টপিক: ভুলে ভরা বোর্ডের ইসলামিক শিক্ষা বই

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমাদের সবচেয়ে শত্রু হচ্ছে ইহুদী এরপর মুশরিক।” আবার অন্যত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ইহুদী-খৃষ্টান তথা আহলে কিতাবরা চেয়ে থাকে তোমরা ঈমান আনার পর কিভাবে আবার কাফির বানানো যায়।” মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন ইহুদী, খৃষ্টান, মুশরিক তথা তাবৎ অমুসলিমরাই মুসলমানদের সর্বদা ক্ষতি করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা খুব ভালো করে জানে যে, একটি দেশের আইন ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থ ব্যবস্থাকে নষ্ট করতে পারলেই সেই জাতিকে ইসলাম থেকে দূরে সরানো যাবে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের শিক্ষা কার্যক্রমে বেদ্বীন-বদদ্বীনদের সকল জীবনী, তাদের যত মতবাদ (যেমনঃ গনতন্ত্র, রাজতন্ত্র, মাকর্সবাদ, লেলিনবাদ) গ্রীক দর্শন, বেদ্বীনী সাহিত্য,ইতিহাস, কুফরী আক্বীদা ইত্যাদি সংযোজন করা হয়েছে এবং মহান আল্লাহ পাক, উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সাল্লাম, আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহিম এবং ইসলামী পর্বগুলো ইত্যাদি বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা হয়নি। সেই বিষয়টি তুলে ধরার জন্য জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রণীত ধর্মীয় শিক্ষা বই বিশেষ করে ইসলাম ধর্ম বই নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করব। (ইনশা আল্লাহ)

বইয়ের নামকরণঃ 
অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড পাঠ্যবই হিসেবে বাংলা, ইংরেজী ও গণিত বই প্রণয়ন করলেও কোনো ইসলাম শিক্ষা বই প্রণয়ন করেনি। অন্যদিকে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রণীত ইসলাম শিক্ষা বইয়ের নামকরণ করা হয়েছে, "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা"। বইয়ের নামকরণের মাধ্যমেই শুরু হয়েছে দ্বীন ইসলাম উনাকে ইহানত করা।  ইসলাম কি নৈতিকতা বিরোধী শিক্ষা দেয় যে আলাদাভাবে নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে নাকি ইসলাম ও নৈতিকতা সাংঘর্ষিক! মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, "এ কিতাবে আমি শুকনা ও ভিজা কোনকিছুই ইরশাদ করতে ছাড়িনি।" অন্যত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আজ আমি তোমাদের দ্বীন উনাকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলাম উনাকে তোমাদের জন্য একমাত্র দ্বীনরূপে মনোনীত করলাম।" উল্লেখিত আয়াত শরীফ উনাদের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক দ্বীন ইসলাম উনার পরিপূর্ণতা সম্পর্কে ঘোষণা দিয়েছেন। তাই অবিলম্বে ইসলাম শিক্ষা বইয়ের নামকরণ "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" থেকে পরিবর্তন করে "ইসলাম শিক্ষা" করতে হবে।

আদব বিবর্জিত ভাষা ব্যবহারঃ
জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রণীত "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইগুলোতে মহান আল্লাহ পাক, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মুল মু'মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম,হযরত নবী-রসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়ল্লাহু তায়ালা আনহুম,হযরত আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে যথেষ্ট আদবপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা হয়নি। যেমনঃ তৃতীয় শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ৫৮ নম্বর পৃষ্ঠায় সুরা ফাতিহা শরীফ উনার বঙ্গানুবাদ করতে গিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে তুমি সম্বোধন করা হয়েছে।  নবম-দশম শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ৭৮ নম্বর পৃষ্ঠায় কিয়াস উনার গুরুত্ব আলোচনা করতে গিয়ে হযরত মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে তুমি বলে সম্বোধন করা হয়েছে।  যে কোন সম্মানিত ব্যক্তিকে তুমি বলে সম্বোধন করা বেয়াদবী সেখানে মহান আল্লাহ পাক কিংবা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়ল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে তুমি বলে সম্বোধন করা কত বড় বেয়াদবী তা বলার অপেক্ষাই রাখেনা।
আদব প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “উত্তম আদব হলো ঈমানের অংশ।”অর্থাৎ উত্তম আদবই ঈমান।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, "আমার রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে আদব শিক্ষা দিয়েছেন এবং উত্তম আদব শিক্ষা দিয়েছেন।” (কানযুল উম্মাল, ইবনুস সামআন)
কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, “আদব স্বর্ণ ও রৌপ্যের চেয়েও উত্তম ও শ্রেষ্ঠ।”
আর আদব সম্পর্কে হযরত জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত থেকে বেয়াদব বঞ্চিত।” (মসনবী শরীফ)

