Share

টপিক: ডা. জাকির নায়েক : এক নবদিগন্তের অভিযাত্রী -২

ডা. জাকির নায়েক : এক নবদিগন্তের অভিযাত্রী
-আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব

৮- আন্তঃধর্ম বিতর্কে অংশগ্রহণ :
চিরন্তন সত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য ব্যাপক ও কার্যকরী মাধ্যম হিসাবে ডা. জাকির নায়েক বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের পন্ডিতদের সাথে  আন্তঃধর্ম বিতর্কে অংশগ্রহণ করে থাকেন। ২০০০ সালে আমেরিকার শিকাগোতে ডা. উইলিয়াম এফ ক্যাম্পবেলের সাথে জাকির নায়েক "The Quran & the Bible in the Light of Modern Science" শীর্ষক এক উন্মুক্ত বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন এবং সফলভাবে তাঁর চ্যালেঞ্জ মুকাবিলা করেন। ২০০৬ সালে তিনি ভারতের ব্যাঙ্গালোরে প্রখ্যাত হিন্দু সাধক শ্রী শ্রী রবীশংকরের সাথে ‘The Concept of God in Hinduism and Islam, in the light of sacred scriptures’ শীর্ষক আন্তঃধর্ম সংলাপের আয়োজন করেন। লক্ষাধিক মানুষ এ সমাবেশে উপস্থিত হয়।
২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর খৃষ্টসমাজের প্রধান ধর্মীয় নেতা ভ্যাটিকানের পোপ বেনেডিক্ট (১৬শ) মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর বিরুদ্ধে অসম্মানজনক মন্তব্য (জার্মানীর রিজেন্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত  এক সেমিনারে ইসলাম ও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে পোপ ১৪ শতকের বাইজান্টাইন সম্রাট ম্যানুয়েল (২য়) প্যালেলোগাসের একটি উক্তি নকল করেন- ‘‘তুমি আমাকে দেখাও যে, মুহাম্মাদ কোনটা নিয়ে এসেছেন যাকে নতুন বলা যায়? বরং তুমি সেখানে যা-ই পাবে সবকিছু কেবল অনিষ্ট ও অমানবিক; যেমন ‘তরবারীর মাধ্যমে তাঁর প্রচারিত বিশ্বাসকে বিস্তারের নির্দেশপ্রদান’ করার পর সৃষ্ট ক্ষোভ প্রশমনের জন্য মুসলিম নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করলে ২৯ সেপ্টেম্বর জাকির নায়েক তাঁকে উন্মুক্ত সংলাপের জন্য আহবান জানান। তিনি বলেন, ‘পোপের ইচ্ছামতো আমি কুরআন ও বাইবেলের যে কোন বিষয়ে বিতর্কে সম্মত আছি। ইটালিয়ান ভিসা পেলে আমি নিজ খরচে রোম বা ভ্যাটিকানে তাঁর নিকটে যাব। আমি সম্পূর্ণ প্রস্ত্তত আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এই উন্মুক্ত ও পাবলিক ডিবেটে অংশগ্রহণ করতে। বিতর্ক শেষে একটি দর্শকদের জন্য প্রশ্নোত্তর পর্বও থাকবে যাতে সারাবিশ্বের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ ইসলাম ও র্খৃষ্ট ধর্ম সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা লাভ করতে পারে।’ বলা বাহুল্য পোপ ইতিপূর্বে মুসলমানদের সংলাপে বসার আগ্রহ ব্যক্ত করলেও জাকির নায়েকের এই আহবানের পর তিনি নিশ্চুপ হয়ে যান। এমনকি সরব পশ্চিমা মিডিয়াও ছিল এক্ষেত্রে নিশ্চুপ।
ডা. জাকির নায়েকের বক্তব্যের নমুনা :
নিম্নে দু‘টি বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের সারাংশ উল্লেখ করা হল-
কুরআনের সত্যতা প্রসংগে :
কুরআনের চিরন্তন সত্যতা ও আল্লাহ্র কালাম হওয়া প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি ১৪০০ বছর পূর্বে কুরআনে বর্ণিত কয়েকটি বিষয় যেমন- বিগব্যাংগ তত্ত্ব, পৃথিবীর আকার, চাঁদের আলো, গ্রহ-নক্ষত্রের পরিভ্রমণ, পানিচক্র, সমুদ্রে্র লোনা পানি ও মিঠা পানি, ভূ-তত্ত্ব ইত্যাদির অবতারণা করেছেন, যেগুলোর প্রমাণ সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, অবিশ্বাসীরা বলে বসতে পারে এটা ‘হঠাৎ করে মিলে যাওয়া’র মত একটা কিছু। ইংরেজীতে একে বলা হয় ‘Theory of Probablity' বা ‘সম্ভাবনার সূত্র’। উদাহরণস্বরূপ একটি কয়েন যদি টস করা হয় তবে এ সূত্র অনুযায়ী সঠিক দিকটি অনুমান করার সম্ভবনা ½ ভাগ বা ৫০%। অর্থাৎ ‘হেড’ও পড়তে পারে, ‘টেইল’ও পড়তে পারে। আবার যদি দু’বার করা হয় তবে দু’বারই সঠিক অনুমানের সম্ভাবনা ½+½= ¼ ভাগ বা ২৫%। যদি তিন বার করা হয় তবে সম্ভাবনা ½+½+½= ⅛ ভাগ বা ১২.৫%। এভাবে এই থিউরী অনুযায়ী যদি কুরআনকে বিচার করা যায় তবে প্রথমে ধরা যাক পৃথিবীর আকার নিয়ে। একটা মানুষ কোন বস্ত্তর আকার নিয়ে প্রায় ৩০ ধরনের চিন্তা করতে পারে। যেমন- সোজা, বর্তুলাকার, আয়তকার ইত্যাদি। আর অনুমান করে একটা আকার যদি নির্ধারণ করে তবে সূত্র অনুযায়ী তা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা ¹/৩০ ভাগ। চাঁদের আলো নিয়ে কোন অনুমানিক সিদ্ধান্ত সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা ½ ভাগ অর্থাৎ ৫০% । আবার পৃথিবী সৃষ্টির উপাদান নিয়ে যদি অনুমান করা হয় তার যথার্থতার সম্ভাবনা ¹/১০০০০ ভাগ। অতঃপর সামষ্টিকভাবে এই তিনটি আনুমানিক উত্তর সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা ¹/৩০×½× ¹/১০০০০ = ৬০০০০০ ভাগের ১ ভাগ বা .০১৭%। এভাবে ‘সম্ভাবনার সূত্র’ অনুযায়ী তিনটি বিষয়ের আনুমানিক উত্তর সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা যদি মাত্র .০১৭% হয় তবে সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে, কুরআনে বিজ্ঞান বিষয়ক যে হাজারটা বর্ণনা এসেছে তা ‘অনুমান করে বলা’ বা ‘আন্দাজে বলা’র সম্ভাবনাও জিরো ভাগ। সুতরাং যদি প্রশ্ন করা হয়, কে এভাবে সুনিশ্চিত সত্য ও প্রামাণ্য তথ্য দিতে পারেন। নিঃসন্দেহে তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি এই পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন। আর তিনিই হচ্ছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা যার পক্ষে এসব তথ্য দেওয়া সম্ভব। এভাবে তিনি অবিশ্বাসীদের নিকট বিভিন্নভাবে বিজ্ঞান ও যুক্তির আলোকে প্রমাণ দিয়েছেন যে, কুরআন আল্লাহ্র বাণী, তা রাসূল (ছাঃ)-এর প্রখর বুদ্ধিপ্রসূত (!) কিছু নয়।
সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রসংগে :
‘সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ’ প্রসঙ্গে তিনি ২০০৬ সালে মুম্বাইতে একটি সেমিনার করেন। যেখানে ইন্ডিয়ার সুপ্রীম কোর্টের সাবেক বিচারপতি হজবার্ট সুরেশ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন। ৩ ঘণ্টার এই সেমিনারে তিনি ইতিহাস থেকে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধর্মের লোকদের হাতে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, পাশ্চাত্য মিডিয়া ও তাদের বুদ্ধিজীবীদের মাধ্যমে সর্বাধিক প্রচারিত যে মিথ অর্থাৎ ‘সকল মুসলমান সন্ত্রাসী নয়, তবে সকল সন্ত্রাসী মুসলমান’ তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার। তিনি বলেন যে, সন্ত্রাস যদি কোন ধর্মের বিশেষ করে ইসলামের ‘সম্পদ’ প্রচার করা হয় তবে বলতে হয় অন্য ধর্মের লোকেরা যুগে যুগে যে নৃশংস সন্ত্রাস চালিয়েছে তার তুলনায় মুসলমানরা নিতান্তই শিশুতুল্য।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস কোন ধর্মের সম্পদ নয়, এটা হল রাজনীতিবিদদের পুঁজি। তারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে সন্ত্রাসকে সমাজের বুকে জিইয়ে রাখেন। যেভাবে ওসামা বিন লাদেন ৯/১১ হামলার জন্য দায়ী কি-না আজও তার কোন প্রমাণ নেই। এটা শুধুমাত্র হাইপোথেসিস। অথচ একেই উপলক্ষ করে আজ মুসলমানরা আক্রমণের লক্ষবস্ত্ত হয়ে পড়েছে। আফগানিস্তান, ইরাকসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে হাজার হাজার নীরিহ মানুষকে প্রতিনিয়ত হত্যা করা হচ্ছে। এসবের কারণ হয় সেটা ভোট ব্যাংকের জন্য অথবা ক্ষমতা ও শক্তিমত্তা প্রকাশের জন্য নতুবা অর্থের জন্য। এটা ওপেন সিক্রেট। কোন ঘটনা ঘটলেই আমেরিকা প্রমাণ ছাড়াই আল-কায়েদাকে ও ইন্ডিয়া লশকর-ই-তাইয়েবাকে দায়ী করে। এসব মূলত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন স্বার্থপ্রণোদিত ‘পলিটিক্যাল গেম’। বৃটিশদের প্রবর্তিত ‘divide & rule’ পলিসিই এখন বর্তমান বিশ্বের নীতি। তিনি বলেন, সন্ত্রাসকে সংজ্ঞায়িত করতে গেলে ভৌগলিক বা ঐতিহাসিক দিক চিন্তা করতে হবে। কারণ আজকে যাকে অন্যরা সন্ত্রাসী বলছেন, আপনাদের কাছে সে মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেমিক! মূলত: পৃথিবী জুড়ে সন্ত্রাসের একমাত্র কারণ ‘অবিচার’। অত্যাচারিত মানুষ যখন বিচার পায় না তখন সৃষ্ট ক্ষোভ থেকে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়।৩ তিনি বলেন, আমি এসব সন্ত্রাসীদের পক্ষাবলম্বন করছি না যেহেতু ইসলাম কখনো বলেনি নিরপরাধ-নীরিহ মানুষকে হত্যা করতে। সুতরাং এটাও অন্যায়। আর আমি বারবার বলি, অন্যায়ের বিচার কখনো অন্যায় দিয়ে করা যায় না। এতে কোনদিন সুবিচার আশা করা যায় না। নীরিহ মানুষ হত্যার পিছনে কোন যুক্তিই পাওয়া যাবে না। কিন্তু মোটের উপর এটা সত্য যে, সমস্ত সন্ত্রাসের কারণ তথা অবিচার বন্ধ না হলে এসব সন্ত্রাসী ঘটনা বন্ধ হবে না। যদি সন্ত্রাস বন্ধ করতে হয় তবে সর্বাগ্রে প্রয়োজন অবিচার-অত্যাচার দূর করা। কেননা এসব সন্ত্রাসীদের পক্ষে যুক্তি রয়েছে। তারা নিজেদের আত্মীয়-স্বজন, হাজার হাজার মানুষকে তারা নিহত হতে দেখেছে। অপরাধীরা তাদের সামনে ঘুরছে। কিন্তু তাদের কোন বিচার সমাজে হয় না। তাই তারা আইন হাতে তুলে নিয়েছে। আপনি এসব সন্ত্রাসীদের ন্যায়ানুগ শাস্তিবিধান করতে পারেন, কিন্তু তাদের যুক্তিকে অস্বীকার করতে পারেন না। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ১১ জুলাই বোম্বেতে একটি ট্রেনে ৭টি বোমা বিস্ফোরিত হয় যাতে মারা যায় ২০০-এর বেশী নীরিহ লোক, আহত হয় ৮০০-এরও বেশী লোক। সরকারের পক্ষ থেকে দাবী করা হয় এ ঘটনা ঘটিয়েছে লশকর-ই-তাইয়েবা, ২০০২ সালের ফেব্রয়ারীতে গুজরাটের গণহত্যার প্রতিশোধ হিসাবে। এটা যদি সত্যি হয় তবে ঘটনা পরম্পরায় চিন্তা করুন এটা কি বন্ধ করা যেত না? সহজেই যেত। তবে এর জন্য দায়ী কে? (১) সেই রাজনীতিবিদরা যাদের প্লানে গুজরাটের গোধরাতে ট্রেনে আগুন ধরানো হয়েছিল। (২) কেন্দ্রীয় সরকার যারা এটা থামানোর সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা করেনি দলীয় স্বার্থে। (৩) গুজরাটের সাধারণ জনগণ যারা উস্কানীপ্রাপ্ত হয়ে মুসলমানদের উপর আক্রমণ চালিয়েছিল। (৪) গুজরাটের পুলিশবাহিনী যারা এই তান্ডব না থামিয়ে নিষ্ক্রিয়ভাবে তা দেখছিল; বরং সন্ত্রাসীদের উল্টো সহযোগিতা করেছিল। (৫) গুজরাটের বিচারবিভাগ যারা এ ঘটনায় কোন ব্যবস্থা নেয়নি। (৬) সর্বশেষে যারা এই অন্যায়ভাবে প্রতিশোধ নিয়েছে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে। এরা সকলেই সমানভাবে দায়ী। তবে আমরা যদি প্রথমটি ঠেকাতে পারতাম তবে শেষোক্তগুলো ঘটার সুযোগ পেত না। তিনি বলেন, এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার মুসলিম সাধারণ জনতার উপর চালানো হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চরম হয়রানী। বাড়ী বাড়ী তল্লাশী হয়। যদি বই পাওয়া যায় জিহাদের উপর। ব্যাস! সেটাই হল প্রমাণ। অথচ একই বই বাজারের বুকস্টলে বহু বছর ধরে পাওয়া যায়। যদি এগুলো সন্ত্রাসের কারণ হয় তবে এসব বুকস্টল কেন বন্ধ করা হচ্ছে না? আর তাই যদি হয় তবে তো কুরআন শরীফ থাকলেই সমস্ত মুসলিমকে গ্রেফতার করতে হয়। আমি বলি, দোষীদের শাস্তি প্রদান করুন, কোন সমস্যা নেই। কিন্তু দিনের পর দিন অজ্ঞাতস্থানে নীরিহ মানুষকে কেন আটকে রাখতে হবে? কেন তাদের অনেকের কাছ থেকে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া অথবা এমন বিষয়ে স্বীকৃতি নেয়া হচ্ছে যা তারা জানে না? এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুম্বাইতে সেমিনার হল। আমন্ত্রিত প্রাক্তন দু’জন পুলিশ অফিসার বললেন, পাকিস্তান ও ভারতের মাদ্রাসাগুলো এর জন্য দায়ী। জনৈক এ্যাডভোকেট তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এমন একটি প্রমাণ কি আপনাদের হাতে আছে। তারা তা দিতে ব্যর্থ হলেন। এভাবেই চলছে মুসলিম জনসাধারণকে হয়রানী। এতে প্রকৃত অপরাধী ধরা পড়ুক বা না পড়ুক নীরিহ মুসলমানদের মধ্যে সৃষ্টি করা হচ্ছে ভীতি আর ক্ষোভ। আর এসব কাজে মূলত ব্যবহার করা হয় মিডিয়াকে। বিশেষ করে রাজনীতিবীদদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া যারা এক নিমিষেই সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা, হিরোকে জিরো আর জিরোকে হিরো করতে অভ্যস্ত। এদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।
তিনি বলেন, অনেক মুসলমান সংশয়-দ্বিধা নিয়ে বলে আমি মৌলবাদী নই, চরমপন্থী নই। আমি বলি, একজন মৌলবাদী হিসাবে আমি গর্বিত। কেননা আমি ইসলামের যাবতীয় মৌলিক নীতিমালাকে মেনে চলার চেষ্টা করি। একজন চরমপন্থী হওয়া অন্যায় কিছু নয়। কেউ কি আমাকে বলতে পারবেন একজন চরম সৎ, একজন চরম ন্যায়পরায়ণ, চরম দয়ালু, চরম ক্ষমাশীল হওয়া অন্যায়? বরং এসব ক্ষেত্রে চরমপন্থী হওয়াটাই কুরআনের নির্দেশ। কারণ আংশিক বা সুবিধামত নীতি মেনে চলা এটা ইসলামের নীতি নয়। আল্লাহ বলেছেন ‘তোমরা ইসলামের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে প্রবেশ কর’। এভাবে আমাদেরকে বাজে মন্তব্য-আলোচনার টেবিল উল্টে দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মুসলমানদের উচিৎ ভয় না পেয়ে সত্য প্রকাশে সাহসী হওয়া। তবে সেটাও হতে হবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ও জ্ঞানের সাথে। যেভাবে এসেছে সূরা নাহালের ১২৫ নং আয়াতে। অন্যান্য সময়ের মত এখানেও তাঁর বক্তব্য শেষ করেন Dr. Joseph Adam Pearson-এর একটি উক্তি দিয়ে, ’People who worry that nuclear weaponry will one day fall in the hands of the Arabs, fail to realize that the Islamic bomb has been dropped already, it fell the day MUHAMMED (pbuh) was born’ অর্থাৎ ‘লোকেরা যারা আশংকা করে যে, পরমাণু বোমা একদিন আরবদের হস্তগত হবে, তারা আসলে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে যে, ইসলামিক বোমা অনেক আগেই পৃথিবীতে পড়েছে, আর এটা সেদিনই যেদিন মুহাম্মাদ (ছাঃ) জন্মগ্রহণ করেছেন’।
তাঁর লিখিত বই ও অন্যান্য প্রকাশনা :
তাঁর লেকচারের উপর ভিত্তি করে কয়েকটি বই যেমন- ‘প্রধান প্রধান ধর্ম সমূহে আল্লাহ্র ধারণা’, ‘কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান- সামঞ্জস্যপূর্ণ না অসামঞ্জস্যপূর্ণ?’, ‘ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের সচরাচরকৃত প্রশ্নসমূহের জবাব’, ‘ইসলাম ও সন্ত্রাসবাদ’, ‘সন্ত্রাসবাদ ও জিহাদ’, ‘ইসলামে নারী অধিকার- সংরক্ষিত না নিগৃহীত?, ‘আল-কুরআন- পাঠের সাথে সাথে অনুধাবন করা কি উচিৎ?’, ‘কুরআন কি আল্লাহ্র বাণী?’,‘বিজ্ঞানের আলোকে বাইবেল ও কুরআন’, ‘সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ব’ প্রভৃতি শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। যার প্রায় সবগুলোই বাংলাভাষায় অনূদিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর বিষয়ভিত্তিক ভিডিও ও অডিও লেকচারের শতাধিক সিডি, ডিভিডি ‘আইআরএফ’ সহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ‘ইসলামিক টিভি’ চ্যানেলের সৌজন্যে বাংলা ভাষায় ডাবিংকৃত ভিডিও লেকচারও প্রকাশিত হয়েছে।   
এভাবে তিনি অব্যাহত গতিতে সফলভাবে ও নিষ্ঠার সাথে তাঁর কর্মকান্ড পরিচালনা করে চলেছেন। সারাবিশ্বে সৃষ্টি হয়েছে তাঁর লক্ষ-কোটি অনুরক্ত। বহু মানুষ তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে ইসলামের সত্যতা অনুভব করে ইসলাম গ্রহণ করছেন। শুধু তা-ই নয় তাঁর দা‘ওয়াতী পদ্ধতি অনুসরণ করে বিশ্বের আনাচে-কানাচে মুসলিম সমাজেও সৃষ্টি হচ্ছে দক্ষ, প্রজ্ঞাবান দাঈ ইলাল্লাহ। আমাদের দেশে সামাজিক অবক্ষয়ের এই চরম অবস্থাতেও গত কয়েক বছরে বিশেষত তরুণ সমাজে ইসলামের প্রতি সচেতনতা সৃষ্টির হার যে বেশ আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তার পিছনে জাকির নায়েকদের অবদান কম নয়।
সমালোচনা :
ডা. নায়েকের গুণগ্রাহীদের মত তাঁর সমালোচকের সংখ্যাও কম নয়। অমুসলিমরা ছাড়াও মুসলমানদের মধ্য থেকেও তার সমালোচক প্রচুর। তথাকথিত উদারপন্থীরা তাকে খুব গোঁড়াপন্থী, অন্যদিকে অনেক আলেম তাঁকে শিথিলপন্থী বলে সমালোচনা করেছেন। আবার অনেকে তাঁর তুলনামূলক দাওয়াতী পদ্ধতিকেই ভুল মনে করেন। স্বঘোষিত মুরতাদ আলী সিনা৪ তাঁকে ‘শ্যোম্যান’ বলে হেয় করতে চেয়েছে। ইন্ডিয়ান লেখক খুশওয়ান্ত সিং জাকির নায়েকের দেয়া বক্তব্য ও যুক্তিসমূহকে ‘বালসুলভ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, ডা. নায়েক সস্তা যুক্তি উপস্থাপন করে মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারলেও এতে মুসলমানদের পশ্চাদপদ হওয়ার পথই অবারিত হচ্ছে। দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে ২০০৮ সালের আগষ্ট মাসে ডা. নায়েকের বিরুদ্ধে এক ফৎওয়ায় বলা হয়, ‘জাকির নায়েকের বক্তব্যে এটা সুস্পষ্ট যে তিনি একজন গায়রে মুকাল্লিদের প্রচারক। সুতরাং তাঁর কোন বক্তব্যের উপর নির্ভর করা উচিৎ হবে না।’ হোসাইন (রাঃ)-এর শাহাদাতের ঘটনায় ইয়াযীদকে দোষারোপ না করায় তাঁকে ‘কাফের’ ফৎওয়া দেয়া হয়েছে। এছাড়া ছূফী ও পীরপন্থী বিভিন্ন সংগঠন তাঁর ঘোর বিরোধিতা করে আসছে। তবে ডা. নায়েক এ ব্যাপারে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এসব ফৎওয়া গুরুত্বহীন। কেননা তাদের বরং ইমাম বুখারীর বিরুদ্ধেই ফৎওয়া জারী করা উচিৎ। ইসলাম সম্পর্কে সীমিত জ্ঞানের অধিকারী কিছু আলেম এসব ফৎওয়া দিচ্ছেন। এর কোন প্রভাব তাঁর উপর পড়বে না।’
সম্প্রতি তিনি তাঁর আসন্ন বৃটেন ও কানাডা সফরে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী ১৮ জুন বৃটেন যাত্রার প্রস্ত্ততি গ্রহণের প্রাক্কালে ১৭ জুন বৃটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা জারির পত্রটি তাঁর হস্তগত হয়। একই সাথে ড. আবু আমিনা বিলাল ফিলিপসকেও বৃটিশ ভিসা দেওয়া হয়নি। বৃটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে ১৬ জুন এই নিষেধাজ্ঞা জারীর পর বলেন, ‘বৃটিশ নাগরিকদের জন্য কল্যাণকর নয় এমন কিছু পরিচালনার সুযোগ আমি দিতে পারি না। ডা. নায়েকের বিভিন্ন মন্তব্যে আমার কাছে এটাই প্রতীয়মান হয়েছে যে, তাঁর আচরণ অগ্রহণযোগ্য।’ তাঁর বিভিন্ন সময় প্রদত্ত বক্তব্য থেকে কয়েকটি উদ্ধৃতি হল- ১. তিনি মুরতাদদের হত্যা করার বিধানকে সমর্থন করেন। ২. তিনি বলেছেন, ‘..যদি ওসামা বিন লাদেন মুসলমানদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন, তাহলে আমি তার সাথে আছি’, ‘..তিনি যদি কোন সন্ত্রাসীকে ভয় দেখান, তিনি যদি আমেরিকার মত সর্ববৃহৎ সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের প্রতি ভীতি প্রদর্শন করেন, তবে আমি তার সাথে রয়েছি..’, ‘...প্রত্যেক মুসলিমেরই সন্ত্রাসী হওয়া উচিৎ...’। ৩. স্ত্রীকে হালকাভাবে প্রহার করার বৈধতা পুরুষের রয়েছে- এমন কথা বলা। ৪. সমকামিতার শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া। ৫. স্বল্প পোষাক পরিধানের মাধ্যমে পশ্চিমা মহিলারা নিজেদের ধর্ষিত হওয়ার সুযোগ দিচ্ছেন-এমন মন্তব্য করা) উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ উস্কে দেওয়ার অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ডা. জাকির নায়েক এ অভিযোগকে অপ্রাসঙ্গিক আখ্যা দিয়ে বলেন, স্থানীয় মিডিয়া ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে তাঁর বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে তাঁর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তিনি বৃটিশ হাইকোর্টে এর বিরুদ্ধে আপীল