Share

টপিক: মুশ্রিকদের মা’বূদদেরকে(মান /মা) শব্দদ্বয় দিয়ে ব্যক্ত করার মূল রহস্য

মক্কার মুশ্রিকদের মা’বূদদেরকে ”মান” বা ”মা” শব্দদ্বয় দিয়ে ব্যক্ত করার মূল রহস্যঃ
জনাব আব্দুর রহ্মান ওয়াকীল তাঁর ”দা’ওয়াতুল-’হক্ব” কিতাবে বলেনঃ উক্ত কারণেই একই ঘটনার বর্ণনায় মুশ্রিকদের মা’বূদদেরকে কখনো ”মান” শব্দ দিয়ে ব্যক্ত করা হয়। আবার কখনো ”মা” শব্দ দিয়ে। অর্থাৎ কখনো জড় পদার্থ বুঝায় এমন শব্দ দিয়ে। আবার কখনো জ্ঞানবান মানুষ বুঝায় এমন শব্দ দিয়ে তাদের মা’বূদদেরকে ব্যক্ত করা হয়েছে।
যখন ”মা” শব্দ দিয়ে ব্যক্ত করা হয় তখন ওলীদের নামে স্থাপিত মূর্তিগুলোকেই বুঝানো হয়। আর যখন ”মান” শব্দ দিয়ে ব্যক্ত করা হয় তখন সে বুযুর্গদেরকেই বুঝানো হয় যাদের নামে এ মূর্তিগুলো তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং উভয় অভিব্যক্তি একই। পার্থক্য শুধু ধরনগত। কারণ, সবই তো গাইরুল্লাহ্’রই অভিব্যক্তি।
আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ
قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَّا تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللهِ أَرُوْنِيْ مَاذَا خَلَقُوْا مِنَ الْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِيْ السَّمَاوَاتِ ...
অর্থাৎ তুমি বলে দাওঃ তোমরা আল্লাহ্ তা’আলার পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো তাদের সম্পর্কে কি কখনো ভেবে দেখেছো ? তারা পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে তা আমাকে দেখাও কিংবা আকাশমণ্ডলীতে কি তাদের কোন অংশীদারিত্ব আছে ? (আল-আহ্ক্বাফ : ৪)
এর পরের আয়াতেই আল্লাহ্ তা’আলা একই বিষয়ে বলেনঃ
وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُوْا مِنْ دُوْنِ اللهِ مَنْ لاَ يَسْتَجِيْبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، وَهُمْ عَنْ دُعَآئِهِمْ غَافِلُوْنَ
অর্থাৎ সে ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে যে আল্লাহ্ তা’আলার পরিবর্তে এমন কাউকে ডাকে যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিবে না এবং তারা এদের প্রার্থনা সম্পর্কেও একেবারেই অনবগত। (আল-আহ্ক্বাফ : ৫)
সুতরাং কবরপন্থীরা এ কথা বলে পার পাবে না যে, মক্কার কাফিররা তো মূর্তিকে ডাকতো। আর আমরা ডাকছি পীর-বুযুর্গদেরকে। না, বরং মক্কার কাফিররাও তাদের বুযুর্গদেরকেই ডাকতো।
আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেনঃ
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَاهِيْمَ ، إِذْ قَالَ لِأَبِيْهِ وَقَوْمِهِ مَا تَعْبُدُوْنَ ، قَالُوْا نَعْبُدُ أَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عَاكِفِيْنَ ، قَالَ هَلْ يَسْمَعُوْنَكُمْ إِذْ تَدْعُوْنَ ، أَوْ يَنْفَعُوْنَكُمْ أَوْ يَضُرُّوْنَ ، قَالُوْا بَلْ وَجَدْنَآ آبَآءَنَا كَذَلِكَ يَفْعَلُوْنَ ، قَالَ أَفَرَأَيْتُمْ مَّا كُنْتُمْ تَعْبُدُوْنَ ، أَنْتُمْ وَآبَآؤُكُمْ الْأَقْدَمُوْنَ ، فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِّيْ إِلاَّ رَبَّ الْعَالَمِيْنَ
