(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

এল্-স্টার ফাউন্ডেশনের গ্রুপ লিংক-  https://m2.facebook.com/groups/623506391105603?refid=27  এল্-স্টার ফাউন্ডেশনের প্যাজ লিংক- https://m2.facebook.com/profile.php?id= … 8&_ft_  অতি আনন্দের সাথে জানানো হচ্ছে যে #এল_স্টার_ফাউন্ডেশন এর গ্রুপ মেম্বার, প্যাজ লাইকার, শুভানুধ্যায়ী, এবং বাংলাদেশী ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য আসছে রমাদান এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে এক বিশেষ রাইটিং কনটেস্টের আয়োজন করতে যাচ্ছে! এজন্য কনটেস্টে বিজয়ী সর্বোচ্চ ৪ জনকে যথাক্রমে ২০০, ১৫০, ১০০, ও ৫০ টাকা মোবাইল ব্যালেন্স পুরষ্কার হিসেবে অফার করছে! এর বিস্তারিত............... ১. লেখার বিষয়: 'সামাজিক সমস্যা সমাধানে তরুন সমাজের ভূমিকা এবং এল্-স্টার ফাউন্ডেশন' ............... ২. শব্দ সংখ্যা: 'অবশ্যই ২৫০ শব্দের বেশি হওয়া চলবেনা' ............... ৩. লেখা জমা দেয়ার নিয়ম: লেখা জমা দেয়া যাবে আগামি ২৩/০৬/২০১৫ ইং পর্যন্ত আমাদের নিন্মোক্ত প্যাজ এবং গ্রুপে ............... ৪. ফলাফল ঘোষণা: ফলাফল ঘোষণা করা হবে ইনশাআল্লাহ পবিত্র শবে কদরের রাতে............... ৫. পুরষ্কার প্রদান: পুরষ্কারের টাকা বিজয়ীদের স্ব স্ব মোবাইল একাউন্টে পাঠিয়ে দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ ঈদুল ফিতরের চাঁদ রাতে............... ৬. অন্যান্য নিয়ম কানুন: @ কনটেস্টে অংশ নেয়ার জন্য প্রতিযোগীকে অবশ্যই আমাদের ফেসবুক প্যাজে লাইক, এবং গ্রুপে জয়েন করতে হবে! @ লেখা আহ্বানের এই লেখাটি ফলাফল ঘোষণার আগপর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত ১ দিন নিজের ফেসবুক ওয়ালে অন্যদের প্রতি লেখা আহ্বান জানিয়ে শেয়ার করতে হবে! @ জমাদানকৃত লেখা অবশ্যই বাস্তবভিত্তিক অর্থাৎ কোন বিষয় অতি রঞ্জিত করা যাবেনা! @ ফাউন্ডেশনের কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতে প্যাজ ও গ্রুপের অফিসিয়াল পোস্টগুলো পড়তে ও লাইক কমেন্ট করতে হবে! @ এবং ফাউন্ডেশনের কোন সদস্য এতে অংশ নিতে পারবেনা! ............... তাছাড়া, লেখার বিচার কার্য কেবল ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট বিচারক মন্ডলীর মাধ্যমে সমাধা হবে এবং তাদের মাধ্যমেই সেরা লেখাগুলো বাছাই করে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে! ............... তো চাইলে বিজয়ী হতে পারেন আপনিও! পাঠিয়ে দিন লেখা, জানিয়ে দিন বন্ধুদের, আপনি শুধু ফেসবুকে এমনি এমনি লিখেন না, কখনো কখনো টাকাও জিতে নিতে পারেন! 'বেস্ট অফ লাক' ............... আসুন গলা উঁচিয়ে বলি, 'পাল্টে যাবে বাংলাদেশ, পাল্টে দেবো আমরাই- বাংলার তরুন সমাজ'

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো পরিচিত হোন)

সুস্বাগতম ছোট ভাই...

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো পরিচিত হোন)

ওয়ালাইকুম সালাম..... আপনাকে স্বাগতম ভাই| জেনে খুশি হলাম ইসলাম সম্পর্কে আপনি জানতে চান, ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন| আশা করা যায় ফোরামের ইসলামিক টপিক গুলো থেকে আপনি কিছুটা হলেও জানতে পারবেন| আল্লাহ আপনাকে উত্তম জাযাহ দান করুন...

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

অসাধারণ লিখেছেন...

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ম্যাগাজিন)

চালিয়ে যান...

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো পরিচিত হোন)

আপনাকে স্বাগতম...

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

আমাদের দ্বৈমাসিক লিটল ম্যাগ সাহিত্য প্লাসে যাদের যে লেখাগুলো নির্বাচিত হয়েছে, সেগুলোর তালিক নিন্মরূপ:

¤ছড়া-কবিতা¤
১। "হেদায়েত"-তাওহীদুল ইসলাম ।
২। "ভালবাসার বন্দিশালা"-এ.এস.এম মাহবুবুল আলম ।
৩। "অনন্তকালের বেদনা"-আশরাফ জুয়েল ।
৪। "সুদূরে স্বপ্নছায়া"-জালাল উদ্দিন মুহম্মদ ।
৫। "ঈদের কান্না"-শায়মা জাহান তিথি ।
৬। "ঢাকাইয়া মশা"-রিদোয়ান রাখিল ।
৭। "হঠাৎ দেখা"-সুকন্যা তিশা ।
৮। "আধুনিক বিরহ ছড়া"-প্রিন্স মাহমুদ হাসান ।
৯। "পাখি শিকার"-জাবেদ ভুঁইয়া ।
১০। "মেয়েটির নাম প্রান্তি"-সুজন বড়ুয়া ।
১১। "তোমায় খুঁজেছি"-আসাদ-উজ-জামান ।

¤গল্প¤
১। "চাঁদ ও জোত্স্না"-সালমান শাহ ফারদীন ।
২। "মন্টু"-জাবেদ ভুঁইয়া ।
৩। "রাত্রির বর্ষণ"-সুকন্যা তিশা ।
৪। "স্বার্থপর দৈত্য"-অর্ণব দত্ত ।
৫। "কিছুক্ষণ"-মোঃ নাজমুস সাফিন ।
৬। "যেখানে আকাশ বন্দি"-হিমু অমি ।
৭। "ভাব"-মিলন বনিক ।
৮। "মরার ঈদ"-বশির আহমেদ ।

¤সায়েন্স ফিকশন¤
১। "২১০০ সাল"-বিদিতা রানি ।

¤হাস্যরস¤
১। "অতি চালাক"-সুজন আহমেদ ।

¤অন্যান্য¤
১। "হারিয়ে গেছে যেসব ঐতিহ্য"-জি এম আকাশ ।
২। "চাকরিতে কোটা: চাই সুষ্ঠু সমাধান"-রাজু আহমেদ ।

নোট: সংশ্লিষ্টদের নিজেদের ইমেইল ইনবক্স চেক করতে বলা হচ্ছে । ধন্যবাদ সবাইকে ।

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

যারা লেখা পাঠাবেন তাদের উদ্দেশ্যে-
আপনার লেখা নির্বাচিত হলে অবশ্যই আপনি প্রিন্টেট কপি পাবেন । সেক্ষেত্রে আপনাকে আমাদের কাছ থেকে ৫ কপি অর্ডার করতে হবে । যা আপনাকে বিপি/কুরিয়ার যোগে পাঠানো হবে । যার মূল্য বাবদ আপনাকে পরিশোধ করতে হবে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা (পাঠানোর খরচসহ) । তবে আপনি যদি আমাদের নিয়মিত লেখক হন এবং আপনার লেখা আমাদের বার্ষিক স্পেশাল কপির জন্য নির্বাচিত হয়ে আপনি ১ম-৩য় এর যে কোন একটি স্থান লাভে সক্ষম হন, তাহলে আপনি ইচ্ছুক থাকলে আমরা আপনার একক বই প্রকাশ করব (সম্ভব হলে) এবং আপনাকে উপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে (নিশ্চিত) । যেক্ষেত্রে আপনার কাছ থেকে কোনরূপ খরচ নেয়া হবেনা (নির্ধারিত ৫ কপির মূল্য ব্যতিত) বরং আপনাকে লেখক হিসেবে উপযুক্ত রয়্যেলটি দেয়া হবে ( আপনার একক বইয়ের বিক্রিত কপির উপর ভিত্তি করে) ।

আমাদের কর্মসূচি আসলে নিতান্তই সহজ ও সরল । যার মূল লক্ষ্য হল যারা নবীন লেখক কিংবা কবি, তাদেরকে সাহিত্যাঙ্গনে স্বীকৃতি পাইয়ে দেয়া । বিশেষ করে যারা নিজের ছাপানো বই দেখতে আগ্রহী কিন্তু ছাপাবার সামর্থ নেই, আমরা তাদেরকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্যই এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি । তবে এজন্য আমাদের পরিশ্রমের পাশাপাশি আপনাদেরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন ।

দ্রষ্টব্য: কেউ যদি এমন থেকে থাকে যার ১৫০ টাকা খরচ করারও সামর্থ নেই, তাকেও আমরা নিরাশ করবনা । উপযুক্ত হলে তার লেখাও ছাপানো হবে এবং তাকে একটি সৌজন্য কপি পাঠানো হবে । সেক্ষেত্রে তাকে তার অসামর্থের উপযুক্ত প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে হবে ।

এখন "ইচ্ছেটা আপনার, আর বাকিটা আমাদের ।"

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ)

আল হামদুলিল্লাহ, অবশেষে সফলভাবে বিতরণ কাজ শেষ হয়েছে আমাদের সাহিত্য ভিত্তিক লিটল ম্যাগ দ্বৈমাসিক "সাহিত্য প্লাস"এর পরীক্ষামূলক সংখ্যার । যদিও এতে খুবই সামান্য ভুল ভ্রান্তি ছিল, আশা করছি এর ১ম সংখ্যা থেকে সেগুলোর প্রতি আমাদের সতর্ক অবস্থান থাকবে এবং একটি সুন্দর ও নিখুঁত কপি আপনাদেরকে উপহার দিতে পারব ।

যাই হোক, এরি মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ১ম সংখ্যার জন্য লেখা সংগ্রহের কাজ । ইচ্ছে করলে আপনিও পাঠাতে পারেন আপনার সেরা লেখাটি । যেসকল বিষয়ে লেখা পাঠাতে পারবেন-
সাহিত্য বিষয়ক:
১। গল্প ২। কবিতা ৩। প্রবন্ধ/নিবন্ধ ৪। উপন্যাস ৫। নাটিকা ৬। ছড়া ৭। সায়েন্স ফিকশন এবং যেকোন সাহিত্য বিষয়ক লেখা ।
অন্যান্য:
১। কৌতুক রচনা ২। গবেষণা ৩। অজানা ও বিস্ময়কর তথ্য এবং অন্যান্য যেকোন তথ্য ও উপাত্ত মূলক লেখা ।

যেভাবে লেখা পাঠাবেন: আপনার লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের নিম্নোক্ত ইমেইল- splus@alor-nishan.com এ ।  তবে লেখার সাথে অবশ্যই আপনার নাম, ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর যুক্ত করতে হবে ।

লেখা পাঠানোর শর্ত: যেহেতু আমরা কোন রূপ বিজ্ঞাপন এবং স্পন্সর ছাড়া সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে লিটল ম্যাগ প্রকাশ করতে যাচ্ছি, সেহেতু আপনাদেরকে (যারা লেখা পাঠাবেন) কিছুটা সহায়তার হাত প্রসার করতে হবে । এ জন্য প্রত্যেককে অন্তত পক্ষে ৫ কপি ম্যাগাজিন আমাদের কাছ থেকে কিনে নিতে হবে । যার মূল্য বাবদ পরিশোধ করতে হবে ৫*২০=১০০ টাকা এবং পাঠানোর খরচ বাবদ সর্বোচ্য ৫০ টাকা । অর্থ্যা মোট ১৫০ টাকা খরচ করতে হবে ।

কিন্তু কথা হল- এতে আপনার লাভ কী ? লাভতো অবশ্যই আছে ! আর তাহল- আমরা আপনার লেখা নিয়ে কেবল লিটল ম্যাগই তৈরি করবনা, বরং প্রতি সংখ্যায় সেরা ৩ জন কবি লেখক বাছাই করব; যাদের প্রত্যেককে নিয়ে বছর শেষে তৈরি করব আমাদের স্পেশাল কপি । যেখান থেকে আবার বাছাই করা হবে সেরার সেরা ৩ জন কবি লেখককে, যাদের প্রত্যেকের একটি করে একক বই প্রকাশ করা হবে এবং তাদেরকে উপযুক্ত রয়্যেলটি প্রদান করা হবে । সেইসাথে উক্ত ৩ জনকে বিশেষ পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মানিত করা হবে । এক কথায়, একজন নবীন লেখক বা লেখিকাকে তার প্রাপ্য স্বীকৃতি পাইয়ে দেয়াই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য । আর এটাই আপনাদের লাভ ।

অতএব, নিজের প্রতি যদি আপনার বিন্দুমাত্র আস্থা থাকে যে আপনি নিজেকে একজন কবি বা লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাহলে আর দেরি না করে এখনি পাঠিয়ে দিন আপনার সেরা লেখাটি । কেননা, সাহিত্য জগতে আমরাই প্রথম যারা নবীনদের প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণান্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করছি এবং তার বাস্তবায়নে আপনাদের কাছে এগিয়ে এসেছি । এবার "ইচ্ছেটা আপনার, আর বাকিটা আমাদের ।" আপনি প্রতিষ্ঠা পাবেনই পাবেন ইনশা আল্লাহ ।

মনে রাখবেন আমাদের প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হচ্ছে আগামী নভেম্বর মাসের শুরুতে । আর লেখা পাঠাতে পারবেন অক্টোবরের ১০ তারিখ পর্যন্ত । কাজেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লেখা পাঠিয়ে দিন ।

যেকোন প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন আমাদের ফোরাম alor-nishan.com অথবা আমাদের অনলাইন ম্যাগাজিন mag.alor-nishan.com এ মন্তব্য প্রদানের মাধ্যমে । তাছাড়া ফোনও করতে পারেন এই নম্বরে-
প্রকাশক: ইয়াছিন বাংলাদেশি
মোবাইল- ০১৮৫২৪২৫৬৬০
অথবা মেইল করতে পারেন easinbangladesi@gmail.com এ কিংবা বার্তা পাঠাতে পারেন আমার ফেসবুক ইনবক্সে ।

পরিশেষে বলতে চাই ভাল থাকুন, সুস্থ্য থাকুন; নিজে লেখক হন, অন্যকে লেখক হতে সহায়তা করুন । হয়তো আপনার আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াসটারই অপেক্ষায় রয়েছে হাজারো বঞ্চিত অথচ খুব ভাল কবি কিংবা লেখক ।

১০

(০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো গল্প)

"একটি অনাকাঙ্ক্ষিত, তবে সত্য ঘটনার গল্প"
- ইয়াছিন বাংলাদেশি ।

সময়টা দুপুরের শেষ । নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ২.৩০ মি. । বাইরে থেকে কেবল বাড়ি ফিরলাম আমি । গিয়েছিলাম ঢাকায় । ওখান থেকেই ফেরা । আকাশে প্রচন্ড রোদ ছিল তখন । একেবারে কাঠফাটা রোদ । যদিও মাসটা ছিল শ্রাবণের শুরু । কিন্তু তখনও বৃষ্টির প্রকোপ গেঢ়ে বসেনি । এই আসে এই যায় অবস্থা । যাইহোক, জামা-কাপড় ছেড়ে হাত-মুখ ধুয়ে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিলাম । শরীরটা বেশ ক্লান্ত ক্লান্ত লাগছিল । তাই ওটা আমার প্রয়োজন ছিল । কিন্তু বেশিক্ষণ পারা গেলনা । ওঠতে হল মিনিট দশের মধ্যেই । কেননা গোসল হয়নি তখনো । আমি আবার বাড়ির থেকে নদীতে গোসল করতেই পছন্দ করি বেশি । কেননা ওরকম ঝরঝরে পানি গায়ে লাগলে যে অমৃত শান্তি অনুভূত হয়, তা কখনোই বাড়ির পানিতে পাওয়া যায়না । নদীটা অবশ্য দূরে নয় বেশি । খুবই কাছে অবস্থান সেটির । শ'পাঁচেক গজ দূরত্ব হবে হয়তো । কাজেই অল্প সময়ের মধ্যেই গোসল সেরে ফেরা যায় বাড়িতে । ফলে পাড়ার অনেকেই নদীতে যায় । গোসলতো বটেই, ঘুরা-ঘুরির জন্যেও আদর্শ জায়গা নদী পাড় । একথা অবশ্য সবারই জানা । কেননা নদী পাড়ের হাওয়া খুবই স্বস্থ্যকর । তার ওপর আমাদের নদী পাড়ের একেবারে তীর ঘেঁসেই রয়েছে একটি ছোট কাঠ বাগান । ওখানে বসে সময় কাটানোটা আসলেই আনন্দ দায়ক । সে কথা বলে বুঝানো যাবেনা । কেননা ওরকম জায়গার বর্ণনা মুখে বলা যায়না । কেবল অনুভূতি দিয়ে বুঝে নিতে হয় ।

যাইহোক, একটা লুঙ্গি আর সাবান হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আমি । আর নিজেকে রোদের হাত থেকে আড়াল করতে লুঙ্গিটা দিয়ে ভালভাবে মাথা থেকে পিঠ পর্যন্ত ঢেকে নিলাম । তবে পথ চলায় যেন কোন রূপ অসুবিধা না হয়, তার জন্য মুখের দিকটা খোলা রাখলাম । এভাবে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাচ্ছি নদীর দিকে । হঠাৎ চোখ গেল কাঠ বাগানের দিকে । দেখতে পেলাম এক জোড়া মানুষ । তার মধ্যে একটা আবার মেয়ে । যার পরণে ছিল স্কুল ড্রেস । বয়সে একেবারেই কাঁচা । বড়জোর ক্লাস ফাইভে পড়বে হয়তো । আর ছেলেটা- আমার পরিচিত । ওকে আমি ন্যাঙটা অবস্থায় ঘুরে বেড়াতে দেখেছি বছর পাঁচেক আগেও । বুঝেন এবার বয়স কত ! ওরা কিনা দুজনে গা ঘেঁসে কথা বলছে ! দৃশ্যটা দেখে আমি হতবাক হয়ে গেলাম ! ছেলেটা অবশ্য আমাকে লক্ষ্য করেছে । কিন্তু কোনরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেলোনা ওর মাঝে । ওল্টো আমিই লজ্জায় পড়ে গেলাম । তাই কিছু না জিজ্ঞেস করেই আমি চললাম আমার কাজে । আর মনে মনে ভাবলাম- "হায়রে পৃথিবী, কালে কালে জানি আরো কি দেখতে হবে !"

কিছুক্ষণ বাদেই গোসল সেরে ওল্টো পথে বাড়ি ফিরতে লাগলাম আমি । কাঠ বাগানের কাছে আসতেই শুনতে পেলাম হট্টগোল । আওয়াজগুলো অবশ্য অপরিচিত নয় । সেই ছেলেটি আর আমাদের পাড়ারই এক মুরুব্বীর কন্ঠ । শুনে বুঝলাম, মুরুব্বী লোকটি ছেলেটিকে শাসাচ্ছেন আর ছেলেটি হাতে পায়ে ধরে মাফ চাচ্ছে । কিন্তু এমনি এমনি ছেড়ে দিতে একেবারেই নারাজ লোকটি । তিনি চাইছেন ছেলেটির বাড়িতে প্রমাণ সমেত ধরিয়ে দিতে । যাতে করে শুধরে যায় সে । আমি তখন দূর থেকে একবার তাকালাম ওদিকে । দেখলাম- "মেয়েটি স্কার্ফ দিয়ে মুখটা ঢেকে রেখেছে । যেন কত বড় লজ্জায় পড়ে গেছে সে !" যাইহোক, ওদিকটায় না গিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম আমি । এরপর লুঙ্গিটা শুকাতে দিয়ে আর সাবানটা ঘরে রেখে ঘটনা স্থলের দিকে পুনরায় পা বাড়ালাম । উদ্দেশ্য, পিচ্ছি দুটোকে এবারের মতো ছাড়িয়ে এনে কিছু উপদেশ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া । কিন্তু ততক্ষণে মিটে গেছে সবকিছু । মুরুব্বী লোকটি ছেড়ে দিয়েছেন ওদের । এসময় ছেলেটি আমারই চোখের সামনে মেয়েটিকে একটি সিএনজিতে তুলে দিলে সে চলে গেল । আমি শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে দেখলাম । কিছু একটা বলতে যাব, তখনি আমাকে অবাক করে দিয়ে ছেলেটি মুরুব্বী লোকটাকে ইঙ্গিত করে বলে ওঠল- "তাইনে কি পাগল অইয়া গেছে, নাকি !" কথাটা বলেই হন হন করে সেও চলে গেল বাড়িতে । আমি আর কিছুই বলতে পারলামনা তখন । কেবল ভাবতে লাগলাম- "এইটুকুন বয়সী দুটো ছেলে-মেয়ে ওরাও কিনা প্রেম করে বেড়ায় ! আবার তা কিনা খোলা প্রান্তরে, একেবারে জনসম্মুক্ষে ! ওদের মনে কি ভয়-ডর, লাজ-লজ্জা বলে কিছু নেই ! এত সাহস কোথায় পায় ওরা ? কিসে প্রেষণা জোগায় তাদের ? দুনিয়াটা কি ঠিক ঠাক আছে নাকি !"

১১

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

"শেষটায়"
- ইয়াছিন বাংলাদেশি ।

সারাদিন সারাক্ষণ
চুপচাপ থাকে মন
ভাবে শুধু হরদম
আহারে.......
কেন কারো এত দুখ
পায়না যে কোন সুখ
হোক চাই বেশি কম
মাজারে.......
গেলো কই সততা
নিদারুণ ভদতা
নেইতো নেই আর
সমাজে.......
ছিনতাই হলো পেম
সবে দেখি খেলে গেম
মরি তাই বারবার
স্বলাজে.......
চারিদিকে অনাচার
অনিয়ম কদাচার
বেহায়ার ঢাক ঢোল
বাঁজিছে.......
ভুলে গেছে আল্লাহ
করে তাই পাল্লাহ
যেন খুব মুখে বোল
ফুটিছে.......
ছলনার আশ্রয়
ভেঁজালের প্রশ্রয়
সবি আজ মেশানো
দেশটায়.......
অতএব চিন্তারা
উঁচিয়ে শিরদাড়া
হয়ে যাও গোছানো
শেষটায়.......
চাই ফিরে শান্তি
পাগলামি ক্ষান্তি
অসহায় প্রাণীকূল
জঁপেরে.......
দাও দাও দাওনা
ঠিক করে নাওনা
দুনিয়ার যত ভুল
আছেরে.......

১২

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

জাবেদ ভুঁইয়া wrote:

চমৎকার হয়েছে কবিতাটি..... thumbs up  thumbs up

হুম......দারুন লিখেছেন !

১৩

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো গল্প)

"আবদার"
- ইয়াছিন বাংলাদেশি ।

বিকেল ৪ টা ০৫ মিনিট। লেগে গেছে ইফতারি বানানোর ধুম! এসময় কত রকমের ইফতারি যে শোভা পায় দোকানে দোকানে- তা কেবল বাইরে থেকে কিনতে গেলেই চোখে পড়ে! তাছাড়া সেগুলো এতটাই মুখরোচক হয় যে অন্তত একদিন হলেও নেওয়া চাই বাড়িতে! তাই এক দিক দিয়ে ইফতারের সময় ঘণিয়ে আসে আর অন্য দিকে ক্রেতা সাধারণের আগমণ ঘটে দোকান গুলোতে। বিকি-কিনি তাই মন্দ হয়না! বেশ ভালোই জমে ওঠে তখন!

"রাফসান হোটেল"- সাধারণত ভাত তরকারি বিক্রির জন্য প্রসিদ্ধ। তবে নানা ধরণের ভাঁজা পুড়া, যেমন: সিঙারা, পুরি, সমচা, ডালের বরা- এগুলোও বিক্রি হয় এখানে। তাছাড়া অন্যদের মতো অতিরিক্ত লাভের আশায় এখানেও বিক্রি হয় বাহারি রঙের ইফতারি। আর সেটা প্রতি রমযান মাসেই।

এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। পয়লা রোযা থেকেই বিক্রি হচ্ছে ইফতারি। তাই দুপুর গড়াতেই ইফতারি বানানোর চাপ পড়ে হালিম বাবুর্চির ওপর। এসময় একটু জিরোবার ফরসত হয়না তার। আগুনের তাপে বসে একটার পর একটা ইফতার আইটেম প্রস্তুত করতে থাকেন তিনি। তাপে শরীর ঘেমে আসে, তবু ক্লান্তি হয়না তার। বোধ হয় কাজের খাতিরেই প্রকাশ পায়না তা। সে যে সামান্য বেতনের একজন বাবুর্চি! হোটেলে রান্না-বান্না করেই সংসার চালাতে হয় তাকে!

বাড়িতে তিন তিনটা মেয়ে আছে হালিম বাবুর্চির। দু'বছরের বড় ছোট একেক জন। যাদের মধ্যে ছোট মেয়েটার বয়স ১১ বছর। খুব আদুরে মেয়েটা। বাবা ছাড়া কিচ্ছু বুঝেনা সে। তাই যত আবদার তার বাবার কাছেই। হালিম বাবুর্চিও মেয়ের সাধ মেটানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যান। এখনো পর্যন্ত মেয়ের সমস্ত আবদার রক্ষা করে চলেছেন তিনি। তবে বড় দুটো অবশ্য তেমন কিছুই আবদার করেনা তার কাছে। বোধ হয় বাপের কষ্টটা একটু হলেও বুঝতে পায় তারা। তাই আর এটা সেটা চাই বলে বলে বাবাকে চিন্তায় ফেলেনা ওরা। কিন্তু ছোট মেয়েটা যে এতকিছু বুঝেনা। তার যেটা চাই, সেটা দিতেই হবে। আর তা যেমন করেই হোক। এইতো, কদিন ধরেই মেয়েটা বলে যাচ্ছে- "বাবা, ও বাবা! তুমি দোকানে যে যে ধরণের ইফতারি তৈরি কর, তা বাড়ি আননা কেন? আমার যে খেতে মন চাচ্ছে!"

এদিকে মেয়ের আবদার শুনে হালিম বাবুর্চি মহা ফাঁপরে পড়ে। না পারে মেয়েকে না বলতে আর না পারে ঐসব দামি দামি ইফতারি কিনে আনতে। ওগুলো অন্তত একদিন আনলেও যে অনেক টাকা খরচ হয়ে যাবে তার। এদিকে রোযার পরেই ঈদ। কাজেই সামনেতো খরচ রয়েছেই- মেয়েদের জামা-কাপড় কেনা, বাজার খরচ; তাছাড়া একটু মাংস-পোলাওয়েরওতো ব্যবস্থা করতে হবে, নাকি! তাই ভেবে কি করবে- কিছুই ঠিক করে ওঠতে পারেনা হালিম বাবুর্চি।

এদিকে কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরলেই মেয়ে জিজ্ঞেস করে বসে- "বাবা, ও বাবা! আজ এনেছ? তোমার হাতে বানানো মজার মজার সব ইফতারি!" এতে হালিম বাবুর্চি লজ্জিত হয়। সে যে একদিনও আনতে পারেনা সাথে করে। সেগুলো কিনে আনা যে তার সমর্থের বাইরে। তাই মিথ্যে বলে কয়ে মেয়েকে বোঝ দেয় সে- "হায় আল্লাহ! আজকেও ভুলে গেছি! একদম ভুলে গেছি মা!" বাপের কথায় কিছুটা মন খারাপ হয় মেয়ের। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে সে। সাথে গাল ফুলানো থাকে অভিমানে। অবশেষে বাপের কথায়ই মান ভাঙে তার। জন্ম নেয় পুর্নআশা। বাবা নিশ্চয়ই কাল এনে দেবে। তাই ভেবে খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়ে সে।

কথাগুলো মনে করে হঠাৎ মনটা খারাপ হয়ে যায় হালিম বাবুর্চির। মনোযোগ সরে যায় চূলা থেকে। এসময় একটা কর্কশীয় গলায় মনোযোগ ফিরে তার- "ঐ মিয়া, কি ভাব এতো? হাত চালাও, তাড়াতাড়ি হাত চালাও! সময় যে বয়ে গেল। শুনি.....,তোমার শেষ হবে কখন!" হালিম বাবুর্চি জবাব দেয়- "এইতো, হয়ে গেলো বলে।" - "হ্যা, হ্যা; তাই যেন হয়।" বলে নিজের কাজে মন দেয় হোটেল ম্যানেজার। কাজ বলতে তার- টাকা পয়সার হিসেব রাখা আর চেয়ারে বসে বসে ঝিমুনো! এখন অবশ্য হিসেব নিয়ে ব্যস্ত তিনি!

নিজের কাজ শেষ করে হালিম বাবুর্চি হাত-মুখ ধুয়ে এসে ম্যানেজারের সামনে অতি বিনম্রভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে! বোধ হয় কিছু একটা বলতে চায় সে। কিন্তু সেদিকে একবারের জন্যও চোখ পড়েনা ম্যানেজারের! তিনি ব্যস্ত তার আপন কাজে! যেন কলম পিষে এখনি সমস্ত হিসেবের গোষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়বেন, যাতে পরে অনেকটা সময় ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে কাটাতে পারেন!

হালিম বাবুর্চি বেশ বুঝতে পারছে ম্যানেজারের ব্যস্ততার বিষয়টা। কিন্তু তবুও মেয়ের কচি মুখটা মনে করে আর না বলে পারলোনা সে। বলেই ফেললো- "সাহেব, একখান কথা বলার ছিল আমার!" কথাটা শুনে এক পলকের জন্য হালিম বাবুর্চির দিকে তাকিয়েই আবার নিজের কাজে মন দেয় ম্যানেজার। তবে বলার সুযোগ করে দেয় হালিম বাবুর্চিকে। বলে- "হ্যা, বলো! কি যেন বলবে তুমি!" - "বলছিলাম, আমার মেয়ে- ছোটটা; আমার হাতের বানানো ইফতারি খেতে চেয়েছে! তাই বলছিলাম, যদি অল্প অল্প করে হলেও আমাকে কিছু ইফতারি দিতেন.....তাহলে মেয়েটার জন্য নিয়ে যেতাম!" কথাটা শুনেই ফুঁসে ওঠল ম্যানেজার- "ঐ মিয়া, কি কইলা? এইসব ইফতারি নিবা মেয়ের জন্য! এগুলোর কত দাম জানো.....? যত্তসব বেখেয়ালী আবদার!" এইসব বলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিল হালিম বাবুর্চিকে। কত কাকুতি-মিনতি করল সে, তবু মন গললোনা ম্যানেজারের! তার সে এক কথা- "ওসব বড়লোকী খাবার গরীবের জন্য না!" ম্যানেজারের কথা শুনে দুঃখে অন্তর ফেটে যায় হালিম বাবুর্চির। ভাবে- "কত যত্ন করে এতসব  ইফতারি বানায় সে। অথচ নিজে একটাও মুখে দিতে পারেনা। পারেনা নিজের মেয়ের আবদার পর্যন্ত মেটাতেও!" ভাবতে ভাবতে চোখ বেয়ে পানি এসে যায় তার। তাই আর কথা না বাড়িয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে যায় সে।

এদিকে বাবার আসার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে মেয়েটা। কখন তার বাবা আসবে, তার জন্য মজার মজার সব ইফতারি নিয়ে। কিন্তু হালিম বাবুর্চি কি পারবে তার মেয়ের আবদার মেটাতে ! তাই বলে কয়ে আবারো ম্যানেজারের হাতে পায়ে ধরতে! নাকি আজও কোন মিথ্যের আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে তাকে! অথবা নিজের অসমর্থের কথা বলে মেয়েকে এই প্রথম বারের মতো শাসন করবে সে- যে, "ওসব বড়লোকী খাবার আমাদের জন্য না! আমরা গরীব মানুষ, আমাদের রোযা আছে কিন্তু ইফতারি নেই! আছে কেবল রোযা ভাঙার জন্য এক গ্লাস কলের পানি! তাই ফের যদি ওসব আবদার করেছিস-তো, টেনে জিভটা ছিঁড়ে দেব! যাতে আর কখনো কিছু খেতে মন না চায়!"

১৪

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

"মাছ বলেছে"
- ইয়াছিন বাংলাদেশি ।

মাগো-
মাছ বলেছে ধরবে আমায়
কুটবে নাকি দাঁড় বটিতে,
ছাঁইয়ের মাঝে ভীষণ ঘঁসে
আছড়ে দেবে ফের মাটিতে;
তুমিই বলো-
সে বেচারা কেমন করে
ধরবে আমায় ডাঙায় ওঠে,
প্রাণ খোয়াতে নিজ খুশিতে
আসতে যাবে হাতের মুঠে ?
পারবেনাতো-
তাই বলি আর দুঃখ কিসের
দাওনা আমায় যুদ্ধে যেতে,
খোদার রাহে বর্শি হাতে
রাক্ষুসে সব মাছ ওঠাতে ;
ভাবছো কিগো-
সুযোগ পেলে গিলে খাবে
তোমার ছেলের আস্ত দেহ,
ভেবোনা মা পারবেনা তা
সঙ্গে আছে প্রভুর স্নেহ !