তাই ইসলাম শিক্ষা সহ সকল পাঠ্যবই লিখার সময় আদবের বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে এবং আদব বিবর্জিত ভাষা গুলোর পরিহার করে আদবপূর্ন ভাষা সংযোজন করতে হবে।

সংক্ষিপ্ত দরূদ শরীফ ব্যবহারঃ 
তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির প্রতিটি ইসলাম শিক্ষা পাঠ্যবইয়ের অধিকাংশ জায়গায় নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক এর পরে সংক্ষিপ্ত দরূদ শরীফ হিসেবে (স.) লেখা হয়েছে।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক শুনার পর দরূদ শরীফ মুখে উচ্চারণ করা ওয়াজিব, অনূরূপভাবে কলমে লিখাও ওয়াজিব। অর্থাৎ কলমে লিখতে হলেও পূর্ণ দরূদ শরীফ ও সালাম “ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” সম্পূর্ণটাই লিখতে হবে। সংক্ষিপ্তাকারে লিখা আমভাবে মাকরূহ তাহ্রীমী আর খাছভাবে কুফরীর অন্তর্ভূক্ত।

তাহতাবী আলা দুররিল মুখতার কিতাবে উল্লেখ আছে, "অক্ষর দ্বারা দরূদ শরীফ লিখা মাকরূহ বরং পরিপূর্ণভাবে দরূদ শরীফ লিখবে।" (তাহতাবী আলা দুররিল মুখতার, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা-৬)

তাতারখানিয়া কিতাবে এ ব্যাপারে আরো কঠিন ফায়সালা বর্ণিত হয়েছে এবং সংক্ষিপ্ত দরূদ শরীফ লিখাকে “শানে নুবুওওয়াত” খাটো করার অন্তর্ভূক্ত বলা হয়েছে। যেমন উল্লেখ করা হয় “যে ব্যক্তি হামযা ও মীম দ্বারা দরূদ শরীফ লিখলো সে কুফরী করলো। কেননা উহা এহানত বা অবজ্ঞা। আর নবীদের শানে এহানত বা অবজ্ঞা নিঃসন্দেহে কুফরী।”

সম্পূর্ণভাবে দরূদ শরীফ লিখার ফযীলত বর্ণনা করতে গিয়ে কিতাবে লিখা হয়, বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ইমাম, হযরত ইমাম আবূ যুরয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি ইন্তেকাল করার কিছুদিন পর একজন বুযূর্গ ব্যক্তি উনাকে স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি আকাশে ফিরিস্তা আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইমাম হয়ে নামায পড়াচ্ছেন। (সুবহানাল্লাহ্) বুযূর্গ ব্যক্তি বললেন, হে হযরত ইমাম আবূ যুরয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি এই ফযীলত বা মর্যাদা লাভ করলেন কিভাবে? জবাবে, হযরত ইমাম আবূ যুরয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আমি আমার জীবনে ১০ লক্ষ হাদীছ শরীফ লিপিবদ্ধ করেছি এবং যতবারই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক লিখেছি এবং তা পূর্ণভাবে লিখেছি। তাই এর বদৌলতে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে ফিরিস্তা আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইমাম বানিয়ে দিয়েছেন। (সুবহানাল্লাহ্)

তাই সকল পাঠ্যবইয়ের সংক্ষিপ্ত দরূদ শরীফ পরিহার করে সম্পূর্ণ দরূদ শরীফ “ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” লিখতে হবে।

হারাম প্রাণীর ছবিঃ
  পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, “প্রত্যেক প্রাণীর ছবি তোলনেওয়ালা ও তোলানেওয়ালা ব্যক্তিই জাহান্নামী।”

হযরত আবূ মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত, “নিশ্চয় ক্বিয়ামতের দিন দোযখবাসীদের মধ্যে ঐ ব্যক্তির কঠিন আযাব হবে, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আঁকে বা তোলে।” (মুসলিম শরীফ, ২য় খন্ড পৃষ্ঠা- ২০১)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি- তিনি বলেছেন, "মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তিকে কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।" (মিশকাত শরীফ- ৩৮৫)