অর্থাৎ তাদের নিকট ইব্রাহীম (আঃ) এর বৃত্তান্ত বর্ণনা করো। সে যখন তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিলোঃ তোমরা কিসের ইবাদাত করছো ? তারা বললোঃ আমরা মূর্তি পূজা করছি এবং আমরা নিষ্ঠার সাথেই তাদের পূজায় সর্বদা নিমগ্ন। সে (ইব্রাহীম (আঃ)) বললোঃ তোমরা প্রার্থনা করলে কি তারা তোমাদের প্রার্থনা শুনতে পায় ? তারা কি তোমাদের কোন উপকার কিংবা অপকার করতে পারে ? তারা বললোঃ না, তবে আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকে এমনই করতে দেখেছি। সে (ইব্রাহীম (আঃ)) বললোঃ তোমরা কি কখনো সে মূর্তিগুলো সম্পর্কে ভেবে দেখেছো যেগুলোর তোমরা পূজা করছো ? এমনকি তোমাদের পূর্ব-পুরুষরাও। তারা তো আমার চরম শত্র“ একমাত্র সর্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহ্ তা’আলা ছাড়া। (আশ-শু’আরা’ ৬৯-৭৭)
উক্ত আয়াত সমূহে আমরা দেখতে পাচ্ছি, কাফিররা যখন বললোঃ আমরা তো মূর্তি পূজা করছি তখন ইব্রাহীম (আঃ) বললেনঃ هَلْ يَسْمَعُوْنَكُمْ অর্থাৎ ইব্রাহীম (আঃ) মূর্তিগুলোকে জ্ঞানবান মানুষ বুঝায় এমন শব্দ দিয়ে ব্যক্ত করেছেন। কারণ, তিনি সেই বুযুর্গদের প্রতি ইঙ্গিত করতে চাচ্ছেন যাঁদের নামে উক্ত মূর্তিগুলো বানানো হয়েছে। তাঁর এমন উদ্দেশ্য না থাকলে তিনি অবশ্যই বলতেনঃ هَلْ تَسْمَعُكُمْ । পরিশেষে আবারো ইব্রাহীম (আঃ) মূর্তিগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বললেনঃ أَفَرَأَيْتُمْ مَّا كُنْتُمْ تَعْبُدُوْنَ । এরপর আবারো তিনি সেই বুযুর্গদের প্রতি ইঙ্গিত করে বললেনঃ فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِّيْ অর্থাৎ ইব্রাহীম (আঃ) মূর্তিগুলোকে জ্ঞানবান মানুষ বুঝায় এমন শব্দ দিয়ে ব্যক্ত করেছেন। তাঁর এমন উদ্দেশ্য না থাকলে তিনি অবশ্যই বলতেনঃ فَإِنَّهَا عَدُوٌّ لِيْ ।
এভাবেই কুর’আন মাজীদে মূর্তি পূজার একই ঘটনা ”মান” ও ”মা” উভয় শব্দ দিয়ে ব্যক্ত করা হয়েছে। কারণ, মুশ্রিকরা একই বুযুর্গের পূজা দিতে গিয়ে কখনো তাঁর মূর্তি পূজা করে আবার কখনো তাঁর কবর পূজা করে আবার কখনো কিছু না পেয়ে তাঁর কবরের গিলাফ পর্যন্ত পূজা করে।
যখন আমরা জানতে পারলাম কি কি কারণে আল্লাহ্ তা’আলা মক্কার কাফির ও মুশ্রিকদেরকে একাধিক ইলাহ্ পূজারী, আল্লাহ্ তা’আলার অংশীদার গ্রহণকারী ও মূর্তিপূজারী বলে আখ্যায়িত করেছেন তখন আমাদের এ কথা বুঝতে এতটুকুও কষ্ট হয় না যে, এ সবের মূলে রয়েছে বুযুর্গ পূজা এবং বুযুর্গদেরকে নিয়ে অতি ব্যস্ততাই র্শিকের মূল কারণ।
তাই আমাদের সকলকে বিনা দ্বিধায় এ কথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, মুশ্রিকদের মা’বূদগুলোর ব্যাখ্যায় বর্ণনা বা অভিব্যক্তির ভিন্নতা শুধুমাত্র দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার দরুনই হয়েছে। নতুবা মূল বস্তুটি হুবহু একই। পার্থক্য শুধু ধরনগত। অতএব যে যে দৃষ্টিভঙ্গির দরুন মক্কার কাফির ও মুশ্রিকদের মা’বূদগুলোর নামে পরিবর্তন হয়েছে তা নিম্নোক্ত আলোচনায় আরো সুস্পষ্ট হয়ে যায়।