১৫

(০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

"খান্নাস উপাধী"
- ইয়াছিন বাংলাদেশি ।

স্যাটেলাইট চ্যানেলের
বিষাক্ত ছোবলে,
অশালীন মডেলের
লাজহীন কবলে;
চরিত্র ডুবেছে
বিশ্বের মানুষের,
চারিদিকে জয় গান
ইবলিশ খানুসের !
থেমে নেই আজ তাই
রক্তের নোনাজল,
বয়ে যায় যার তার
অবিরাম কলোকল;
তবু যদি হায় হতো
পাপীদের শিক্ষা,
হয়তোবা পেয়ে যেতো
করুণা ভিক্ষা !
আফসোস কেউতো
ফিরে আর আসেনা,
সেই ডুব দিয়েছে
যাতে আর ভাসেনা;
তাই বুঝি হয়ে যায়
সলিলেই সমাধী,
একে একে লাভ করে
খান্নাস উপাধী !

১৬

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

"মন্দ-ভালো"
- ইয়াছিন বাংলাদেশি ।

লোকে যাকে মন্দ বলে
আসলে কি মন্দ সে,
এই কথাটি প্রমাণসহ
জোর দিয়ে ভাই বলবে কে ?
বাইরে থেকে মন্দ-ভালো
হয়নাতো আর পূর্ণ জানা,
যদি না যাও কাছাকাছি
না হয় কোন লেনা-দেনা ।
যাকে তুমি সভ্য দেখো
আদতে কি ইহাই তা,
তাহলেতো সত্যি হতো
মরীচিকার মিথ্যে না !
এই কথাটি বুঝেও যদি
শুধুই কর নটের ভান,
তাহলে কও বলব কি আর
ধুলায় মিশুক অর্জিত মান ।
না হয় ভালো আর খোঁজনা
কে সাধু কে বেজায় খল,
নিজের মাঝেই পাবে তুমি
যা চাহো তার প্রতিফল ।

১৭

(০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো গল্প)

একটা কুকুর- যাকে খুবই অভুক্ত মনে হচ্ছিল। ফলে হন্যে হয়ে খাবারের সন্ধ্যান করছিল সে। কিন্তু কোথাও এতটুকু খাবার জোটেনি তার- যা দিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করতে পারে। কারণ, মানুষের পাশা-পাশি কুকুরের সংখ্যাটাও কিছু কম বৃদ্ধি পায়নি। তাছাড়া, জিনিসপত্রের উর্দ্ধগতির কারণে লোকেরাও আর আগের মত খাবার নষ্ট করেনা। পারলে গোস্তটা খেয়ে হাড্ডিটা পর্যন্ত চিবিয়ে খেয়ে ফেলে! যদি না পারে, তখন ভিন্ন কথা! আর তখনি কপাল খুলে কুকুরদের! কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় খাদ্যের প্রতুলতা কম থাকায়, এক প্রকার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় তাদের! আর এ যুদ্ধে যে জয় লাভ করে, খাদ্য কেবল তারই কপালে জোটে! এখানে দয়া-মায়ার বালাই নেই! থাকবেই বা কি করে- আজকের দিনে যেখানে মানুষের মাঝেই মমতা নেই! কাকে মেরে কে খাবে সেই প্রতিযোগীতা চলে, সেখানে কুকুরতো একটা হিংস্র প্রাণীই! তাদের মনে মমতার উদ্রেক হবে কোথা থেকে! কাজেই দুর্বলদের জায়গা এখন আর পৃথিবীতে হয়না, সে মানুষই হোক কিংবা কুকুর অথবা অন্যকোন প্রাণী!

তবে একদিক থেকে শহরের কুকুরগুলো বেশ সুখেই আছে বলতে হবে! ওখানে খাবারের অভাব হয়না! যদিও মাঝেমাঝে কর্পোরেশনের লোকেদের কাছে অসহায়ভাবে প্রাণ খোয়াতে হয়! এ দিকটাই যা মর্মস্পর্শি! নতুবা সব ঠিকই ছিল! তবে কিছুটা সুবিধা পেতে চাইলে ওরকম লাইফ রিস্কতো নেয়াই লাগে! তাই মনে করেই হয়তো আজকাল গ্রামের কুকুরগুলো অপেক্ষাকৃত শহরাঞ্চলগুলাতে প্রস্থান করতে শিখেছে! হাজার হোক ক্ষিধের জ্বালা! সব সইলেও এ জ্বালা সওয়াবে সাধ্য কার!

যাইহোক, ক্ষুধার্ত কুকুরটি নিজের খাবারের জন্য কিছুই না পেয়ে অবশেষে টার্গেট করল ছোট ছোট মুরগি ছানাদের। এছাড়া কিইবা আর করবে সে। তারচেয়ে দুর্বলতো কেবল ঐ বাচ্চাগুলোই। যাদেরকে সহজেই ধরে খাওয়া যাবে। আর খেতেও ভারি সুস্বাদু হবে। একেবারে কচি গোস্ত কি না!

কিন্তু সমস্যা হয়ে গেল ছানাদের মা'টাকে নিয়ে। বেচারি বেশ সতর্ক তার সন্তানদের ব্যাপারে। খুটে খুটে খাবার খাচ্ছিল ঠিকই কিন্তু আড় চোখে ঠিক নজর রাখছিল কুকুরটার প্রতি। সে বোধ হয় বুঝতে পেরে গিয়েছিল কুকুরটার দূরভিসন্ধি!

কুকুরটাও কম যায়না । সে এখন দিশাহীন ক্ষুধার্ত। সুতরাং পেটে তাকে খাবার পুড়তেই হবে। তাই সাহস করে আক্রমণ করে বসল ছানাদের। এদিকে মা মুরগিটা যখনি দেখতে পেল কুকুরটা তার ছানাদের দিকে এগিয়ে আসছে, ওমনি এক ধরণের শব্দ করে তাদের সতর্ক করে দিল সে! সেইসাথে এক ঝাপটায় কুকুরের মুখের ওপর পরে ভালমত আঁচড়ে দিল তাকে! ফলে কুকুরটি ভয় পেয়ে ছানা খাওয়ার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দৌঁড়ে পালাল! যাওয়ার আগে অবশ্য কয়েকবার ঘেউ শব্দ করে মুরগিটাকে ভয় দেখাতে চেয়েছে, কিন্তু সাহসী মুরগিটা এতে বিন্দুমাত্র টলেনি! তার কাছে তখন হয়তো নিজের প্রাণের চেয়ে ছানাদের প্রাণটাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল; তাই সে একটা নিরীহ পাখি হয়েও হিংস্র কুকুরটাকে পরাস্ত করতে সমর্থ হয়েছিল! আসলে সন্তানের মায়া মায়েদের সর্বদাই বিচক্ষণ, সাহসী এবং কর্তব্য পরায়ণ করে রাখে! তাই প্রয়োজনে জীবন বাঁজি রাখতেও পিছ পা হয়না তারা!

কুকুরটি এবারেও ব্যর্থ হয়ে ভীষণ দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেল! কারণ, যেরকম ক্ষিধে তার পেয়েছে- তাতে কোন রকমে আজকের দিনটা পার হলেও কাল আর ভোরের সূর্য দেখতে হবেনা! তার আগেই মরে পড়ে থাকতে হবে! তাই যেভাবেই হোক, একটা না একটা কিছু তাকে জোগাড় করতেই হবে! প্রয়োজনে মানুষের ঘরে হানা দেবে! জীবনতো বাঁচাতে হবে না কি!

যেই ভাবা সেই কাজ। চুপি চুপি এক গেরস্থের ঘরে ঢুকে পড়েছে সে। সবাই তখন ঘুমে মগ্ন। দুপুরে ঘুম- খাবার পরে যেটা হয় আর কি! কাজেই এবার আর খাবার মুখছাড়া হবেনা। ভাবতেই একটু হাসির রেখা ফুটে ওঠল কুকুরটির মুখে। খুশিতে একটু নাচতেও ইচ্ছে করছিল। কিন্তু এতটা বিনোদন কপালে এখন নাও সইতে পারে। তাই আপাতত লেজটা নাড়িয়ে ক্ষান্ত হল সে। এরপর আস্তে করে ভাতের ডেকের ঢাকনাটা ফেলে দিল। এতে কিঞ্চিত শব্দ হল বটে। তবে কেউ যেন শুনতে না পায়, সে জন্য চোখ বন্ধ করে রাখল সে! এটা অবশ্য কুকুরনীর কাছ থেকে শেখা! ভালবেসে সেই একদিন কথাটা বলেছিল! তাই কাজের সময় পদ্ধতিটা প্রয়োগ করল আজ! মনে হচ্ছে কাজও হয়েছে! বোধ হয় সত্যি সত্যি কেউ শুনতে পায়নি! নইলে এতক্ষণে কেউ না কেউ তাড়া করে বসতো!

কাজেই এক প্রকার খুশি মনেই কুকুরটা ভাতের ডেকে মুখ দিল। সবে এক লেহন দিয়েছে, ওমনি গম করে একটা আঘাত পড়ল পিঠে! ব্যথায় কুকিয়ে ওঠল বেচারা! মুখ ঘুরে তাকাতেই দেখতে পেল রাক্ষসী চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গেরস্থ গিন্নী। ফলে জীবন বাঁচাতে কোন রকমে পালিয়ে বাঁচল সে! তার আগে আরো দু চার ঘাঁ অবশ্য পিঠের ওপর পড়া হয়ে গেছে! সেইসাথে সইতে হয়েছে অশ্রাব্য গালি-গালাজ!

এভাবে একের পর এক খাদ্য বঞ্চিত হওয়ার পর কুকুরটি অবশেষে আর কোন উপায় দেখতে না পেয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিল! কিন্তু আত্মহত্যা যেহেতু মহাপাপ, সেহেতু এটার চিন্তা ত্যাগ করতে হল তাকে! তবে না খেতে পেয়ে এমনিতেই তাকে মারা পড়তে হবে! তাই মরার আগে বদমাইশ মানুষগুলারে একটা উচিত শিক্ষা দিয়ে যেতে চাইল সে! যাতে তার পরে আর কোনদিন একটা কুকুরকেও না খেয়ে মরতে না হয়! সবাই যেন সময় থাকতেই তার দেখানো পথটাকে বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে বেঁছে নেয়! আর সেটা হচ্ছে- মনুষ্য সমাজে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, প্রয়োজনে ছিনিয়ে নেয়া! কারণ, একটা কথা সে কিছুতেই ভেবে পায়না- "আরে অকৃতজ্ঞের দল, কত কষ্ট করেই না আমরা রাতের বেলা তোদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি! জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চোর-ডাকাত তাড়া করি! আর এর বিনিময়ে একবাটি ভাতের মাড়ও খেতে দিসনা আমাদের! তোরা এতই নিষ্ঠুর! এতটা পাষাণ!"

কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই কুকুরটার দেহটা কেমন যেন নেতিয়ে পড়ে। ফলে ধপাস করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। একেতো দীর্ঘদিন যাবত্ না খেতে পাওয়া, তার ওপর এতগুলো শক্ত মার- একসাথে হজম করা হয়ে ওঠেনা তার। ফলে ধীরে ধীরে চোখদুটো তার বন্ধ হয়ে আসে। চারিদিকে নেমে আসে ভীষণ অন্ধকার। যে অন্ধকারের মাঝে হারিয়ে যায় কুকুরটি! কিন্তু শেষকালে দেখা স্বপ্ন তার বাস্তবায়ন হয়না! তাই বোধ হয় আজো আমাদের চোখের আড়ালে এভাবেই প্রাণবায়ু ত্যাগ করে অসহায় কুকুরগুলো! যাদেরকে পারিশ্রমিক হিসেবে এঁটো ভাততো দূরে থাক, এক বাটি ভাতের মাড় দিতেও নারাজ আমরা!

১৮

(০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো গল্প)

- "বাজান.......পালাও! কে জানি আইতাছে!" ছোট্ট কমল বাইরে থেকে কাউকে আসতে দেখে সতর্ক করে দেয় তার বাবা রইছকে।

রইছ মিয়া তখন সদ্য খেতে বসেছিল। কিন্তু খাওয়া আর কপালে জুটলনা তার! ছেলের সতর্ক বার্তা শুনার সাথে সাথে পেছনের দরজা দিয়ে যত তারাতারি সম্ভব ভেগে গেল।

কমলের মা মালেকা বেগম আটকাতে চেয়েও যেন পারলনা, যদি ধরা পড়ে যায় এই ভয়ে!

একটু পরেই কমলদের বাড়িতে প্রবেশ ঘটল কয়েকজন পুলিশের। তাদের সাথে দেখা গেল পাশাকে। সমস্ত মুখে তার বদমায়েশি হাসির ছাপ।

হঠাৎ পুলিশ দেখে আঁতকে ওঠল মালেকা বেগম! ভয় পেয়ে গেল কমলও! ঠায় অনড় হয়ে ধুরু ধুরু বুকে দাঁড়িয়ে রইল তারা!

এসময় মুখ ফুটল পাশার: "কি ছোঁরা.....তর বাপে কই?"

কমল কিছু একটা বলতে যাবে, তখনি তার মা ওকে বাধা দিয়ে নিজেই বলে ওঠল- "ওর বাপে বাড়িত নাই!"

মালেকা বেগমের সোজা সাপ্টা উত্তর শুনে তুষ্ট হতে পারলনা পুলিশ অফিসার। জিজ্ঞেস করে বসল- "তা- গেছে কোথায়?"

পুলিশ অফিসারের মুখ থেকে প্রশ্নটা বের হওয়ার সাথে সাথে পাশা বলে ওঠল- "কোথায় আর! বজ্জাতটা নিশ্চিত পালায়ছে!" এসময় তার চোখ মুখের ভঙ্গিটা সত্যিই দেখার মত ছিল!

পুলিশ অফিসার খুব কড়া চাহনীতে শাসিয়ে যায় মালেকা বেগমকে- "পালিয়ে আর যাবে কোথায়! ধরাতো তাকে পড়তেই হবে!"

আর দেরি করেনা তারা। বের হয়ে যায় ঘর থেকে। একটু স্বস্থি ফেলে মালেকা বেগম।

এসময় হঠাৎ করে আবারো আগমণ ঘটে পাশার। দাঁত কেলিয়ে বলে যায় সে- "এক হপ্তার মইধ্যে যদি তোর গুণধর সোয়ামী না ধরা দেয়, তয় তগরে গাঁও ছাড়া করমু কইয়া দিলাম! পরে টের পাবি এই পাশা মিয়া কি জিনিস!" এই বলে বেরিয়ে যায় সে।

তখনো বাইরে থেকে তাকে চেঁচাতে শোনা যায়- "মনে থাকে যেন- এক হপ্তাহ।"

মালেকা বানু কিছু বলেনা। তবে কপালে তার চিন্তার স্পষ্ট ছাপ ফুটে ওঠে। যা দেখে কমল জানতে চায়- "মা- ওরা কি আমাগোরে হাছা হাছাই বাইর কইরা দিবো?"

ছেলেকে জড়িয়ে ধরে মালেকা বেগম। বলে ওঠে- "নারে বাপ- আল্লাহর ইচ্ছায় সব ঠিক হইয়া যাইব! এহন ঘুমাবি চল। মেলা রাইত হইয়া গেছে।"

মায়ের কথা মত ঘুমাতে যায় কমল। মালেকা বেগম দরজা লাগিয়ে কুপির আলোটা নিভিয়ে দেয়। এরপর নিজেও শুতে যায়।

কিছুক্ষণের মধ্যে গভীর ঘুমে তলিয়ে যায় কমল। কিন্তু মালেকা বেগমের চোখে ঘুম আসেনা। বার বার করে মনে পড়তে থাকে পাশার কথাগুলো।

হঠাৎ দরজায় কারো আঘাতের খট খট শব্দ শুনতে পায় মালেকা। জিজ্ঞেস করে ওঠে- "কে?"

কিন্তু কেউ কোন সাঁড়া দেয়না। একটু পরে আবারো শোনা যায় খট খট শব্দ। মালেকা বেগম আবারো জানতে চায়। কিন্তু সাঁড়া মেলেনা। কেবল একটু পর পর খট খট শব্দ শোনা যায়।

মালেকা বেগম এবার আস্তে আস্তে বিছানা থেকে নেমে আসে। এরপর চৌকির নিচ থেকে দা'টা হাতে নিয়ে দরজাটা খুলে দেয়। তত্ক্ষণাৎ হুড়মুড়িয়ে চাদরে ঢাকা কেউ ঘরে ঢুকে যায়! সাথে সাথে দরজাটাও বন্ধ করে দেয়!

ভয়ে শিওরে ওঠে মালেকা বেগম। কিন্তু চিত্কার করে ওঠেনা লোক লজ্জার ভয়ে। কোনরমকে দা'টা খাড়া করেই জানতে চায়- "আপনে কেডায়- এত রাইতে আমার এইখানেই বা কি?"

চাদরে মোড়ানো লোকটা ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু ওর চোখদুটো ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায়না মালেকা। তাই আবারো জিজ্ঞেস করে- "কেডায় আপনে? কথা কননা ক্যা?"

এবারে মুখের চাদরটা সরিয়ে নেয় লোকটি। চমকে ওঠে মালেকা! বলে ওঠে- "সফি- তুই!"

সফি হাতের ইশারায় সতর্ক করে দেয় মালেকাকে। মালেকা চুপ করে যায়।

এরপর কুপির আলোটা জ্বালিয়ে দেয় মালেকা। বসতে বলে শফিকে। শফি পাশে রাখা চেয়ারটাতে বসে পড়ে।

বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল শফিকে তখন। তাই মালেকা জানতে চাইল- "রাতে খাওয়া হইছে?"

মাথা নাড়িয়ে না সূচক জবাব দেয় সফি। কি যেন একটু ভেবে নেয় মালেকা। এরপর বলে ওঠে- "একটু বয়, আমি খাওন আনতাছি।"

খাবার আনতে পাশের রুমে চলে যায় মালেকা। সফি চেয়ে থাকে কমলের দিকে।

কিছুক্ষণ বাদেই খাবার নিয়ে ফিরে আসে মালেকা। পাত সাজিয়ে দেয় সফিকে। সফি খেতে শুরু করে।

খাবার মুখেই জানতে চায় শফি- "বুবু- দোলা মিয়ার কি অবস্থা? ওনারে দেখতাছিনা!"

আঁচলে মুখ গুজে মালেকা। বলে ওঠে- "বাড়ি ছাড়া! মাদানে পুলিশ আইছিল! তাই গা ঢাকা দিছে!" নাকি কান্নায় জবাব দেয় সে।

কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায় শফি! চোখ মুখ বড় বড় করে বলে ওঠে- "আমারো একই অবস্থা! বাড়ি ছাইড়া পালাইয়া আসছি! কই যামু- কিচ্ছু ঠিক নাই!"

জানতে চায় মালেকা বেগম- "এমন কইরা আর কয়দিন পালাইয়া থাকবি? যদি ধরা খাইয়া যাস!"

এর মধ্যে খাওয়া শেষ করে হাত ধুয়ে নেয় শফি। জবাবে বলে ওঠে- "জান থাকতে ধরা দিমুনা! আর একবার ধরা খাইলে এমনিতেই জান যাইব! দোলা মিয়ারেও কইয়া দিস কথাডা!"

এবার যেন বেরিয়ে যেতে উদ্ধত হয় সফি। মালেকা বেগম পেছন থেকে জিজ্ঞেস করে ওঠে- "এই চোর-পুলিশ খেলা কি আর ক্ষ্যান্ত হইবনা!"

জবাব দেয় সফি- "আল্লাহ চাইলেই হইব! যেইদিন তার মর্জি হয়!"

- "কিন্তু পাশায় যে আমাগোরে হুমকি দিয়া গেছে! এক হপ্তার মইধ্যে ওনি ধরা না দিলে বাড়ি ছাড়া করব!"

বোনের অসহায়ত্ব স্পষ্ট দেখতে পায় সফি। কিন্তু এ মুহূর্তে যেন তার কিছুই করার নেই! কেননা, সে নিজেও এখন অসহায়! সরাসরি খুনের মামলার আসামী! যদিও মিথ্যা মামলা! কিন্তু রাজনীতির গ্যাঁরাকলে পড়ে ফাঁসতে হয়েছে তাকে! সেইসাথে তার সরল প্রাণ দুলা মিয়াকেও!

কাজেই গভীর কষ্ট বুকে চেপে বেরিয়ে যায় সে। যাওয়ার আগে বলে যায়- "আল্লাহর উপর ভরসা রাখ বুবু! একদিন সব ঠিক হইয়া যাইব!"

এর পরের ঘটনা খুবই করুণ। সে রাতেই ধরা পড়ে সফি আর তার দুলা মিয়া রইছ। কয়েকদিনের মধ্যে ফাঁসিও হয়ে যায় তাদের! কিছুই করার থাকেনা তখন অসহায় মালেকা বেগমের! সমাজের কারো কাছ থেকে এতটুকু সহায়তা পায়না সে! সবাই চুপসে থাকে ভন্ড নেতা কামাল পাশার ভয়ে! কারণ, ওর এখন অনেক ক্ষমতা! সরকারি দলের এমপি সে!

ফলে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছেই এ অন্যায়ের অভিযোগ দাখিল করেনা মালেকা! তার বিশ্বাস, একদিন না একদিন সঠিক বিচার ঠিকই পাবে তারা!

কিন্তু আল্লাহর বিচার কেন জানি সহজে হয়না! তাই ঐ কামাল পাশার হিংস্র থাবায় নিজের ঘরেই পুড়ে মরে মালেকার বৃদ্ধ মা-বাবা সহ আদরের ছেলে কমল! ভাগ্যের জোড়ে নিজে বেঁচে গেলেও এখন সে নিতান্তই একটা পাগল! অথচ, তখনো কামাল পাশার দৌরাত্ম এতটুকু কমেনা! সে একের পর এক সর্বনাশ করে চলে মানুষের!

১৯

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো মোবাইল ফোন)

কোন ব্যাপার না ! পঁচিশ কোটি কি বেশি হইল নাকি ? ওরকম হতেই পারে !

(একটু আবুইল্লা সেন্স কাজে লাগাইলামbig grinbig grin)

২০

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

আবুল বাশার আল কলি wrote:

আল্লাহ শয়তানের মসনদ ভেঙ্গে দিয়ে ইসলামের মসনদ তৈরি করে দিন বাংলাদেশের মাটিতে। আল্লাহ আমীন।

ছুম্মা আমীন !

২১

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

"জয় হয় হবেই"
- ইয়াছিন বাংলাদেশি ।

চারিদিকে শত্রু
শয়তানী তাবেদার,
জেগে থাক মুসলিম
নির্ভীক হুঁশিয়ার !
যত পার আল্লাহকে
জপ কর মনেমন,
তিনি ছাড়া নেই কেহ
জেনো হে সত্জন !
ঐ বুঝি এল বলে
আল্লাহর মসনদ,
কেটে যাবে দূর হবে
পাপীদের রসবদ !
শুধু চাই ধৈর্যের
ঈমানী পরিচয়,
ছাই হয়ে ওড়ে যাবে
মেকি সব অভিনয় !
ভয় নেই পেয়োনা
বেঈমানী শক্তি,
জেনে যাক বিশ্ব
মুমিনের ভক্তি !
জয় হয় হবেই
সত্যের চিরদিন,
মিথ্যার পরাজয়
নিশ্চিত একদিন !
যত হোক বলবান
নমরুদ ফেরাউন,
জালিমের জারিজুরি
রবেনা একগুণ !
খোদায়ী বিধানে
হবে সব ধ্বংস,
সমূলে গোড়া থেকে
কানা কড়ি অংশ !
স্লোগানে তাই ছাড়
আল্লাহু আকবার,
দেখি কার সাধ্য
আমাদের রুখবার !
ছিনিয়ে আনবই
সত্যের তসলিম,
যদি হই খাঁটি সব
পাক্কা মসলিম !

২২

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো গল্প)

মাস খানেক আগের কথা। শাহবাগ থেকে মহাখালী যাব। দাঁড়িয়ে আছি বাসের জন্য। কিন্তু প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করার পরও ওঠতে পারলামনা একটি বাসেও। এমনিতেই মহাখালী যাবার বাসের সংখ্যা তুলনামূলক কম। তার ওপর বৃহস্পতিবার। সময়টাও সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। কাজেই লোকে লোকারণ্য শাহবাগ চত্বর। সবারই যেন বাড়ি ফেরার ধুম। বিশেষ করে যারা কর্মের খাতিরে পরিবার ছেড়ে ঢাকা অবস্থান করে, তাদের অনেকেই বৃহস্পতিবার দিন বাড়ি ফিরতে চায়। তাছাড়া রবি-সোম দুই দিন হরতাল। কাজেই পরিবারের সাথে কিছু চমত্কার সময় কাটানোর সুযোগ হাত ছাড়া করতে চাইলনা কেউই। যেন যে করেই হোক, বাড়ি তাদের ফিরতেই হবে!

যাই হোক, অবশেষে আমার অপেক্ষার প্রহর ঘুঁচল। দেখতে পেলাম- একটা ৬ নম্বর বাস, একেবারেই খালি- আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় এই যে, বাসটা খালি থাকা সত্তেও থামার সাথে সাথে অপেক্ষারত যাত্রীরা কে কার আগে ওঠবে- তা নিয়ে প্রতিযোগীতায় মেতে ওঠল। তাদের আশঙ্কা- যদি এই বাসটাও মিস হয়ে যায়! কিন্তু তা আর হলনা- মোটামুটি সকলেই ওঠতে পেরেছে বলে মনে হল আমার কাছে। আমিও ওঠেছি, তবে বসতে পাইনি। তাই উপরের শিক ধরে দাঁড়িয়ে আছি। বাসে তখন প্রচন্ড ভীঁড়। কোনরকম নড়া-চড়া করার ফুরসত নেই!

বাস এগিয়ে চলছে। গতিও মোটামুটি খারাপ না। স্ট্যান্ড বাই স্ট্যান্ড পাড় করে এরই মধ্যে ফার্ম গেট এসে পড়েছে। আশা ছিল, বাকী পথটা বসে যেতে পারব। কিন্তু তা আর হলনা। দুর্ভাগ্য বশত সিট মিললনা কপালে! ভেতরকার ভীঁড় তখনো তেমন কমেনি! যে কয়জন নেমেছে ওখানে, তার চেয়ে কম সংখ্যক ওঠেছে বলে মনে হলনা! আসলে, লোকাল বাসতো! এগুলাতে এরকমই হয়! যারা যারা ওঠেছেন, তাদের নিশ্চয়ই বেশ পরিস্কার ধারণা আছে এতে!

গরমের দিন হলেও চলন্ত বাস বলে গরমটা তেমন ঝেঁকে ধরতে পারেনি। বাইরে থেকে বেশ শীতল হাওয়া আসছিল জানলা দিয়ে। ফলে শাস্তির মধ্যেও কিছুটা শান্তি পাচ্ছিলাম! আমার মনে তখন কেবল একটাই চিন্তা! কোনরকমে মহাখালী যেতে পারলেই হল! তারপর ওখান থেকে টিকিট কেটে পিপিএল বা চলন বিলে করে সোজা ঘোড়াশাল! ব্যস, কাহিনী শেষ! সেইসাথে আমার ভ্রমণও!

কিন্তু আমার ভাবনায় ছেদ পড়ল তখন, যখন বাসটা বিজয় স্মরণীর কাছাকাছি এসে থেমে গেল। মনে মনে কিছুটা বিরক্ত হলাম বটে। তবে এই ভেবে সান্তনাও পেলাম যে, বোধ হয় সিগন্যাল পড়েছে! একটু পরেই নিশ্চয়ই চলতে শুরু করবে আবার! কিন্তু হায়! সে ভাবনা আমার ভাবনাই থেকে গেল! একটু পরে জানতে পারলাম- সামনের রাস্তা পুরোটা ব্লক! মহাখালীতে নাকি কিসব গন্ডগোল হচ্ছে! পুলিশের সাথে শ্রমিক সংঘর্ষ!

এরই মধ্যে রাত নেমে পড়েছে। এক জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে আছে বাসটা। দাঁড়িয়ে আছি আমিও। আমার সমস্ত শরীর ঘেমে ভিঁজে একাকার হয়ে গেছে। পা দুটোও কেমন জানি টন টনাচ্ছে! সেইসাথে মাথাটা বারবার চক্কর মেরে ওঠছে! ইচ্ছে করছিল- মেঝেতেই বসে পড়ি! কিন্তু সে সুযোগ আর হয়ে ওঠলনা! কারণ, এতটুকু জায়গা খালি নেই বাসের মধ্যে! তার ওপর পেয়েছে তৃষ্ণা! এমন তৃষ্ণা- যেন কয় বছর ধরে পানি পড়েনি গলায়! চোখদুটো ওল্টে যেতে চাইছিল বারবার! মনে হচ্ছিল- মুখটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে! আসলে, উপায় যখন হারিয়ে যায়- তখন সবদিক থেকেই যায়; জীবনটা তখন এতটাই অসহায় মনে হয় যে- মরতে পারলেই বুঝি বেঁচে যাই! তবুও বাঁচার চেষ্টা কমেনা এতটুকু! কথায় আছেনা- "যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ।"

কাজেই অসহায়ত্বকে জয় করার চেষ্টা করে যেতে লাগলাম! খুঁজতে লাগলাম- কারো কাছে একটু পানি পাওয়া যায় কিনা! যা দিয়ে আর কিছু না হোক, অন্তত তৃষ্ণাটা মেটানো যাবে! কিন্তু ভীঁড়ের মধ্যে নড়া-চড়া করার সুযোগ না থাকায়, চোখ দুটোকে কাজে লাগালাম! যা চতুর্দিক ঘুরানোর পরেও একটু আশার আলো দেখতে পেলামনা!

এমন অবস্থায় আমার তখন প্রচন্ড কান্না পাচ্ছিল। ভিতরে ভিতরে কাঁদছিলামও! কিন্তু ঘামের কারণে বাইরে থেকে বুঝা যাচ্ছিলনা! এসময় একটা কর্কশ গলা ভেসে এল আমার কানে- "ঐ মিয়া, ঠিক হয়া খাড়ান! আপনার শরীরের ঘাম আমার ওপরে পড়তাছে!" আমি কোনরকমে স্যরি বলে একটু সরে দাঁড়াতে চাইলাম। এসময় লক্ষ্য করলাম- লোকটার ছোট-খাট হস্তি সমেত পা খানা আমার একটা পাকে প্রচন্ডভাবে পিষে রেখেছে! রাগে আমার মাথা গরম হয়ে গেল! মন চাইছিল- শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে লোকটার হোঁত্কা মুখে একটা দশ কেজি ওজনের ঘুঁসি মেরে বসি! কিন্তু এই ভেবে থেমে গেলাম যে- লোকটার যেরকম দানবাকৃতি চেহারা, আমি একটা ঘুঁসি দেয়ার পরে আমার যে কি অবস্থা হবে- তা একমাত্র আল্লাহই বলতে পারে! কারণ, একেতো আমি পাতলা চিতলা; তার ওপরে ভীষণ ক্লান্ত! শেষে আমার পরিবর্তে আমার মৃতদেহটা বাড়ি পৌঁছায় কিনা সন্দেহ!

তাই বিনয়ের সুরেই বললাম- "আঙ্কেল, আপনার পা'টা একটু সরান।" আমার কথা শুনেতো, লোকটা ইয়া বড় এক চাহনী দিল! যেন কত বড় অন্যায় করে ফেলছি আমি! তবুও আরেকবার বললাম আমি- "আঙ্কেল, পা'টা সরান। আপনার পা'টা আমার পা'কে পিষে রেখেছে!" লোকটা এবার পা খানা সরালো ঠিকই, কিন্তু গজ গজ করে বলে ওঠল- "ভীঁড়ের মধ্যে ঐরম একটু আকটু পিষা-পিষি হইতেই পারে! তাতে এমন ক্ষেপনের কি আছে!"

আমিতো থ মেরে গেলাম! কি বলছে লোকটা! বেটাতো দেখি পুরাই কিলিপ বাজ! নিজের টুকু ষোল আনা! আর পরেরটা এক আনাও না! এমন লোকেদের ঘাড়ে-ঘোড়ে দেওন উচিত! তাইলে বুঝতে পারতো- ক্ষেপন কারে কয়! মেজাজটা চরম পর্যায়ে তিরিক্ষি হয়ে থাকলেও নিয়ন্ত্রণ করে নিলাম! কারণ, রাগকে যারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে; তারাইতো মানুষ! তাছাড়া, ধৈর্য ধরলে এক সময় না এক সময় দুঃখের মুহূর্ত ঠিক কেটে যায়! ফিরে আসে অনাবিল শান্তি! কারণ, দুঃখের পরে সুখ আসবে এটাই স্বাভাবিক!

একটু পরেই বাসটা আবার চলতে শুরু করল। দেখতে দেখতে চলে এল মহাখালী। ততক্ষণে স্বাভাবিক হয়ে গেছে সবকিছু। বুঝার কোন উপায়ই নেই যে, কিছুক্ষণ আগে এখানে হট্রগোল হচ্ছিল!

