Share

টপিক: আজ লায়লাতুল কদর

http://www.google.com/gwt/x/i?client=ms-ucweb&u=http://www.al-shia.org/html/ben/maqalat/maqalat/09/lail.jpg&ei=WKErUNecBqTqxAKTnIHgDg&wsc=bf&whp=01392a6e4025
ক্বদর শব্দের অর্থ : মহাত্ম বা সম্মান, এই মহাত্ম ও সম্মানের কারণে একে লাইলাতুল ক্বদর, তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়। বারটি মাসের মধ্যে ফযিলতপূর্ণ মাস হল রমযান মাস। এই মাসের একটি রাত্র হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর। যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। ক্বদরের রাত্রের ফযিলত ও মহাত্ম সম্পর্কে কুরআনুল করিমে সূরাতুল ক্বদর নামেএকটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয়েছে।অর্থঃ (১) নিশ্চয়ই আমি একে (পবিত্রকুরআনকে) নাযিল করেছি শবে ক্বদরে।(২) শবে ক্বদর সম্বন্ধে আপনি কী জানেন? (৩) শবে ক্বদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। (৪) এই রাত্রিতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদেরপালনকর্তার নির্দেশক্রমে। (৫) এটানিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সুরা ক্বদর) মহান আল্লাহ আরও বলেন, অবশ্যই আমি কুরআননাযিল করেছি একটি বরকতপূর্ণ রাতে।” (সুরা দুখান: ৩)
ব্যাখ্যা : বরকতপূর্ণ রাতের দ্বারা বিভিন্ন তাফসিরবিদগণ শবে ক্বদরকে বুঝিয়েছেন। শবে ক্বদরের ফযিলত ও মহাত্ম সম্পর্কে কুরআন পাকের এই বর্ণনাই যথেষ্ট। এ কারণেনবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বদর রজনীর ফযিলত সম্পর্কে তেমন কিছু বলেন নাই। তবেউহা কোন মাসে কোন তারিখে হতে পারে এবং উহা কারও নসীব হলে সে তখন আল্লাহর নিকট কি চাইবে সে সম্পর্কে তিনি উপদেশ দিয়েছেন।
* আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে ক্বদরের রাতে ইবাদত করেতার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (বুখারী ও মুসলিম)
* আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা শবে ক্বদর তালাশ কর।রমযানের শেষ দশকের বে-জোড় রাত্রিতে। (বুখারী)
* আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমযানের শেষ দশক শুরু হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম সারা রাত জাগতেন, নিজের পরিবারবর্গকেও জাগাতেন এবং (আল্লাহর ইবাদতে) খুব বেশি সাধনা ওপরিশ্রম করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)
* আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশদিন এতেকাফ করতেন এবং বলতেন, তোমরারমযানের শেষ দশ রাতে শবে ক্বদর সন্ধান কর। (বুখারী ও মুসলিম)
* আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের প্রথম দশদিন এতেকাফ করলেন। এ সময় একবার মাথা বের করে বললেন, আমি ক্বদরের রাত্রি তালাশ করতে গিয়ে প্রথম দশকে এতেকাফ করেছি, অতঃপর মধ্যম দশকেও এতেকাফ করেছি। অতঃপর স্বপ্নে আমার নিকট কেউ এসে বলল ক্বদর রজনী শেষ দশকে। অতএব যে ব্যক্তি আমার সাথে প্রথম দশকে এতেকাফ করেছে, সে যেন শেষ দশকেও এতেকাফ করে। নিশ্চয় উহা আমাকে স্বপ্নে দেখান হয়েছিল। কিন্তু পরে উহা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মনে পড়ে আমি ঐ রাত্রির ফজরে নিজেকে পানি আর কাদার মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি।
অতএব, তোমরা উহা শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতেই তালাশ করবে।
* আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, সেই রাতেই আকাশ ভারিবর্ষণ করল। মসজিদ তখন ছাপরা ছিল, অতএব, ছাদ থেকে পানি পড়ল। তখন আমার দুচোখ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখল, যে তাঁর কপালে পানি ও কাদার দাগ লেগেছে। আর তা ছিল একুশ তারিখের সকাল, তবে আবদুল্লাহ ইবনে উনাইসের বর্ণনায় রয়েছে- তেইশ তারিখের সকাল। (বুখারী ও মুসলিম)
ব্যাখ্যা : উপরোক্ত হাদিসের দ্বারা বুঝা গেল শবে ক্বদর প্রত্যেক বৎসর একই তারিখে হয় না। তবে সকল বর্ণনাকারীর একমত রমযানেরশেষ দশকের বেজোড় রাতে হয়।
* আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি ক্বদরের রাত খুঁজে পাই, তাহলে আমি ওই রাতে কী বলবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, তুমি বলবে-
( আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা
' ফু আন্নী) অর্থ: হে আল্লাহ তুমি অবশ্যই ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা পছন্দ করো, কাজেই আমাকে ক্ষমা করো।(তিরমিযী)
মহিমান্বিত রজনীর নিদর্শনসমূহ : ১. কদরের রাত্রি তিমিরাচ্ছন্ন হবে না। ২. নাতিশীতোষ্ণ হবে। ( না গরম না শীত এমন ) ৩. মৃদু বায়ু প্রবাহিত হবে। ৪. উক্ত রাতে মু'মিনগণ কিয়ামুল লাইল বা ইবাদত করে অন্যান্য রাত অপেক্ষা অধিক তৃপ্তি বোধ করবে। ৫. হয়তো বা আল্লাহ তা'আলা কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে উহা স্বপ্নে দেখাবেন। (দেখুন : ইবনে খুযায়মা, ইবনে হিব্বান, মুসনাদে আহমদ) ৬. ঐ রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে। (বুখারী) ৭. সকালে হালকা আলোক রশ্নিসহ সূর্যোদয় হবে, পূর্ণিমারচাঁদের ন্যায়। (মুসলিম)

Share

জবাব: আজ লায়লাতুল কদর

শেয়ারের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।

ফোরামে আছি ।

জবাব: আজ লায়লাতুল কদর

ভাল লাগল টপিকটি । আল্লাহ আমাদেরকে আজ রাতে তার নৈকট্য লাভের তওফিক দান করুন । আমিন ।

রাখে আল্লাহ, মারে কে ?
সামাজিক দায়িত্বে অংশ নিতে যোগ দিন এখানে L-Star Foundation