জনাব আব্দুর রহ্মান ওয়াকীল তাঁর ”দা’ওয়াতুল-’হক্ব” কিতাবে বলেনঃ মক্কার কাফিরদের মা’বূদদেরকে কখনো কখনো ওলী বলা হয়েছে। কারণ, তারা বিপদের সময় তাদের মা’বূদদের নিকট অত্যন্ত করুণ ভঙ্গিতে ফরিয়াদ করতো। তাদেরকে ডাকতো। আর এটাই তাদের মা’বূদদের মূল বিশেষণ। কখনো কখনো তাদের মা’বূদদেরকে শরীক বা অংশীদার বলা হয়েছে। কারণ, তারা তাদের মা’বূদদেরকে ইবাদাতের ক্ষেত্রে আল্লাহ্ তা’আলার অংশীদার বানিয়েছে। কখনো কখনো তাদের মা’বূদদেরকে ইলাহ্ বা মা’বূদ বলা হয়েছে। কারণ, তারা তাদের মা’বূদদেরকে পূর্ণাঙ্গ অর্থেই মা’বূদ বানিয়ে নিয়েছে। তাদের ইবাদাত করেছে। তাদের নিকট ফরিয়াদ করেছে। ইত্যাদি ইত্যাদি। কখনো কখনো তাদের মা’বূদদেরকে ”ওয়াসান”, ”স্বানাম” কিংবা ”তিম্সাল” তথা মূর্তি বলা হয়েছে। কারণ, তারা ইবাদাতের সুবিধার জন্য তাদের মৃত ওলীদের নামে মূর্তি বানিয়ে নিয়েছে। কখনো কখনো তাদের মা’বূদদেরকে ”ত্বাগূত” বলা হয়েছে। কারণ, সে মূর্তিই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে অথবা তারা সে মূর্তির কারণেই পথভ্রষ্ট হয়েছে। কখনো কখনো তাদের মা’বূদদেরকে শয়তান বলা হয়েছে। কারণ, মূলতঃ শয়তানই তাদেরকে এ মূর্তিপূজার পরামর্শ দিয়েছে।
আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ
إِنْ يَّدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهِ إِلاَّ إِنَاثًا ، وَإِنْ يَّدْعُوْنَ إِلاَّ شَيْطَانًا مَّرِيْدًا
অর্থাৎ তারা আল্লাহ্ তা’আলাকে বাদ দিয়ে তাঁর পরিবর্তে নারী মূর্তিগুলোকেই আহ্বান করে। মূলতঃ তারা এতে করে বিদ্রোহী শয়তানকেই আহ্বান করছে। (আন-নিসা’ : ১১৭)
আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেনঃ
يَآ أَبَتِ لاَ تَعْبُدِ الشَّيْطَانَ ، إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلرَّحْمَنِ عَصِيًّا
অর্থাৎ (ইব্রাহীম (আঃ) বলেনঃ) হে আমার পিতা! শয়তানের ইবাদাত করো না। কারণ, শয়তান তো দয়াময় প্রভুর এখান্ত অবাধ্য। (মারইয়াম : ৪৪)
কখনো কখনো তাদের মা’বূদদেরকে ”যান” বা অমূলক ধারণা বলা হয়েছে। কারণ, তারা তাদের মূর্তিদের সম্পর্কে ভালো-মন্দের অমূলক ধারণা করতো। কখনো কখনো তাদের মা’বূদদেরকে ”হাওয়া” বা মনঃকুপ্রবৃত্তি বলা হয়েছে। কারণ, তারা এগুলোর পূজার ব্যাপারে মনের কুপ্রবৃত্তিরই অনুসরণ করেছে।
আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ
وَمَا يَتَّبِعُ الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللهِ شُرَكَآءَ ، إِنْ يَّتَّبِعُوْنَ إِلاَّ الظَّنَّ ، وَإِنْ هُمْ إِلاَّ يَخْرُصُوْنَ
অর্থাৎ যারা আল্লাহ্ তা’আলাকে বাদ দিয়ে অন্য শরীকদেরকে ডাকে তারা মূলতঃ অমূলক ধারণারই অনুসরণ করছে এবং অনুমানপ্রসূত কথাই বলছে। (ইউনুস : ৬৬)
আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেনঃ
إِنْ يَّتَّبِعُوْنَ إِلاَّ الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ ، وَلَقَدْ جَآءَهُمْ مِّنْ رَّبِّهِمُ الْهُدَى
অর্থাৎ তারা তো অনুসরণ করছে অমূলক ধারণার এবং অন্তরের কুপ্রবৃত্তির ; অথচ তাদের নিকট এসেছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সঠিক পথ নির্দেশ। (আন-নাজ্ম : ২৩)
আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেনঃ
أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلٰهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللهُ عَلَى عِلْمٍ
অর্থাৎ তুমি কি লক্ষ্য করেছো ওদের দিকে যারা নিজেদের খেয়াল-খুশিকেই মা’বূদ বানিয়ে নিয়েছে ? আল্লাহ্ তা’আলা জেনে-শুনেই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছেন। (আল-জাসিয়াহ্ : ২৩)
কখনো কখনো তাদের মা’বূদদেরকে ”আসমা’” তথা অন্তঃসারশূন্য নাম সমূহ বলা হয়েছে। কারণ, তারা তাদের মূর্তিগুলোকে ওলী বলেছে ; অথচ আল্লাহ্ তা’আই হচ্ছেন সত্যিকারের ওলী তথা মহান অভিভাবক। তারা তাদের মূর্তিগুলোকে সুপারিশকারী বলেছে ; অথচ সুপারিশের চাবিকাঠি একমাত্র আল্লাহ্ তা’আলারই হাতে। অতএব তাদের মা’বূদগুলো হচ্ছে নামসর্বস্ব কিছু আকৃতি মাত্র।
আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ
مَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِهِ إِلَّآ أَسْمَآءً سَمَّيْتُمُوْهَآ أَنْتُمْ وَآبَآءُكُمْ مَّا أَنْزَلَ اللهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ
অর্থাৎ তাঁকে (আল্লাহ্ তা’আলাকে) বাদ দিয়ে তোমরা শুধু কতকগুলো নামেরই ইবাদাত করছো। যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষরাই রেখেছে। যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ্ তা’আলা কোন প্রমাণই পাঠাননি। (ইউসুফ : ৪০)
আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেনঃ
إِنْ هِيَ إِلَّآ أَسْمَآءٌ سَمَّيْتُمُوْهَآ أَنْتُمْ وَآبَآءُكُمْ مَّآ أَنْزَلَ اللهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ
অর্থাৎ এগুলো তো কয়েকটি নাম মাত্র। যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষরাই রেখেছে। যার সমর্থনে আল্লাহ্ তা’আলা কোন প্রমাণই পাঠাননি। (আন-নাজ্ম : ২৩)
সুতরাং কোন মুশ্রিক যেন আপনাকে বিশেষণের মার পেঁচে ফেলতে না পারে। কারণ, সবগুলো বিশেষণ একই বস্তুর। যার নাম হচ্ছে গায়রুল্লাহ্। অভিব্যক্তির পরিবর্তন দেখে ধোঁকা খাওয়ার কোন যৌক্তিকতাই নেই। কারণ, মূল বস্তু তো একই। এরপর কবরপন্থী ও পীর পূজারীদের এ ধরনের কোন ঠুনকো যুক্তিই আর গ্রহণযোগ্য হবে না। তারা বলেঃ মক্কার কাফিররা তো মূর্তিপূজা করতো এবং তারা সেগুলোকে ইলাহ্ মনে করতো। আর আমরা তো শুধু আল্লাহ্’র ওলীদেরকেই ডাকছি। এর বেশি আর কিছুই নয়। কারণ, পূর্বের কুর’আন ভিত্তিক আলোচনা এর অসারতাই প্রমাণ করছে।
আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝা ও সে মতে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন! সুম্মা আমীন!
وَصَلَّى اللهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِيْنَ

সমাপ্ত

হে আল্লাহ্! আপনি আমাদের সকলকে র্শিক থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন। আ’মীন সুম্মা আ’মীন।