(০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ টিউটোরিয়াল এন্ড টিপস)

আসসালামু আলাইকুম। সবাইকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারাক!
যাহোক এইবার মূল কথায় আসি।
এমন হলে কেমন হয় যদি খুব সহজেই মাত্র কয়েক ক্লিকে নিজের নামে একটা ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড বানিয়ে নেওয়া যায়?
তবে চলুন, আজকে আমি আপনাদেরকে দেখাব কিভাবে আপনারা নিজের নামে কার্ড বানাবেন।
শুভেচ্ছা কার্ড পেতে প্রথমে এই লিঙ্কে যান।
ফেসবুক থেকে আপনার তথ্য(আপনার নাম, ইমেইল এবং প্রোফাইল ছবি) ব্যবহারের জন্য অনুমতি চাইবে এপটা।
পারমিশন দিন।
ব্যস আপনার কাজ শেষ। দেখুন অটোমেটিক্যালি আপনার শুভেচ্ছা কার্ড প্রস্তুত হয়ে গেছে।
এইবার আপনি চাইলে আপনার কার্ডটি আপনি ফেসবুক অথবা গুগল প্লাসে শেয়ার করতে পারবেন। চাইলে ডাউনলোডও করে রাখতে পারবেন happy
চলুন প্রিভিউ দেখে নেই এবারঃ
http://s.techtunes.com.bd/tDrive/tuner/jaddaadda/450780/screen.png
http://s.techtunes.com.bd/tDrive/tuner/jaddaadda/450780/screen2.png
http://s.techtunes.com.bd/tDrive/tuner/jaddaadda/450780/2147483647.png
ফিচারসঃ
১। ঈদ শুভেচ্ছা বার্তা রেন্ডমলি সিলেক্ট হবে। অর্থাৎ একেকজনের জন্য একেক রকম ঈদ বার্তা থাকবে।
২। আপনার কার্ড আজীবন আমাদের সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে। আপনি যখনই চাইবেন শেয়ার অথবা ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
৩। আকর্ষণীয় ডিজাইন।

কিছু সমস্যাঃ
১। এই এপটি তৈরিতে পি এইচ পি  এর যে লাইব্রেরীটি ইউজ করা হয়েছে সেটাতে কপ্লেক্স এনকোডিং সাপোর্ট করেনা বলে যাদের নাম বাংলাতে তাদের নামের কার গুলোতে একটু সমস্যা হতে পারে।
২। আপনি আপনার ইচ্ছেমত ঈদ বার্তা বসাতে পারবেন না। তবে শেয়ার করার সময় আপনার বার্তা লিখে শেয়ার করতে পারবেন। (উপরের স্ক্রিন শট দেখুন)
৩। একই ডিজাইন সবার জন্য। ডিজাইনের এর ব্যাপারে কোন কাস্টমাইজেশনের সুযোগ নেই।

আশা করি এপটা আপনাদের ভালো লাগবে happy সবাইকে আবারো ঈদ মোবারাক!

(০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো বিবিধ টিউটোরিয়াল এন্ড টিপস)

দেখতে দেখতে বছর ঘুরে আবার চলে এল রহমত,মাগফেরাত, নাজাত এর মাস রমজান। আর সেইসাথে যথারীতি আমিও হাজির আপনাদের জন্য ইফতার ও সেহরির উইজেট এবং প্লাগীন নিয়ে।

যা দিয়ে খুব সহজেই আপনারা আপানাদের সাইটে বসিয়ে নিতে পারবেন ইফতার ও সেহরির সময়সূচী যা প্রতিদিন অটোমেটিক আপডেট হয়ে যাবে।

যাহোক এবার দেখি আসি উপায়ঃ
যারা ওয়ার্ডপ্রেস ইউজ করে তারা খুব সহজেই এই প্লাগীন টি ইউজ করে উইজেট অথবা শর্টকোডের মাধ্যমে আপনার সাইটে বসাতে পারেন। আর যারা ওয়ার্ডপ্রেস বাদে অন্য সিএমএস ইউজ করেন  তারা খুব সহজেই জাভাস্ক্রিপ্টের মাধ্যমে আপনার সাইটে বসাতে পারবেন।
দুই পাশে বর্ডার সহ উইজেটটি সাইটে বসাতে এখানে যান এবং  Get Widget এ ক্লিক করুন। একটা মডাল ওপেন হবে, ওখান থেকে কোডটা কপি করে আপনার সাইটের HTML সাপোর্টেড এরিয়াতে পেস্ট করলেই হয়ে যাবে।

অন্যান্য ডিজাইনের উইজেট পেতে এখানে ক্লিক করুন।

স্ক্রিনশট দিলামঃ

https://ps.w.org/bangla-al-quran/assets/screenshot-2.png?rev=1431765



ধন্যবাদ সাইফুল বিডি ভাইকে। ওনি চমত্কার আইডিয়া দিয়ে কাজটাকে আরও সহজ ও সুন্দর করে দিয়েছেন।

এছাড়া প্লাগীনটি ডেভলপের সময় ডিজাইন নিয়ে সাহায্য করেছেন তৌহিদুল ইসলাম হিমেল, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি ধরিয়ে দিয়েছেন এস এম তৌহিদ এবং হোসেন তারেক। তাদেরকে  ধন্যবাদ happy

আর Studio Arrival টিম তো সাথে ছিলই।

আশা করি পবিত্র রমজানে আপনার সাইটকে রমজানের সাজে সাজিয়ে নিতে প্লাগীন এবং স্ক্রিপ্টটা আপনাদের কাজে লাগবে। smile প্লাগীন ইনস্টলে কিংবা কোড বসাতে গিয়ে কারও কোন সমস্যা হলে আমাকে টিউমেন্টে জানাবেন।
বিঃদ্রঃ প্রতিদিন ইফতারের পর পরবর্তি দিনের সেহরী ও ইফতারের সময় আপডেট হবে।

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

ইয়া নবী হযরত
দেখাও আলোর পথ
তোমার চরণে জীবন ভুবন
এই যেন মোর ব্রত
দেখাও আলোর পথ...

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

আমি রাতের পরে রাতকে দেখে
চাঁদের মত হাসি
আমি ভোরের মত মিলিয়ে গিয়ে
আবার ফিরে আসি।

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো সামাজিক ভাবনা ও গবেষণা (প্রশ্ন ও উত্তর))

সেই লোক খোঁজে পাওয়া ভার sad

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

কাল থেকে আর আঁকবনা ছবি
ক্যানভাসে,
কাল থেকে রোজ হাটবনা আর
তোর পাশে,
কাল থেকে আর হবেনা নতুন
বায়না ধরা,
কাল থেকে আর ঝরবেনা চোখে
শ্রাবণধারা,
কাল থেকে শুধু ভাসব সুখের উল্লাসে
বন্ধু, আমি যাচ্ছি চির বনবাসে।।
কাল থেকে আর হবেনা নতুন
স্বপ্ন দেখা,
কাল থেকে রবে ডায়েরীর সব
পৃষ্ঠা ফাকা,
কাল থেকে ধূলোর আভাস হবে
তোমার চিঠি,
কাল থেকে মুছে হবে ম্লান যত
ঝগড়াঝাঁটি।
কালথেকে শুধু রইব আবছা হৃদপাশে
সত্যি, আমি যাচ্ছি চির বনবাসে।

(২৯ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো হাদিসের আলো)

ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) সাহল ইবনু হুনায়ফ ও কায়স ইবনু সা’দ ইবনু উবাদাহ (রাঃ) কাদিসিয়ায় ছিলেন। তাদের নিকট দিয়ে একটি জানাজা যাওয়ার সময় তারা দাড়িয়ে গেলেন, এখন তাদেরকে বলা হলো, “এতো যিমীর (আশ্লিত বিধর্মীর) লাশ, তখন তারা বললেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছ দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দাড়িয়ে গেলে তাকে বলা হল, “সে তো ইয়াহুদী, তিনি বললেন, সে কি মানুষ নয়?