আর হাজার হাজার হাদীছ শরীফ দ্বারা কঠোরভাবে প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা, রাখা ও দেখাকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির ইসলাম শিক্ষা পাঠ্যবইয়ের কোথাও ছবি তোলা, আঁকা, রাখা হারাম এই বিষয়টি একবারের জন্যও উল্লেখ করা হয়নি। বরং তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির বইতে প্রাণীর ছবি দিয়ে সয়লাব করে রাখা হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের কভার পেইজের পরের পৃষ্ঠা, ৩,৫,১৬,১৭,২১,২৩,২৪,৩০,৩৩,৬৫ ও ৭৬ তম পৃষ্ঠায়, চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের কভার পেইজ,কভার পেইজের পরের পৃষ্ঠা, ৮,২৯,৩১,৩২,৩৩,৩৪ ও ৪৬ তম পৃষ্ঠায়, পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের কভার পেইজের পরের পৃষ্ঠা, ২৯,৩০,৩১,৩২,৩৩,৩৪,৩৫,৬৭,৭০,৭২,৭৮ ও ৮০ তম পৃষ্ঠায়, ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ৪৮,৪৯,৫০,৫১,৫২,৫৩,৫৪ও ৯৭ তম পৃষ্ঠায়, ৮ম  শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের কভার পেইজ ও ১০৪তম পৃষ্ঠায় এবং নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ৮৬ তম পৃষ্ঠায় প্রাণীর ছবি রয়েছে।  যে দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে ছবি স্পষ্ট হারাম সে ইসলাম শিক্ষা বইতে হারাম ছবি দেয়ার যৌক্তিকতা কোথায়? নাকি জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃপক্ষা ইসলাম শিক্ষা বইতে ছবি দিয়ে হারাম ছবিকে হালাল বাননোর পায়তারা করছে। অবিলম্বে ইসলাম শিক্ষা পাঠ্যবই সহ সকল বই-পত্র থেকে এই সব প্রাণীর ছবিগুলোর বাদ দিতে হবে।

কালিমা শরীফ উনাকে ইহানতঃ
তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ১৭ নম্বর পৃষ্ঠায় ওযু করার নিয়মাবলী দেখাতে গিয়ে একটি পা ধোয়ার দৃশ্যের নিচে কালিমা শাহাদাত লিখা হয়েছে। এর মাধ্যমে মুলত কৌশলে কালিমা শরীফ উনাকে ইহানত করা হয়েছে। যে কালিমা শরীফ ইসলামের স্তম্ভ, যে কালিমা শরীফ পড়ে বিধর্মী ঈমান আনে সেই কালিমা শরীফ উনাকে ইহানত করা কত বড় কুফরী তা বলার অপেক্ষা রাখে না বরং তা ঈমানহারা হওয়ার কারণ। তাই অবিলম্বে পা ধোয়ার দৃশ্যটি পাঠ্যবই থেকে বাদ দিতে হবে।

হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে কুফরী আক্বীদাঃ
পঞ্চম শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ১৩০ নম্বর পৃষ্ঠায় হযরত ইবরাহীম আলাইহি সালাম উনার জীবনী মুবারক বর্ণনা করতে গিয়ে  বলা হয়েছে, "ইরাক দেশের বাবেল শহরে এক পুরোহিত পরিবারে হযরত ইব্রাহীম (আ) জন্মগ্রহণ করেন।" একই বইয়ের ১৩১ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে হয়েছে "হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর পিতার নাম ছিল আজর। আজর ছিলেন মুর্তি উপাসক।" ষষ্ঠ শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ২ নম্বর পৃষ্ঠায় "তাওহিদ বিশ্বাসের উদাহরণ" অংশে উল্লেখ হয়েছে, "হযরত ইব্রাহীম (আ) এক মুর্তি পুজক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন মন্দিরের পুরোহিত।" (নাউযুবিল্লাহ)

এই বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল ও কুফরী মুলক। কারণ সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পিতা-মাতা বা পূর্বপুরুষ ছিলেন পরিপূর্ণ ঈমানদার, খালিছ মু’মিন। কেউই কাফির ছিলেন না। এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, “নিশ্চয়ই সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পিতা বা পূর্বপুরুষ কেউই কাফির ছিলেন না। তার দলীল হচ্ছে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এ কালাম বা আয়াত শরীফ। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “তিনি আপনাকে (হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) সিজদাকারীগণ উনাদের মধ্যে স্থানান্তরিত করেছেন।” (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৯, তাফসীরে কবীর- ১৩/৩৮)
হযরত ইবরাহীম আলাইহি সালাম উনার পিতা সম্পর্কে তাফসীরে কবীর শরীফ- ১৩/৩৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে, “নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা ছিলেন হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম। আর আযর ছিলো উনার চাচা। এবং ‘আম্মুন’ (চাচা) শব্দটি কখনও ‘ইসমুল আব’ অর্থাৎ পিতা নামে ব্যবহৃত হয়।”
তাফসীরে মাযহারী শরীফ ৩/২৫৬ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ রয়েছে, “আযর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা নয়। বরং নিশ্চয়ই তিনি (হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম) হলেন হযরত তারাখ বা তারাহ আলাইহিস সালাম উনার সুযোগ্য সন্তান।”
তাফসীরে মাযহারী শরীফ- ৩/২৫৬ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ রয়েছে,“ক্বামূস অভিধানে উল্লেখ করা হয়েছে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার চাচার নাম আযর। আর নিশ্চয়ই উনার পিতার নাম মুবারক হলো হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম।”
সুতরাং হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা সম্পর্কিত ভুল তথ্যের পরিবর্তে হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম লিখতে হবে।

হারাম জিনিসের আলোচনাঃ
তৃতীয় শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ২৫ নম্বর পৃষ্ঠায় সালাতের নৈতিক উপকার অংশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "আমরা সালাতের আযান শোনামাত্রই সব কাজকর্ম, খেলাধুলা ছেড়ে দিব।" একই বইয়ের ৩১ নম্বর পৃষ্ঠায় সালাম বিনিময় অংশে বলা হয়েছে "টেলিভিশনে সালাম শুনলে সালামের জওয়াব দিব।" চতুর্থ শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ২৭ নম্বর পৃষ্ঠার শুরুতে বলা হয়েছে, "রেডিও টেলিভিশনে আযান প্রচার করা হয়। আমরা তা মনোযোগ দিয়ে শুনব।" একই বইয়ের ৪৪ নম্বর পৃষ্ঠায় প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার অংশে বলা হয়েছে "জোরে টেলিভিশন,রেডিও-ক্যাসেট বাজাব না, যাতে প্রতিবেশীর অসুবিধা হয়।" ষষ্ঠ শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা"  ৩৮ নম্বর পৃষ্ঠায় সমায়নুবর্তিতা অংশে উল্লেখ আছে, "সেনাবিভাগে কর্তব্যরত সৈনিকগণ নির্ধারিত সময়ে বিউগল বেজে উঠলে শয্যা ত্যাগ করে ...."

হাদীছ শরীফ উনার বিখ্যাত কিতাব ‘মুসতাদরেকে হাকিম উনার মধ্যে হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘সর্বপ্রকার খেলাধুলা হারাম।"
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, “প্রত্যেক প্রাণীর ছবি তোলনেওয়ালা ও তোলানেওয়ালা ব্যক্তিই জাহান্নামী।”আর হাজার হাজার হাদীছ শরীফ দ্বারা কঠোরভাবে প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা, রাখা ও দেখাকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং টেলিভিশনে যেহেতু ছবিই দেখা যায় তাই টেলিভিশন দেখাও হারাম।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই গান-বাদ্য মানুষের অন্তরে নিফাকী বা কপটতার জন্ম দেয়। (মিশকাত শরীফ)
অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “আমি 'বাদ্যযন্ত্র' ও 'মূর্তি' ধ্বংস করার জন্যে প্রেরিত হয়েছি।”
রেডিও, ক্যাসেটে যেহেতু গান শুনা হয় এবং বিউগল যেহেতু এক ধরণের বাদ্যযন্ত্র তাই এগুলো সব গুলোই ব্যবহার করা হারাম।
তাই এই সকল হারাম বিষয়গুলো কখনই ইসলাম শিক্ষা বইয়ের আলোচনা বিষয় হতে পারেনা। অবিলম্বে এই হারাম উদাহরণ পাঠ্যবই থেকে অপসারণ করতে হবে।