যাইহোক, বাস থেকে নেমে সোজা হাঁটা ধরলাম কাউন্টারের উদ্দেশ্যে! ওখানে পৌঁছেই প্রথমে একটা পানির বোতল কিনে ঢক ঢক করে খেয়ে তৃষ্ণা মিটিয়ে নিলাম! আহ! এতক্ষণে যেন প্রাণটা ফিরে এল আমার! মনে মনে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম বাসের জন্য! বাড়ি ফেরার প্রত্যয়ে! শত কষ্ট ব্যথা-বেদনা উপেক্ষা করে! কারণ, বাড়ি যে আমাকে ফিরতেই হবে! যেখানে রয়েছে হাড় জুড়ানো শান্তি! আমার মা-বাবা সবকিছু!

২৩

(০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো উপন্যাস)

ইমাম সাহেব: একজন সমাজ সংস্কারক
- ইয়াছিন বাংলাদেশি ।

"আমাদের সমাজ- আমাদের আচরণের সমষ্টি । এখানে থাকবে ভাল-মন্দ দুটুই । কিন্তু সুস্থ সমাজের বৈশিষ্ট হল- নেতৃত্ব থাকবে ভালর । অতএব, বলা চলে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে অসুস্থ । নইলে এত মারা-মারি, হানা-হানি, অনিয়ম আর নৈরাজ্য থাকবে কেন ? যেখানে মানুষের জান-মাল, আব্রু-ইজ্জত কোনটাই সুরক্ষিত নয় ! কিন্তু প্রশ্ন হল- এর জন্য দায়ী কে ?"

মসজিদের বারান্দায় উপবিষ্ট কয়েকজন মুসল্লিদেরকে এ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন মহল্লার নতুন ইমাম সাহেব ।

আজই তিনি এ মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব নিলেন । সেইসাথে দায়িত্ব নিলেন সমাজকে ঝেড়ে-মুছে পরিস্কার করার । আর যারা তাঁর এ কাজে সমর্থন দিয়েছেন, তাদেরকে নিয়ে আসরের নামায শেষে জরুরী বৈঠকে বসেছেন তিনি; যাদের মধ্যে রয়েছে কিছু যুবক ছেলে-পুলে । আল্লাহ তাদের কবুল করুন ।

ইমাম সাহেবের এ প্রশ্নের জবাবে, যুবকদের একজন বলে ওঠল- "এর জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী । আর এর থেকে উত্তরনের পথও আমাদেরকেই বের করতে হবে ।"

আরেকজন বলে ওঠল- "আপনি শুধু আমাদেরকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিন । আল্লাহ চাহেতো অচিরেই আমরা কামিয়াব হবো । সমাজে ফিরে আসবে শান্তি । ঠিক যেমনটি ছিল রাসূলের (সঃ) জামানায় ।" তার এ কথার সাথে বাকী যুবকেরাও সমর্থন জানাল ।

যুবকদের এরকম আত্মবিশ্বাসে বেশ খুশি হলেন ইমাম সাহেব । বলে ওঠলেন- "তোমাদের মধ্যে যে জাগরণের ইঙ্গিত আজ আমি দেখতে পেয়েছি, তা যেন অটুট থাকে আমৃত্যু । তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য করবেন । তবে একটা কথা মনে রাখবে, তোমরা যুবকরাই কিন্তু একটা সমাজ তথা রাষ্ট্রের প্রধান হাতিয়ার । যাদের ওপর নির্ভর করে সে সমাজের উত্থান-পতন । অতএব, সততা অবলম্বন কর- সাফল্য আসবেই ইন-শা'আল্লাহ !"

ইমাম সাহেবের কথা শেষ হলে সকল যুবক ভাইয়েরা সমস্বরে বলে ওঠে- "আমরা আল্লাহর পথে ছিলাম, আছি এবং থাকব । আর এটা যদি হয়ে থাকে সত্ পথ, তবে আমরা আল-হামদু-লিল্লাহ সততার ওপরই আছি । বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা । কারণ, তিনি চাইলে কি না পারেন- 'যখনি তিনি কোন কিছুকে বলেন- হও, আর সাথে সাথে তা হয়ে যায় !" সবাই একত্রে বলে ওঠল- 'সুবহান- আল্লাহ !' হে আল্লাহ ! তোমার ক্ষমতার শেষ নাই !

এবারে ইমাম সাহেব কাজের কথায় আসলেন, বললেন- "তোমরা এখানে পাঁচ জন আছ । প্রথমত, তোমাদের কাজ হল- এই মহল্লায় কতজন অধিবাসী আছে, তার একটা তালিকা প্রণয়ন করা । এরপর নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী, কিশোর-কিশোরী এবং ছেলে-বুড়োদের পৃথক হিসেব প্রণয়ন করা । এতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া আমাদের জন্য সহজ হবে ! তবে চেষ্টা করবে আগামী জুম্মা বারের মধ্যে কাজগুলো পরিপূর্ণরূপে শেষ করতে । এজন্য তোমরা একেকজন একেক কাজের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পার । তাহলে অনেকটা সহজ হয়ে যাবে তোমাদের জন্য । তবে হ্যা, একথা অবশ্যই মনে রাখবে- আগামী জুম্মা বারের মধ্যেই যেন অর্পিত কাজগুলোর সুরাহা হয়; কেননা, সময়ের কাজ সময়ে করতে না পারলে কখনোই আর করা হয়ে ওঠেনা ! অতএব, সাবধান !"

যুবক ভাইয়েরা বলে ওঠল- "ইন-শা'আল্লাহ, যথাসময়ের মধ্যেই আমরা আমাদের কাজগুলো শেষ করব । আপনি একদম চিন্তা করবেননা ।"

যুবক ভাইদের এরকম কথা শুনে একটু তৃপ্তির হাসি হাসলেন ইমাম সাহেব । এরপর বলে ওঠলেন- "তবে দেখো, কলেজ আর পড়া-শোনা যেন কারো কামাই না হয় ! কারণ, তোমাদের দৈনন্দিন কাজগুলো করেই কিন্তু ঐ কাজগুলোও সম্পন্ন করতে হবে ! নইলে অন্যদের তুলনায় তোমরা পিছিয়ে পড়বে ! আর পিছিয়ে পড়া লোকেরা চাইলেও কিন্তু সমাজের জন্য কিছু করতে পারেনা ! আশা করছি, তোমরা বুঝে গেছ ! কারণ, তোমাদের মধ্যে আমি যথেষ্ঠ জ্ঞানের ছাপ দেখতে পেয়েছি । আর জ্ঞানীতো তারাই, যারা ভাল-মন্দ ফারাক করার ক্ষমতা রাখে ।"

ইমাম সাহেবের গাম্ভীর্যপূর্ণ কথা শুনে যুবকগণ জবাব দিল- "আল-হামদু-লিল্লাহ, আমরা যা বুঝার বুঝে গেছি । ইন-শা'আল্লাহ, আমরা আমাদের সমস্ত দায়িত্বগুলোই যথার্থরূপে পালন করতে সমর্থ হবো । তাহলে এবার বরং ওঠা যাক- বিকেল বেলা একটু হাঁটা-হাঁটি না করলে আবার শরীর খারাপ হতে পারে । কেননা, এসময়টা খুবই উপকারী শরীরের জন্য ।"

ইমাম সাহেব বলে ওঠলেন- "তাতো অবশ্যই । তবে তার আগে তোমাদেরকে একটি শপথ বাক্য পাঠ করতে হবে । যা সর্বদা তোমাদের অন্তরে জঁপ করতে হবে ।"

যুবকগণ জবাব দিল- "কি সেই শপথ বাক্য ?"

ইমাম সাহেব বলতে লাগলেন, "শোন-

'আল্লাহ মালিক
আল্লাহ খালিক
আল্লাহ মোদের রব,
তিনি ছাড়া-
নেই কেহ নেই
তিনিই হলেন সব ।'

ব্যস, এটুকুই । আশা করি মনে রাখতে কষ্ট হবেনা । আর এটা অন্তর দিয়ে বার বার জঁপ করলে আল্লাহ চাহেতো তোমাদের কাজে দৃঢ়তা আসবে । এবার তাহলে যাও তোমরা- সন্ধ্যা হওয়ার আর বেশি দেরি নেই !"

যুবকগণ ইমাম সাহেবকে সালাম জানিয়ে শপথ বাক্যটি জঁপতে জঁপতে বেরিয়ে গেল মসজিদ থেকে । আসলে, শপথ বাক্যটি তাদের ভীষণ পছন্দ হয়েছে । কেননা, অতি অল্প ভাষায় কি সহজে আমাদের জীবনে মহান আল্লাহর কর্তৃত্ব ফুটে ওঠেছে এখানে !

ইমাম সাহেব তাদেরকে "ফি আমানিল্লাহ" বলে বিদায় জানালেন ! এরপর আল্লাহর দরবারে এই বলে হাত ওঠালেন-"হে আল্লাহ ! আমাদের একচ্ছত্র মালিক ! তোমার শাশ্বত করুণার অঢেল খাজাঞ্চিখানা থেকে একটু করুণা আমাদের ওপর অর্পণ কর ! যেন আমরা আমাদের এ মহতি উদ্যোগে সফল হতে পারি ! তোমার দেখানো পথে পথহারাদের ফিরিয়ে আনতে পারি ! সেইসাথে আমাদের ওপর তোমার অর্পিত দায়িত্বগুলো সুচারুরূপে পালন করতে পারি ! সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে পারি শান্তি-সমৃদ্ধি এবং ইনসাফের রাজত্ব ! মানুষের মনে জাগাতে পারি ভ্রাতৃত্ববোধ এবং দয়া-মায়ার অফুরাণ ঝড়্ণাধারা ! নিঃসন্দেহে তুমি সর্বশ্রেষ্ঠ সহায়তাকারী ! অতএব, আমাদেরকে তুমি সাহায্য কর ! ছেলেগুলোকে তুমি কবুল করে নাও ! আমীন !"

এরপর ইমাম সাহেবও একটু হাওয়া-বাতাস শরীরে লাগানোর নিমিত্তে বেরিয়ে এলেন বাইরে । হাঁটতে লাগলেন নিজের মত করে । সেইসাথে জঁপতে লাগলেন-

"আল্লাহ মালিক
আল্লাহ খালিক
আল্লাহ মোদের রব,
তিনি ছাড়া-
নেই কেহ নেই
তিনিই হলেন সব ।"

২৪

(০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো গল্প)

"এটা কি প্রেম নয় ?"
- ইয়াছিন বাংলাদেশি ।

-"বুঝলি বন্ধু- যাকে ভাল, ভদ্র এবং রুচিশীল মনে করে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলাম; সেই আমায় ব্যথা দিয়ে পালিয়ে গেল ! একবারের জন্যেও বুঝতে চাইলনা আমার অভিব্যক্তি ! বুঝতে চাইলনা- তাকে আমি যা বলেছি, সরল হৃদয়ে তার ভালর জন্যই বলেছি !"

প্রচন্ড আক্ষেপে কথাগুলো সোহেলকে বলে গেল নাইম । সেসময় চোখদুটো তার অশ্রুসিক্ত মনে হচ্ছিল, তবে জল গড়িয়ে পড়তে দেখা গেলনা ।

সোহেল: আমিতো কিছুই বুঝতে পারছিনা ! কবে,কাকে, কখন, কীভাবে তুই কী কথা বলেছিলি; যে- তোকে কষ্ট দিয়ে চলে গেল !