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো নোটিশ বোর্ড)

ঈদ উপলক্ষে "Studio Arrival" ও "আলোর নিশান ম্যাগ" এর উদ্যোগে প্রকাশিত হচ্ছে ই-ঈদ ম্যাগাজিন।
ফরম্যাটঃ ম্যাগাজিনটি পিডিএফ, ই-পাব ও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ হিসেবে রিলিজ হবে।
নিজের লেখা গল্প, ছড়া-কবিতা, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, উপন্যাস আজই পাঠিয়ে দিন। লেখা পাঠানোর শেষ সময়ঃ ১২/৭/২০১৫ তারিখ পর্যন্ত।
লেখা পাঠাতে ক্লিক করুনঃ http://ebooks.alor-nishan.com/eidmag-2015/
বিঃদ্রঃ ফেসবুক নোট ও ব্লগে প্রকাশিত লেখা গ্রহনযোগ্য।

(০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো নোটিশ বোর্ড)

বছর ঘুরে আবার চলে এলো পবিত্র মাস রমযান। আর এ মাসের সাথে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকনের সম্পর্ক রয়েছে ; আর তা হলে সিয়াম পালন:
হজ্জ যেমন জিলহজ্জ মাসের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার কারণে সে মাসের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এমনি সিয়াম রমযান মাসে হওয়ার কারণে এ মাসের মর্যাদা বেড়ে গেছে।
রহমত, মাগফেরাত আর নাজাত এর এই রমযান মাস আলোর নিশানের সদস্যসহ সারা পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষের মনকে করে তোলুক পরিশুদ্ধ।

১০

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো পরিচিত হোন)

আশা করি নিয়মিত হবেন। আপনাকে স্বাগতম  happy

১১

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো পরিচিত হোন)

স্বাগতম ফোরামে

১২

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ম্যাগাজিন)

ভাল হয়েছে কবিতা  happy

১৩

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো গল্প)

ম্যাগাজিনে প্রকাশিত

১৪

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

প্রকাশিত

১৫

(১ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ম্যাগাজিন)

https://fbcdn-sphotos-b-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xfp1/v/t1.0-9/10882309_824397724265783_344937800651458018_n.jpg?oh=8d2b9e5ba403b36f94f009c241bf1abf&oe=553276D4&__gda__=1429979727_98f58a4346ba49a9537de16e1afe212d
অনলাইন বাংলা সাহিত্যের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে। ফেসবুক আর ব্লগের বদৌলতে বেরিয়ে আসছে অনেক নতুন নতুন লেখক। যারা নানা রকম কাব্যে, গল্পে সমৃদ্ধ করছেন বাংলার অনলাইন জগৎকে। কিন্তু এত সাহিত্যের মধ্যে শিশুদের জন্য লেখা কীরকম আসছে? উত্তর খুবই দুঃখজনক। গুগলে সার্চ করলে শতকরা ২৫টি শব্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এডাল্ট পোস্টের লিংক আসে কিন্তু শিশুদের জন্য? সে হার দু একটার বেশি নয়।
এবার অনলাইন শিশুসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে আলোর নিশান ম্যাগশুধুই গল্পের উদ্যোগে শুরু হতে যাচ্ছে শিশুতোষ গল্প লেখা প্রতিযোগিতা।
এখানে একটা কথা বলে নেয়া যাক। তা হল আমরা শিশুসাহিত্য বলতে ঠিক কিরকম গল্পকে নির্দেশ করছি। শিশুসাহিত্য বলতে মূলত এমন সাহিত্যকে বোঝায় যেটাতে শিশুদের নৈতিকতার জন্য ক্ষতিকারক এমন কোনও কিছু থাকে না, শিশুরা যে গল্প পড়ে কল্পনায় ভাসে আবার বড়রাও সে গল্প পড়তে অনীহা বোধ করে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রূপকথা, শিশু কিশোর এডভেঞ্চার, শিশুতোষ ভৌতিক , শিশুতোষ রম্য কিংবা কোনও মজার সহজ ভাষায় লেখা গোয়েন্দা গল্প।
তো আর দেরি কেন? খাতা কলম কিংবা পিসি কি-বোর্ড নিয়ে বসে যান আর লিখে ফেলুন মজার মজার শিশুতোষ রূপকথা, এডভেঞ্চার, ভৌতিক, রম্য কিংবা গোয়েন্দা গল্প। আজ থেকেই লেখা জমা নেয়া শুরু হচ্ছে, লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ১০ জানুয়ারি। বিস্তারিত নিয়মাবলী।

১। লেখা অবশ্যই অপ্রকাশিত হতে হবে।
২। আপনার নিজস্ব লেখা হতে হবে। অনুবাদ গ্রহণযোগ্য নয়।
৩। গল্প শিশু কিশোরদের উপযোগী হতে হবে।

যেভাবে পাঠাবেন:
প্রথমে http://mag.alor-nishan.com/story-submit এই লিংকে যান। প্রথম ঘরে আপনার গল্পের শিরোনাম, দ্বিতীয় ঘরে আপনার নাম, তৃতীয় ঘরে আপনার গল্প এবং চতুর্থ ঘরে আপনার ইমেইল আইডি দিয়ে সাবমিট করুন।

সন্মাননাঃ
প্রথমত একটা গল্প সৃষ্টি করাই একজন লেখকের সবচেয়ে বড় সন্মাননা। তারপরও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা এবং পাঠক ও নিরপেক্ষ বিচারক ভোটিং এ সেরা তিন গল্পের জন্য রয়েছে আমাদের বিশেষ সন্মাননা।

প্রথম সেরা গল্প:
★একজন অভ্র ও জনৈক পিতা (অটোগ্রাফসহ)
★শুধুই গল্প সংকলন- ২

দ্বিতীয় সেরা গল্প:
★একজন অভ্র ও জনৈক পিতা (অটোগ্রাফসহ)
★শুধুই গল্প সংকলন- ২

তৃতীয় সেরা গল্প:
★একজন অভ্র ও জনৈক পিতা (অটোগ্রাফসহ)
★শুধুই গল্প সংকলন- ২

-শুধুই গল্প পরিবার

১৬

(৫ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো পরামর্শ,সমস্যা ও সমাধান)

আগন্তুক কাক wrote:

I want to change my user নামে.
Old নামে: আগন্তুক কাক
New নামে: ফারদীন নিশ্চিন্ত

করে দেয়া হল। এখন থেকে লগইনের সময় "ফারদীন নিশ্চিন্ত" দিয়ে লগইন করবেন।

১৭

(২ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ছড়া-কবিতা)

http://mag.alor-nishan.com/content/819 - ম্যাগে প্রকাশিত হল  happy  flag

১৮

(১০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো ধারাবাহিক ও পর্বসমগ্র)

শরিফুল ইসলাম wrote:

বাংলায় কি কোন হাদিসের সফটওয়্যার আছে।
কারো জানা থাকলে দয়া করে জানাবেন

http://www.hadithbd.com/

১৯

(০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো গল্প)

টুনু চাচার সাথে রোজ দেখা হয়। বাজারে যে নতুন চা স্টলটা হয়েছে সেখানে প্রতিদিন চা খেতে যাই। সেখানেই দেখা হয়। সাদা পাকা চুল চাচার। চোখে একটা মান্ধাতার আমলের মোটা ফ্রেমের চশমা। ভারি আমুদে লোক। আর আজগুবি সব গল্পের একেবারে যাকে বলে ডিপো।

ধোয়া উঠা গরম চায়ে চুমুক দিয়ে প্রতিদিন দলবেঁধে শুনি চাচার সে গল্প। অবশ্য ফ্রি নয়। যারা শুনি পালা করে চাচাকে চা খাওয়াই।  আজকেও শুনাবেন। কালকেই শিডিউল করা রাখা হয়েছে। আজকে শুনাবেন এক টুনটুনির গল্প। সে যেসে টুনটুনি নয়। ট্রেইলারটা কালকেই শুনিয়ে রেখেছেন। কোন আমলে নাকি চাচা স্টেশনমাস্টারের কাজ করেছেন। আর সেখানেই সে আজব পাখিটার দেখা পান তিনি। সে পাখি অবশ্য কথা বলেনা। গণক পাখিও নয়। আলিফ লায়লার মত মন্ত্র আওড়ালে যাদুও হয়না তাও আজব পাখি।  চাচার মতে 'খালি আজব নয় ! সে এক মারকুটে আজব'।



অবশ্য গল্প শুনার পর আমার কাছে পাখিটার চেয়ে রহস্য লেগেছিলো অন্যকিছু। যাহোক সে কথা পরে বলি ।  টুনু চাচার সে মারকুটে আজব পাখির গল্প শুনার কৌতূহলে রাতে ভাল ঘুমাতেও পারিনি। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দু পাতা ইংরেজি রচনা বাবাকে জোরে জোরে শুনিয়ে মার ডিবে থেকে ৫টাকার একটা নোট নিয়ে সোজা ছুট ।  চাচা এলেন সাতটায়। পশ্চিম পাশে যে নড়বড়ে সাড়ে তিনপেয়ে টুলটা তার বা পাশে একটা হাত ভাঙা কাঠের চেয়ার। এটাই হল চাচার বিশেষ আসন। আমাদের চাচা কখনই শেষ। চাচার ধুয়ো উঠা চা প্রস্তুতই ছিল।

চেংড়া বাক্কু চা দিয়ে গেঁজো দাঁত গুলো দেখিয়ে বলল , কাহা টুনটুনি ফইকের গপ্পটা ইস্টার্ট দেন ।  চাচা মাথা নাড়েন।

চায়ে সুড়ুৎ করে একটা চুমুক দিয়ে বলেন , গল্প না , গল্প না।

এগুলো হল স্মৃতি।  হু ! যাক স্মৃতিই। তাই সই । আমরা মেনে নিয়ে। চোখেমুখে কৌতূহল নিয়ে হা করি তাকিয়ে থাকি চাচার দিকে।



চায়ে শেষ চুমুকটা দিয়ে ওনি দাড়িতে হাত বুলান কিছুক্ষণ। চশমাটা খোলে অযথায় পাঞ্জাবীর খুটে মুছে আমার চোখে দেন।  তারপর শুরু করেন গল্প থুক্কু স্মৃতি । চাচার আত্মস্মৃতি।

: বাড়িতে দুবেলা ভাতের খোটা সইতে না পেরে শেষমেশ চেয়ারম্যানকে ধরে বারো টাকা বেতনে পোস্টমাস্টারের চাকরিতে ঝুলে পড়ি। আমার দায়িত্ব পড়ে আমিরগঞ্জ। এখন যেমন লোকে গিজগিজে , দোকানপাট আর কয়েকটা পরপর ট্রেন আসার হিড়িক দেখিস তখন তেমন ছিলনা।  স্টেশনটার চারপাশে ছিল অনেকটা দূর জোড়ে ধানি জমি। রেলসড়কটা উঁচু হয়ে চলে গেছে সেই ধানিক্ষেতের মাঝ দিয়ে। আর স্টেশন বলতে একটা কুড়ে। আর যাত্রীদের বসার জন্য একটা ছাউনি। ট্রেন আসতো দুবেলা। একটা সকাল সাড়ে ছটায় আরেকটা রাত দেড়টায়।

চাচা এবার থামেন। পাঞ্জাবির উপর কোত্থেকে উড়ে যেন এক টুকরো খড় পড়েছিল। সেটাকে বেশ দু আঙুলে ধরে গড়িমসি করে শেষটায় ফু দিয়ে ঝেড়ে ফেলেন। আবুল মিয়ার কপাল কুচকে আছে। আজকে তার ঘাড়েই পড়েছে চায়ের বিল। যত গড়িমসি তত বেশি কাপ চা।  চাচা অবশ্য দ্বিতীয় কাপটা এখনই চাননা। ওনি আবার শুরু করেন ,

: কর্মচারী ছিলাম আমিসহ তিন। একটা বারো তেরো বয়সী ছেলে আর একজন আমারই বয়সী।অবশ্য এরা ঠিক রেলের সাথে সম্পৃক্ত নয়। স্টেশন মাস্টারের ঘরটাই আবার ডাকঘর হিসেবেও ব্যবহৃত হত। আমার বয়সী অর্থাৎ হাশেম মিয়া ছিল পোস্টমাস্টার। আর আনুর কাজ ছিল চিঠিপত্র যাচাই করে আগুনে গালা গলিয়ে সিল করে দেওয়া।

মূল ঘটনা মনে হয় মাঘের শুরুর দিকে । শীতটা নেমেছিল বেশ ঝেঁকে সেবার। কুয়াশাও সেইসাথে পাল্লা দিয়ে। একদিন হাশেম মিয়ার বাড়ি থেকে চিঠি এল তার মা ভারি অসুস্থ। এখন যায় তখন যায় অবস্থা। চিঠি পেয়ে হাশেম পড়ল ভারি বিপাকে। সে সদ্য দুদিন ছুটিয়ে কাটিয়ে এসেছে সপ্তাহখানেকও হয়নি। এদিকেও আনুরও সেদিন এলো ঝাঁকিয়ে জ্বর। শেষমেশ চিঠিপত্রর কাজ আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে তিনি সকালের ট্রেনে চড়ে বসলেন।বলে গেলেন , অবস্থা ভাল হলে দুদিন বাদেই ফিরে আসবেন।  আনু জ্বর নিয়েই চিঠিপত্র সিল-গালা করে সন্ধ্যা হতেই চাদর মুড়ি দিয়ে শোয়ে পড়ল। এমনিতেও আমার দেড়টায় উঠতে হয়। ভাবনা কি । আজ কেবল চিঠির বোঝাটা তুলে দিতে হবে এইযা।  কুড়েটার একপাশেই হাশেম মিয়ার বিছানা। ভাবলাম এখানেই গড়িয়ে নিই।   

গল্পটার এখানে এসে চাচা আবার চুপ।হাসি হাসি মুখ করে আবুল মিয়ার দিকে তাকিয়ে সাদা দাড়িতে হাত বুলাতে থাকেন ।  এর অর্থ , দ্বিতীয় কাপটা না এলে গল্পটা আর এগোবেনা। আবুল মিয়া অগত্যা আরেক কাপের অর্ডার দেন।  চায়ের কাপে বোধহয় কোন চিনির বয়াম থেকে একটা মরা পিঁপড়ে পড়েছিল। আঙুল দিয়ে আলগোছে প্রথমে সেটাকে তুলে ঝেড়ে ফেলেন। তারপর চোখ বন্ধ একটা লম্বা চুমুক।

আধ-খাওয়া চায়ের কাপটা টেবিলে রেখে তারপর মুখ খোলেন ,

: চোখ ঠিক কখন লেগে এসেছিল বুঝতে পারিনি। ট্রেনের হুইশেলে ঘুম গেল ছুটে। হুড়মুড় করে উঠে চিঠির ঝুলোটা আর টেবিলে রাখা লন্ঠনটা রেখে বাইরে বেরোলাম। ট্রেন এসে মাত্র দাঁড়িয়েছে।কোন যাত্রী নেই।মাঝে মাঝে যে দু একটা থাকে এই তীব্র শীতে বুঝি তাদেরও ট্রেন চড়ার সাধ মিটেছে। আমি মেইল বগির দিকে এগিয়ে গেলাম। হাশেম মিয়া চাবি দিয়ে গিয়েছিল। চিঠির বোঝাটা নির্দিষ্ট জায়গায়ে রেখে আবার তালা দিয়ে ফিরতেই কে যেন ডাক দিল ,

: টিকিট সাহাব ..টিকিট সাহাব !

একেতে হাতে কেবল একটা লন্ঠন । সেটা দিয়ে এমনিতেই দুহাতের বেশি দেখা যায়না। তার উপর আবার ঘন কুয়াশা ।

আমি হাঁকলাম ,                                                                                                           

: কে ? কে কথা কয় ?

: আমি সাহাব। একটু ইদিকে আইবেন ? বড় বিপদে পড়েছি ।

আমি আর কথা না বাড়িয়ে এগোলাম সেদিকে। যাত্রী ছাউনিতে ছায়ার মত দেখা যাচ্ছে। কাছে গিয়ে লোকটার চোখের কাছে লন্ঠনটা ধরতেই দেখলাম। একটা হাড় হিড়হিড়ে কঙ্কালসার একটা লোক। মুখে কাচা পাকা গোঁফ দাড়ি। চোখ দুটো যেন প্রায় গর্তে বসে গেছে। পিটপিট করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। 

: একটা টিকিট দেবেন সাহাব ? কিন্তু পয়সা নাই আমার। এই পাখিটা নিয়া যদি দিতেন ?

ভারি অদ্ভুত লোক। মাঝ রাত্রে খাঁচায় একটা টুনটুনি পাখি নিয়ে এসেছে টিকেটের জন্য। লোকটা বেশ বৃদ্ধ। কেমন যেন মায়া হল দেখে।

বললাম , কোথায় যাবেন ?

উত্তর এলোঃ দেন একটা । এ গাঁও ছাড়তি পারলেই অয় ।গাঁওয়ের মাইনসে দেখতে পারেনা আমারে।ফইক টইক নিয়া থাকি। তাই কয়, পাগল। আইজকা সব ফইক নিয়া গেল। আমি এইডা নিয়া পলাইয়া আইলাম। দিবেন সাহাব একটা টিকেট?

ট্রেন হুইশেল দিচ্ছে। দ্রুত একটা টিকিট এনে লোকটাকে ট্রেনে তুলে দিয়ে লন্ঠনের আলোয় পতাকাটা ঝাঁকাতেই ট্রেন ছেড়ে দিল। ফেরার সময় খাঁচাটা চোখে পড়ল। যাত্রী ছাউনির টুলের এক কোনায় রেখে গিয়েছে। পাখিটার কোন সাড়া পাচ্ছিনা।

লন্ঠনের আলোয় ধরতেই দেখলাম এককোনে জবুথুবু হয়ে চোখ বোজে দাড়িয়ে আছে একটা টুনটুনি।

ভাবলাম কাল সকালেই ছেড়ে দেব এটা ।খাঁচাটা এনে ঘরের একটা কোনায় ঝুলিয়ে রাখলাম। একেতো হাড় শিরশিরে মাঘের শীত। মোটা কম্বল দিয়ে জুতজুত করে শুয়েই ভাবলাম এক ঘুমেই রাত কাবার হয়ে যাবে। সকালে উঠে দেখব আকাশ ফকফকা। কে জানে সূর্য উঠবে কিনা ? সে উঠুক আর নাই উঠুক , কুয়াশার পুরো চাদর ভেদ করে দশটা এগারোটা নাগাদ তো একবার উঁকিঝুঁকি মারবেই।

কিন্তু সে আর হলো কই ?

তখন রাত আনুমানিক তিনটা কি সাড়ে তিনটা হবে।চোখদুটো যেন আপনিই খোলে গেল। সেইসাথে ঘুমের রেশও যে কোথায় হারাল কে জানে ?  খুটখুট কিসের যেন একটা শব্দ হচ্ছে। একটানা নয় । থেমে থেমে। দরজায় কেউ ধাক্কাচ্ছে নাকি ?  তাইতো !

টেবিলে তখনও লন্ঠন জ্বলছে। আলো কমিয়ে রেখেছিলাম। ঘরটা জোরে আবছা আবছা আলো। আলমারি ,টেবিল ,চেয়ার আর টেবিলে রাখা জগটার ছায়া লন্ঠনের কাঁপা আলোয় ধাপিয়ে চলেছে।  এই কনকনে শীতে কম্বল থেকে বেরোতে ইচ্ছে করছিল না। তাছাড়া চোর ছেঁচরও হতে পারে। 

বিছানা থেকেই আমি হাঁকলাম ,

: কে ? দরজা ধাক্কায় কে ?

: আমি সাহাব !

কণ্ঠটা শুনেই কেমন যেন আতকে উঠলাম। বৃদ্ধ একটা কণ্ঠস্বর।আর খুব পরিচিত ঠেকল আমার কাছে।

: আমি কে ? নাম বলুন ?  সাহস করে কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম আমি ।

উত্তর এলঃ আমি সাহাব। সেইযে দেড়টার টেরেনের সময় আপনার সাথে দেখা হল। আমার পাখি নিয়া টিকেট দিলেন ?   



চাচা আবার চুপ করে গেলেন। আমাদের সবার মুখ হা হয়ে আছে। চাচা পাখি নিয়ে যে লোককে টিকেট দিয়েছিলো সে দু ঘন্টার মধ্যেই আবার ফিরে এলো কিভাবে ?  কৌতূহল সবার এতটাই বেড়ে গেছে যে আবুল মিয়া চাচা থামার সাথে সাথেই চায়ের অর্ডার দিয়ে দিয়েছে। চায়ের কেটলির পাশে একটা ধুয়োয় কালো হয়ে যাওয়া টুলে বসে হ্যাঁ করে গল্প শুনছিলো চা ওয়ালা।

সে দ্রুত হাতে লেগে গেল চা তৈরিতে। এক মিনিটের মধ্যেই ধূয়া উঠা গরম গরম এক কাপ এসে গেল টুনু চাচার হাতে।  সেটা নিয়ে এবার দু পা চেয়ারে তুলে আরাম করে বসলেন তিনি।

একটা চুমুক দিয়েই আবার গল্প শুরু করলেন ,

: আতঙ্কে আমি কেমন যেন জমে গেলাম। এই শীতের রাত্রেও ঘামে প্রায় গোসল করে ফেলেছি। কম্বলটা গা থেকে ঝেরে ফেললাম। তারপর কেমন যেন মন্ত্রমুগ্ধের মত উঠে গেলাম দরজায়। দরজা খোলতেই দেখলাম সেই বৃদ্ধটা দাড়িয়ে আছে। সে এক বীভৎস অবস্থা। সারা গায়ে তার চাপ চাপ রক্ত। মাথার সাদা চুল ভিজে লাল। আমাকে দেখে যেন একটু হেসে উঠল ।

তারপর বলল ,

: টিকিট সাহাব টেরেন তো আমারে ফালাইয়াইয়া চইল্লা গেল। টিকিট তো কামেই লাগল না। দেন দেখি আমার পাখিটা।

আমি ততক্ষণে পাথর হয়ে গেছি। লোকটা আমার পাশ কাটিয়ে ঘরে ঢুকে পড়লো। খাঁচাটা যেখানে রেখেছিলাম সেখানটা কেমন অন্ধকারেই ঠাওরে নিল। 

তারপর ঠিক কি হয়েছিলো সম্পূর্ণ মনে নেই।



সকালে ঘুম ভাঙলো লোকজনের শোরগোলে।

স্টেশন জোরে বেশ মানুষ জমে গেছে। ব্যাপারটা কি জানার জন্য উঠে বাইরে গেলাম। লোকজনের মুখে হা হুতাশ। একটা শব্দ একটু পরপর কানে আসছে ,'ট্রেনে-কাঁটা' ।

আনুর দেখলাম জ্বর সেড়ে গেছে।  তাকেই জিজ্ঞাসা করলাম , কি হয়েছেরে আনু ?

: স্যার একটা লোক মারা গেছে।

ট্রেনের বারি খাইছিলো মনে হয়। মাথা ফাইট্টা দু ফাঁক! হাঁতে আবার পানের ডগায় গাথা চুন । খাইতে নিছিলো মনে হয় ।

আমার মাথাটা কেমন উলটপালট হয়ে গেল। দ্রুত ঘরে ঢুকে গেলাম। টেবিলটার পাশে চাদর দিয়ে আড়াল করা যে আলনাটা।

তার কিনারেই ! হ্যাঁ ওটার কিনারেই ছিলো পাখির খাঁচাটা। এখন নেই। খাঁচাও নেই ,পাখিও নেই।

আমি আর দাড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। ধপ করে একটা টেবিলে বসে পড়লাম। কল্পনা করতে চেষ্টা করলাম একটা দৃশ্য ।

ভয়ঙ্কর বীভৎস একটা দৃশ্য ।  লোকটা ট্রেনের দরজায় এসেছিলো পানের পিক ফেলতে। আর সেখান থেকে পা হড়কে পড়ে মৃত্যু !

কিন্তু কালকে রাতে তাহলে কে এসে আবার পাখিটা নিয়ে গেল ?  তাহলে কি মৃত্যুর পর ভূত হয়ে লোকটা এসেছিলো টিকেটের মূল্য ফিরিয়ে নিতে ?

নাকি সেটা ছিল আমার কোন ভুল ! কোন আজগুবি স্বপ্ন ! 



হা হয়ে শুনছিলাম এতক্ষণ। সত্য কি মিথ্যা জানিনা। কিন্তু গল্প শেষ করার পর চাচাকে কেমন উদাস মনে হল। কত আজব ঘটনাইতো ঘটে পৃথিবীতে! কে জানে এটাও হয়তো তেমন কোন ঘটনা। যেটা রহস্য থেকে শুরু রহস্যেই শেষ!   







সমাপ্ত

২০

(০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো গল্প)

করিমের তখন বিপর্যস্ত অবস্থা। বাজার থেকে এক কেজি আলু আর দুসের চাল এনে যে হাড়িতে চড়াবে তার জো নেই। ছেলেটা দুটো টাকা চাচ্ছিল। কাঠের পুতুল নয় , ছেলে ভুলানো প্লাস্টিকের খেলনা ! তাও নয় । দুটাকায় আলাউদ্দিনের টঙ থেকে মুড়ি কিনে খাবে। করিমের পকেট একেবারেই খালি। আজকাল বাউল গানের দর নেই। আর বাউলগানের আসর তো সেই কবেই লাপাত্তা। করিমের অবশ্য গান বাঁধবার কমতি নেই। ঘরের দাওয়ার বসে ক্ষুধার্ত পেটে সে দিনরাত গান বাঁধে। তার ছেলেটা আছরে পড়ে কাঁদতে গিয়ে চোখ বড় বড় করে বাবার পাগলামো দেখে।
সেদিন জহুরুদ্দিন এসেছিলো গান শুনতে। করিমের অনেক আগের ভক্ত সে। তখন গ্রামে প্রতিবছরই নবান্নের সময় বসতো বাউলগানের আসর। নাসিরুদ্দিন ,ফজু মিয়া ছিল বাউলগানে নাম করা। করিমের বউটা তখনও মরেনি। সেই বউকে নিয়েই করিম বাঁধল এক গান। লোকের থালা ভর্তি করে চাউল দিল তাকে। সে দেখে করিম ভাবল , গানও হবে খাওয়া পড়ার চিন্তাও নাই ।
রুপজালালকে জন্ম দিতে গিয়ে বউটা গেল মরে। আর তার পরই যেন রাতারাতি গেল বোল পাল্টে। নতুন ইমাম এলেন মসজিদে। বললেন , গান মহা হারাম কাম । যে বান্দে হে হইল হারামি । মহা পাপী ।
গ্রামে সে বছর থেকে বাউল বন্ধ। লোকে ঝুলা ভরে চাউল দিয়ে আসে মসজিদে। ইমাম সাহেব দাড়ি নাড়ি হাসেন। বলেন , আল্লাহ আপনাগো হেদায়াত করছেন।
করিম গান ধরে ..
মন মজাইয়া রে
দিন ফুরাইয়া মুর্শিদ
কই লুকাইয়া গেলারে ..
মারফতি গান। জহুরুদ্দিন একমনে শুনে। দুদিনের অনাহারী করিমের গলায় এ সুর কোত্থেকে আসে বারান্দা বাঁশের পাল্লাটার পিঠ ঠেকিয়ে ভাবে সে ।
গান শেষ বলে , করিম ভাই , এমনে আর কয়দিন ? আমার লগে লও ঢাহা , বসরে কইয়া গার্মেন্টসে একটা কাজ লইয়া দিই।
করিম হাসে ! শুকনো হাসি । তারপর বলে , ঢাহা যাইতে কস? গান বাঁনব কেডা ? মুর্শিদের মন মজাইব কেডা ?হগলে তো ছাইড়া যায় । মুর্শিদ তো আমারে ছাড়েনা । আমারে ঘুমাইতে দেয়নারে জহুরুদ্দিন। গত গীত আইসা মনে বারি মারে ।
জহুরুদ্দিন শুনে রাগে। বলে , তাইলে কি করবা ? না খাইয়া মরবা ?
করিমের মুখে শুকনো হাসি । বুকে হাত পেতে বলে , আমার মুর্শিদই আমারে পথ দেখাইব। তিনার দুনিয়ায় তিনার খেলনা নিয়া তিনিই খেলুক ..
দরজার পাশ থেকে একতারাটা আবার তুলে নেই সে ।
তারপর আবার গান ধরে ,
পাঁচ পদে এই পৃথিবী
ও মুর্শিদ ..
বানাইয়া পাঠাইলা পুতুল
সে পুতুল নাচে ,হাসে , দিন কাঁটায়
ও মুর্শিদ , করে কতো ভুল ..
জহুরুদ্দিন একমনে শুনে যায়। ভাবে , লোকটা মরব । নির্ঘাত মরব !