হযরত আহলু বাইত আলাইহিমুস সালাম সম্পর্কে ভুল তথ্যঃ
তৃতীয় শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ৬৬ পৃষ্ঠায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  জীবনী মুবারক এ উল্লেখ আছে, "মহানবি (স)-এর এক পুত্রের নাম হযরত আব্দুল্লাহ (রা)"। ষষ্ঠ শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের  ১০৫ নম্বর পৃষ্ঠায় উম্মুল মু'মিনীন  হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার জীবনাদর্শ  বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, "হযরত খাদিজা (রা) এর গর্ভে মহানবি (স) এর তিন সন্তান-কাছিম, আব্দুল্লাহ ও তাহির....... জন্মগ্রহণ করেন।"
অথচ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৪ জন ছেলে হলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ত্বইয়্যিব আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আব্দুল্লাহ নামে কোনো পুত্র সন্তান ছিল না।
যেমন- “আত্ তাফসীরুল মাযহারী লি ছানাউল্লাহ পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি" উনার মধ্যে সূরাতুল আহযাব ৪০ নম্বর আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে বর্ণিত আছে, "অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৪ জন আবনা বা ছেলে হলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ত্বইয়্যিব আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। ....”

‘সুবুলুল্ হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সীরাতি খাইরিল ইবাদ’ কিতাবের ১১তম খন্ড ১৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “হযরত ইবনু জাওযী হাম্বলী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাহক্বীক্ব নামক কিতাবে হযরত আবূ বকর ইবনে বারাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সাইয়্যিদুনা রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৭ জন আওলাদ  উম্মুল মু'মিনীত হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে আগমন করেন।। তাই সর্বমোট ৮ জন বলা হয়,  উনারা হলেন: হযরত ক্বাসিম, হযরত ত্বাহির, হযরত ত্বইয়্যিব, হযরত ইব্রাহীম, হযরত যাইনব, হযরত রুকাইয়া, হযরত উম্মু কুলছূম ও হযরত ফাতিমা আলাইহিমাস সালাম। (অনুরূপ সীরাতুল্ হালবিয়াহ ,৩য় খন্ড, ৩৯১ পৃষ্ঠায় আছে)

তাই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পুত্র সন্তান আলাইহিমুস সালাম সম্পর্কে ভুল তথ্য সংশোধন করে সঠিক তথ্য সংযোজন করতে হবে।

প্রতিবেশী সম্পর্কে ভুল তথ্যঃ
ষষ্ঠ শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ৮৪ পৃষ্ঠায় প্রতিবেশীর প্রতি কর্তব্য অংশে উল্লেখ আছে, "আমরা মুসলমান। আমাদের চারপাশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যারা বসবাস করে তারা সবাই আমাদের প্রতিবেশী।" একই বইয়ের ৮৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে , "প্রতিবেশীকে প্রথম সালাম দেয়া..." উপরে বর্ণিত প্রতিবেশী সম্পর্কিত  তথ্যটি চরম আপত্তিকর এবং দুরভীসদ্ধি মুলক। কারণ এখানে উদ্দেশ্যমুলক ভাবে বিধর্মীদের প্রসঙ্গে টেনে আনা হয়েছে। প্রতিবেশীর সংজ্ঞা হিসেবে -"আমাদের চারপাশে যারা বসবাস করে তারা সবাই আমাদের প্রতিবেশী" বলা যেতো না? দুই-এক লাইন পরে লিখা হয়েছে, "প্রতিবেশীকে প্রথম সালাম দেয়া..."। এই তথ্যটিও তথ্যটি চরম আপত্তিকর এবং দুরভীসদ্ধি মুলক। কারণ লাইনগুলো এমনভাবে লিখা হয়েছে যে, যে কেউ পড়লে মনে করবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কেউও সালাম দেয়া যাবে। (নাউযুবিল্লাহ) অত্যন্ত আর্চয্যের বিষয় হচ্ছে, সকল বিধর্মী যে মুসলমানদের প্রধান শত্রু এটা না বুঝিয়া বিধর্মীদেরকে উদ্দেশ্য মুলক ভাবে প্রতিবেশী হিসেবে উপস্থাপন করে তাদের প্রতি ভিন্ন ধারণা গড়ে তোলার অপচেষ্টা করা হয়েছে।

বিধর্মী সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র সূরা মায়িদাহ শরীফ উনার ৮২ নম্বর আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন,"তোমরা (মুসলমানরা) তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে প্রথমতঃ ইহুদীদেরকে অতঃপর মুশরিকদেরকে।"

বিধর্মীরা চায় মুসলমানদের ঈমান-আমল নষ্ট করতে এবং মুসলমানদেরকে তাদের অনুগত বানাতে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আহলে কিতাব অর্থাৎ ইহুদী-নাছারা তথা কাফির-মুশরিকরা চায় তোমরা (মুসলমানরা) ঈমান আনার পর তোমাদের কাফির বানিয়ে দিতে।”