করেছেন এবং এ ব্যাপারে ইন্ডিয়া সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ ও শ্রীলংকায় টানা সফর করার পর বৃটেনে ২৭-২৯ জুন এবং কানাডায় ২-৪ জুলাই তাঁর প্রোগাম ছিল। বৃটিশ সরকারের দেখাদেখি কানাডা সরকারও তাঁর প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কানাডার টরেন্টোতে অনুষ্টিতব্য ‘ফেইথ কনফারেন্স’টি আয়োজকদের বর্ণনা মতে উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ আয়োজন ছিল। এদিকে মুসলিম কানাডিয়ান কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা তারেক ফাতাহ কানাডা সরকারের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা খুবই খুশী যে সরকার ডা. নায়েকের    মন্তব্যগুলো সচেতনভাবেই লক্ষ্য করেছে এবং এরূপ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে’। তারেক ফাতাহ একজন মডারেট ও মুসলিমদের পক্ষে কানাডা সরকারের লবিস্ট হিসাবে পরিচিত। তিনি সম্প্রতি জাকির নায়েকের মন্তব্য সমূহ উদ্ধৃত করে ফেডারেল এমপিদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক অনেকগুলি ই-মেইল বার্তা প্রেরণ করেন।
শেষকথা : পরিশেষে বলতে হয়, পৃথিবী জুড়ে ইসলাম যেন আজ বড় অসহায়ত্বের শিকার। পাশ্চাত্য বিশ্বের সর্বাত্মক আক্রমণ ও ষড়যন্ত্রে দিশাহারা মুসলিম বিশ্ব একদিকে যেমন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে স্বয়ং মুসলমানদেরই অব্যাহত কাটা-ছেঁড়ায়, যোজন-বিয়োজনে রুগ্ন ইসলাম যেন অন্যের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে বেড়াচ্ছে। নীতিহারা মুসলমানদের অপরিণামদর্শী কর্মকান্ডে খোদ ইসলাম যেন আজ  ‘ধর্মান্তরিত’ হয়ে পড়েছে। ফলে ইসলামের বিশ্বজনীন জীবন ব্যবস্থাপনা আজ তথাকথিত আধুনিক বিশ্বে সত্যি সত্যিই অচল, সেকেলে (!) পরিণত। ইতস্তত-বিক্ষিপ্ত মুসলিম চিত্তমানসে এই অন্ধকার যখন দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে তখন ডা. জাকির নায়েকদের মত সুস্থ আক্বীদা ও চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বদের বলিষ্ঠ আত্মপ্রকাশ সত্যিই আশাব্যঞ্জক। ইতিমধ্যে ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি যা কিছু করেছেন তা এককথায় বর্ণনাতীত। দীর্ঘদিন যাবৎ মুসলিম বিশ্ব চেতনাদৃপ্ত সাহসী একটি নেতৃত্বের অভাবে হাহাকার করছে; যে নেতৃত্ব জাতিগত বেষ্টনী অতিক্রম করে বৈশ্বিক নেতৃত্বের সঞ্চার করবে। অন্যায়, অবিচার, প্রহসন, মিথ্যা, ভ্রান্ত বিশ্বাস ও কুসংস্কারের মায়া-মরিচিকাপূর্ণ তিমিরজঞ্জাল ছিন্ন করে সারাবিশ্বের মানুষকে একক স্রষ্টার সুমহান মর্যাদাপূর্ণ পতাকাতলে সমবেত করার প্রচেষ্টা চালাবে। বলা বাহুল্য, এই আহবান জানানোর নৈতিক হিম্মতটুকুও যেন দুর্বল চেতনাসম্পন্ন মুসলিম সমাজ এখন হারিয়ে ফেলছে। ডা. জাকির নায়েকদের প্রয়াস তাই আমাদের আশান্বিত করে, বুকে বল নিয়ে আসে, দিগন্তপ্রান্তেনবারূণের স্বপ্ন জাগায়। মহান আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে বরকতমন্ডিত করুন এবং তাঁদের কর্মতৎপরতার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর দুয়ারে ইসলামের সেই সুমহান আদর্শ ও জীবন বিধান আলোকোজ্জ্বল, মহিমামন্ডিত হয়ে উঠুক প্রতিনিয়ত। আমীন!!           


১.  ভারতে পশ্চিমাঞ্চলে (মহারাষ্ট্র প্রদেশ) আরব সাগরের উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল জুড়ে মালাবার ও কনকান অঞ্চল অবস্থিত। মুহাম্মাদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের পূর্বেই এ অঞ্চলে আরব মুসলিম বণিক ও প্রচারকগণ আগমন করেন এবং বসতি স্থাপন করেন। এ অঞ্চলের মুসলমানরা কনকানী ও মোপলা মুসলমান বলে পরিচিত। ভারতবর্ষের  ইতিহাসে তারাই সর্বপ্রাচীন মুসলিম জনগোষ্ঠী । এজন্য তাদেরকে  ‘The Vanguards of Islam in India’ বলা হয়। আরবী ও ফারসী মিশ্রিত স্থানীয় ভাষায় তারা কথা বলে। সাধারণত তাদেরকে শাফে‘ঈ মাযহাবভুক্ত মনে করা হয়। ১৮ শতকে তারা থানেশ্বর, মুম্বাই, রত্নগিরি প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। (উইকিপিডিয়া, kankani people)।

২. এখানে সতর্কতার জন্য বলা প্রয়োজন যে, বিভিন্ন প্রকাশনীর বাংলা অনুবাদসমূহ পরখ করে দেখা গেছে সেখানে বেশ কিছু স্থানে ভুল অনুবাদ করা হয়েছে। আরো উদ্বেগের বিষয় যে, মাসআলাগত বিষয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু যোজন-বিয়োজন করা হয়েছে যা মূল বইয়ে নেই। এজন্য পাঠককে সতর্কতার সাথে বই ক্রয়ের জন্য অনুরোধ করা হল।- লেখক

৩. অরুন্ধতী রায়ের ভাষায়- ‘ভিকটিম যখন আর ভিকটিম হতে চায় না তখনই সন্ত্রাসের জন্ম নেয়।’

৪. ইরানের এই শী‘আ লোকটি স্বীয় ধর্ম পরিত্যাগ করে বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছে। রাসূল (ছাঃ)-কে সন্ত্রাসের নায়ক ও ইসলামকে সন্ত্রাসের ধর্ম চি হ্নত করে পৃথিবী থেকে এর অনুসারীদের শিকড় উপড়ে ফেলার মিশন নিয়ে সে ২০০৫ সালে একটি ওয়েবসাইট www.faithfreedom.com চালু করে। ইসলামের বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্বেষ ছড়ানোয় সউদী আরবসহ কয়েকটি মুসলিম দেশে এই ওয়েবসাইটটি নিষিদ্ধ। নীতিগতভাবে সকল ধর্মের বিদ্বেষী হলেও যথারীতি ইসলামই তার ও তার অনুসারীদের একমাত্র টার্গেট। সে গর্বভরে নিজেকে ‘এক্স মুসলিম’ পরিচয় দেয় এবং ‘এক্স মুসলিমস্’ নামে মুরতাদদের জন্য একটি ফোরাম গঠন করেছে।

জবাব: ডা. জাকির নায়েক : এক নবদিগন্তের অভিযাত্রী -২

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি নিয়মিত লেখা দিয়ে আমাদের জানার পরিধি বাড়াতে সহায়তা করবেন।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল