টপিক: ফল খান তো দেখে শুনে খান!

হযরত আলী ইবনে হাসান রহ. বলেন, আমাদের এলাকায় একটি ছেলে ছিল। সে রাজমিস্ত্রির কাজ করত। একদিন তার পেটব্যথা শুরু হলো। প্রচণ্ড ব্যথা। যন্ত্রণায় ছটফট করছিল সে। মাঝে মধ্যে মুখ বিকৃত করে ফেলছিল। সেইসাথে চিৎকার করে কাঁদছিল ও।
ছেলেটির করুণ অবস্থা দেখে সকলের মনেই দয়ার উদ্রেক হলো। 
বেশকিছু সময় পর পেটব্যথা কিছুটা কমল। সে একটু শান্ত হলো। সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। কিন্তু এ অবস্থা বেশিণ স্থায়ী হলো না। আবার শুরু হলো অসহনীয় ব্যথা। মনে হচ্ছিল, কেউ বুঝি তার পেটের ভেতর শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করছে।
খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিল ছেলেটি। পরিবারের লোকেরা বিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে বারবার চিকিৎসা করাল। কবিরাজী চিকিৎসাও চলল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না।
এক পর্যায়ে সবাই ছেলেটির জীবনের আশা ছেড়ে দিল। ছেলেটিও শয্যায় শায়িত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুণতে লাগল।
একদিন এলাকায় একজন নতুন ডাক্তার এলেন। তিনি ছেলেটির বাড়ির পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পরিবারের লোকেরা ডাক্তারের পরিচয় পেয়ে ছেলেটির অবস্থা তার কাছে বর্ণনা করল। তিনি ছেলেটির বাড়িতে গেলেন। ছেলেটিকে দেখলেন। সেইসাথে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সবকিছু সবিস্তার জানতে চাইলেন।
ছেলেটির কথা বলতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল। তারপরও সে ধীরে ধীরে বলে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে সে বলল, আমি একটি বাগানে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছু গবাদি পশু বাঁধা ছিল। বাগানের চারপাশে ডালিম গাছ ছিল। গাছের নিচে কিছু ডালিম পড়ে ছিল। আমি সেখান থেকে কয়েকটি ডালিম কুঁড়িয়ে খেয়েছিলাম।
ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন, ডালিমগুলো তুমি কীভাবে খেয়েছিলে?
ছেলেটি বলল, দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খোসা ছাড়াচ্ছিলাম। খোসা ছাড়ানোর পর টুকরোগুলো ভেঙ্গে মুখে পুরে দিয়েছিলাম।
ডাক্তার বললেন, খোসা ছাড়ানোর পূর্বে তুমি কি এগুলো পরিস্কার পানি দিয়ে ধৌত করোনি?
ছেলেটি বলল, না, ধৌত করিনি।
ডাক্তার মাথা ঝুঁকালেন। মনে হলো, তিনি যেন রোগের কারণ ধরতে পেরেছেন।
খানিক পর তিনি বললেন, তোমার চিকিৎসা আজ নয়, কাল করব, ইনশাআল্লাহ।
ডাক্তার নিজ বাসায় চলে গেলেন। পরদিন সকালে কিছু গোশত ভুনা করলেন। তারপর পাত্রভর্তি ভুনাগোশত নিয়ে ছেলেটির বাড়িতে হাজির হলেন।
ছেলেটি তখন শোয়া অবস্থায় ছিল। তিনি ছেলেটিকে বললেন, বাবা! এগুলো খেয়ে নাও।
ছেলেটি বলল, এগুলো কিসের গোশত?
ডাক্তার বললেন, আগে খেয়ে নাও, তারপর বলছি।
ছেলেটি তৃপ্তি সহকারে ভুনা গোশত খেল।
খাওয়া শেষে ডাক্তার বললেন, খুব মজা হয়েছে, তাই না! বলো তো এগুলো কিসের গোশত?
