Share

টপিক: নামাজ জান্নাতের চাবি !!!

নামাজ দ্বীন ইসলামের মূল স্তম্ভ, বান্দার জন্য আল্লাহ পাকের দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহার, বিশ্বাসের দলিল, পুণ্য কাজের মূল, সর্বোত্তম ইবাদত, বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের মাঝে পার্থক্য নির্ণয়কারী, মুক্তি ও নাজাতের পূর্বশর্ত এবং ঈমানের অতন্দ্র প্রহরী। নামাজে আল্লাহ তায়ালা ও বান্দার মাঝে এক অতি মহিমান্বিত, অতুলনীয় ও বিস্ময়কর মধুর সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে।

সৃষ্টি জগতে মানুষের চেয়ে বেশি মর্যাদাবান আর কেউ নেই। মানুষের চেয়ে বেশি সম্মানী হলেন একমাত্র মহান স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা। তিনি জ্ঞান, শক্তি-ক্ষমতা, অর্থ-সম্পদ ইত্যাদি সব দিক থেকে মানুষের ওপরে। তাই মানুষকে অবশ্যই আল্লাহর সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে। আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষ আর যার সাথেই যোগাযোগ করুক, সবাই মানুষের চেয়ে জ্ঞান, শক্তি ও সম্পদে নিুমানের। এদের সাহচর্য মানুষের মানগত দিক বিনষ্ট করবে। মানুষ নিচে নামতে থাকবে। এক পর্যায়ে সে পশুর চেয়েও অধম হয়ে যাবে। আল্লাহর সান্নিধ্যই মানুষকে সীমাহীন উন্নতি ও উৎকর্ষের পথে চলতে সাহায্য করে। আল্লাহর সন্তোষ অর্জনের পরই মানুষ কেবল শতভাগ পরিতৃপ্ত হয়, শান্ত ও আশ্বস্ত হয়।

পার্থিব জীবনে নানা প্রয়োজনে অসংখ্য জিনিস ও বিষয়ের সাথে আমরা জড়িয়ে পড়ি। কত মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়তে হয়! এসব সম্পর্ক ও সংশ্লিষ্টতার মধ্যে প্রচণ্ড আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। একটু-আধটু করে মানুষ এ আকর্ষণের মধ্যে ডুবে যায়। এক সময় তার অজান্তেই তার মহান প্রভুর আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। দুনিয়ার মোহে মানুষ যেন প্রভুহীন হয়ে না যায়, সে জন্য নামাজ এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শত ব্যস্ততা, হাজারো সংশ্লিষ্টতা, নানা ধরনের কাজকর্ম ও সম্পর্ক-সম্বন্ধের বন্ধন বিচ্ছিন্ন করে মহান রবের সান্নিধ্য লাভের এক অনুপম সুযোগ করে দেয় এ নামাজ। আল্লাহপ্রিয় মানুষদের জন্য নামাজ তাই সবচেয়ে বড় নেয়ামত। নামাজই তাদের আল্লাহর কথা ভুলে যেতে দেয় না।

- নামাজ আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়।
- নামাজ দ্বীন ইসলামের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ।
- নামাজ মুসলিম ও কাফেরের মধ্যে পার্থক্য।
- নামাজ বিচার দিবসে প্রথম জিজ্ঞাসার বিষয়।
- নামাজ পুরুষ-মহিলা, ধনী-গরিব, সুস্থ-অসুস্থ সবার জন্য প্রযোজ্য।
- নামাজ সর্বাধিকবার ও আজীবনের জন্য প্রযোজ্য।
- নামাজ অতীব সাধারণ, সহজ, প্রাকৃতিক ও চমৎকার বিষয়।
- নামাজ কাজের একঘেয়েমি, বিরক্তি ও ক্লান্তি দূর করে।
- দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এমনভাবে সাজানো আছে যে মানুষের কর্মসাধ্যের পরিমাণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর সে কর্মবিরতির সুযোগ পায়।
- সফল মুমিনের বৈশিষ্ট্য তারা নামাজের হেফাজত করে।
- নামাজ জান্নাতের চাবি।
- নামাজ চক্ষুর শীতলতা ও প্রাণের শান্তি।
- সঠিকভাবে নামাজ আদায় জাহান্নাম হারাম করে।
- নামাজ কিয়ামতের দিনের নূর, ঈমানের দলিল, বাঁচার উছিলা।
- নামাজ আল্লাহর জিম্মাদারিতে চলে যাওয়ার সুযোগ।
- মানুষের জীবন বাধাহীন নয়। আমাদের জীবন বিবিধ সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা কেবল আল্লাহই সমাধান করতে পারেন।
- নামাজি ব্যক্তি তার দৈনন্দিন কার্যকলাপ পাঁচ ওয়াক্তের মধ্যে সম্পাদন করে এবং সব কাজের দায়-দায়িত্ব আল্লাহর কাছে সোপর্দ করে।
- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এভাবে আমাদের জীবনকে আল্লাহর হেফাজতে কাটানোর বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।