নাইম: সে অনেক কথা ! সংক্ষেপে বলি তোকে !

সোহেল: হ্যা, বল !

নাইম: একটি মেয়ে । যাকে খুব ভাল লাগত আমার । ভাল লাগত তার চাল-চলন, কথা-বার্তা;এক কথায় সবকিছু । আমার দৃষ্টিতে- সে ছিল অসাধারণ, একদম অন্যরকম একটি মেয়ে !

সোহেল: কার কথা বলছিস তুই ??

নাইম: সে না হয় এখন নাই জানলি ! শুধু ঘটনাটা বলছি শোন !

সোহেল: হ্যা, তাই বল ।

নাইম: তার ওপর আমার কেন জানিনা প্রচন্ড বিশ্বাস ছিল । মনে হতো- তাকে আমি কোন কথা বললে সে ফেলতে পারবেনা । তাই একদিনসাহস করে বলে ফেললামতাকে ।

সোহেল: কি বললি- তুই তাকে ভালবাসিস !

নাইম: আরে না ! তাকে আমি বললাম- প্লিজ, তুমি হিজাব পড় ।

সোহেল: ও- এই কথা । তারপর ?

নাইম: তারপর সে আমার কাছে এর কারণ জানতে চাইল ।

সোহেল: কারণ হিসেবে তুই কি বললি !

নাইম: আমি বললাম-"তুমি যেহেতু অনেক ভাল একটি মেয়ে, তাই হিজাব পড়া তোমার উচিত নয় কী ?

সোহেল: তা শুনে মেয়েটি কি বলল ?

নাইম: সে আমাকে জানাল- হিজাব পড়া না পড়া তার ব্যক্তিগত ব্যাপার ! আমি কেন এ বিষয়ে ইন্টারফেয়ার করছি !

সোহেল: জবাবে তুই কি বললি ?

নাইম: আমি বললাম- একজন মুসলিম নারী হিসেবে হিজাব পড়া তোমার কর্তব্য । আল্লাহ এ ব্যাপারে কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন ! তুমি চাইলে আমি তোমাকে কুরআন-হাদীসের আলোকে এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিতে পারি !

সোহেল: ইন্টারেস্টিং ! এরপর?

নাইম: এরপর মেয়েটি আমাকে অনুরোধ করে বলল- "প্লিজ, এটা তুমি করোনা ! কুরআন-হাদীসের ব্যাপারটা আমিও জানি ! তাছাড়া- হিজাব মানেতো, মাথারচুলসদৃশ ঢেকে রাখার বস্তু ! এটা কি এমন ভ্যালু এড করবে ? তারচেয়ে বরং কি কারণে তুমি আমাকে হিজাব পড়তে বললা, সেটা বলে কৃতার্থ কর!"

সোহেল: কী- হিজাব সম্পর্কে মেয়েটার এই ধারণা ! না হেসে পারছিনা দোস্ত ! একজন মুসলিম মেয়ে হিসেবে একথা সে কি করে বলতে পারল ?

নাইম: সেটাইতো ! তার এরকম জবাব পেয়ে, হিজাবের বিষয়টা মোটামুটি ক্লিয়ার করলাম তার কাছে ! আর তাতেই মেয়ের মাথা নষ্ট !

সোহেল: বলিস কী !
নাইম: তবে আর বলছি কি!

সোহেল: তারপর কি হল ?

নাইম: অতঃপর মেয়েটি আমার ওপর ক্ষেপে গেল! সেইসাথে বলে গেল-"আমি বুঝতে পারছিনা, আমার হিজাব পড়া নিয়েতুমি এত টেন্সড কেন !তাছাড়া আমার নিষেধ সত্বেও তুমি আমাকে হিজাব না পড়ার শাস্তি হিসেবে পরকাল দেখিয়ে ছাড়লে! এটা কি বাড়াবাড়ি হয়ে গেলনা ? আমি শুধুতোমার কাছে আমাকে কেন হিজাব পড়তে বললে, সেই কারণটা জানতে চেয়েছিলাম ! তুমিতো কারণ বললেইনা, বরং হিজাব সম্পর্কে লম্বা কাহিনী শুনিয়ে দিলে! আমার কিন্তু মোটেও ভাল লাগছেনা ! প্লিজ টপিকটা এবার স্টপ কর! এটা আমার এখান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার !

সোহেল: মেয়েটাতো দেখছি, বিচারও মানে আবার তালগাছটাও তার দাবি করে !

নাইম: এই কথাটিইতো তাকে আমি বুঝাতে চেয়েছিলাম !

সোহেল: আর তাই বুঝি তোকে ফেলে রেখে চলে গেল ? তার আগে বলতো, মেয়েটিকে কি তুই ভালবাসতিস- নাকি কেবল বন্ধু হিসেবেই কথাগুলো বলেছিলি !

নাইম: তোকে আমি মিথ্যে বলবনা । মেয়েটিকে আমার ভাল লাগত ! তবে ভালবাসতাম কিনা জানিনা ! ইচ্ছে ছিল, ওকে আমার মনের মত করে গড়ে নিয়ে যথাসময়ে বিয়ে করে নেব ! কিন্তু, তার আগেই মেয়েটি আমাকে ভুল বুঝে দূরে সরে গেল ! আচ্ছা- সোহেল ! আমি তাকে কি এমন বলেছিলাম যে, সে আমার সাথে এমন করল ! আমিতো তার ভালই চেয়েছিলাম- বল !

সোহেল: দুঃখ করিসনা ! ও হয়তো ব্যাপারটাকে সহজভাবে নিতে পারেনি ! সম্ভবত: ও ভেবেছে, তুই তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চাইছিস !

নাইম: কিন্তু আমিতো তাকে জোর করিনি ! বরংসঠিক পথটা দেখিয়ে অনুরোধ করেছিলাম মাত্র ! বুঝাতে চেয়েছিলাম- সে যা করছে, তা পাপ করছে ! তুইই বল- যাকে ভালবাসি, তার অকল্যাণ চাই কি করে !আমিতো তাকে সুখী দেখতে চেয়েছিলাম ! সেটা একাল এবং পরকাল- দুখানেই !

সোহেল: তুইতো ঠিকই বলেছিস ! কিন্তু আমার মনে হয়- মেয়েটা তোর কথা ঠিকমত বুঝতেপারেনি ! তাই ওরকম করেছে ! আচ্ছা- তুই এক কাজ কর, মেয়েটাকে তোর মনের কথাটা খুলেবল ! তাহলে সব ঠিক হয়ে গেলেও হতে পারে !এমনওতো হতে পারে, সে বারবার তোর মনের কথাটাই জানতে চাইছিল !

নাইম: সে আর সম্ভব নয়!

সোহেল: কেন- সম্ভব নয়কেন ?

নাইম: কারণ- ওর ওপর আমার যে বিশ্বাস ছিল, তাতে ফাটল দেখা দিয়েছে ! তাছাড়া- একজন মুসলিম মেয়ে হয়েও যে, ইসলামি আইন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে; পাপ-পূণ্য বিচার করেনা- তাকে আমি কোনদিনও আমার মনে ঠাঁই দিতে পারবনা ! আমার মনতো তার জন্য- যে আমাকে ভালবাসবে, সেইসাথে তার ধর্মকেও ! যেন আমরা দুজনে মিলে পৃথিবীতেই নিশ্চিত করতে পারি স্বর্গের সুখ ! তাছাড়া- আমি এমন কিছু কোনদিনও করতে পারবনা, যাতে ইসলামের অপমান হয়; স্রষ্ঠার সাথে বেঈমানী হয় !

সোহেল: তাহলে আর কি- যে গেছে, সেতো গেছেই! আবার নতুন করে ভাব !

নাইম: এতই সহজ !

সোহেল: মানে কি ?

নাইম: মানে হল- আমি ওর জন্য অপেক্ষা করব; ততদিন পর্যন্ত- যতদিননা ওর ভুল ভাঙেকিংবা বিয়ে হয়ে যায় !কারণ, আমি চাই- ও সুখে থাকুক ! এত সুখ- যা আগে আর কখনই কেউ পায়নি !

সোহেল কিছু একটা বলতে যাবে, এসময় চলে গেল বিদ্যুৎ ! ফলে তাদের স্কাইপি আলাপ এখানেই সমাপ্ত হল !

সেই থেকে নাইম আজো অপেক্ষায় আছে, সেই মেয়েটির জন্য- যে তাকে কষ্ট দিয়ে চলে গেছে ! তার বিশ্বাস- একদিন না একদিন ঠিক ফিরে আসবে সে ! বুঝতেপারবে তার ভুলগুলো ! আর সেদিনই সে মেয়েটিকে বিয়ে করে নতুন করে জীবন শুরু করবে ! যে জীবনে বিরাজ করবে কেবলি সুখ আর সমৃদ্ধি এবং বেহেশতি খুশবু ! যা অটুট থাকবে যুগ যুগ ধরে !

(সমাপ্ত)

২৫

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

"তোমায় ভেবে"
- ইয়াছিন বাংলাদেশি ।

বন্ধু ভেবে এগিয়ে যেয়ে
শত্রু হলাম আজ,
বন্ধ হল আদান-প্রদান
ভাব বিনিময় কাজ ।
ভাল চেয়ে সঠিক পথের
দিশা দিলাম তাই,
খারাপ ভেবে চলে গেলে
ফেরার উপায় নাই ।
বুঝলেনাতো একটি বারও
এই হৃদয়ের কথা,
শুধু শুধু আমায় দিলে
অহংকারের ব্যথা ।
তবুও দেখ রাগ করিনি
আজো বলে যাই,
তোমায় আমি ভালবাসি
তোমায় শুধুই চাই ।
ইচ্ছে যদি হয় কখনো
ফিরে আবার এসো,
আগের মত আমায় তুমি
ভীষণ ভালবেসো ।
সেই আশাতেই আছি বসে
দিন গুণিছি রোজ,
চোখের তারায় কবে আবার
পাব তোমার খোঁজ ।
না হয় যদি আর কখনো
সত্যিকারের দেখা,
তাই ভেবেগো মনটা আমার
করে ভীষণ খাঁখাঁ ।
দেখতে যদি পেতে কভু
থাকতেনা আর দূরে,
ডানা ছাড়াই আসতে তুমি
আমার কাছে ওড়ে ।
সুখি হতাম আমরা দুজন
এই দুনিয়ার মাঝ,
নাজ নেয়ামত পূর্ণ হতো
ধ্বংস হতো সাঁঝ ।
ওঠতো হেসে নবীন সুরুজ
মেঘলা নভের গায়,
পড়িয়ে দিতাম প্রেমের শিকল
তোমার রাঙা পায় ।
আসবে কিগো প্রাণের প্রিয়া
আশার ডালি নিয়ে,
ধন্য আমি চাই হতে চাই
প্রেমের সুধা পিয়ে ।
একলা জীবন তোমায় ছাড়া
লাগেনা আর ভাল,
দোহায় লাগে রেখোনা আর
মুখটি করে কাল ।
ও মুখে চাই চাঁদের হাসি
যেমন করেই হোক,
চাও যদিগো ছেড়েই যাব
তোমার মায়ার লোক ।
তবুও তুমি সুখে থাকো
নিজের মত করে,
জোর করে কি যায়গো পাওয়া
কাউকে মনের ঘরে !