উপরের আয়াত শরীফ দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, সকল বিধর্মী মুসলমানদের শত্রু। তাই সকল পাঠ্যবইতে মুসলমানদের শত্রুদের পরিচিতি পাঠ্যসুচিতে অর্ন্তভুক্ত করতে হবে এবং উপরোক্ত বক্তব্যগুলো সংশোধন করতে হবে।


হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক এ মিথ্যা তথ্যঃ
অষ্টম শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ১১৮ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, "মহানবী হযরত মুহম্মদ (স.) ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অসাধারণ দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় আল কুরআনের সর্বজনীন গনতান্ত্রিক নীতি অনুসরণ করেন।............ মহানবি (স.) দেশ পরিচালনায় জনগণের মতামতের স্বীকৃতি দেন। যা গনতন্ত্রের মুল কথা।"

উপরের বর্ণনাতে নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম তিনি গনতন্ত্র করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে (নাউযুবিল্লাহ) । যা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা এবং উনার শান মুবারক এর খিলাফ। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে যে, “তোমরা যা জান, তা ব্যতীত আমার থেকে হাদীছ বর্ণনা করা হতে বিরত থাক বা ভয় কর। কেননা যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আমার প্রতি মিথ্যারোপ করবে, সে যেন দুনিয়ায় থাকতেই তার স্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।” (তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ)

মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা ইমরান উনার ১৯ নম্বর আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উনার নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম।”আবার একই সূরা শরীফ উনার ৮৫ নম্বর আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম বা মতবাদের নিয়ম-নীতি গ্রহণ করবে সেটা তার থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্থদের অর্থাৎ জাহান্নামীদের অন্তর্ভূক্ত হবে।”উপরোক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা স্পষ্টতঃ বুঝা যায় যে, দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য তর্জ-তরীকা, মতবাদ (যেমনঃ গনতন্ত্র) সম্পূর্ণ হারাম। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,"যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখবে, তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে।”(মুসনাদে আহমদ)।
তাহলে এ কথা কি করে বলা সম্ভব যে, নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জারজ আব্রাহাম লিংকন প্রবর্তিত গনতন্ত্র করেছেন। অতি শ্রীঘই এই কুফরী মুলক বক্তব্য পাঠ্যবই থেকে অপসারণ করতে হবে।

অষ্টম শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ১২০ নম্বর পৃষ্ঠায় উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়িশা আলাইহাস সালাম উনার জীবনী মুবারক বর্ণনা করতে গিয়ে লিখা হয়েছে, "রাসূল (স.)ও তাঁর সাথে খেলাধুলা ও দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন।"

উপরোক্ত বর্ননায় নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খেলাধুলা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। (নাউযুবিল্লাহ) অথচ হাদীছ শরীফ উনার বিখ্যাত কিতাব মুসতাদরেকে হাকিম উনার মধ্যে হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘সর্বপ্রকার খেলাধুলা হারাম।" যে কাজটি নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হারাম ঘোষনা করেছেন সেই কাজটি তিনি নিজে আবার করেছেন- এই কথাটি কত বড় কফুরী তা বলার অপেক্ষাই রাখেনা। তাই  খেলাধুলা  সংক্রান্ত কফুরী মুলক বক্তব্যটি অবিলম্বে বাদ দিতে হবে।



হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম সম্পর্কে কুফরী বক্তব্যঃ
ষষ্ঠ শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ১০৩-১০৪ নম্বর পৃষ্ঠায় হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার জীবনী মুবারক বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ আছে, "ইসলামের প্রথম খলিফা আবু সিদ্দিক (রা)-এর ইন্তিকালের পরে তাঁর অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী হযরত উমর (রা) ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা নির্বাচিত হন। তা অধিকাংশ সাহাবি সমর্থন করেন।" সপ্তম শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ১০৪ নম্বর পৃষ্ঠায় হযরত উছমান যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম উনার জীবনী  মুবারক বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ আছে, "হযরত উসমান (রা) ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা নির্বাচিত হলেন।" একই বইয়ের ১০৫ নম্বর পৃষ্ঠায় হযরত আলী আলাইহিস সালাম উনার জীবনী মুবারক বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, "... হযরত আলী (রা) মুসলিম জাহানের চতুর্থ খলিফা নির্বাচিত হন।" নবম-দশম শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ১৬৩ নম্বর পৃষ্ঠায় হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনার জীবনী মুবারক  বর্ণণা করতে গিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, "খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পরও হযরত আবু বকর (রা.) ব্যবসা করতেন।"

উপরের উল্লেখিত প্রত্যেকটি বর্ণনায় হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি মিথ্যা তোহমত দেয়া হয়েছে কারণ উনারা কেউ নির্বাচিত হয়ে খলীফা হননি।

নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার পর আমার উম্মাহর মধ্যে ৩০ বছর পর্যন্ত খিলাফত থাকবে তারপর শুরু হবে বংশীয় শাসন (সুনানে আবু দাউদ শরীফ ২/২৬৪ এবং মুসনাদে আহমদ শরীফ ১/১৬৯)। খিলাফত একটি ইসলামী শাসন ব্যবস্থা। এখানে বিজাতীয়-বিধর্মীদের নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীকার কোনো স্থান নেই। সুতরাং গনতন্ত্র, নির্বাচন ইত্যাদি হারাম বিষয়গুলো খিলাফতের অংশ হতে পারে না। তাই "খলিফা নির্বাচিত" শব্দটি মোটেও ঠিক নয়। বরং "খলিফা মনোনীত হয়েছেন" অথবা "খলীফা হয়েছেন" শব্দ ব্যবহার করতে হবে।



নবম-দশম শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ১৬৪ নম্বর পৃষ্ঠায় হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার জীবনী মুবারক বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে,"হযরত উমর (রা) ছিলেন গনতন্ত্রমনা।"

মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা ইমরান উনার ১৯ নম্বর আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উনার নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম।”আবার একই সূরা শরীফ উনার ৮৫ নম্বর আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম বা মতবাদের নিয়ম-নীতি গ্রহণ করবে সেটা তার থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্থদের অর্থাৎ জাহান্নামীদের অন্তর্ভূক্ত হবে।”উপরোক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা স্পষ্টতঃ বুঝা যায় যে, দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য তর্জ-তরীকা, মতবাদ (যেমনঃ গনতন্ত্র) সম্পূর্ণ হারাম। তাহলে হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি গনতন্ত্রমনা ছিলেন এই ধরণের কুফরী বক্তব্য কি করে বলা যেতে পারে। তাই অবিলম্বে এই কুফরী মুলক বক্তব্য অপসারণ করতে হবে।



রোযা ভঙ্গ সম্পর্কিত অস্পষ্ট তথ্যঃ
সপ্তম শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ৩৯ নম্বর পৃষ্ঠায় সাওম ভঙ্গের কারণ হিসেবে ৭ নম্বর পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়েছে, "প্রশাব-পায়খানার রাস্তার মাধ্যমে ঔষধ বা অন্য কিছু ঢুকলে।"

এখানে অস্পূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। কারণ হাদীস শরীফ মোতাবেক শরীয়তের সাধারণ উসুল হলো “শরীরের ভিতর থেকে কোন কিছু বের হলে ওযূ ভঙ্গ হয় এবং বাইর থেকে কোন কিছু শরীরের ভিতরে প্রবেশ করলে রোযা ভঙ্গ হয়।” রোযার ব্যাপারে ইমাম আযম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার যে উসুল, অর্থাৎ “বাইরে থেকে রোযাবস্থায় যে কোন প্রকারে বা পদ্ধতিতে শরীরের ভিতর কিছু প্রবেশ করলে, যদি তা পাকস্থলী অথবা মগজে প্রবেশ করে, তবে অবশ্যই রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।” এই উসুলের উপরেই ফতওয়া এবং অন্যান্য ইমাম-মুজতাহিদ্গণও এ ব্যাপারে একমত যে, যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, ওষুধ মগজ অথবা পাকস্থলীতে পৌঁছায়, তবে অবশ্যই রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে, অর্থাৎ ওষুধ ইত্যাদি মগজ পর্যন্ত পৌঁছানো শর্ত।
তাই শুধু প্রশাব-পায়খানার রাস্তার মাধ্যমে নয় বরং ইনজেকশন, ইনহেলার, ইনসুলিন,স্যালাইন ইত্যাদি রোযাবস্থায় গ্রহন করলে রোযা ভঙ্গ হবে। তাই উপরোক্ত সাওম ভঙ্গের কারণ হিসেবে ৭ নম্বর পয়েন্টি সংশোধন করতে হবে।



নবী-রসূল সম্পর্কিত কুফরী তথ্যঃ
ষষ্ঠ শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ৯ নম্বর পৃষ্ঠার নবি-রসূলগণের পরিচয় অংশে উল্লেখ আছে,      "নবুয়ত ও রিসালাতের দায়িত্ব পালনের জন্য আল্লাহ তা'আলা তাঁদের নির্বাচিত করেছেন।"

