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী স্মরণ রাখা-
ঐ দেহ বেহেশতে যাবে না, যা হারাম খাবার থেকে উৎপন্ন হয়েছে। দোযখের আগুনই তার অধিক উপযোগী। [সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ১৭২৩, ৪৫১৪]
তদ্রূপ যারা এই কু-রসমের প্রতিরোধ করে না; বরং নিজেদেরকে অক্ষম মনে করে কিংবা যৌতুক দিয়ে জামাতার মনোতুষ্টি কামনা করে তাদের মনে রাখা উচিত, কারো পাপ-দাবি পূরণ করাও পাপ। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা তাদের দ্বিতীয়বার স্মরণ করা উচিত, ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ের উপর আল্লাহর অভিশাপ।
যৌতুক কিংবা ‘দেনা-পাওনা' ভাষায় আমরা যা-ই বলি, আমাদের সমাজে এই অভিশপ্ত ধারা বন্ধ হতেই হবে। যৌতুক গ্রহণের মানসিকতা ও মনোভাব থেকে সম্পূর্ণ সরে আসতে হবে প্রত্যেক পরিবারকে। এটাকে অবৈধ আয় ও জুলুম হিসেবে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে মনে কোনো সংশয় রাখা যাবে না। প্রচলিত অর্থে ও পদ্ধতিতে যৌতুক গ্রহণ করা ইসলামী শরীয়তে কোনোভাবেই বৈধ নয়। বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলাম ও মানবতাবিবর্জিত যৌতুকের এই উপায় অবলম্বন করার ইহ-পরকালের শাস্তি কী হতে পারে সেটা ভেবে শঙ্কিত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
যৌতুক গ্রহণ দৃশ্যত আর্থিকভাবে লাভজনক হলেও এর মাঝে রয়েছে অনেকগুলো অন্যায় ও অপরাধ। যৌতুকের চুক্তি বা দেনা-পাওনা সাব্যস্ত করা এক অন্যায়। যৌতুক আদায় করা আরেক অন্যায়। অনাদায়ী যৌতুক আদায়ের জন্য বার বার চাপ দেওয়া অন্যায়। এই চাপের সঙ্গে যদি শারীরিক-মানসিক জুলুম যুক্ত হয় সেগুলোও অন্যায়। একইভাবে এর প্রতি অন্তরে ও আচরণে যে লোভ পোষণ করা হয় সেটাও অন্যায়। এতে নারীর প্রতি জুলুম ও অপমানের যে ঘৃণ্য ধারা চালু হয়, সেটিও আরেক অন্যায়। ইহকালীন আইন ও ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে যৌতুক একটি মারাত্মক অপরাধ। এই অপরাধের কুফল আখেরাতে তো অবশ্যই, দুনিয়াতেও ভোগ করতে হয়। এত অপরাধের নর্দমা পাড়ি দিয়ে যে অর্থ বা সম্পদ হাতে আসে, তা ভোগ করে, আর যা-ই হোক, শান্তি বা বরকত কোনোটাই পাওয়ার কথা নয়।
বর্তমানে আমাদের দেশে যৌতুক এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। নিম্নের পরিসংখ্যান থেকে সহজেই তা অনুমান করা যায়।
২০০৩ সালের জুলাই মাসে প্রাপ্ত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে পূর্ববর্তী ১০ বছরে ৫০ শতাংশ নারী যৌতুকের কারণে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ঐ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০০১ সালে সারা দেশে অন্তত ১২৮জন মহিলা যৌতুকের কারণে খুন হয়েছে, আত্মহত্যা ১৮ জন, নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৪০ জন, তালাকপ্রাপ্তা হয়েছে ১৫ জন। এজন্য মামলা হয়েছে ২,৭৭১টি।
জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির এক জরিপে প্রকাশ, ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত যৌতুকের জন্য খুন হয়েছে ৬৮৫ জন নারী, শারীরিক নির্যাতন ৫৮২ জন।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নারী নির্যাতন সেলের হিসাব অনুযায়ী যৌতুকের কারণে ২০০০ সালে পারিবারিক আদালতে মামলা হয়েছে ৬৭৫টি। ২০০১ সালে ৪১২টি, ২০০২ সালে ১২০টি ও ২০০৩ সালে ১৪১টি।
দোয়া করি, এই অভিশপ্ত ব্যাধি থেকে আল্লাহ আমাদের সমাজকে পবিত্র করুন এবং একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই অপকর্মের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার তাওফীক দিন। আমীন।

১১

(৫ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো কোরআনের আলো)

শেয়ার করার জন্য জাযাকাল্লাহ খাইরান।

১২

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো কোরআনের আলো)

শেয়ার করার জন্য জাযাকাল্লাহ খাইরান।

১৩

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ইসলামে বিজ্ঞান)

শেয়ার করার জন্য জাযাকাল্লাহ।

১৪

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ইসলামে বিজ্ঞান)

শেয়ার করার জন্য জাযাকাল্লাহ।

১৫

(৪ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ইসলামে বিজ্ঞান)

কোটি কোটি মোবারকবাদ।

১৬

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ইসলামে বিজ্ঞান)

কোটি কোটি মোবারকবাদ।

১৭

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো হাদিসের আলো)

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

১৮

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ইসলামিক নিদর্শন)

আশা করি, পাঠকদের উপকারে আসবে। জাযাকাল্লাহ খাইরান।

১৯

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো মুসলমানের হাসি)

আল্লাহ তাআলা এসব বেদআতী, বেআমলী মোল্লা থেকে দেশ ও জাতিকে হেফাযত করুন। আমীন।
শেয়ার করার জন্য হাবিব ভাইকে ধন্যবাদ।

২০

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো হাদিসের আলো)

thank you.

২১

(৪ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো নোটিশ বোর্ড)

নতুন বিভাগটি খোলার জন্য ধন্যবাদ।

২২

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ইসলামিক বই)

শেয়ার করার জন্য জাযাকাল্লাহ।

২৩

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ইসলামে বিজ্ঞান)

সচেতনমূলক পোষ্টের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

২৪

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

শুভেচ্ছাসহ ধন্যবাদ।

২৫

(৪ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

আপনার এই ছোট লেখাটি পড়ে বেশ ভালো লাগল। তাই আপনাকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ।