Share

টপিক: জুমআর দিন ইবাদাতের দিন ।।

অনুবাদ: মোহাম্মাদ বাদিউজ্জামান বিন মোহাম্মাদ আব্দুল গাফ্ফার
প্রচারে: তরজমা ও গবেষণা বিভাগ , মাকতাব দাওয়াহ ও জালিয়াত অফিস তুরাইফ। ফোন-০৪-৬৫৩২৭৭২,ফ্যাক্স-০৪-৬৫২২৭৭২
                                       বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’য়ালার জন্য,যিনি রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে জ্ঞানী গুণি ও চক্ষুষমান লোকদের জন্য উপদেশ নির্ধারণ করেছেন। আমি তাঁরই প্রদত্ত অপরিমিত নিয়ামতের জন্য প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা পেশ করছি,দরূদ ও সালাম পেশ করছি সেই নবীর প্রতি যিনি সকল নাবী রাসুলদের  মধ্যে সম্মানিত,তিনি হলেন আমাদের নাবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবার পরিজন ও সকল সহচর বৃন্দের প্রতি। অতঃপর , বিভিন্ন জাতি সমূহআজোবধী তারা তাদের  ঈদ সমূহকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্দযাপন করে যাচ্ছে আর ইহা বার বার ফিরে আসায় তারা আনন্দিত হচ্ছে,এবং এ নাম উচ্চারিত হওয়ায় তারা খুশী প্রকাশ করছে। তা হলে মুসলিম জাতির ঈদ কতই না উত্তম যা দ্বারা তারা  আল্লাহু তায়ালার ইবাদাত বান্দেগী করার মাধ্যমে করে থাকে।
নিশ্চয় ইসলামের অনুসারীদের জন্য সপ্তাহিকঈদের দিন হল জুমআর দিন। ইয়াহুদী খৃষ্টানদের পদস্খলিত হওয়ার পর আল্লাহতা’য়ালা এ জাতিকে এই জুমআরদিনের মাধ্যমেই সম্মানিত করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমাদের পূর্ববর্তীদের কে আল্লাহ তা’য়ালা পথভ্রষ্ট করেছেন,ইয়াহুদীদের জন্য জুম্মার দিন ছিল শনিবার আর খৃষ্টানদের জন্য ছিল রবিবার। আল্লাহ তা’য়ালা অবশেষে আমাদেরকে দুনিয়ায় নিয়ে আসলেন এবং আমাদেরকে জুম্মার দিনের হিদায়েত দিয়েছেন। উদ্দেশ্য হল ঈদের দিন গুলির মধ্যে তারতীব নির্ধারণ করেছেন,যেমন শুক্রবার, শনিবার ,রবিবার অনুরূপভাবে তারা কিয়ামতেরদিন আমাদের পিছে থাকবে। আমরা দুনিয়ায় আগমন
কারীদের মধ্যে সবার পরে আগমন কারী ,আর কিয়ামতের দিন প্রথম আগমনকারী। কিয়ামাতের দিন সর্বাগ্রে আমাদেরই হিসাব নিকাশ হবে।(মুসলিম)
জুম্মার দিন হল এমন দিন যেদিন সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:উদিত সূর্যের  প্রভাদীপ্ত দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তমদিন হচ্ছে জুমুআর দিন। (মুসলিম)
জুম্মার দিন হল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সুমহান দিন অথচ কিছু সংখ্যক মুসলমানরা এ দিনকে সুদীর্ঘ সময় ঘুমাবার জন্য,পিকনিক স্পর্ট ও পর্যাটনের জন্য নির্ধারণ
করেছেন,বিশেষ করে কতক মহিলা এ দিনকে বাজার খরচের এবং গৃহকর্ম করার জন্য নির্ধারণ করে নিয়েছেন এবং জুম্মার দিনের হক সমূহ থেকে অমনোযগী হয়ে গেছে। অবশ্যইআমরা এ সুমহান দিনের সম্মান মর্যাদা
সম্পর্কে গভীরভাবে জানবো এবং তার বৈশিষ্ট সমূহ শিখবো,যাতে করে আমরা এ দিনে বেশী বেশী ইবাদাত বান্দেগী ও আনুগত্যপূর্ণ কর্ম এবং বেশী বেশী দো’আ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরূদ সালাম পেশ করার জন্য অবসর হতে পারি।
ইমাম ইবনুল কাইয়ুম রাহমাতুল্লাহি আলাইহ যাদুল মায়াদ নামক কিতাবে বলেছেন:রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত হল:- এ দিনের মর্যাদা রক্ষা করা এবং সম্মান প্রর্দশন করা আর এ দিনকে অন্য দিন গুলির উপর প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন ধরণের ইবাদাত পালন করার জন্য নির্দিষ্ট করা। আরাফাতের দিন উত্তম না জুম্মার দিন উত্তম এ বিষয়ে ওলামাগণ মতবিরোধ করেছেন। ইমাম ইবনুল কাইয়ুম রাহমাতুল্লাহি আলাইহ ত্রিশের অধিক এ দিনের বৈশিষ্ট উল্লেখ করেছেন এবং জুম্মার দিনকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
জুম্মার দিনের ঐ সকল বৈশিষ্ট ও ফযিলত সমূহ হল:-
১) এ দিন পুণঃ পুণঃ ঘুরে আসা ঈদের দিন:ইয়াহুদী খৃষ্টানদের বিরোধীতা করারনিমিত্তে শুধুমাত্র জুম্মার দিন নির্দিষ্ট করে নফল রোযা রাখা নিষেধ। যাতে করে বান্দা জুম্মার দিনের নির্দিষ্ট আনুগত্য মুলক ইবাদাত যেমন নফল নামায ,দো’আ,দরূদ ,যিকির আযকার পালনে শক্তি অর্জন করতে পারে।
২) এ দিন আল্লাহর দিদার লাভের দিন:-আল্লাহ তা’য়ালাএ দিনে জান্নাতে মু’মিনদের সাক্ষাত দান করবেন । আল্লাহ তা’য়ালার বাণী :
                                    وَلَدَيْنَا مَزِيدٌ
অর্থাৎ আমার নিকট এমন নেয়ামতও আছে যার কল্পনাও মানুষ করতে পারে না। ফলে তারা এগুলোর আকাঙ্খাও করতে পারবে না,আর তা হল আল্লাহ তা’য়ালার সাক্ষাত ও দিদার। হযরত আনাস রাযি আল্লাহু আনহু বলেন: আল্লাহ তা’য়ালা তাদেরকে প্রত্যেক জুম্মার দিন সাক্ষাত ও দিদার দান করবেন।
৩) এ দিন হল সকল দিনের চেয়ে উত্তম দিন :- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: উদিত সূর্যের  প্রভাদীপ্ত দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তমদিন হচ্ছে জুমুআর দিন। (মুসলিম)
৪) এদিনেই গ্রহণ যোগ্য একটি সময় আছে :- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: এর মধ্যে এমন একটি সময় আছে,যদি মুসলিম বান্দা সেটি পেয়ে যায় এবং সে নামায পড়তে থাকে আর এমতাবস্থায় সে আল্লাহ তা’য়ালার নিকট কিছু চায় , তাহলে নিশ্চয় মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাকে তা দেন। তিনি হাতের ইশারায় ইহার স্বল্পতা ব্যক্ত করলেন। (বুখারী,মুসলিম)
৫) এদিনে কৃত সৎকর্মের অনেক ফযিলত রয়েছে :-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
যে ব্যক্তি দিনের মধ্যে পাঁটি কাজ সম্পাদন রবে আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতের অধিবাসীদের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন। কাজগুলি হল :ক) রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া খ) জানাযার নামাযে উপস্থিত হওয়া
গ) রোযা রাখা ঘ) জুুম্মার নামায আদায় করতে যাওয়া
ঙ) ক্রীতদাস মুক্ত করা। (সিলসিলাহ আস্সাহিহা, হাদীস নং-১০২৩) শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন। আর এখানে রোযা রাখার দ্বারা উদ্দেশ্য হল,জুম্মার দিন উদ্দেশ্য করে রোযা রাখা নয় বরং অভ্যাস বশত যে রোযারাখা হয় তা যদি জুম্মার দিন হয়ে যায়।
৬) এদিনেই কিয়ামত সংঘঠিত হবে :- রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জুম্মার দিনই কিয়ামত সংঘঠিত হবে। (মুসলিম)

সূত্রঃ এখানে

স্বাক্ষর বেশি বড় হওয়ায় কেটে দেওয়া হলো ।

Share

জবাব: জুমআর দিন ইবাদাতের দিন ।।

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