আরবি হরফ মাত্র ২৯টি, জীবন-জীবিকার তাগিদে কত কিছু শিখলাম, পড়লাম, জানলাম, আমি যে নামাজ পড়ি বা আল্লাহর নিকট কবুল হওয়ার জন্য এবং জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য সর্বোপরি দুনিয়ার সুখ-শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য হলেও আমাকে কুরআন শিখতে হবে। কুরআন শেখার ব্যাপারে ইচ্ছে, সঙ্কল্প ও প্রচেষ্টা না চালালে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে কি না তাও ভেবে দেখতে হবে।

Share

জবাব: নামাজ জান্নাতের চাবি !!!

মুসলমানদের জীবনে নামাজের আশাপ্রদ ফল অর্জন না হওয়ার চারটি কারণ হলোঃ

১। নামাজের সূরা, দোয়া তাসবিহর সঠিক উচ্চারণ বা কেরাত বিশুদ্ধ না হওয়া।
২। নামাজের গুরুত্বপূর্ণ নিময়কানুন বা মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে অজ্ঞতা।
৩। নামাজে পাঠকৃত সূরা, দোয়া তাসবিহর অর্থ ও তাৎপর্য না জানা।
৪। নামাজের শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ না করা।

পাঁচ ওয়াক্ত নামায নিষ্ঠার সাথে আদায় না করলে মুসলমানের খাতায় নাম থাকে না। রাসূল (সাঃ) বলেছেন- "ঈমানদার এবং বেঈমানের মধ্যে পার্থক্য হলো নামায"। (মুসলিম,আবু দউদ,নাসায়ী)

পাঁচ ওয়াক্ত নামায প্রত্যেক মুমিনের উপর ফরজ করা হয়েছে।অতএব নামায ত্যাগকারী তো মুসলমানের অর্ন্তভুক্তই না। হযরত ওমর (রাঃ)বলেন- "নামায ত্যাগকারী ইসলাম প্রদত্ত কোনো সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাবে না"(কবীরা গুনাহ-পৃষ্ঠাঃ২৩)

নামাযে শিথিলতা প্রদর্শন কারীদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-"সেসব নামাজির জন্য ওয়াইল(আযাবের কঠোরতা) যারা নামাযে অবহেলা করেছে।"(সূরা মাঊন)
হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেন-"আমি রাসূল (সাঃ)কে জিগ্ঞাসা করেছিলাম 'এই অবহেলা মানে কি?"
তিনি বলেন- " নির্দিষ্ট সময় থেকে বিলম্বিত করা । "

মহান আল্লাহ পাক বলেন- "হে মুমিনগন তোমাদের ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি যেনো তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরন থেকে গাফেল না করে।যারা এ কারণে গাফেল হয় তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত"।(সূরা মুনাফিকুন:৯)
এই আয়াতে আল্লাহর স্মরণ বলতে নামাযকেই বুঝানো হয়েছে।
রাসূল (সাঃ) বলেছেন- "হাশরের দিন প্রথমেই বান্দার আমল সমূহের মধ্যে নামাযের হিসাব নেয়া হবে।যে নামাযের হিসাব সঠিক ভাবে দিতে পারবে সে পরিত্রান পাবে,নচেৎ ব্যর্থতা অবধারিত।"(তাবরানী)

রাসূল(সাঃ) আরো বলেছেন- "যে ইচ্ছাকৃত ভাবে নামায ছেড়ে দিল সে আল্লাহর যিম্মাদারী থেকে বের হয়ে গেল।"(বুখারী,মুসলিম)

যে ব্যক্তি পরিপূন ভাবে নামায আদায় করবে বিচার দিবসে তা তার জন্য নূর হবে,এবং মু্ক্তির উপায় হবে।আর যে ঠিক মতো নামায আদায় করবে না,তার জন্য নামায নূর ও নাজাতের অসিলা হবে না।হাশরের দিন ফেরাউন,হামান,কারুন,নমরুদ ও উবাই ইবনে খালফের সাথে হাশর হবে।(আহমাদ,তাবরানী)

এক লোক রাসূল (সাঃ)- এর নিকট হাজির হয়ে জিগ্ঞেস করলো, "ইয়া রাসূলাল্লাহ,ইসলামের কোন কাজ আল্লাহর নিকট বেশি পছন্দনীয়?
তিনি বলেন-সময় মতো নামায আদায় করা ।যে নামায পরিত্যাগ করলো তার কোনো দীন নাই।নামায ইসলামের স্তম্ভ।(বায়হাকী)

রাসূল (সাঃ) বলেছেন-"যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামায ঠিক মতো আদায় করবে ,আল্লাহ তাকে পাঁচটি পুরস্কারে সম্মানিত করবেন।

১.তার অভাব দূর করবেন।
২.কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেবেন।
৩.ডান হতে আমল নামা দেবেন।
৪.বিজলীর ন্যায় পুলছিরাত পার করবেন।
৫.বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

Share

জবাব: নামাজ জান্নাতের চাবি !!!

আর যে ব্যক্তি নামাযে অবহেলা করবে ,আল্লাহ তাকে চৌদ্দটি শাস্তি দেবেন :
দুনিয়াতে পাঁচটি, মৃত্যুর সময় তিনটি , কবরে তিনটি, কবর থেকে উঠানোর সময় তিনটি।

দুনিয়াতে পাঁচটি
১.তার হায়াত থেকে বরকত কমে যাবে।
২.চেহারা থেকে নেককারের নির্দশন লোপ পাবে।
৩.তার কোন নেক আমালের প্রতিদান দেয়া হবে না।
৪.তার কোনো দু'আ কবুল হবে না।
৫.নেককারের দু'আ থেকে সে বন্চ্ঞিত হবে।

মৃত্যুর সময় তিনটি
১.সে অপমানিত হয়ে মারা যাবে
২.অনাহারে মারা যাবে
৩.এমন পিপাসার্ত হয়ে মারা যাবে যে,তাকে পৃথিবীর সব সমুদ্রের পানি পান করালেও তার পিপাসা যাবে না।

কবরে তিনটি
১.কবর সংকীর্ণ হয়ে এতো জোরে চাপ দেবে যে তার পাজরের একদিকের হাড় অন্যদিকে ঢুকে যাবে।
২.কবরে আগুন ভর্তি করে রাখা হবে ।আগুনর জ্বলন্ত কয়লায় রাত দিন জ্বলতে থাকবে।
৩.তার কবরে এমন ভয়ংকর বিষধর সাপ রাখা হবে,যা তাকে কেয়ামতত পর্যন্ত দংশন করতে থাকবে।

পুনরুহ্থানের সময় তিনটি
১.কঠোর ভাবে হিসাব নেয়া হবে।
২.আল্লাহ তার উপর রাগান্বি থাকবেন।
৩.তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

অপর বর্ণনায় আছে বিচার দিবনে তার কপালে তিনটি কথা লেখা থাকবে-
১.হে আল্লাহর হক নষ্টকারী।
২.হে আল্লাহর অভিশপ্ত।
৩.হে আল্লাহর রহমত থেকে বন্চ্ঞিত।(কবিরা গুনাহ-ইমাম আয যাহাবী)

জবাব: নামাজ জান্নাতের চাবি !!!

কিছু সুন্দর লেখা ভালো লাগলো । চালিয়ে যান ।

http://s7.postimage.org/jd5k2og6v/702174_447944615269126_1968962762_n.jpg