ছেলেটি বলল, ঠিক ধরতে পারছি না, আপনিই বলুন।
ডাক্তার বললেন, এগুলো ছিল কুকুরের গোশত!
একথা শোনামাত্র ঘৃণায় ছেলেটির চোখ-মুখ কুঁচকে উঠল। বমি করল সে। যা খেয়েছিল তার সবই বেরিয়ে পড়ল।
ছেলেটি বমি করবেÑ ডাক্তার বোধ হয় এ অপোয়ই ছিলেন!
বমি করার সাথে সাথে তিনি বমির দিকে মনোযোগী হলেন। সতর্কদৃষ্টি ফেলে বমি পরখ করতে লাগলেন।
ডাক্তারের মুখে হাসি ফুটে উঠল। তিনি দেখলেন, বমির ভেতর খেজুরের বিচির মতো কিছু পোকা নড়াচড়া করছে।
এবার তিনি ছেলেটির দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, বাবা! তোমার আর কোনো চিন্তা নেই। তুমি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছ। তোমার পেটের ভেতর থেকে তিকর জীবাণু বেরিয়ে গেছে।
এরপর ছেলেটিকে তিনি একটি ওষুধ খেতে দিলেন। ওষুধটি খাওয়ার সাথে সাথে তার বমি বন্ধ হয়ে গেল।
বিদায়ের পূর্বে তিনি পোকাগুলোর দিকে ইশারা করে বললেন, এগুলোর নাম চিচড়া, যা সাধারণত গরুর শরীরে থাকে। তুমি যেখান থেকে ডালিম কুঁড়িয়ে খেয়েছিলে, সেখানে কিছু পোকা ছিল। কিছু পোকা ডালিমের সাথে লেগে ছিল। কিন্তু খোসা ছাড়িয়ে খাওয়ার সময় তুমি তা ল্য করনি। ফলে এসব পোকা তোমার পেটে চালান হয়ে গিয়েছিল।
পোকাগুলো তোমার নাড়ী কামড়াতো। আর তাতেই তুমি ব্যথায় অসহ্য হয়ে পড়তে। পোকাগুলোর প্রিয় খাদ্য কুকুরের গোশত। আমি যখন তোমাকে কুকুরের গোশত এনে দিলাম, আর তুমি তা গলধঃকরণ করলে; পোকাগুলো তখন সেগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। আর ঠিক তখনই কুকুরের গোশত খেয়েছ শুনে তুমি বমি করলে। ফলে বমির সাথে সবগুলো পোকাও বেরিয়ে পড়ল। অতএব তুমি এখন পূর্ণ সুস্থ।
প্রিয় পাঠক-পাঠিকা! দেখলেন তো, ফল ধুয়ে না খাওয়ার মারাত্মক পরিণতি। তাই আসুন, আজ থেকে আমরা প্রতিজ্ঞা করি, কোনো ফলই না ধুয়ে খাব না।
আরেকটি কথা। বর্তমানে প্রায় সব ফলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা ফরমালিন মিশিয়ে থাকেন, যা মানবশরীরের জন্য অত্যন্ত তিকর ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ফল শুধু ধৌত করলেই চলবে না, ফরমালিনও মুক্ত করতে হবে।
যে কোনো ফল ফরমালিন মুক্ত করার জন্য হালকা গরম লবণ মিশ্রিত পানিতে ১০মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। তাতে ১০০% ফরমালিন মুক্ত হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ।  [কিতাবুল আযকিয়া : ইমাম জাওযী রহ. # প্রতিভার গল্প, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ৯৮]

Share

জবাব: ফল খান তো দেখে শুনে খান!

সময়োপযোগী টপিক। মুফিজুল ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ happy

ফোরামে আছি ।

জবাব: ফল খান তো দেখে শুনে খান!

ফিরে আসার জন্য ধন্যবাদ। কতদিন থেকে আপনার ভাল লেখা দেখা হয়নি। আরও লেখা চাই কিন্তু!

আপনার আমন্ত্রণ রইল আমাদেরে এলাকায় মন্তব্য করা ও কিছু লিখার জন্য চলনবিল

জবাব: ফল খান তো দেখে শুনে খান!

উপকারী পোষ্ট