এই বক্তব্যটি চরম কুফরী মুলক। কারণ মহান আল্লাহ তিনি নবী-রসূল নির্বাচিত করেন না বরং মনোনীত করেন। নির্বাচিত ও মনোনীত একই জিনিস নয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি সুরা জিন উনার ২৬ ও ২৭ নম্বর আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, "আমি আমার গায়েবের বিষয় আমার মনোনীত রসুল ব্যতীত কারো নিকট প্রকাশ করিনা।"

সুতরাং নবী-রসুল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম উনাদের শান মুবারক এ ব্যবহৃত "নির্বাচিত" শব্দ পরিবর্তন করে "মনোনীত" লিখতে হবে।

আরবী ভাষার প্রতি অনীহা প্রকাশঃ
তৃতীয় শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ২১ নম্বর পৃষ্ঠায় সালাতের নিয়মাবলী অংশে লিখা আছে "আরবীতে নিয়ত বলার দরকার নাই"

এই বক্তব্য মুলত আরবী ভাষাকে ইহানত করার শামিল। কারণ কেউ যদি আরবীতে নিয়ত বলতে চায় সেটা তো খুব ভালো। আর না পারলে তখন বাংলায় নিয়ত বলতে পারে। নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, "তোমরা আরবী ভাষাকে তিনটি কারণে মুহব্বত কর। প্রথমতঃ আমি আরবী, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ভাষা আরবী এবং বেহেস্তের ভাষা হবে আরবী।"

তাই উপরোক্ত লাইনটি সংশোধন করে লিখতে হবে- "যারা আরবী নিয়ত জানে তারা আরবীতে নিয়ত করবে আর যারা আরবী জানে না তারা বাংলায় নিয়ত করলে চলবেবে।

আযানের দোয়ায় অস্পষ্টতাঃ
চতুর্থ শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ২৬ নম্বর পৃষ্ঠায় আযান উনার দোয়ায় "ওয়ার জুখনা শাফাওয়াতুল কিয়ামায়" বাদ দেয়া হয়েছে। তাই অবিলম্বে এই অংশটূকু দোয়ার মধ্যে অর্ন্তভুক্ত।

বিবিধঃ
১. জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রনীত প্রতিটি ইসলাম শিক্ষা বইতে আক্বাইদ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে কিন্তু আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা গুলো উল্লেখ নেই। তাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতে আক্বীদাগুলো সংযোজন করতে হবে।

২. ছবি, বেপর্দা, টেলিভিশন,গনতন্ত্র,খেলাধুলা ইত্যাদি বিষয়গুলো যে হারাম তা নিয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তাই দলীল সহকারে এই বিষয়গুলো পাঠ্যসুচীতে অর্ন্তভুক্ত করতে হবে।

৩. মুসলমানদের প্রধান শত্রু কারা এই বিষয়ে কোনো আলোচনা নেই। এই বিষয়টিও অর্ন্তভুক্ত করতে হবে।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সীমান্তের ঈগল (2013-April-04 13:47(pm))

Share

জবাব: ভুলে ভরা বোর্ডের ইসলামিক শিক্ষা বই

চমৎকার শেয়ার সীমান্ত ঈগল ভাই ।

অষ্টম শ্রেণির "ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা" বইয়ের ১২০ নম্বর পৃষ্ঠায় উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়িশা আলাইহাস সালাম উনার জীবনী মুবারক বর্ণনা করতে গিয়ে লিখা হয়েছে, "রাসূল (স.)ও তাঁর সাথে খেলাধুলা ও দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন।"

আমিও এক হুজুরের কাছ থেকে জানতে পেরেছিলাম "হযরত আয়েশা (রাঃ) কে খুশি করার জন্য ওনার সাথে নবী করিম (সাঃ) ঘরের ভেতর দৌড় প্রতিযোগীতা করেছিলেন ।"

ফোরামে আছি ।

জবাব: ভুলে ভরা বোর্ডের ইসলামিক শিক্ষা বই

বিস্তারিত পোস্ট দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমি মাঝে মাঝে বিভিন্ন পত্রিকা ও দেখামতে টুকরা টুকরা পোস্ট দিয়েছিলাম। আপনার পোস্টের মাধ্যমে তা পূর্ণাঙ্গতা পেল। ধন্যবাদ আবারও যে আপনার পোস্ট অত্যান্ত প্রয়োজনীয়।

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল