টপিক: সদকাতুল ফিতর : পরিমাণ ও কিছু কথা

রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষজ্ঞ সদকাতুল ফিতর। এটি ঈদুল ফিতরের দিন আদায় করা নিয়ম। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সহিহ হাদিসে সদকাতুল ফিতর আদায়ের ব্যাপারে গুরুত্ব আসার কারণে মুসলিম উম্মাহ রাসুলের যুগ থেকে এটি আদায় করে আসছে। সদকাতুল ফিতর মূলত জাকাতেরই একটি প্রকার। আমাদের এ অঞ্চলে সদকাতুল ফিতর ‘ফিতরা’ নামে অধিক পরিচিত। একটি দয়ীফ হাদীসে এই ইবাদতের দুটি হিকমত ও তাৎপর্য বলা হয়েছে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘সদকাতুল ফিতর হচ্ছে রোজাদারের জন্য পবিত্রতা এবং মিসকিনদের জন্য খাদ্য। আর যে তা ঈদের নামাজ আদায় করার পূর্বে আদায় করে তা কবুল করা হয়। আর যে তা ঈদের নামাজ আদায় করার পর আদায় করে, তা সদকাতুল ফিতর না হয়ে সাধারণ সদকাহ হিসাবে আদায় হয়ে যাবে।’ (সুনানে আবু দাউদ ১/২২৭ ও ইবনে মাজাহ্) অর্থহীন, অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি হয় তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার যোগানোর জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন। সুতরাং খুশিমনেই সদকাতুল ফিতর আদায় করা উচিত। কেননা তাতে রয়েছে ফকিরদের জন্য দয়া এবং তাদেরকে ঈদের দিনে অন্যের নিকট চাওয়া হতে বিরত রাখা। ঈদের দিনে তারা যেন ধনীদের মত আনন্দ উপভোগ করতে পারে এবং ঈদ যেন সবার জন্য সমান হয় সেটাই সদকাতুল ফিতরের মুখ্য উদ্দেশ্য। আর এর মধ্যে আরও রয়েছে সাম্য ও সহমর্মিতা, সৃষ্টিজীবের জন্য ভালবাসা, ভ্রাতৃত্ব। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা আমাদের ওপর অপরিহার্য করেছেন তা মানা আমাদের জন্য জরুরি। আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা আমাদের ওপর অপরিহার্য করেছেন তা মানা আমাদের জন্য জরুরি। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
•    ﴿مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَۖ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ عَلَيۡهِمۡ حَفِيظ ا ٨٠﴾ [النساء: ٨٠]
যে রাসূলকে অনুসরণ করল, সে আল্লাহ তাআলাকে অনুসরণ করল। আর যে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, তবে আপনাকে তো আমরা তাদের উপর রক্ষক (প্রহরী) করে প্রেরণ করিনি। (সূরা নিসা, আয়াত ৮০)
আর আল্লাহ বলেন-
•    ﴿وَمَن يُشَاقِقِ ٱلرَّسُولَ مِنۢ بَعۡدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ ٱلۡهُدَىٰ وَيَتَّبِعۡ غَيۡرَ سَبِيلِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ نُوَلِّهِۦ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصۡلِهِۦ جَهَنَّمَۖ وَسَآءَتۡ مَصِيرًا ١١٥﴾ [النساء: ١١٥]
আর যারা তাদের নিকট হিদায়াত পৌঁছার পরও রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের ব্যতীত অন্যদের পথের অনুসরণ করে, তারা যেভাবে ফিরে যায়, আমরাও তাদেরকে সেদিকে ফিরিয়ে রাখব এবং জাহান্নামে দগ্ধ করাব। আর তা কতই না খারাপ প্রত্যাবর্তনস্থল। (সূরা আন নিসা, আয়াত ১১৫)
আর আল্লাহ তাআলা বলেন, যাকাতুল ফিতর
•    ﴿وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ٧﴾ [الحشر: ٧]
তোমাদের রাসূল যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাক। (সূরা আল হাশর, আয়াত ৭)

সদকায়ে ফিতর কাদের উপর ওয়াজিব?
প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম ব্যক্তির ওপর ফেতরা আদায় করা ওয়াজিব। ‘সামর্থ্যবান’ শব্দের ব্যাখ্যা হলো, প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সম্পদের মালিক হওয়া। অনেকের মনে প্রশ্ন আসবে, অতিরিক্ত বলতে কতটুকু? সোজা উত্তর হচ্ছে যাকাতের নেসাব পরিমাণ সম্পদের (৫২.৫ ভরি রূপা অথবা ৭.৫ ভরি সোনা অথবা সমমূল্যের সম্পদ) মালিক হওয়া।
সুতরাং বলা যায়, যেসব নারী-পুরুষ ঈদুল ফিতরের চাঁদ উঠার পর থেকে সেদিনের সূর্য অস্ত যাওয়া পযর্ন্ত সময়ে একদিনের আবশ্যকীয় প্রয়োজনীয় সামগ্রী ব্যতিত সারে বায়ান্ন তোলা রুপা বা তার সমমূল্যের মালিক হয় তাদের উপর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।
•    في تنوير البصائر ( على كل ) حر ( مسلم ) ولو صغيرا مجنونا حتى لو لم يخرجها وليهما وجب الأداء بعد البلوغ (ذي نصاب فاضل عن حاجته الأصلية) كدينه وحوائج عياله (الدر الختار- كتاب الزكاة باب صدقة الفطر-2/99)
•    وفى الأشباه والنظائر-وجبت بقدرة ممكنة فلو افتقر بعد يوم العيد لم تسقط-(الأشباه والنظائر-2/225 الفن الثانى)
আমরা জানি, কোন ব্যক্তির যদি উপরোক্ত সম্পত্তি সঞ্চিত থাকা অবস্থায় এক বৎসর অতিক্রান্ত হয় তবে তার উপর যাকাত ফরজ হয়। তবে ফেতরা দাতার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নিয়ম হলো, যাকাতের ন্যায় নিসাব পরিমাণ সম্পদের এক বৎসর অতিক্রান্ত হওয়া জরুরী নয়। কেউ যদি ঈদের আগের দিনও এই পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে যায়, তাকেও ফেতরা আদায় করতে হবে। সামর্থ্যবান না হলে অর্থাৎ উপরোল্লিখিত নিসাব পরিমান সম্পদ ককারো ননা থাকলে তার উপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজীব হবে না। সহীহ বুখারী শরীফে এসেছে, রাসূল সা. বলেছেন,
ﺧﻴﺮ ﺍﻟﺼﺪﻗﺔ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻋﻦ ﻇﻬﺮ ﻏﻨﻲ