সমাপ্ত

২১

(০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো গল্প)

বাবু পিচ্চি হলেও তার এক একটা স্বপ্ন ইয়া বড় বড়। একবার তার খুব জ্বর হয়েছিলো আর ডাক্তার তাকে দিয়ে গেলো বিদঘুটে তেতো এক ঔষুধ। সেই থেকে তার স্বপ্ন দাড়ায় সে বড় হয়ে সব ঔষুধকে দই বানিয়ে ফেলবে। কারণ বাবুর কাছে দইটাই হচ্ছে প্রিয় খাবার।
আরেকবার স্কুলে বজলুর রহমান স্যার ওকে পড়া না পাড়ায় পুরো ক্লাস কানে ধরিয়ে হাইবেঞ্চে দাড় করিয়ে রেখেছিলো। সেদিন বাবু ভাবে সে বড় হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়ে এমন নিয়ম চালু করবে যে , ছাত্ররা পড়া না পারলে স্যারেরা কান ধরে হাইবেঞ্চে দাড়িয়ে থাকবে। তখন দেখবে মজা।
সামনের রোববার উত্তরপাড়ার স্কুলের সাথে বাবুদের স্কুলের ফুটবল খেলা। প্লেয়ার বাছাই করবেন ক্রীড়া শিক্ষক আব্দুর রহমান। বাবুও ইচ্ছুকদের সাথে বুক ফুলিয়ে লাইনে দাঁড়াল। একে একে স্যার প্লেয়ার বাছাই করে নিলেন। গেঁজো দাঁতের রতন ,মুটকো নুরু ,হ্যাংলা কার্তিক পর্যন্ত নির্বাচিত হলো। বাবুর দিকে স্যার কিনা তাকালেনইনা ?
গেঁজো দেঁতো রতনটা আবার আঁকাবাঁকা দাঁতে হেসে হেসে ওকে সান্ত্বনা দিয়ে গেলো । বলল , তুই খাটো কিনা তাই বাছাই হসনি । বাড়ি গিয়ে আম গাছে ঝুলে থাক দু বেলা করে ।দেখবি তরতরিয়ে আমার মত লম্বা হয়ে যাবি।
বাবুর ইচ্ছা করে এক ঘুসিতে রতনের গেঁজো দাঁত গুলো ফেলে দেয়।
সেদিন রাতে সব স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ফেলে বাবু ভাবে ,সে বড় হয়ে ক্রীড়া শিক্ষকই হবে ।আর বাবুর মত খাটো খাটোদেরকেই শুধু টিমের জন্য বাছাই করবে ।

২২

(০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো গল্প)

স্কুলে ছুটি পড়ায় ফুকলো দাদুর ঘরে রোজ টুকলোরা গল্প শুনতে যায়। দাদুর একটা দাঁতও নেই। কথাও কেমন ফুকফুকে ফুস !ফুস ! করে বেরোয়। তাই দাদু যখন রাজকুমার আর রাজকন্যার গল্প বলতে থাকেন ,তখন টুকলো মন সেখানে বসে না। তাও ও রোজ ছেলেদের সাথে দলবেঁধে আসে। আসারও কারণ আছে। দাদুর ঘরে রাজ্যের যত পুরনো জিনিস ! কারুকাজ করা জমিদারী খাট, পুরনো ইয়া পুরু নানা রঙের কাঁচের শিশি আর একটা মস্ত আলমারি ঘরে একপাশটায় কাই হয়ে দাড়িয়ে আছে। কালো কুচকুচে ,তেল চিটচিটে আলমারিটায় কি আছে কে জানে ? প্রায়ই খুকু কোমরে দু হাত দিয়ে আলমারিটায় সামনে গিয়ে দাড়ায়। আবছা অন্ধকারে , দূরে খাটের কিনারে রাখা কুপিটার ঝাপটায় আলমারিটাকে বড় অদ্ভুত দেখায় তখন। টুকলোর গাটা কেমন শিরশির করে উঠে।
দাদু ফোকলা মুখে হেসে বলেন , ওখানে কি করিস রে টুকলো ? গপ শুনবিনা ?
টুকলো বলে , এর মধ্যে কি আছি ফোকলা দাদু ?
দাদু টুকলোর কথা শুনে ফ্যাক ফ্যাক হেসে উঠেন। ও হাসি কেমন রূপকথার গল্পের ডাইনির মত দেখায়।
: ওর মধ্যে তেনারা থাকেন রে টুকলো ।
: তেনারা আবার কারা ?
দাদু এবার মুখ ঝামটা দিয়ে বলেন , হু ! এই ভরসন্ধ্যায় তেনাদের নাম করি আর তেনারা রেগে আমার ঘাড় মটকে খাক আর কি !
ঘাড় মটকাবার কথা শুনে টুকলোও আর রা করেনা।

স্কুলে ছুটি চলছে ঠিকই। কিন্তু টুকলোর ছুটি নেই। ঘরটাই যেন একটা আস্ত স্কুল হয়ে উঠেছে। সকালে উঠে বাইরে বেরোতে গেলে বাবা বলেন , পড়া রেখে কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি ? পরে বেরোবি এখন পড়তে বস!
শুনে আর ও কি করে , গাল ফুলিয়ে একটা বই খোলে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকে।
দুপুরে বেরোতে গেলো আবার বাঁধা। এবার বাবা নয় , মা।
চেঁচিয়ে বলেন , এখন ঘুমোবি ।ভরদুপুরে বাইরে গেলে অসুখ হবে ।
ধুৎ ছাই ! ছুটিটাই মাটি। কত কি করবে ভেবেছিল। কমলদের গাছে কেমন কামরাঙা পেকে টসটসে হয় আছে, লবণ দিয়ে হাজিদের দেয়ালে উঠে খেতে যা ভারি মজা হতোনা ।
নবু মামার পুকুর থেকে লুকিয়ে মাছ ধরারও এই উপযুক্ত সময়। ধুর ! যাকগে চুলোয় বাবা মায়ের শাসন। মা রান্না ঘরে রাঁধছিলো। তার সামনে দিয়েই এক ছুটে টুকলো বাড়ির বাইরে ।পেছন থেকে মায়ের চেচানো শুনতে পেল , ঐ দেখ বাদর ছেলে পালাল। বাড়ি আসিস ,ঠেঙিয়ে হাড় ভেঙে দেব ।
বড় সড়কের পাশ ঘেঁসে জংলা ঝুপের ভেতর দিয়ে একটা পায়ে হাটা পথ। সে পথ ধরে এক দৌড়ে এসে টুকলো থামে সুজনদের বাড়ির সামনে। জানালা দিয়ে সে ফিসফিসিয়ে ডাকে ,
: এই সুজন ..সুজন
: কে ?
: আমি টুকলো ।আয় ।
সুজন হাতে একটা আধগড়া ঘুড়ি নিয়ে জানালার আসে ।
টুকলো বলে , চল বেরোয় ।
সুজনের মুখ কালো হয়ে যায় । বলে , না ।
: কেন ?
: এখন তো ভরদুপুর !
: তো কি হয়েছে ? এখনই তো টসটসে কামরাঙা খেতে মজা , নবু মামারা সবাই এসময় ঘুমায় ,পুকুর থেকে লুকিয়ে মাছও ধরা যাবে ।

লোভ দেখিয়েও কাজ হয়না। সুজন তেমনি বিরসমুখে মাথা নাড়ায় ।
: উহু !
: যাবিনাহ ?
: না ।
: বাড়ি থেকে বকবে । তাছাড়া ..
: কি ?
সুজন উশখুশ করে। তারপর বলে ,
: এখন তেনারা ঘুরতে বেরোয়।
আবার তেনারা ? টুকলো বলে ,
: তেনারা কারা রে ?
: তেনারা হচ্ছে ভু ...থুড়ি ভরদুপুরে তেনাদের নাম নিতে নেই ।
: কেন নাম নিলে কি হয় ?
: সে বড় বিপদ হয় ।
: কি রকম বিপদ হয় ?
টুকলোর প্রশ্নে সুজন ভারি বিপাকে পড়ে। সেও অতকিছু জানেনা। মা ওকে বলেছে , তেনারা এসময় ঘুরতে বেরোয় তাই বেরোনো চলবেনা । ব্যাস এটুকুই সম্বল ।
সুজন চুপ করে থাকে। তাই দেখে টুকলো আবার বলে ,
: কিরে , কিরকম বিপদ বললি না যে ?
: সে আমি জানিনা ।
শেষমেশ অজ্ঞতা স্বীকার করতেই হয় সুজনের।
শুনে টুকলো বলে , ব্যাস ! এই যাচ্ছি । দেখি কি বিপদ হয়।
: যাসনে ! বিপদ হবে ।
: ছাই হবে !
টুকলো এক দৌড়ে সুজনদের বাড়ি পেরিয়ে কমলদের বাগানে ঢুকে পরে। কামরাঙাগুলো কেমন টকটকে লাল হয়ে আছে। উঁচু গাছটায় উঠে যেই ও একটা টকটকে কামরাঙা ধরে টান দিয়েছে , অমনি ধরাম !

সপ্তাহখানেকপর স্কুলে যাওয়ার পথে দেখা হয় টুকলো আর সুজনের ।
সুজন বলে , কি রে তোর নাকি পা ভেঙে গিয়েছিল ?
: হু !
: কিভাবে ভাঙল ?
: কামরাঙা পাড়তে গাছে উঠেছিলাম ,তেনারা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে ।
শুনে সুজনের বুকটা দু ইঞ্চি ফুলি যায়। সে এবার গম্ভীর হয়ে বলে ,
: দেখলিতো , বলেছিলাম না ? তেনারা বেজায় রাগী ।
: আবার ভালো তেনারাওতো আছে ।
: কোথায় ?
: ফোকলা দাদুর আলমারিতে ।তেনারাইতো আমার পা ঝেড়ে ঠিক করে দিলেন !
সুজনের চোখ বড় বড় হয়ে যায় ।
: তুই দেখেছিস ?
: দেখব কি করে ? লেঙচিয়ে বাড়ি ফিরতেই মা গিয়ে ফোকলা দাদুকে ডেকে নিয়ে এলেন। দাদু পা মুখে মন্ত্র পড়ে পায়ে ফুক দিয়ে বললেন , রাতে যখন ঘুমাবি তখন দেখবি পা ঠিক হয়ে গেছে ।সকালে আবার হাটতে পারবি।
আমি বললাম , তেনারা ঠিক করে দেবে বুঝি ? আলমারি থেকে বুঝি রাতে বেরোয় ?
দাদু হেসে বললেন , হ্যাঁ ।
আর তা শুনে মা কেন যেন , আঁচলে মুখ ঢেকে হেসে উঠলেন ।
স্কুল প্রায় এসেই পড়েছে । গেট পেরোতে পেরোতে এতখন টুকলোর কথা শুনছিলো সুজন ।
সে বলে , ও কিছুনা । ছেলে ভাল হয়ে যাবে শুনে সব মায়েরাই হাসে ।
টুকলোও সুজনের কথায় ঘাড় নেড়ে সায় দেয় ।

২৩

(০ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো গল্প)

রাস্তার পাশের ময়লার ড্রেনে বৃষ্টির ফোটার আঘাতে ছিন্নভিন্ন একটা লাল গোলাপ পড়েছিল। গোমরানো এবং ছিন্ন পাপড়িগুলোর দিকে তাকালে সহসা মনে হয় গোলাপটির মন খারাপ। কিন্তু তা নয় ,একটু ভাল করে যদি তাকালেই দেখা যাবে। এক অবর্ণনীয় কষ্টগাথা নিয়ে মুখ থুবরে পড়েছে লাল গোলাপটা।
ড্রেনের জমানো পানির উত্কট গন্ধে পেট ফুলে উঠছিল তার।
উপরে কারেন্টের তারে এসে কোথ্থেকে যেন উড়ে এসে বসেছিল একটা কাক।
গোলাপটা আকুতি ভরে বলেছিল , ভাই ঠোটে করে তুলে দাওনা আমায়!
কাকটা নেমেও এসেছিলো। ধীরধীর পায়ে কাকটার পায়ে পায়ে এগিয়ে আসার মৃদু শব্দে মুক্তির স্বাদ যেন পাচ্ছিল সে।
কিন্তু কাকটা তাকে মুক্তি দেয়নি শেষ পর্যন্ত। গোলাপটা পাশে পড়ে থাকা একটা পচা মরা ইদুর ছো মেরে নিয়ে উড়ে গেল।
কেউ একজন যাচ্ছিল রাস্তা দিয়ে ,কি মনে করে সে হঠাৎ করে তাকালো গোলাপটির দিকে। লাল গোলাপটি ভাবল এবার নিশ্চয় তাকে তুলে নেবে।
হয়তো ধোয়ে তার প্রিয়তমাকে উপহার দেবে। তখন তার প্রিয়তমা গোলাপটিকে আদর করে পরিস্কার তকতকে একটা ফুলদানিতে সাজিয়ে রাখবে। পরিস্কার পানি দেবে। প্রতিনিয়ত একরাশ ভালবাসা ভরা চোখে তাকিয়ে দেখবে গোলাপটাকে।
লোকটা দাড়িয়ে খানিকটা তাকিয়ে থুথু ফেলে চলে গেল। একদলা থুথুতে আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা পড়ল লাল গোলাপটা। কান্নায় চোখ ফেটে পানি চলে এল তার।
চমত্কার একটা বাগানে জন্মেছিল সে। এইযে ময়লা ড্রেন ,ব্যস্ত শহর ,ধুমধাম করে ছোটে চলা গাড়ি তার থেকেও অনেক দূরে।
আহা কি চমত্কার ছিলো সেদিনগুলো।
সে যখন কেবল একটা কলি। টুপটাপ বৃষ্টির ফুটো বেশ নাচছিলো। হঠাৎ করেই একটা পরীর মত মেয়ে এসে অবাক হয়ে ওর দিকে তাকাল। আহা! কি সুন্দরই না মেয়েটা দেখতে ছিল। এখনও ওর মুখটা চোখে ভেসে উঠে। কোমল মিষ্টি অমন মুখটায় একজোড়া কালো চোখ আর অমন গোলাপী ঠোট দেখে প্রথমবার  হিংসেই হয়েছিল। কিন্তু মেয়েটা যখন আলতো করে ছুলো ,গোলাপী ঠোটে চুমো খেল তখন ভারি আনন্দ হল।
তারপর প্রতিদিন আসত মেয়েটা।
লাল গোলাপটার সাথে কত কথা বলত সে। আর মিষ্টি করে হাসত।
একদিন ভারি মুখ গোমরা করে এলো মেয়েটা। লাল গোলাপ তো আর মানুষের মত কথা বলতে পারেনা। তাও ও দখিনা বাতাসে খানিকটা দোল খেয়ে ,পাপড়িগুলো একবার তীরতীর করে কাপিয়ে জানতে চাইল মুখ গোমরা কেন ?
মেয়েটা কথা বললনা। একটু হাসলওনা। যাবার সময় যখন ছুয়ে চুমুও খেলনা ভারি কষ্ট পেয়েছিল সেদিন লাল গোলাপটা।
সেদিন ও অনেক ভেবেছিল। কি এমন কষ্ট মেয়েটার! তার যদি এমন ক্ষমতা হত মেয়েটার সব কষ্ট মুখে দিতে পারত। কিন্তু কিভাবে। সেতো নিছক একটা ফুল । একটা লাল গোলাপ।
ভাবতে ভাবতেই সেদিন ঘুমিয়ে পড়েছিল ও। ঘুম ভাঙল তীব্র ঝাকুনিতে। শিশির ফোটা এলো নাকি ? কিন্তু শিশির তো অমন করে ঝাকি দেয়না।
তারপরে ভাল করে তাকিয়ে দেখল সে আর নিরিবিলি বাগানটাতে নেই। চারদিকে উচু উচু সব দেয়াল ঘর। রাস্তায় হুস হুস করে ছুটছে কত গাড়ি। সেই পরী মেয়েটা তাকে আলতো করে ধরে তাকিয়ে আছে।
ও চোখ মেলে তাকাতেই মিষ্টি করে হেসে চুমু খেল। তারপর বলল , জান লাল গোলাপ! আজকে  আমি যাকে ভালবাসি তার কাছে তোমাকে দিয়ে দেব। সেও আমার মত তোমায় ভালবাসবে।পরিস্কার একটা তকতকে ফুলদানিতে সাজিয়ে রাখবে তোমায়। প্রতিদিন আদর করে চুমু দেবে। সে একটু পরেই আসছে।
গোলাপটি অবাক হয়ে শুনছিল। আনন্দও হচ্ছিল তার অনেক। গাছ মায়ের কাছে শুনেছিল, গোলাপের জন্মই নাকি প্রিয়তমের হাত ছুঁয়ে তার প্রিয়জনের ফুলদানী ঠাঁই পাওয়া।
আজ তাহলে তার জন্ম সার্থক হতে চলেছে।
বেলা যখন গড়িয়ে দুপুর ঠিক তখন একটা লাল গাড়িতে করে এলো একটা ছেলে। নানা একজন নয়। আরও কয়েকজন তার পেছনে। কেমন বিদঘুটে চোখে তাকাচ্ছে ওরা। উদ্ভুট একটা হাসি ঠোটে লেপটে ওদের। এসেই পরী মেয়েটার হাত পাকরে ধরল। একটা পাপড়ি কুচকে যাওয়ায় ব্যাথায় কাতরে উঠল গোলাপটা।
এরপর একটা দমকা টানে গোলাপটা ছিটকে পড়ল ময়লা ড্রেনটায়। ঝাপসা চোখে একবার তাকাল ওদিকে গোলাপটা।দেখল অমন পরীমেয়েটাকে কেমন টেনে হিচরে গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে ছেলেগুলো।
পরী মেয়েটার না জানি এখন কি হয়েছে।
সূর্যটা হেলে পড়েছে পশ্চিমে।
মিইয়ে আসছে লাল গোলাপটাও। পাপড়িগুলোতে মনে হয় কোন পোকায় ধরেছে। তুলতুলে পাপড়িগুলো ছিদ্রে ছিদ্রে বিদঘুটে করে তুলল ওরা।
গোলাপটা শেষবারের মত একবার আকাশে তাকাল। ডুবু ডুবু সূর্যের তাকিয়ে কি যেন একটা ভাবল। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল কেবল

২৪

(৫ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো পরামর্শ,সমস্যা ও সমাধান)

জহূরুল wrote:

প্রসংগ ইউসার নেম পরিবর্তন : এডমিন আমরা নামটা (জহূরুল হবে জহুরুল) বানান একটু ভুল হয়েছে যদি ঠিক করার ব্যাবস্থা করে দিতেন কৃতজ্ঞ থাকব।ধন্যবাদ

করে দেয়া হল। এখন থেকে লগইনের সময় "জহুরুল" দিয়ে লগইন করবেন।

২৫

(৩ জবাব দেয়া হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছিলো পরিচিত হোন)

স্বাগতম আপনাকে। আশা করি শুদ্ধ রাজনীতি সম্পর্কে আপনার কাছ থেকে ভাল ভাল লেখা পাব ..