টপিক: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ম্যাগাজিনে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য

মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর লেখা প্রকাশ করে জনরোষের ভয়ে অবশেষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত মাসিক ম্যাগাজিন ‘সবুজ পাতা’র একটি সংখ্যা বাজার থেকে তুলে নেয়া হচ্ছে। ম্যাগাজিনটির ওই সংখ্যায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর ও মিথ্যা তথ্যে ভরপুর লেখা প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থা বইটি বাজার থেকে তুলে নেয়ার অনুরোধ করলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন তা তুলে নিতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রকাশিত মাসিক ম্যাগাজিন সবুজ পাতার জানুয়ারি সংখ্যায় প্রথম নিবন্ধটির ৯নং পৃষ্ঠায় রাসুল (সা.)-এর জন্ম তাঁর মায়ের শরীরের কোন অংশ দিয়ে কীভাবে হয়েছে, তার আগে রাসুল (সা.) কোথায় ছিলেন এবং ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে ৪ খলিফার মনগড়া উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত শবেকদরের রাতকে খাটো করে বলা হয়েছে রাসুল (সা.) জন্মরাত শবেকদরের রাতের চেয়ে উত্তম। এ ধরনের অহেতুক বিতর্ক এবং ফেতনা সৃষ্টিকারী আপত্তিকর কিছু লেখা ওই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। ম্যাগাজিনটির প্রধান সম্পাদক এবং প্রকাশক হিসেবে রয়েছে ইফার বিতর্কিত মহাপরিচালক সামীম মো. আফজালের নাম। সরকারি অর্থে এরূপ একটি প্রকাশনা নিয়ে সরকার সমালোচিত হতে পারে- এ আশঙ্কায় গোয়েন্দা সংস্থার চাপে তা বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
বিতর্কিত লেখাটির ১১নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, সব নবী মায়ের নাভী বরাবর খোদায়ী অপারেশনের মাধ্যমে দুনিয়ায় এসেছেন, কিন্তু আমাদের নবী নাভীর বাম পাশে বাম পাঁজরের মধ্যখান দিয়ে কুদরতি অপারেশনের মাধ্যমে তশরিফ এনেছেন এবং পৃথিবীতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ওই স্থান জোড়া লেগে যায়। অপর এক স্থানে লেখা হয়েছে মহানবী পৃথিবীতে আগমনের আগে আসমানে তারকা সুরতে ছিলেন। জিবরাইল (আ.)-কে নবীজী বললেন, হে জিবরাইল তোমার বয়স কত? জিবরাইল (আ.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি সৃষ্টি হয়ে চতুর্থ আসমানে একটি তারকা উদিত সত্তর হাজার বছর এবং ডুবন্ত সত্তর হাজার বছর এভাবে জীবনে বাহাত্তর হাজার বার (হিসাবে এক লাখ চল্লিশ হাজার বছর হয়) ওই তারকাটি দেখেছি। নবীজী বললেন, হে জিবরাইল আমার প্রতিপালকের শপথ, আমিই সেই তারকা।
লেখাটির ১২নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে হজরত আবু বকর (রা.) বলেন, নবীজীর মিলাদ শরিফে এক দিরহাম পরিমাণ যে খরচ করল, সে জান্নাতে আমার বন্ধু হবে। হজরত ওমর ফারুক (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি মিলাদুন্নবীকে সম্মান ও মর্যাদা দিল, সে মূলত ইসলামকেই পুনরুজ্জীবিত করল। হজরত ওসমান (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করতে এক দিরহাম পরিমাণ খরচ করল, সে মূলত বদরের ও হুনাইনের যুদ্ধে শরিক হলো। হজরত আলী (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর প্রতি সম্মান দেখাল, সে ব্যক্তি অবশ্যই ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। অথচ ৪ খলিফার শাসনামলে প্রচলিত এ ধরনের কোনো ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান পালিতই হতো না।
এ ধরনের অজস্র মনগড়া এবং দুর্বল হাদিসের উদ্ধৃতি সংবলিত লেখা ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হওয়ায় ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে লেখাগুলো বিভিন্ন স্থানে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার হয় । সে কারণে এখানকার যে কোনো লেখা বের হওয়ার আগে কমপক্ষে ২ জন বিশেষজ্ঞ দিয়ে নিরীক্ষা করার বিধান রয়েছে। দুর্বল হাদিস এবং ফেতনা সৃষ্টি করে এমন কোনো বিষয়ে এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানটিকে না জড়ানোর ঐতিহ্য রয়েছে।
কিন্তু বর্তমান মহাপরিচালক সামীম মো. আফজাল কোনো কিছুই মানছেন না। ফলে ধীরে ধীরে ফেতনা ফ্যাসাদ এবং ধর্মীয় বিবাদে জড়িয়ে যাচ্ছে সরকারি অর্থে পরিচালিত এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানটি। জানা গেছে, ৪ বছর ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে কোনো গবেষণামূলক বই প্রকাশিত হচ্ছে না। ক্রেতারা বই কিনতে এসে পছন্দমত বই না পেয়ে ফেরত যান। অপরদিকে আফজাল বই ছাপানোর জন্য সরকার প্রদত্ত রিভলভিং ফান্ডের টাকা দিয়ে পদবহির্ভূত লোক নিয়োগ করে তাদের বেতন দেন। তিনি বই ছাপানো বন্ধ করে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ বছর ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত আফজালের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিতর্ক সৃষ্টির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীতে তিনি কাঙালিনী সুফিয়াকে এক অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসেন এবং তার গান ও নৃত্য উপভোগ করেন। এর আগে বিমানবন্দরের কাছে হাজী ক্যাম্পে ইফা আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাজির করা হয় কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীরকে। ২৭ নভেম্বর ২০১০, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীতে প্রশিক্ষণরত ১০০ জন ইমামের সামনে আমেরিকার ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাফপ্যান্ট এবং মিনি স্কাট পরিহিত একদল তরুণ-তরুণী জড়াজড়ি করে ব্যালে নৃত্য পরিবেশন করে। নাচের পর তিনি সব নৃত্য শিল্পীর সঙ্গে হাত মিলান এবং তাদের জড়িয়ে ধরেন। দেশের সব পত্র-পত্রিকায় এর ছবি এবং সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন আফজালের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি ব্যালে ড্যান্স ছিল না ছিল স্যুইং ড্যান্স’।

সূত্র : এখানে

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল